Sumaiya Sultana Imy সুমাইয়া/আইমি "Story-stock"

Sumaiya Sultana Imy সুমাইয়া/আইমি "Story-stock" শব্দের ভাঁজে লুকানো অজস্র গল্প,
অনুভূতির কালি আর কল্পনার ছোঁয়ায় লেখা কিছু অনুচ্ছেদ। ✍️📖

নিবরাজ - আজ কি মহারাণী মহারাজের সাথে দেখা করাবেন? --হুম। তাই তো ডেকেছি। -- তা কোই আপনার মজারাজ? (বলতে বলতেই বুকেড-এ চোখ ...
09/04/2026

নিবরাজ - আজ কি মহারাণী মহারাজের সাথে দেখা করাবেন?
--হুম। তাই তো ডেকেছি।
-- তা কোই আপনার মজারাজ? (বলতে বলতেই বুকেড-এ চোখ পড়লো নীবরাজের। ফুলের বুকেড হাতে নিয়ে নীবরাজ অবাকের চরম পর্যায়ে)
--এইগুলো তো আমার পছন্দের ফুল! তোর ওনিও কি এসব পছন্দ করে নাকি??
-- আরে রাখ এসব বাজে কথা!তোকে একটা সিরিয়াস কথা বলতে ডেকেছি।
-- হ্যাঁ বল!
-- কিভাবে বলব বুঝতে পারছি না। তুই কিভাবে নিবি বিষয়টা!
-- আরে বল কি ঐ ছেলে কি তোকে রিজেক্ট করেছে? বল নইলে এখনি ধরে আনি। ঠিকানা টা একবার বল শুধু। কিভাবে রাজি নাহয় দেখি।
-- আরে এসব না। আমার তোর সাথে কথা আছে!
-- বল।
-- আসলে! আমি অনেক দিন ধরেই বলবো ভাবছি! কিন্তু সাহসে কুলচ্ছে না।
--- আরেহ বল। আমি কি করব। আমি কি বাঘ না ভাল্লুক। তোকে মেরে ফেলব? আরে বল..। কি বলবি তারাতা../ ( কথা শেষ করতে না করতেই মহুয়া বললো)
-- আই লাভ ইয়ু!
--কিহ্!!!
-- হুম। আই রিয়েলি ফল ইন লাভ ওয়িথ ইয়ু।
-- স্টপ দিস ননসেন্স। এসব সেনসেটিভ বিষয়ে মজা আমার একদম পছন্দ না।মহুয়া!
-- আই এ্যাম নট জোকিং।
-- প্লিজ স্টপ দিস ননসেন্স। আমি আমি এসব ভাবতে পারছি না। তুই এসব কি বলছিস। আমি তোকে কখনোই ঐ চোখে দেখিনি।
-- আমি আ আমি সত্যিই তোকে ভালোবাসি নিবরাজ। কলেজের সবার কথার ফাকে তোর সাথে বন্ধুত্ব তোর কথা। তোর ব্যবহার। সেসব বাকি সবার মতো না।
--- তু~তুই। বুঝতে পারছিস না। এ হয় না।
-- কেন???( কিছুটা বিরক্ত হয়ে চেচিয়ে) কেন?? আমি তোকে ভালোবাসি। তুই কেন আমার হতে পারবি না? তুই কি অন্য কাউকে ভালোবাসিস?
-- হ্যাঁ( জোরে শ্বাস ফেলে) হ্যাঁ আমি! আমি ভালোবাসি অন্য কাউকে।
-- কিহ? কে সেই ভাগ্যবতি(কথা আটকে যাচ্ছে মহুয়ার)
-- আহি।( খুবই ধীরে নাম নিলো নীবরাজ)
-- আহিই! ( চোখের কোনে অস্রু গড়িয়ে পড়লো মহুয়ার)
--হ্যাঁ আহি। আমি আহিকে মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসি মহুয়া। ( বলতে বলতে কথা আঁটকে যাচ্ছে নীবরাজের) এক অস্বাভাবিক মুহূর্ত! আহির কথা শোনার পর মহুয়া একটু নিশ্চুপ হয়ে গেছে। আহি মহুয়ার প্রাণের চেয়ে প্রিয়। আহিকে কেউ এতোটা ভালোবাসে এতে তো মহুয়ার খুশি হওয়ার কথা! কিন্তু মহুয়ার কেন কষ্ট হবে? সে নিবরাজ হলেও! নীবরাজের প্রতি মহুয়া দূর্বল সত্য। কিন্তু এটা কতটা ভালোবাসার রূপ নিয়েছে তা আদেও পরিষ্কার না মহুয়ার কাছে।

এসব মনে মনে ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মহুয়া লক্ষ করলো নীবরাজ রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে গেলো৷ কাজটা ভিষণ কষ্ট দিলো মহুয়াকে! নিজেকে দোষারোপ করতে শুরু করলো। নিজ হাতে এতোকালের বন্ধুত্ব নষ্ট করলো ভেবে। এসব ভাবতে ভাবতে সে ভিষণ বিস্মিত। নীবরাজের চলে যাওয়া তা আরোও বাড়িয়ে দিলো। মহুয়া হাঁটা দিলো এবার বাড়ির পথে না। ঠিক উল্টো দিকে একটা বড় ঝিল রয়েছে সেদিকেই। কতশত দুশ্চিন্তা, দোষারোপ মাথায় আসছে মহুয়ার। ঝিলের পাশে দাঁড়িয়ে আছে মহুয়া এবার প্রথম সে এমন সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছে। হঠাৎ পেছন থেকে একটা পুরুষালী স্বর ভেষে এলো!

-এই যে মিচ শুনেছেন?

-কে`কেহ? মহুয়া অকপটে ঘুরে তাকালো।এক সুদর্শন যুবক ফরমাল মেরুন রঙের শার্ট, হাতের কনুই অব্দি ভাজ করা হাতা,কালো ট্রাউজার। দেখেই মনে হচ্ছিল কোথাও থেকে ফিরছে। পেছনে খেয়াল করলো মহুয়া। লোকটির পেছনে গাড়ি দার করানো গাড়ির লাইটগুলো জলছে এখনো। হঠাৎ লোকটি আবারও আওড়ালো-
-- এমা আপনি কি কানে শোনেন না?
-- কি বললেন আপনি? ( কিছুটা রেগে)
-- আরে মিচ! !! রাগছেন কেন? আপনি নিজেই দেখুন কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন!
( মহুয়া খেয়াল করলো সে রাস্তার মাঝের দিকে চলে এসেছে। আন মনে হাঁটতে হাঁটতে খেয়ালই করেনি, পেছন থেকে এতোবার হর্ন দেওয়ার পরও না সরায় নিজেই গাড়ি থেকে নেমে এসেছে অনিরাজ। এবার মহুয়ার হুস ফিরলো! সে কিছুটা লজ্জা ও ভয় জড় করে বললো!)

--স্যরি। আমি আসলে খেয়াল করিনি।

-ভাগ্যিস বললেন। আমি তো ভেবেছিলাম সু**সাইড করতে এসেছেন।তাহলেও সমস্যা ছিলো না। কিন্তু আমার গাড়ির সামনে না প্লিজ!
অনিরাজের এমন কথায় প্রায় হেসে ফেললো মহুয়া।...

