09/04/2026
নিবরাজ - আজ কি মহারাণী মহারাজের সাথে দেখা করাবেন?
--হুম। তাই তো ডেকেছি।
-- তা কোই আপনার মজারাজ? (বলতে বলতেই বুকেড-এ চোখ পড়লো নীবরাজের। ফুলের বুকেড হাতে নিয়ে নীবরাজ অবাকের চরম পর্যায়ে)
--এইগুলো তো আমার পছন্দের ফুল! তোর ওনিও কি এসব পছন্দ করে নাকি??
-- আরে রাখ এসব বাজে কথা!তোকে একটা সিরিয়াস কথা বলতে ডেকেছি।
-- হ্যাঁ বল!
-- কিভাবে বলব বুঝতে পারছি না। তুই কিভাবে নিবি বিষয়টা!
-- আরে বল কি ঐ ছেলে কি তোকে রিজেক্ট করেছে? বল নইলে এখনি ধরে আনি। ঠিকানা টা একবার বল শুধু। কিভাবে রাজি নাহয় দেখি।
-- আরে এসব না। আমার তোর সাথে কথা আছে!
-- বল।
-- আসলে! আমি অনেক দিন ধরেই বলবো ভাবছি! কিন্তু সাহসে কুলচ্ছে না।
--- আরেহ বল। আমি কি করব। আমি কি বাঘ না ভাল্লুক। তোকে মেরে ফেলব? আরে বল..। কি বলবি তারাতা../ ( কথা শেষ করতে না করতেই মহুয়া বললো)
-- আই লাভ ইয়ু!
--কিহ্!!!
-- হুম। আই রিয়েলি ফল ইন লাভ ওয়িথ ইয়ু।
-- স্টপ দিস ননসেন্স। এসব সেনসেটিভ বিষয়ে মজা আমার একদম পছন্দ না।মহুয়া!
-- আই এ্যাম নট জোকিং।
-- প্লিজ স্টপ দিস ননসেন্স। আমি আমি এসব ভাবতে পারছি না। তুই এসব কি বলছিস। আমি তোকে কখনোই ঐ চোখে দেখিনি।
-- আমি আ আমি সত্যিই তোকে ভালোবাসি নিবরাজ। কলেজের সবার কথার ফাকে তোর সাথে বন্ধুত্ব তোর কথা। তোর ব্যবহার। সেসব বাকি সবার মতো না।
--- তু~তুই। বুঝতে পারছিস না। এ হয় না।
-- কেন???( কিছুটা বিরক্ত হয়ে চেচিয়ে) কেন?? আমি তোকে ভালোবাসি। তুই কেন আমার হতে পারবি না? তুই কি অন্য কাউকে ভালোবাসিস?
-- হ্যাঁ( জোরে শ্বাস ফেলে) হ্যাঁ আমি! আমি ভালোবাসি অন্য কাউকে।
-- কিহ? কে সেই ভাগ্যবতি(কথা আটকে যাচ্ছে মহুয়ার)
-- আহি।( খুবই ধীরে নাম নিলো নীবরাজ)
-- আহিই! ( চোখের কোনে অস্রু গড়িয়ে পড়লো মহুয়ার)
--হ্যাঁ আহি। আমি আহিকে মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসি মহুয়া। ( বলতে বলতে কথা আঁটকে যাচ্ছে নীবরাজের) এক অস্বাভাবিক মুহূর্ত! আহির কথা শোনার পর মহুয়া একটু নিশ্চুপ হয়ে গেছে। আহি মহুয়ার প্রাণের চেয়ে প্রিয়। আহিকে কেউ এতোটা ভালোবাসে এতে তো মহুয়ার খুশি হওয়ার কথা! কিন্তু মহুয়ার কেন কষ্ট হবে? সে নিবরাজ হলেও! নীবরাজের প্রতি মহুয়া দূর্বল সত্য। কিন্তু এটা কতটা ভালোবাসার রূপ নিয়েছে তা আদেও পরিষ্কার না মহুয়ার কাছে।
এসব মনে মনে ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মহুয়া লক্ষ করলো নীবরাজ রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে গেলো৷ কাজটা ভিষণ কষ্ট দিলো মহুয়াকে! নিজেকে দোষারোপ করতে শুরু করলো। নিজ হাতে এতোকালের বন্ধুত্ব নষ্ট করলো ভেবে। এসব ভাবতে ভাবতে সে ভিষণ বিস্মিত। নীবরাজের চলে যাওয়া তা আরোও বাড়িয়ে দিলো। মহুয়া হাঁটা দিলো এবার বাড়ির পথে না। ঠিক উল্টো দিকে একটা বড় ঝিল রয়েছে সেদিকেই। কতশত দুশ্চিন্তা, দোষারোপ মাথায় আসছে মহুয়ার। ঝিলের পাশে দাঁড়িয়ে আছে মহুয়া এবার প্রথম সে এমন সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছে। হঠাৎ পেছন থেকে একটা পুরুষালী স্বর ভেষে এলো!
