21/12/2024
#ভালোবাসা
ফাহিম, ক্লাস ৯-এর এক মেধাবী ও হৃদয়বান ছেলে। তার জীবনে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে প্রিয়া, ক্লাস ৭-এর শান্ত স্বভাবের এক মেয়ে। স্কুলে তাদের ক্লাসের অবস্থান ছিল এমন যে, ফাহিম ছিল ৪র্থ তলায় আর প্রিয়া ২য় তলায়। স্কুলের মাঝখানে ছিল একটি সুন্দর বাগান। বাগানটিতে প্রবেশ করার অনুমতি কারও ছিল না, কিন্তু এই বাগানই তাদের ভালোবাসার নিঃশব্দ সাক্ষী।
প্রতিদিন টিফিনের সময় ফাহিম ৪র্থ তলার জানালার কাছে দাঁড়িয়ে থাকত। আর প্রিয়া ২য় তলার জানালার ধারে এসে দাঁড়াত। দূর থেকে তারা একে অপরকে দেখত, চোখের ভাষায় কথা বলত। শব্দের কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ তাদের হৃদয় একে অপরকে বোঝার জন্য যথেষ্ট ছিল।
প্রিয়ার বাবা-মা ছিলেন অত্যন্ত কড়া। তার দুই ছোট ভাইবোনও খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। প্রিয়া পরিবারের শাসনের কারণে কখনোই নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেনি। ফাহিমও জানত যে তাদের এই সম্পর্ক প্রকাশিত হলে সমস্যা হবে। তাই তাদের সম্পর্ক ছিল একদম নীরব—শব্দহীন, কিন্তু গভীর।
ক্লাস ১০-এ উঠে ফাহিম জানতে পারল যে তার পরিবার তাকে অন্য শহরে নিয়ে যাবে। স্কুল ছাড়ার আগের দিন ফাহিম জানালার কাছে দাঁড়িয়ে প্রিয়ার দিকে তাকাল। প্রিয়া বুঝতে পারল, এটাই হয়তো তাদের শেষ দেখা। দুজনের চোখে জল ঝরছিল, কিন্তু তারা কিছু বলল না।
ফাহিম শুধু মনে মনে বলল,
"তোমাকে ভুলব না, প্রিয়া।"
আর প্রিয়া মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল,
"আমি তোমার জন্য প্রার্থনা করব, ফাহিম।"
১৫ বছর পর, ফাহিমের মা তার জন্য পাত্রী খুঁজতে শুরু করলেন। একদিন তিনি বললেন,
"ফাহিম, একটা মেয়ে দেখেছি। খুব ভালো মেয়ে। তার নাম প্রিয়া। তুমি দেখবে?"
ফাহিম নাম শুনেই হতবাক হয়ে গেল। নামটি যেন তার অতীতের সব স্মৃতি ফিরিয়ে আনল।
দেখার দিন ফাহিম গিয়ে দেখে, প্রিয়া তার সামনে। প্রিয়া তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
"এতদিন পরও কি আমাকে মনে আছে?"
ফাহিমের চোখ ভিজে উঠল। বলল,
"তোমাকে কখনো ভুলতে পারিনি, প্রিয়া।"
মিলনের পরিণতি
প্রিয়ার পরিবারও এই সম্পর্কে সম্মতি দিল। অতঃপর ফাহিম আর প্রিয়ার বিয়ে হল। বিয়ের দিন ফাহিম বলল,
"আমরা দূর থেকে দেখা করতাম, কিন্তু আজ তুমি আমার পাশে।"
প্রিয়া হাসিমুখে বলল,
"এখন আর কোনো দূরত্ব নেই। আমাদের গল্প পূর্ণ হয়েছে।"
এভাবেই নীরব ভালোবাসার এই গল্প জীবনের পূর্ণতা পেল। দূরত্ব আর সময় তাদের আলাদা করেছিল, কিন্তু ভাগ্য আবার তাদের একত্র করল।