মহুয়ার ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটতেই অনিরাজ একটু ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
— হাসছেন কেন? আমি কিন্তু সিরিয়াস ছিলাম।
— না, মানে… আপনার কথা বলার স্টাইলটা একটু আলাদা।
— ওহ! তাহলে ধন্যবাদ নাকি দুঃখিত বলব বুঝতে পারছি না।
মহুয়া এবার একটু স্বাভাবিক হলো। মাথার ভেতরের ঝড়টা যেন কিছুটা থেমেছে।
— যাই হোক, থ্যাংক ইউ। আপনি না থাকলে হয়তো আজকে একটা বড় এক্সিডেন্ট হয়ে যেত।
— এক্সিডেন্ট নাকি… অন্য কিছু?
অনিরাজের কথায় মুহূর্তের জন্য থমকে গেলো মহুয়া। চোখ নামিয়ে ফেললো।
— আপনি অনেক কিছুই ধরে ফেলেন মনে হচ্ছে।
— পেশার কারণে অভ্যাস হয়ে গেছে।
— পেশা?
— পরে বলব। আগে আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দিই। এই অবস্থায় একা যাওয়া ঠিক হবে না।
মহুয়া একটু দ্বিধায় পড়লো।
— না, দরকার নেই। আমি চলে যেতে পারব।
— দেখুন “পারব” আর “যাওয়া উচিত” — দুইটা আলাদা জিনিস।
কথাটা এমনভাবে বললো যে মহুয়া আর না করতে পারলো না।
— আচ্ছা…
গাড়িতে উঠে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলো মহুয়া। চারপাশের আলো ঝাপসা লাগছে। মাথায় শুধু একটাই নাম ঘুরছে— “নিবরাজ”।
হঠাৎ অনিরাজ আবার বললো—
— কাউকে খুব কাছের ভেবেছিলেন, তাই না?
মহুয়া চমকে তাকালো।
— আপনি কি মাইন্ড রিড করেন নাকি?
— না। শুধু চোখ পড়তে পারি।
কথাটা শুনে মহুয়ার বুকটা হালকা কেঁপে উঠলো।
— সবাই কি এত সহজে বুঝে ফেলে?
— না। সবাই না। যারা বুঝতে চায়, শুধু তারাই পারে।
একটা নীরবতা নেমে এলো গাড়ির ভেতর।
কিছুক্ষণ পর—
— আপনি নামবেন কোথায়?
মহুয়া ঠিকানাটা বললো। গাড়ি থামলো।
নামার আগে একটু থেমে বললো—
— আজকের জন্য… ধন্যবাদ।
— ধন্যবাদ পরে দিবেন। আবার দেখা হলে।
— আবার?
— হুম… আমার মনে হচ্ছে আমাদের আবার দেখা হবেই।
অনিরাজের চোখে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস।
মহুয়া কিছু না বলে নেমে গেলো।
গাড়িটা ধীরে ধীরে চলে গেলো…
আর মহুয়া দাঁড়িয়ে রইলো এক নতুন অনুভূতির সামনে—

চলবে...?

পর্ব : ০৫
#অনিশ্চিত_গন্তব্য
#লেখিকা_সুমাইয়া_আইমি

     #রাইটার্স_হাব_সাপ্তাহিক_অনুগল্প_প্রতিযোগিতা_২০২৬দেখ, তোর হাতে কলমের দাগটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না, আর আমার হাতে কেমন ...
09/04/2026



#রাইটার্স_হাব_সাপ্তাহিক_অনুগল্প_প্রতিযোগিতা_২০২৬

দেখ, তোর হাতে কলমের দাগটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না, আর আমার হাতে কেমন স্পষ্ট দেখ! পেন্সিল বক্স থেকে কলমটা দিয়ে নিজের ও সুবর্ণার হাতে দাগ এঁকে দিয়ে বললো অনু।

কথাটা শোনা মাত্রই শ্যামবর্ণ মুখশ্রীর সুবর্ণার বদনে যেন হঠাৎ আমাবস্যা নেমে এলো।

সুবর্ণা বিন্ধিবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। অনু তারই সহপাঠী। সুবর্ণার মুখশ্রী শ্যামবর্ণের। জন্মের সময় দুধে-আলতা গায়ের রঙ ছিল তার। তাই বাবা ইসহাক আলি ও মা মরিয়ম বেগম একমাত্র মেয়ের নাম রেখেছিল সুবর্ণা। ইসহাক আলির সুখের সংসার ছিল মেয়ে-বউকে নিয়ে ভালোই দিন কাটছিল। হঠাৎ তার ব্যবসায় লস করায় নতুন ব্যবসা শুরু করতে হয়েছিল। তাই মেয়েকে পাড়া থেকে কিছুটা দূরের সরকারি স্কুলে ভর্তি করেছিল। রোদে যাতায়াত করতে করতে তার গায়ের রঙের পরিবর্তন কেউ খেয়ালই করেনি। এখন যথেষ্ট সচ্ছল হয়ে উঠেছে সে। কিন্তু তার মেয়ে সেই সুন্দর দুধে-আলতা গায়ের রঙ হয়ে গেল উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। তবুও মা-বাবার কোনো আক্ষেপ নেই। কিন্তু পাড়া-প্রতিবেশী, সহপাঠীদের তো আর দায় পড়েনি চুপ থাকার। সব সময় তাকে কালুনি, কালোচুরা, কালাবর্ণা, কালাবানর, কাক ইত্যাদি নামে সম্বোধন করে থাকে। এতে সুবর্ণা দিন দিন নিজেকে গুটিয়ে নেয়, তার বন্ধুও হয়ে যায় গুটিকয়েক। আর পাঁচটা মেয়ের মতো তাকে কেউ দেখে না। সে পড়াশোনায় ভালো, সুন্দর মুখের গড়ন, সুন্দর হাতের লেখা, কণ্ঠস্বর-এসব কারো চোখেই পড়ে না। সবার চোখে তার একটাই দোষ—“সে কালো”।

স্কুলে তার তেমন বন্ধু নেই, তাই অনু খুব সহজেই সুবর্ণাকে এমন অপমান করার সুযোগ পেলো। সুবর্ণা প্রায় কাঁদো চোখেও নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করলো। কিছুক্ষণ পর ক্লাসে স্যার এলো। স্যারকে কমপ্লেইন করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সুবর্ণা কিছু বললো না। স্যার ক্লাস শেষে যাওয়ার পরই আবার শুরু হলো গায়ের রঙ নিয়ে ঠাট্টা। সহপাঠীরা আবার নিজেদের হাত সামনে বাড়িয়ে মিলিয়ে দেখে কার হাতের রঙ কত উজ্জ্বল। এবারও সবাই মিলে সুবর্ণাকে বিদ্রূপ করলো। এবার সুবর্ণা কেঁদে ফেললো। কেঁদে ফেলায় স্কুলের মিস তাকে সরিয়ে আনলো। স্কুলের বাণী মিস সুবর্ণাকে ভীষণ ভালোবাসে। বাণী মিসের নিজের কোনো মেয়ে নেই। তবে শান্তশিষ্ট সুবর্ণার মধ্যে সে নিজের মেয়েকে দেখে। তার এমন অবস্থা দেখা মাত্রই বাকি সহপাঠীদের বুঝিয়ে ক্লাসে পাঠিয়ে দেয় এবং সুবর্ণাকে নিয়ে পরবর্তীতে এমন না করার উপদেশ দেয়। কিন্তু এই দোষ কি শুধু বাচ্চাদের? পাশে থাকা অভিভাবকরাও কম না!!! সুবর্ণাকে নিয়ে সব সময় তাদের আলোচনা লেগেই থাকে।

**কিছুদিন পর সুবর্ণা আবার স্কুলে ক্লাস করছিল। রুমির মা (একজন অভিভাবক) হঠাৎ বললো: এই কালুনি, আমার মেয়ের সাথে খেলবি না। নিজের মেয়েকে শাসন করার সুযোগ থাকলেও সুবর্ণাকেই কথা শুনতে হলো। এবার বাণী মিস ছিল না। তাই কেউ বাঁচাতে পারলো না।
বাড়ি এসে সেদিন খুব কেঁদেছিল সুবর্ণা। তার বান্ধবী মিনু ও ইসা তাকে খুব ভালোবাসে। তারা সুবর্ণার গায়ের রঙ দেখে না, মন-মানসিকতা দেখে।

