30/10/2023
#পেঁয়াজ আবাদে করণীয়:
#মাটিঃ
দোআঁশ ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ হালকা দোআঁশ বা পলিযুক্ত মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য উত্তম। মাটি উর্বর এবং সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
#আবহাওয়াঃ
প্রচুর দিনের আলো, সহনশীল তাপমাত্রা ও মাটিতে প্রয়োজনীয় রস থাকলে পেঁয়াজের ফলন খুব ভাল হয়। রবি/শীতকালীন পেঁয়াজের ক্ষেত্রে ১৫-২৫° সে. তাপমাত্রা পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য উপযোগী। ছোট অবস্থায় যখন শেকড় ও পাতা বাড়তে থাকে তখন ১৫° সে. তাপমাত্রায় ৯-১০ ঘন্টা দিনের আলো থাকলে পেঁয়াজের বাল্ব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে ১০-১২ ঘন্টা দিনের আলা ও ২১° সে. তাপমাত্রা এবং গড় আর্দ্রতা ৭০ শতাংশ থাকলে পেঁয়াজের কন্দ ভালভাবে বাড়ে, বীজ গঠিত হয় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। মাটির পিএইচ ৫.৮ থেকে ৬.৫ হলে পেঁয়াজের ফলন ভাল হয়। হালকা মাটিতে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগে পেঁয়াজের ফলণ ভাল হয়। অধিক ক্ষার বা অম্ল মাটিতে পেঁয়াজের আকার ছোট হয় ও পুষ্ট হতে বেশী সময় লাগে।
#জাতঃ
বারি পেঁয়াজ-৪/বারি পেঁয়াজ-৬/বারি পেঁয়াজ-৭
আমেরিকান কিং/সুলতান /এসিআই কিং/বিপ্লব সুপার/ সুপার কিং/সুকসাগর
#বীজ বপনের সময়ঃ
মধ্য অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।
#বীজতলা তৈরীঃ
বীজতলার দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ও প্রস্থ ৩ ফুট আকারের এবং ৩-৪ ইঞ্চি উচু হতে হবে। প্রতি বীজতলায় ২৫-৩০ গ্রাম বীজ বুনতে হয়। প্রতি বিঘা জমিতে চারা উৎপাদনের জন্য ৩ × ১ মিটার আকারের ১৫-১৬ টি বীজতলার প্রয়োজন।
#বীজতলা শোধনঃ
বীজ বপনের আগে বীজতলা শোধন করে নেয়া উচিৎ। প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম হারে কপার অক্সিক্লোরাইড মিশিয়ে বীজতলার মাটি শোধন করে নেয়া উচিত অথবা বীজতলার উপর ৪ ইঞ্চি পুরু করে খড় বিছিয়ে আগুন জ্বালিয়ে বীজতলা শোধন করা যেতে পারে।
#বীজ শোধনঃ
প্রতি কেজি বীজের সাথে ২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম মিশিয়ে বীজ শোধন করা যায়।
#বীজতলায় সার প্রয়োগঃ
প্রতিটি বীজতলায় ৩-৫ ঝুড়ি পচা গোবর এবং ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া সার ও ৩ গ্রাম ক্রুজার প্রয়োগ করে এবং উপরে সামান্য কাঠের ছাই ছড়িয়ে বীজতলা তৈরী করতে হবে।
#বীজের পরিমাণঃ
দৈর্ঘ্য ১০ ফুট প্রস্থ ৩ ফুট আকারের প্রতিটি বীজতলায় ২৫-৩০ গ্রাম অথবা প্রতি বিঘায় ৫০০-৬০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হবে। বীজ বোনার পর ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে ১ সেমি. পুরু করে ঢেকে দিতে হয়। বীজ বোনার পর হালকা সেচ দিয়ে বীজতলা ভালভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে এবং তারপর প্রয়োজন অনুসারে ১-২ দিন অন্তর সেচ দিতে হবে। বোনার প্রায় ৫-৭ দিন পর বীজ অংকুরিত হয়ে চারা বের হবে।
#চারার বয়সঃ
বীজ বপনের ৪০-৪৫ দিন পর চারা যখন ৬-৮ ইঞ্চি লম্বা হয় তখন জমিতে রোপণের উপযুক্ত হয়।
পেঁয়াজ চাষে বিঘা প্রতি ৩৩ শতকে সারের পরিমান
সারের পরিমাণ:
গোবর ১৩২০ কেজি
ইউরিয়া ৩২ কেজি
টিএসপি ২৯ কেজি
এমওপি ২৫ কেজি
জিপসাম ২০ কেজি
গ্রোজিন ৫ কেজি (আলাদাভাবে)
বিংগো ১.৫ কেজি
থিওভিট ৩ কেজি
মাটির উর্বরতা ভেদে সারের পরিমাণ কম বা বেশি লাগতে পারে।
#সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
শেষ চাষের সময় সবটুকু গোবর, টিএসপি, জিপসাম, ২ কেজি গ্রোজিন, ১ কেজি বিংগো,১ কেজি থিওভিট এবং অর্ধেক ইউরিয়া ও এমওপির সার জমিতে সমানভাবে ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া ও এমওপি, ২ কেজি গ্রোজিন, ১ কেজি থিওভিট সার যথাক্রমে চারা রোপণের ২৫ এবং ৫০ দিন পর ২ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। কন্দ বা সরাসরি বীজ বপন করে চাষ করার ক্ষেত্রেও মোটামুটিভাবে একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
#জমি তৈরিঃ
পেয়াজের জমি ৫-৬ টি চাষ দিতে হবে। জমি আগাছামুক্ত করে বীজ বপন/চারা রোপন/কন্দ রোপন করতে হবে।
#চারা রোপণ পদ্ধতিঃ
#ছিটানো পদ্ধতি
#কন্দ রোপন
#চারা রোপন
কন্দ ও চারা জন্য সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬ ইঞ্চি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ৪ ইঞ্চি রাখতে হবে।
#কন্দ রোপনঃ
প্রতি কেজিতে ৬০-৭৫ টি পেঁয়াজ ধরে এমন পেঁয়াজ রোপণ করতে হবে।
#সেচ প্রয়োগঃ
পেঁয়াজের জমিতে মাটির প্রয়োজনীয় রস না থাকলে প্রতি ১০-১৫ দিন অন্তর পানি সেচ প্রয়োজন।
#অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যাঃ
পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফুলের কলি দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্রই তা ভেঙ্গে দিতে হবে।
#পানি নিষ্কাশনঃ
পেঁয়াজ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। পেঁয়াজের জমিতে পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
#আগাছাঃ
পেয়াজের জমিতে প্রচুর আগাছা হয়ে থাকে তাই জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। সেচের পর জমি নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে।
#পোকাঃ
পেঁয়াজের ক্ষতিকর পোকা হল কাটুই পোকা।
ক্যারাটে কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।
থ্রিপস:
ডেনিমফিট+ ক্যারাটে কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.২ গ্রাম + ১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।
এরিওফাইট মাকড়:
ভার্টিমেক কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১.২৫ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।
ঘোড়াপোকা:
সবিক্রন যে কোন একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।
রোগঃ
#পার্পল ব্লচ-
স্কোর+ রিডোমিল গোল্ড ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি+ ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।
#কন্দ পচাঃ
টিল্ট+ জাজ ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে পারেন।
#গোড়া পচা-
স্কোর+ রিডোমিল গোল্ড ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি+ ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।
#হোয়াইট রটঃ
এমিস্টারটপ / রিভাস যে কোন একটি বালাইনাশক স্প্রে করতে পারেন।
#পেঁয়াজ সংগ্রহঃ
পেঁয়াজ পরিপক্ক হলে পাতা ক্রমশ হলদে হয়ে যায় এবং পাতার অগ্রভাগ শুকিয়ে নুইয়ে পড়ে। যখন ৭০-৮০% পাতার অগ্রভাগ শুকিয়ে নেতিয়ে পড়ে তখনই পেঁয়াজ তোলার উপযুক্ত সময়। সাধারণত রোপনের ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে শীতকালিন পেঁয়াজ তোলার উপযুক্ত হয়।
#ফলনঃ
শতক প্রতি ২-৩ মন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। জাতভেদে ও ভালো পরিচর্যায় আরো বেশী ফলন পেতে পারেন।
কৃষিবিদ মো আতিকুর রহমান।