-এই যে মিচ শুনেছেন?
-কে`কেহ? মহুয়া অকপটে ঘুরে তাকালো।এক সুদর্শন যুবক ফরমাল মেরুন রঙের শার্ট, হাতের কনুই অব্দি ভাজ করা হাতা,কালো ট্রাউজার। দেখেই মনে হচ্ছিল কোথাও থেকে ফিরছে। পেছনে খেয়াল করলো মহুয়া। লোকটির পেছনে গাড়ি দার করানো গাড়ির লাইটগুলো জলছে এখনো। হঠাৎ লোকটি আবারও আওড়ালো-
-- এমা আপনি কি কানে শোনেন না?
-- কি বললেন আপনি? ( কিছুটা রেগে)
-- আরে মিচ! !! রাগছেন কেন? আপনি নিজেই দেখুন কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন!
( মহুয়া খেয়াল করলো সে রাস্তার মাঝের দিকে চলে এসেছে। আন মনে হাঁটতে হাঁটতে খেয়ালই করেনি, পেছন থেকে এতোবার হর্ন দেওয়ার পরও না সরায় নিজেই গাড়ি থেকে নেমে এসেছে অনিরাজ। এবার মহুয়ার হুস ফিরলো! সে কিছুটা লজ্জা ও ভয় জড় করে বললো!)
--স্যরি। আমি আসলে খেয়াল করিনি।
-ভাগ্যিস বললেন। আমি তো ভেবেছিলাম সু**সাইড করতে এসেছেন।তাহলেও সমস্যা ছিলো না। কিন্তু আমার গাড়ির সামনে না প্লিজ!
অনিরাজের এমন কথায় প্রায় হেসে ফেললো মহুয়া।...
মহুয়ার ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটতেই অনিরাজ একটু ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
— হাসছেন কেন? আমি কিন্তু সিরিয়াস ছিলাম।
— না, মানে… আপনার কথা বলার স্টাইলটা একটু আলাদা।
— ওহ! তাহলে ধন্যবাদ নাকি দুঃখিত বলব বুঝতে পারছি না।
মহুয়া এবার একটু স্বাভাবিক হলো। মাথার ভেতরের ঝড়টা যেন কিছুটা থেমেছে।
— যাই হোক, থ্যাংক ইউ। আপনি না থাকলে হয়তো আজকে একটা বড় এক্সিডেন্ট হয়ে যেত।
— এক্সিডেন্ট নাকি… অন্য কিছু?
অনিরাজের কথায় মুহূর্তের জন্য থমকে গেলো মহুয়া। চোখ নামিয়ে ফেললো।
— আপনি অনেক কিছুই ধরে ফেলেন মনে হচ্ছে।
— পেশার কারণে অভ্যাস হয়ে গেছে।
— পেশা?
— পরে বলব। আগে আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দিই। এই অবস্থায় একা যাওয়া ঠিক হবে না।
মহুয়া একটু দ্বিধায় পড়লো।
— না, দরকার নেই। আমি চলে যেতে পারব।
— দেখুন “পারব” আর “যাওয়া উচিত” — দুইটা আলাদা জিনিস।
কথাটা এমনভাবে বললো যে মহুয়া আর না করতে পারলো না।
— আচ্ছা…
গাড়িতে উঠে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলো মহুয়া। চারপাশের আলো ঝাপসা লাগছে। মাথায় শুধু একটাই নাম ঘুরছে— “নিবরাজ”।
হঠাৎ অনিরাজ আবার বললো—
— কাউকে খুব কাছের ভেবেছিলেন, তাই না?
মহুয়া চমকে তাকালো।
— আপনি কি মাইন্ড রিড করেন নাকি?
— না। শুধু চোখ পড়তে পারি।
কথাটা শুনে মহুয়ার বুকটা হালকা কেঁপে উঠলো।
— সবাই কি এত সহজে বুঝে ফেলে?
— না। সবাই না। যারা বুঝতে চায়, শুধু তারাই পারে।
একটা নীরবতা নেমে এলো গাড়ির ভেতর।
কিছুক্ষণ পর—
— আপনি নামবেন কোথায়?
মহুয়া ঠিকানাটা বললো। গাড়ি থামলো।
নামার আগে একটু থেমে বললো—
— আজকের জন্য… ধন্যবাদ।
— ধন্যবাদ পরে দিবেন। আবার দেখা হলে।
— আবার?
— হুম… আমার মনে হচ্ছে আমাদের আবার দেখা হবেই।
অনিরাজের চোখে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস।
মহুয়া কিছু না বলে নেমে গেলো।
গাড়িটা ধীরে ধীরে চলে গেলো…
আর মহুয়া দাঁড়িয়ে রইলো এক নতুন অনুভূতির সামনে—
চলবে...?
পর্ব : ০৫
#অনিশ্চিত_গন্তব্য
#লেখিকা_সুমাইয়া_আইমি