**দিন গেল। ছোট্ট সুবর্ণা বুঝতে শিখলো। এখন সুবর্ণা দশম শ্রেণিতে পড়ে। জীবনের আক্ষেপ, জড়তা কাটিয়ে আজ তার বন্ধুর সংখ্যা বাড়লো। কিন্তু কতজনই বা আসল? পড়াশোনায় ভালো হওয়ার সুবাদে তার প্রচুর বন্ধু হলেও কেউ কেউ আজও তাকে গায়ের রঙ নিয়ে খোঁটা দেয়। সুযোগ পেলেই কেউ ছাড় দেয় না। বিন্দুমাত্র শ্রীবিহীন সাদা ফর্সা মেয়েটাও তাকে গায়ের রঙের খোঁচা দেয়। কথায় কথায় তাকে বুঝিয়ে দেয় যে “কালো”।

দশম শ্রেণির পরীক্ষার পর একাদশ শ্রেণিতে বিন্ধিবাড়ি সরকারি কলেজে ভর্তি হয়।

কলেজ থেকে আসার পথে দেখতে পায় স্কুলের কয়েকজন জুনিয়রের সাথে অনু দাঁড়িয়ে আছে। মুহূর্তে মনে পড়ে গেল সেই ক্লাস ফাইভের কথা। কিছু একটা ভেবে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। পরে মিনুকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারে, অনু দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিল। তাই সে এখন জুনিয়র। কিছুটা খারাপ লাগলো সুবর্ণার। এভাবে কেটে গেল আরও কিছুদিন। দেখা হলো রুমির ছোট বোন অমির সাথে। অমি আবার রুমির বোন হলেও সুবর্ণাকে ভীষণ সম্মান করতো। দেখা হওয়া মাত্রই খুশি হয়ে বললো: কেমন আছো আপু?
“এই তো ভালো”—জবাব দিল সুবর্ণা। জানতে চাইলে রুমির কথা জানতে পারলো—সে আরও এক বছর আগে মাধ্যমিকে অকৃতকার্য হয়েছে। তাই পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। রুমির সেই গুণধর মা—রুমি সুন্দর দুধে-আলতা গায়ের রঙ, তাই এত পড়াশোনার দরকার নেই। এমনিই ভালো ঘর পাবে—এটাই রুমির মায়ের ধারণা।
***
আজ বাড়িতে প্রচুর ব্যস্ততা। সুবর্ণার মা মরিয়ম বেগম ও ইসহাক আলি আয়োজন করেছে বেশ জমজমাট। আজ তার একমাত্র আদরের মেয়ের জন্য একটা ভালো ঘর থেকে সম্বন্ধ এসেছে। শ্যামকন্যার জন্য এমন সম্বন্ধ বিরল। ছেলে ভীষণ ভালো, তাই হাতছাড়া করলো না ইসহাক আলি।

সন্ধ্যা গড়াতেই ঘরে প্রবেশ করলো ফাইয়াজ সিকদার, তার অর্ধাঙ্গিনী চারুলতা ও ছেলে ফারাজ সিকদারকে নিয়ে। ঘরে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির প্রবেশ মাত্র আপ্যায়ন হলো যথারীতি। আপ্যায়নের কিছুক্ষণ পর ফাইয়াজ সিকদার বললো—এবার মেয়েকে ডাকুন, ইসহাক ভাই।
ইসহাক আলি মেয়েকে ডাকলো।

সুবর্ণার বান্ধবী মিনু ও ইসা তাকে সাজাতে চাইলে সে না করে দেয়। অতঃপর তাকে গোছানোভাবে নিয়ে আসা হয়। ফাইয়াজ সিকদার সুবর্ণাকে দেখা মাত্রই তার চোখেমুখে আমাবস্যা নেমে এলো। সে একবাক্যে জবাব দিলো—“এমন কালো মেয়ে আমার পছন্দ হয়নি। ছবিতে তো সুন্দর লাগছিল। কিন্তু এই মেয়ে তো কালো। একে ঘরের বউ করলে আমার বংশের প্রদীপ অন্ধকার হয়ে যাবে। চল বাবা।”
বলে ফারাজসহ তার মা চারুলতাকে নিয়ে বেরোতে যাবে, এমন সময় হঠাৎ থেমে গিয়ে ফারাজ বললো—
“না বাবা, আমার সুবর্ণাকেই পছন্দ। দেখো, এমন মায়াবী কন্যা গোটা তল্লাটে একটাও নেই।”

ফাইয়াজ সিকদার অবাক হয় ছেলের কথায়। কিন্তু ফারাজ একরোখা। অনেক কষ্টে বিয়ের জন্য রাজি করিয়েছে তাকে। এখন এই কালো মেয়েকেই কিনা পছন্দ করলো!

কিন্তু কিছু না পেরে রাজি হলো ফাইয়াজ সিকদার।
বিয়ের পরও পড়াশোনা চালাতে দেবে—এমন সিদ্ধান্তে বিয়ে পাকা হয় সুবর্ণার। সুবর্ণার মতো ভাগ্য কারো হয় না। তবুও আলোচনা-সমালোচনা চলতেই থাকে তাকে নিয়ে। পাড়া-প্রতিবেশীরাও চেষ্টা চালাতে থাকে বিয়ে ভাঙতে, কিন্তু ফারাজ সব উপেক্ষা করে স্ত্রী হিসেবে নয়, সম্মান দিয়ে নিজের জীবনের সঙ্গী করে নেয় সেই ‘শ্যামকন্যা’ সুবর্ণাকে।

~সুমাইয়া সুলতানা আইমি।
#সুবর্ণা
(সারমর্মঃ
আমাদের সমাজে অনেক সুবর্ণা আছে, যাদের প্রতিনিয়ত এমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সবার ভাগ্য সুবর্ণার মতো হয় না। সব বাবা-মা ইসহাক-মরিয়মের মতো বোঝাপড়াশীল নয়। সব শিক্ষক বাণী ম্যামের মতো সহানুভূতিশীল নয়। সব বন্ধু মিনু-ইসার মতো পাশে থাকে না। জীবন সঙ্গী ফারাজও সব সময় সাহায্য করতে পারে না। গল্পের চরিত্র, ঘটনা ও স্থান সম্পূর্ণ কাল্পনিক, তবে বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর লেখা। ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)

ভোজন শেষে বিশ্রাম নিচ্ছিলো তারা!এমন সময় আহির সেই চাচা ঘরে প্রবেশ করলো। এবং আহিদের উদ্দেশ্য করে বললো:-- আহি মা। কাল তোমরা...
17/03/2026

ভোজন শেষে বিশ্রাম নিচ্ছিলো তারা!
এমন সময় আহির সেই চাচা ঘরে প্রবেশ করলো। এবং আহিদের উদ্দেশ্য করে বললো:
-- আহি মা। কাল তোমরা জমিদার বাড়ি দেখতে যেয়ো। আজ বিশ্রাম করো।
-- ঠিক আছে চাচা।
* * *
ডিনার শেষে মোবাইলে ফেসবুক স্ক্রোলিং করছিল নীবরাজ। তার আর মন ভালো টিকছে না। আহিকে বাসে তুলে দেওয়ার পর সে আর আহিকে চোখের দেখা দেখেনি। মন খারাপের চরম পর্যায়ে। এই মেয়েকে না দেখলে তার মন ভালো থাকে না। মেয়েটাকে নিয়ে তার কত চিন্তা,কত ভাবনা! অতচ মেয়েটা কি তা জানে?
না জানে না। হইতো এসব তার চিন্তাতেও নেই। কিন্তু নীবরাজ যে তাকে ছাড়া বাচতে পারবে না।সে চাইছে কোনোভাবে আহিকে দেখতে। তার মন চাইছে একবার তার কাছে ছুটে যেতে। কিন্তু একি! আহিকে সে বাস অবদি ছেড়ে এলো অতচ তারা কোন জায়গায় যাচ্ছে তা-ই জানে না!
এখন ইচ্ছে থাকা সত্বেও যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই ভুল সে কিভাবে করলো?
কোনো ভাবে কি মহুয়াকে জিজ্ঞেস করবে? না তাহলে মহুয়া কি ভাববে?
এসব নীবরাজ তার মনের মধ্যে আওড়াচ্ছিল। তখনই ফোনের রিং টোন বেজে ওঠলো:
এলোপাতাড়ি সাতপাঁচ না ভেবে ফোন রিসিভ করলো। নীবরাজই বলে ওঠলো:
-- আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছিস। কবে দেশে আসবি।
-- এইতো আলহাম্দুলিল্লাহ। মা-কে জানা আমি আসছি খুব শিগগিরই। জবাব দিলো অনিরাজ।
-- কিছু জানতে পারলি? মেয়েটার বেপারে?
-- হুম। মেয়েটা নাকি আজই মোহনপুর আসছে।
-- তাহলে কি কালই তুলে আনবো?
-- আমার লোকেরা আছে। তারা নজরে রাখচে। সুলতান বাড়ির একটা কিট ও বাঁচবে না। তাদের বংসের আলো অন্ধকার করে ছাড়বো।
-- হুম তুই কবে আসবি?
-- তাড়াতাড়ি খুব। তবে এই দায়িত্ব তোর। তোকেই ঐ মেয়ের পতন ঘটাতে হবে।
-- আমি পারবো৷ চাচার খুনির মেয়ে কিছুতেই বাঁচতে পারবেনা। শেষ করে ফেলবো গোটা সুলতান বংস।
-- এখন রাখি তাহলে।
-- ঠিক আছে।
বলেই ফোন কাটলো।
--আম্মা ভাইয়া আসছে।
"কবে" নাহার সুলতানা পাল্টা প্রশ্ন করলো!
'এইতো কিছুদিনের মধ্যে '

*** রাতে খুব গল্প আড্ডা করতে করতে গভীর রাতে ঘুমিয়েছে আহি, ইসরা ও তুষার।
আহি এবং ইসরা আহির কাজিন মিরার সাথে ঘুমিয়েছিলো রাতে।
আর তুষার মিরার ভাই মিরাজের সাথে।
ঘুম থেকে উঠতে প্রায় দুপুর।
--আহি মা ওঠেছো।
-- জি চাচা।
--তো কিছু খেয়ে তৈরি হয়ে নাও। বিকেলেই তোমাদের জমিদার বাড়ি নিয়ে যাবো।
-
" সত্যি " বললো ইসরা। জমিদার বাড়ি দেখতে সে ভিষণ আগ্রহী।
তুষার তার এই আগ্রহকেও ভিষণ গুরুত্ব দেয়।
বিকেল গড়িয়ে এসেছে! তখনই সবাই তৈরি উদ্দেশ্য জমিদার বাড়ি।
কাছাকাছি ঠিকানা হওয়ায় তারা হেঁটেই রওনা হলো।
হেটে যেতে যেতে তাদের আড্ডা খুনসুটি তো চলছেই। আর ফাঁকে ফাঁকে তুষার দেখছে ইসরার প্রাণউজ্জোল হাসি।
জমিদার বাড়ি পৌঁছাতেই তারা দেখতে পেলো! বিশাল এক দালান দোতলা বিশিষ্ট। প্রাচীন যুগের এই বাড়িটি যেন জমিদার বাড়ি না রাজপ্রাসাদ।
যদিও তারা তো রাজারই বংশের ন্যায়।
বাড়ির চারিপাশে ঘেরাও করা উঁচু দেওয়াল। ভেতরে অজস্র ফুল গাছ। এই বাড়ির যত্ন এখনো করা হয় বলেই এমন। মি. আরস বাড়িতে না থাকলেও সব সময় পরিষ্কার রাখেন এই বাড়িটি।
সামনে বড় বারান্দা আর আট দশেক কক্ষও রয়েছে। সব ঘুরে দেখতে দেখতে হটাৎ আহির চাচার ফোন বেজে ওঠলো। ওপাশ থেকে কেউ খরকশ কন্টে বলে ওঠলো। আপনার স্ত্রী বাড়ির সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। তখনি তার চাচার সেখান থেকে প্রস্থান হয়। চিন্তায় ও তাড়ায় কে ফোন করেছে তাও জানতে চাইনি। আহিদেরও জানায়নি।
কিছুক্ষণ পর আহি লক্ষ করলো তার চাচা এখানে নেই।
সদর দরজার দিকে পা বাড়াতেই লক্ষ করলো তা বন্ধ। আহি কিছুটা ভিত হলো।
ইসরা এবং তুষার গল্প করছে তাদের এখনি জানানো উচিৎ। যে ভাবা সেই কাজ। আহি তাদের জানালো মুহূর্তে তারা ভয়ে বিমোর।
আহির ভয় করছে।
হঠাৎ এক ছায়া গেলো তাদের পাশদিয়ে। মুহূর্তে জ্ঞান হারালো তিনজনই।
*** কাজ হয়ে গেছে স্যার। কালু জানালো ফোনের ওপাশ থেকে শব্দ চয়ন হলো: ঐ মেয়েকে আমি না পৌছানো অবদি আঁটকে রাখ।
আমি আসছি।
-- সে ঠিক আছে। কিন্তু একটা সমস্যা ভাই!
-- কি সমস্যা?
-- এখানে দু'টো মেয়ে এবং একটি ছেলে। তাহলে কে আপনাদের কাঙ্খিত মেয়ে?
-- কিহ?
-- এককাজ কর। ওদের মধ্যে মেয়ে দুটোকেই বাধ।
ছেলেটাকে বাইরে ফেলে দে।
-- ঠিকআছে স্যার।
*** কালুর ছেলে পুলে তুষারকে তুলে নিয়ে বাইরে ফেলে এলো। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলো তুষারের।
সে ভয় পেয়ে আছে।কিছু বুঝতে পারছে না। কি হচ্ছে তারসাথে। কিছু একটা ভাবে সে। তারপর হাঁটা দেয় আহির চাচার বাড়ির দিকে।
*** এখনো জ্ঞানহীন ইসরা ও আহি বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে কাপড় দ্বারা মুখ ও বাধা।
হাজির হলো এক সুন্দর যুবক। পুরুষালি দাপট তার৷ কর্ণদয় রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। এই মেয়ে দুটোর মধ্যে একজন তার চাচার খুনির মেয়ে।
সে কিছুতেই ছাড়বে না এই মেয়েকে।
ছেলেটি মুখে কালো রঙের মাক্স পড়ে আছে। বুঝা যাচ্ছে না সে কে।
কালুকে উদ্দেশ্য করে বললো: মুখ খুলে দে, দেখি জানু*য়ারের বাচ্চার বংসধরকে!

আদেশ পাওয়া মাত্রই মুখের কাপড় সরিয়ে নিলো কালু। বন্ধুক তাক করে আছে লোকটি। মুখ শুকিয়ে গেছে কাপড়ের কারণে মুখে লাল ছাপ পড়েছে। মেয়েটাকে দেখা মাত্রই মাক্স পরিহিত লোকটি যেন কেঁপে উঠল। চোখে ভুল দেখছে না তো! চোখ পরিষ্কার করে পুনরায় দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। হে সত্যি। এতো আহিই। তার হৃদয়ে ঝড় বয়ে গেলো। রাগ নিমিষেই ওধাও।
--"একি ও এখানে। কিন্তু ওর নাম তো আহি বিনতে আরস। আমি তো অন্য কাউকে খুঁজছি।"এই বলে কালুর গলা চেপে ধরলো লোকটি। হটাৎ এমন আচরণে ভিরমি খেলো কালু। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে আটকানোর চেষ্টা করে। এবং বলে উঠলোঃ সা~আ~স্যার, এ ~ এই সে মেয়ে আমার কোনো ভুল হয়নি।
এরপর লোকটি কালুকে ছেলে দেয় এবং আহি ও আহির বান্ধবীকে বাড়ি ছেলে আসতে বলে চলে যায় ওখান থেকে।
আহির বাবা ঘটনা জানতে পেরেই রাতারাতি মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসে। এবং তুষার ও ইসরাকেও বাড়ি পৌঁছানোর ব্যাবস্থা করে দেয়। আহির বাবা ঠিক এমন কিছুই আন্দাজ করে এতো কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু বাবা হিসেবে সে নিজেকে ব্যার্থ মনে করছে।
** আহি বাড়ি পৌঁছাতেই তার বাবা আহিকে রুমে দিয়ে এলো সঙ্গে নুর বেগম। আহি যেন এখনো আতঙ্কে রয়েছে। আহিকে ঘরে রেখে সাথে মহুয়াকে রাখা হলো। আহির মা বাবা বাইরে এসে:
-- এজন্য মেয়েটাকে আমি ওখানে যেতে দিতে চায়নি। আমার মেয়েটা কোনো রকমে প্রাণে বাঁচল।
-- এটা কি তবে ঐ অসভ্য খান বাড়ির কাজ?
-- তাহলেও আমাদের মেয়েকে এতো কাছ থেকে পেয়ে ছেড়ে দিলো!
-- হইতো আমাদের ভয় দেখাতে চেয়েছিল।
--- হতে পারে। আচ্ছা তুমি আহিকে দেখে রেখো।
-- ঠিক আছে।
মি. আরস বেরোলো তার গ্রামের উদ্দেশ্যে।
পৌঁছাতেই তার চাচাতো ভাই যে আহিদের এখানে এনেছিলে তার সাথে দেখা করলো!
***
-- হরিস তুমি আমার এতোবড় ক্ষতি কিভাবে করতে যাচ্ছিলে? আমার মেয়ের সাথে কিছু হলে তোমার এই ঘর বাড়ি কিচ্ছু থাকতো না। আমার মেয়ের নিরাপত্তায় তুমি এতোটা খামখেয়ালি করলে কিভাবে?
-- আ~ আমাকে ক্ষমা করে দিন, সুলতান সাহেব। আমার কাছে ফোন এসেছিল। আমার স্ত্রী জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে। এজন্য ছুটে এসেছিলাম।
-- তাই বলে আমার মেয়ের প্রাণ বিনিময়ে??

****
নীবরাজ তখন থেকেই বেশ চিন্তিত। কিছুতেই মন ভালো টেকছে না। আহিকে একটাবার চোখের দেখা দেখতে হবে। আহির এই অবস্থার খবর মহুয়া দিয়েছে তাকে। নীবরাজ তার বড় ভাইয়ের দেওয়া কাজ করতে পারেনি। এজন্য অনিরাজ তাকে মন কথা শুনায়নি। কিন্তু নীবরাজ এখন ঘটনা খুঁতিয়ে দেখতে চাই। অন্ধকারে ডিল না ছুড়ে স্পষ্ট জানতে চায়। কিন্তু সে সব পরে হবে। আগে তার হৃদয়ের মহারাণীকে দেখতে হবে। তার দেখা মিললে মন শান্ত হবে না।
যাই ভাবা সেই কাজ। মহুয়াকে কল করে তাদের বাড়ি গেলো নীবরাজ।

-- আহি কেমন আছে?
-- ভালো। তবে এখনো ভয় পেয়ে আছে।
-- আচ্ছা তবে আমি যায়!
-- এই মাত্র এলি আর এখনি!
-- হুম। কাজ আছে।
-- বাবাহ এতো কাজ? আচ্ছা আহির সাথে একটু কথা তো বলে যা। মেয়েটা তোকে ভরসা করে। তুই বুঝালে একটু নিশ্চিত হতো।

-- না~। আজ না। এই বলে নীবরাজের প্রস্থান হলো।আহির খোজ নিলো কিন্তু সামনে গেলো না। দূর থেকে দেখে চলে এলো। এইবার প্রথম এমন হলো সে আহির কাছাকাছি এসেও কথা না বলে চলে গেলো। আহি এখনো ভয় পেয়ে আছে। তবে ভয়ের চেয়ে বেশি চিন্তুিত। কে ছিল ঐ লোকটি? মুখ আবদ্ধ না থাকলে নিশ্চয়ই দেখতে পেতো।

আহির এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোবে। সকাল থেকে সে চিন্তায় চিন্তায় অস্থির। মা নুর বেগম বারবার শান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
আজ নীবরাজ শহরে নেই। সে রাজধানীতে গিয়েছে কোনো জরুরি প্রয়োজনে। তাই তার ভরসাযোগ্য শান্তনা দেওয়ার জন্য সে নেই। অবশেষে মহুয়া পেলো এই দায়িত্ব। মহুয়ার মা বাবা তার নানিরবাড়ি যাওয়ায় মহুয়া আহির সাথে সাথেই থাকছে। আহি কিছুক্ষণ আগে তার বন্ধু তুষার ও ইসরার সাথেও কথা বললো৷ কিন্তু কোনো লাভ হলো না। চিন্তা যেন তার পিছুই ছাড়ছে না। আজ ১২ টায় রেজাল্ট। তাই মহুয়া ফোনে ১২.০১ মিনিটে ওয়েবসাইট এ আহির রোল ও রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার দিয়ে রেজাল্ট বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ একই সময় চেষ্টা করাতে সার্ভার সমস্যা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর সমস্যা টা দুর হলো মহুয়া আহির রোল লিখতেই ফোনের স্ক্রিনে ভেষে ওঠলো নীবরাজের নাম। নীবরাজ কল করেছে। রিসিভ করা মাত্রই নীবরাজ ওপাশ থেকে বললো:

-- আহিকে ফোন দে মহুয়া।
-- দিচ্ছি।
ফোনটা মহুয়া আহির দিকে বাড়িয়ে দিতেই আহি ফোনটা নিলো। পরক্ষণেই ফোনের ওপাশ থেকে নীবরাজ বলে উঠলো:
---" কনগ্রাজুলেশনস্ আহি। তুমি গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছো।''
কথাটা শোনা মাত্রই আহির চোখ ছলছল করে উঠলো।

আহি যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। আহির মা নুর বেগম পাশেই ছিলেন। মহুয়া আহির অবস্থা দেখে তাড়াতাড়ি হাত থেকে ফোন নিয়ে সেটা স্পিকারে দিলো। পুনরায় নীবরাজ বললো:
-- এবার কিন্তু আমাকে মিষ্টি খাওয়াতেই হবে। তুমি তোমার প্রত্যাশিত ফল পেয়ে গিয়েছো।"
-- হুম অবশ্যই। আসুন আপনি।
--আজ সন্ধ্যায় আসছি ম্যাম।
-- কিহ?
-- বললাম! আজ সন্ধ্যায় আমার জন্য মিষ্টি রেডি করেন।
-- আর আপনার ট্রিপ এক কথা?
-- মনে আছে? আচ্ছা তাহলে ট্রিট ট্রিপ সব হবে৷
-- সোনারগাঁও ঘুরে দেখাবেন তো! এবার।
-- অবশ্যই।তুমি যখন বলেছো আমার তো কথা রাখতেই হবো!!
ওদের কথা শেষ হতেই মহুয়া ফ্রিজ থেকে আহির পছন্দের ছানার সন্দেশ নিয়ে এলো। আহি খেতে খেতে বন্ধুদের কল করলো। ইসরা ও তুষার দুজনেই এ-প্লাস পেয়েছে। এই সংবাদ শুনে আহির মা সন্ধ্যায় খাবারের আয়োজন করেছে।
আহির মা আহির পছন্দের বিরিয়ানি রান্না করছে। ততক্ষণে আহির চাচি অর্থাৎ মহুয়ার মা এসেছে মহুয়ার মা রুবি রোজ ও আহিকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসে। সে আহির জন্য আহির পছন্দের চিকেন-গ্রিল রান্না করছে।
মহুয়াও মা -চাচিকে সাহায্য করছে। এমন সময় হঠাৎ মহুয়ার মা রুবি রোজ মহুয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠলো-
-- বয়স তো কম হলোনা। বিয়ে করবি না?
-- আম্মা!! নানুর বাড়ি গেলেই তুমি এই ডায়লগ সাথে করে নিয়ে আসো! সমস্যা কি?
-- সম্মন্ধ তো কম আসেনি। তোরই তো পছন্দ হয়না।
-- আম্মা আনার মতো সম্মন্ধ না আনলে এমনই হবে। আর তুমি আনলেই আমার বিয়ে করতে হবে?
-- থাকনা রুবি মেয়ে বড় হয়েছে ওর পছন্দে একটু ভরসা করো৷ মেয়ে তো আমাদের দেখো হইতো নিজেই পছন্দ করে রেখেছে।
-- আরে কি যে বলো না!(কিছুটা লজ্জা সূচক হাসি দিয়ে মহুয়া বললো)
-- দেখলে রুবি মেয়ে তোমার লজ্জা পাচ্ছে। তারমানে কেউ ঠিক করা আছে।
-- থাকলে সেটাই বল। সে ঘরেই বিয়ে দিই! ছেলে কি করে নাম কি? পরিবারের সাথে কথা বলা!
-- আম্মা আমি আগে নিজে কথা বলি!
কথায় কথায় আহি প্রবেশ করলো মহুয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো।
--আপু নীবরাজ ভাইয়া এসেছে।
-- কোথায়?
-- ড্রয়িং রুমে।
-- আচ্ছা তুই যা। আমি আসছি
আহি চলে গেলো। মায়ের হাতে কিছুটা কাজ গুছিয়ে মহুয়া ও গেলো।
নীবরাজকে দেখে সে কিছুটা শান্ত হলো।
-- কেমন আছিস?
-- এইতো আলহামদুলিল্লাহ। তোর?
-- আর বলিস না বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে।
-- তো বিয়ে টা করেই নে! ( কথাটা বললো কারণ মহুয়ার বিয়ে হলেই আহির বিয়ে কনফার্ম হয়)
-- কিন্তু!
-- আরে বলনা কাউকে পছন্দ নাকি?. বলেই শয়তানি হাসি দিলো।
মহুয়া এবার মনকে প্রস্তুত করলো নীবরাজকে তার অনুভূতির কথা জানাতে হবে।
নীবরাজ ড্রয়িং- এই বসে ছিল। এমন সময় প্রবেশ করলো ইসরা ও তুষার।
-কেমন আছো নীবরাজ ভাইয়া।( তুষার প্রশ্ন করলো)

-- এতোক্ষণ ভালোই ছিলাম। তুমি আসার পর আর নেই ( বিরবির করে বললো)
-- কিছু বললেন?
-- হ্যাঁ! বলছিলাম দারুণ রেজাল্ট করেছো। দুজনেই। অভিনন্দন।
পেছন থেকে আহি এসে বললো:
-- ইসরা ও তুষারও এ-প্লাস পেয়েছে ভাইয়া।
শুনেই যেন মেজাজ টা বিগড়ে গেলো নীবরাজের। বাচ্চাদের মতোই অভিমানি সুরে বললো
-- আমিও এস এস সি তে এ-প্লাস পেয়েছিলাম।

-- বাহ। দারুণ বেপার। তাহলে আজ আমরা চারজনের জন্য খাওয়া দাওয়া হোক।
মাঝখানে মহুয়া ফোরোন কাটলো;
-- তোরা তবে আমায় বাদ দিলি। আমি এ-প্লাস না বলে।( খুনসুটির সুরে বললো)
-- তা কি কখনো হতে পারে। আপনি হলেন আহির বীগ সাপোর্টার। আপনি না থাকলে আমরা এমন একটা হাস্যোজ্জোল আহি পেতামই না। ( ইসরা বললো)

-- কি যে বলো! বোন আমার অলরাউন্ডার। ও ঠিকই পারতো।
এমন কিছুটা সময় পার হলো।
আহি, ইসরা ও তুষার কোন কলেজে পড়বে তা আলোচনা করছে।
তারা সবাই মিলে ঠিক করলো বিজিসি কলেজে ভর্তি হবে তারা। এটা সম্পর্কে নীবরাজকে জানাবে বলে ঠিক করলো
যেই ভাবা সেই কাজ
-- নীবরাজ ভাইয়া আমরা কলেজে কিভাবে চয়েসের কাজ করবো?
-- তোমাদের নাম্বার, রেজিষ্ট্রেশন কার্ড সহ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজ মহুয়াকে বলে দিবো এসব আমায় দিয়ো। আমি করে দেবো৷ চিন্তা করো না।
তারা গল্প করতে করতে : নুর বেগম ও রুবি রোজ খাবার সাজাতে শুরু করলো!
খাবার সাজাতে সাজাতে নুর বেগম সবাইকে ডেকে নিলো৷ সবাই খেতে শুরু করলো। আহির পছন্দের খাবার সব।
পরের দিন মহুয়া নীবরাজকে একটা ক্যাফেতে জরুরি তলব করল।নীবরাজ পৌঁছালো! মহুয়া সুন্দর করে সাজিয়েছে। একটা মনোরোম পরিবেশ তৈরি করেছে। নীলসাদা আলোর খেলা। টেবিলের কোনে একটা গোলাপের কেন্ডেল সামনে একটা তাজা বুকেড। নীবরাজের পছন্দের গোলাপি রঙের গোলাপ। সাথে চিরকুট। যাতে লেখা আছে :" তুমি কী আমার হবে?" নীবরাজ এলো কিছুক্ষণ পর। এতো আয়োজন সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এতো আয়োজন নীবরাজের জন্য। কিন্তু নীবরাজ ভেবেছে ঠিক উল্টো। নীবরাজ ভাবছে তার বান্ধবী মহুয়া তার প্রেমিক এর সাথে দেখা করাতে এনেছে। কিন্তু হলো তার বিপরীত ;
নীবরাজ চেয়ার টেনে বসলো৷ টেবিল টা মহুয়া তাদের জন্য বুক করেছে। নীবরাজ - আজকি মহারাণী মহারাজের সাথে দেখা করাবেন?
-- হু!

পর্ব -০৪
#অনিশ্চিত_গন্তব্য
#লেখিকা_সুমাইয়া_আইমি

--আম্মাজানের শরীর কেমন এখন?  প্রশ্নটা আহিকেই করলো।-- এ–এই তো আব্বু! ভালো। -- তা সামান্য বিষয়ে এতো কাদঁলে হয়?  আর কেঁদো ন...
15/03/2026

--আম্মাজানের শরীর কেমন এখন? প্রশ্নটা আহিকেই করলো।
-- এ–এই তো আব্বু! ভালো।
-- তা সামান্য বিষয়ে এতো কাদঁলে হয়? আর কেঁদো না। সুস্থ হলে আমিই তোমাকে স্কুলে দিয়ে আসবো। ঠিক আছে!
-- আচ্ছা আব্বু।

বাবা মেয়ের কথোপকথন চললো কিয়ৎক্ষণ। ইতোমধ্যেই নূর বেগম রুমে প্রবেশ করলো। উদ্দেশ্য দুজনকে খাবার দিবে। খাওয়া দাওয়া হলে রান্না ঘর গুছাতে চলে গেলো।

রাত নামলো, নীবরাজ সন্ধ্যাই বাড়ি ফিরে গেছে। নীবরাজের মা নাহার সুলতানা বেশ শক্ত মানুষ। ছেলেদের খুব ভালোবাসে। ছোট ছেলে তার প্রাণ।

* * *
রাত ১১ টা বাজে নীবরাজ রোজ এসময় পড়ার টেবিলে থাকে। কিন্তু আজ সে চিন্তিত। ভিষণ চিন্তিত। সে ভাবছে ভেবেই চলেছে এখনো আহির কথা। জ্বর কী কমলো? আহি ঔষধ খায় না, তা সে জানে। তাহলে কি খাচ্ছে না?

নিজের মনে এসব ভাবতে ভাবতে রাত আরো গভীর হয়ে এলো।
***

পরদিন -
-- কি রে মহু আহি কেমন আছে?
প্রশ্নটা কলেজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে মহুয়াকে করলো নীবরাজ।
-- এখন ভালো। জানিসই ও ঔষধ খায়না। তবুও চাচ্চু জোর করে রাতে খাইয়েছে। এখন আগের থেকে ভালো আছে।
--তাহলে পড়া শুরু করে দিতে বল।

-- হুম। ও পড়াশোনায় আমার মতো গাট্টা মার্কা না। মেধাবী অনেক।
-- সে তো আমি জানিই। তুই আাসলেই একটা গাট্টি।
এরই মাঝে অন্য সব বন্ধুরা চলে এলো। কলেজে বাকি সব বন্ধুরা মনে করে, নীবরাজ ও মহুয়ার মধ্যে রিলেশন রয়েছে। কিন্তু নীবরাজ এসবে পাত্তা দেয় না। যদিও মহুয়ার দূর্বলতা আছে।
***
কলেজ শেষে বাড়ি ফিরলো মহুয়া।

কটাদিন কাটলো। নতুন বছর এলো যদিও ভার্সিটি লাইফে নতুন বছর নতুন শ্রেণি এমন কোনো বিষয় নেই তবুও সবাই আহির জন্য একসাইডেট। আহি ধীরে ধীরে পড়াশোনায় মনোযোগী হলো। মাঝে মাঝে নীবরাজের সাহায্য সহ স্কুলের স্যারের সাহায্য সব মিলিয়ে দেখতে দেখতে আহির এস এস সির সময় চলে এসেছে। দুটো বছর যে কোন ফাকে কেটেছে বোঝা দায়।

নীবরাজ মহুয়াও এখন ফাইনাল ইয়ারে। আহির ফাইনাল টেস্ট রেজাল্ট বেরিয়েছে। টেস্ট এ সে কৃতকার্য হয়েছে।

আহির জন্য এই দু'বছরে নীবরাজও অনেক খেটেছে। আহি এখন পড়াশোনায় ভালো করছে৷ এরই মধ্যে নীবরাজের ফাইনাল ইয়ার এর পরীক্ষার ডেইট পড়লো। পরীক্ষা শেষে মাস্টার্স এর জন্য পড়ছে ও।

আহিও পরীক্ষা শেষ করলো।
আহির দুইজন খুব ভালো বন্ধু রয়েছে স্কুল ফ্রেন্ড তুষার ও ইসরা। ওরা আহির ভিষণ খেয়াল রাখে। নীবরাজ মাঝে মাঝে তুষারের উপর জেলাস করলেও তা প্রকাশ করতে পারে না।

কিছুদিন পর-
আজ আহিদের প্রথম পরীক্ষা এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। আহি ভিতু তবে পরীক্ষা নিয়ে তার ভয় কম। কারণ সে অনেক মডেল টেস্ট পড়েছে প্রথম পরীক্ষা দিয়ে ঘরে ফিরলো।

বাড়ি ফিরেছে শুনতেই নীবরাজ তরিঘরিতে আহিদের বাড়ি এলো।
-- পরীক্ষা কেমন দিলে আহি?

-- আলহামদুলিল্লাহ। মোটামুটি ভাইয়া।
-- মোটামুটি হলে হবে? ভালো করে দাও৷ নইলে বিয়ে দিয়ে দিবো। ( কথাটা মজার ছলেই বললো(
-- তাহলে তো ভালোই হতো আর এতো পড়তে হতো না।

-- আহি খুব বড় হয়ে গেছো দেখছি। বিয়ে করার এতো শখ।
-- আরে ভাইয়া জানোই তো আমার কত বান্ধবীর বিয়ে হয়ে গিয়েছে।
-- তাই তুুইও করবি??
-- না আপু মজা করছিলাম।
-- এখন মজ রাখ। মন দিয়ে পড় পরীক্ষা শেষে তোকে আমাদের কলেজে ভর্তি করাবো। কেমন?

-- আচ্ছা।
দেখতে দেখতে আহির এসএসসি পরীক্ষা শেষ হলো। এখন তারা রেজাল্ট এর অপেক্ষা করছে। এই অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছে না। তাই তারা তিন বন্ধু মিলে ঠিক করলো তারা ট্যুর দিবে লম্বা ট্যুর।

সে সম্পর্কেই আলোচনা করছে তারা;

-- আহি কিছু বল। আমরা ঘুরতে যাবো তো কোথায় যাবো!!!
-- চল তোর বিয়ে দিয়ে তোর শশুর বাড়ি যায়।
-- আরে ফাওল রাখ ভন্ডামি পরে করবি। এখন সিরিয়াস আমরা বল,কোথায় যাওয়া যায়?
-- আমার দাদুর বাড়ি যাবি??

-- চল। আচ্ছা ইসরার মা ইসরাকে ছাড়বে??
-- না ছাড়লে তোর হাতটা ধরবে কিভাবে। হা হা। মজা করছি
-- তুই যেনে বুঝে মজা নিস! ইসরা থাকলে আজই আমার শেষ
দিন হতো। এই বলে হো হো করে হেসে উঠলো তুষার।

তারা হাসতে হাসতে হঠাৎ ইসরা হাজির পেছন থেকে ডেকে বললো: --

আমাকে ছাড়াই তোদের আড্ডা জমে গেছে তাহলে।
-- আরে নারে। পেতনিকে ছাড়া কি আর ভুতের গল্প হয়??

-- কিইইইহ আমি ভুত??
-- না না তুমি পেতনি।
-- আরে থাম তোরা। বল এবার আমাদের প্ল্যানটা বল।
-- আরে ইসরার মা আমার সাথে যাচ্ছে শুনলেই পারমিশন দিয়ে দিবে।
-- কিন্তু তোরা কিসের প্ল্যান করছিস? কোথায় যাচ্ছি আমরা?
-- আমার দাদুর বাড়ি। শুনেছি সেখানে বড় জমিদার বাড়ি আছে। তুই না পুরোনো জমিদার বাড়ি কেমন হয় দেখতে চেয়েছিলি। চল এবার দেখে আসি।
-- ওয়াও নাইচ। আমি তো যাবোই। চল তাহলে বড়দের জানায়।
আহি তার বাবাকে জানালো। প্রথম নারাজ হলেও মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে সে রাজি হলো।
যাওয়ার দিন চলে এলো।বাস থেকে নেমে টেক্সি করে একটা বাড়ির সামনে গিয়ে থামলো। বাড়িটা আটচালা আধপাকা বাড়ি। বাড়ি দেখেই ইসরা প্রশ্ন ছুড়লো।
-- এটা জমিদার বাড়ি?
তাদের সঙ্গে থাকা গার্ড জবাব দিলো!
"না আম্মা! এটা জমিদার বাড়ি না। আজ এখানে থাকবেন আপনারা। কাল জমিদার বাড়ি দেখে আসতে পারবেন। "
--জমিদার বাড়িতে এখন কেউ থাকে না। কথাটা বাড়ির ভেতর থেকে আসলো। এটা আহির বাবার চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি। জিজ্ঞেসু ভঙ্গিতে আহি বললো:
" কেন চাচা? "
আহি ওনাকে চেনে। দাদু বাড়ির কথা এই মানুষটার কাছ থেকে শুনেছে সে। আহিদের বাড়িতে এনার যাওয়া হয় মাঝে মাঝে।
-- পরে সব বলবো পাকা মেয়ে। আগে ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নাও। তোমার চাচি খাবার আয়োজন করেছে।
সন্ধ্যা নামলো। তবুও ভাত করছে কারণ দুপুরে তারা গাড়িতে থাকায় লাঞ্চ করতে পারেনি।
ভোজন শেষে বিশ্রাম নিচ্ছিলো তারা! এমন সময়...

চলবে...?
পর্ব-০৩
#অনিশ্চিত_গন্তব্য
#লেখিকা_সুমাইয়া_আইমি

সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই আহির জ্বর যেন কমছেই না। মহুয়া তার পাশে বসে আছে জলপট্টি দিতে দিতে তাকে শান্তনা দিচ্ছে। -- সেই দুপুর থেক...
14/03/2026

সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই আহির জ্বর যেন কমছেই না। মহুয়া তার পাশে বসে আছে জলপট্টি দিতে দিতে তাকে শান্তনা দিচ্ছে।

-- সেই দুপুর থেকে কেঁদে কেঁদে কি হাল করেছিস নিজের। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। এমন সামন্য বিষয়ে কেউ কাঁদে? দেখ আমাদের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও অনেক ফেসিলিটিস রয়েছে। তুই মন দিয়ে পড়লে ভালো কিছু করতে পারবি।
--আ–আমি ত–তো এমনটি ভাবি নি মহুআপু।
-- চিন্তা করিস না। আমাদের বিভাগেও বেশ ভালো। নিবরাজকে দেখিস না। ও বিসিএস করবে। দেখিস আমাদের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কত কত সুবিধা। কাল তোকে আমাদের ডিপার্টমেন্ট ও বিভাগ ঘুরে দেখাবো। বুঝতে পারবি।
--

আহি মহুয়ার কথায় কিছুটা শান্ত হলো।
মহুয়া আহির চাচাতো বোন। বাবা মি. আনিস ও মা রুবি রোজ এর একমাত্র মেয়ে। পড়াশোনায় মোটামোটু এভারেজ স্টুডেন্ট দের মতোই। আহির বাবারা মি. আরস ও মি. আনিস দুইভাই একসাথে জয়েন ফেমেলিতে থাকে। মহুয়া আহির থেকে গুনে গুনে ৬ বছরের বড়। আহি মহুয়ার প্রাণ। চাচাতো বোন হলেও তাদের দেখে বোঝার উপায় নেই। একে অপরের এতো আপন যে আপন বোনের মতোই বিশুদ্ধ।

-- মহু আপু আমি তো এতোদিন সাইন্স সম্পর্কিত বইই পড়েছি আমি কি পারবো ব্যবসায় শিক্ষায় ভালো করতে?

-- অবশ্যই পারবে। কেন পারবে না। এটা বেশ সহজ সাবজেক্ট। তুমি জানোও না কি দারুণ লটারি জিতেছো। (বলেই ঘরে প্রবেশ করলো
ছয়ফিট লম্বা সুঠাম দেহের এক মানব। পরনে ব্রাউন রঙের টি-শার্ট, কালো জিন্স, গায়ের রঙ ফরসা ধবধবে দেখলেই মায়া হয় ছেলেটাকে।এমন ছেলে তলাটে একটাই,নাম নীবরাজ। আহির জ্বর শুনে কিছুতেই থাকতে পারলো না নিবরাজ।আহি তার জীবনে কি তা এখনো অসঙ্গায়িত।)

-- নিবরাজ তুই! কখন এলি।

-- এই তো। তোদের দুইবোনের আলাপ শুনছিলাম। তা আহি এবার কিন্তু মন দিয়ে পড়তে হবে। এভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না। তুমি কিন্তু খুব মেধাবী। মনে রাখতে হবে।
কথাটা আহি বুঝতে পারলো। তারা দুজন ওর মন ভালো করতেই এসব বলছে।

-- আমি কি সত্যি পারবো নিবরাজ ভাইয়া।
-- হুম তোমায় পারতেই হবে। এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে তুমি ইন্টারমিডিয়েট এ ও ব্যবসায় শিক্ষা নিয়েই পড়বে। তারপর একাউন্টিং ডিপার্টমেন্ট এ পড়তে হবে। তারপর বিসিএস দিবে।

--না-রে নিবরাজ। ও-কে মনে হয় চাচ্চু অনার্স পড়াবে না।
--কেন?
-- ওর মা বাবা চায় ওকে টেকনিক্যাল কিছু পড়াতে। কোনো একটা সাইটে।

-- পড়াবে না মানে। আমি ওকে নিয়ে চট্টগ্রাম ভার্সিটিতে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাবো।যখন টিকে যাবে না! দেখবি সবাই রাজি।

-- তা হলেই হয়। চল বাইরে চল। ও একটু ঘুমাক।

-- আচ্চা চল। ঘুমাও আহি। মন খারাপ করো না। পড়ায় কোনো সমস্যা হলে আমাকে জানিয়ো। তোমার এই নিবরাজ ভাই সব সময় রেডি।
-- আচ্ছা চল এবার।

বাইরে আসতেই এককাপ কফি এগিয়ে দিলো নিবরাজের দিকে।

নিবরাজ সুন্দর, লম্বা গায়ের গরন। অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। বিসিএস তার জীবনে প্রধান লক্ষ। এছাড়াও আরো একটি লক্ষ রয়েছে। নীবরাজ পুরো নাম নীবরাজ খান রাজ ও অনিরাজ খান মিরু তাদের বাবা আমির খান ও মা নাহার সুলতানার দুইই সন্তান।

অনিরাজ দেশের বাইরে ডাক্তারি পড়ছে। নীবরাজ একাউন্টিং ডিপার্টমেন্ট এর ফার্স্ট বয়। যেমন মেধা তেমনি চিন্তা ধারা। পুরো কলেজ তাকে নিয়ে গর্ব করে।

মহুয়ার সাথে তার আলাপ হয়েছিল বিজিএসসি কলেজের ইন্টারমিডিয়েট এ ভর্তির সময়। তখন থেকেই তারা একসাথে। মহুয়া নিবরাজের প্রতি মনে মনে কিছুটা দূর্বল হয়ে পড়ছে দিন দিন।

কিন্তু নিবরাজ তার মন প্রাণ উজাড় করে এখনো একটি নাবালিকাকে ভালোবাসে। কফি খেতে খেতে মহুয়া এবং নিবরাজ আড্ডা দিচ্চিলো।
ইতোমধ্যে মি. আরস ঘরে প্রবেশ করলো। জিজ্ঞাসু ভঙ্গিতে বললো!
-- আম্মাজান কই? ঔষধ খেয়েছে?

নুর বেগম রান্না ঘরেই ছিল।

-- তোমার মেয়ে কী আর ঔষধ খায়??

গিয়ে দেখো ঘুমোচ্ছে হইতো!

পর্ব-০২
---চলবে...?

বি:দ্র : ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখুন।
#অনিশ্চিত_গন্তব্য
#সুমাইয়া_আইমি

রহস্যময়, থ্রিলার, রোমান্টিক গল্প~ অনিশ্চিত গন্তব্যপর্ব -০১:https://www.facebook.com/share/p/1BEBPJLgi6/পর্ব-০২:https://w...
14/03/2026

রহস্যময়, থ্রিলার, রোমান্টিক গল্প~ অনিশ্চিত গন্তব্য

পর্ব -০১:
https://www.facebook.com/share/p/1BEBPJLgi6/

পর্ব-০২:
https://www.facebook.com/share/p/1axLcaT1L2/

পর্ব-০৩:
https://www.facebook.com/share/p/1A8Uw2QZhb/

পর্ব-০৪:
https://www.facebook.com/share/p/1JUkMHsiXX/

পর্ব-০৫:
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=122108699925022767&id=61580683016693&mibextid=Nif5oz

চলবে...?

#অনিশ্চিত_গন্তব্য

#সুমাইয়া_আইমি

Address

Bandarban
BANDARBAN

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sumaiya Sultana Imy সুমাইয়া/আইমি "Story-stock" posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category