The Jakia Diaries

The Jakia Diaries শান্তি খুঁজে পাই নীরবতার গল্পে, যেখানে শব্দ নেই, কেবল অনুভূতি আছে 🌙🌿

 #ভালোবাসা   ফাহিম, ক্লাস ৯-এর এক মেধাবী ও হৃদয়বান ছেলে। তার জীবনে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে প্রিয়া, ক্লাস ৭-এর শান্ত ...
21/12/2024

#ভালোবাসা


ফাহিম, ক্লাস ৯-এর এক মেধাবী ও হৃদয়বান ছেলে। তার জীবনে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে প্রিয়া, ক্লাস ৭-এর শান্ত স্বভাবের এক মেয়ে। স্কুলে তাদের ক্লাসের অবস্থান ছিল এমন যে, ফাহিম ছিল ৪র্থ তলায় আর প্রিয়া ২য় তলায়। স্কুলের মাঝখানে ছিল একটি সুন্দর বাগান। বাগানটিতে প্রবেশ করার অনুমতি কারও ছিল না, কিন্তু এই বাগানই তাদের ভালোবাসার নিঃশব্দ সাক্ষী।

প্রতিদিন টিফিনের সময় ফাহিম ৪র্থ তলার জানালার কাছে দাঁড়িয়ে থাকত। আর প্রিয়া ২য় তলার জানালার ধারে এসে দাঁড়াত। দূর থেকে তারা একে অপরকে দেখত, চোখের ভাষায় কথা বলত। শব্দের কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ তাদের হৃদয় একে অপরকে বোঝার জন্য যথেষ্ট ছিল।

প্রিয়ার বাবা-মা ছিলেন অত্যন্ত কড়া। তার দুই ছোট ভাইবোনও খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। প্রিয়া পরিবারের শাসনের কারণে কখনোই নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেনি। ফাহিমও জানত যে তাদের এই সম্পর্ক প্রকাশিত হলে সমস্যা হবে। তাই তাদের সম্পর্ক ছিল একদম নীরব—শব্দহীন, কিন্তু গভীর।

ক্লাস ১০-এ উঠে ফাহিম জানতে পারল যে তার পরিবার তাকে অন্য শহরে নিয়ে যাবে। স্কুল ছাড়ার আগের দিন ফাহিম জানালার কাছে দাঁড়িয়ে প্রিয়ার দিকে তাকাল। প্রিয়া বুঝতে পারল, এটাই হয়তো তাদের শেষ দেখা। দুজনের চোখে জল ঝরছিল, কিন্তু তারা কিছু বলল না।

ফাহিম শুধু মনে মনে বলল,
"তোমাকে ভুলব না, প্রিয়া।"
আর প্রিয়া মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল,
"আমি তোমার জন্য প্রার্থনা করব, ফাহিম।"

১৫ বছর পর, ফাহিমের মা তার জন্য পাত্রী খুঁজতে শুরু করলেন। একদিন তিনি বললেন,
"ফাহিম, একটা মেয়ে দেখেছি। খুব ভালো মেয়ে। তার নাম প্রিয়া। তুমি দেখবে?"
ফাহিম নাম শুনেই হতবাক হয়ে গেল। নামটি যেন তার অতীতের সব স্মৃতি ফিরিয়ে আনল।

দেখার দিন ফাহিম গিয়ে দেখে, প্রিয়া তার সামনে। প্রিয়া তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
"এতদিন পরও কি আমাকে মনে আছে?"
ফাহিমের চোখ ভিজে উঠল। বলল,
"তোমাকে কখনো ভুলতে পারিনি, প্রিয়া।"

মিলনের পরিণতি

প্রিয়ার পরিবারও এই সম্পর্কে সম্মতি দিল। অতঃপর ফাহিম আর প্রিয়ার বিয়ে হল। বিয়ের দিন ফাহিম বলল,
"আমরা দূর থেকে দেখা করতাম, কিন্তু আজ তুমি আমার পাশে।"
প্রিয়া হাসিমুখে বলল,
"এখন আর কোনো দূরত্ব নেই। আমাদের গল্প পূর্ণ হয়েছে।"

এভাবেই নীরব ভালোবাসার এই গল্প জীবনের পূর্ণতা পেল। দূরত্ব আর সময় তাদের আলাদা করেছিল, কিন্তু ভাগ্য আবার তাদের একত্র করল।

🌧️☂️❤️বৃষ্টি ঝরছে টাপুর-টুপুর। আকাশের মেঘলা চেহারায় যেন এক মিষ্টি সুর। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে, গ্রামটির কাঁচা রাস্তা ...
06/12/2024

🌧️☂️❤️

বৃষ্টি ঝরছে টাপুর-টুপুর। আকাশের মেঘলা চেহারায় যেন এক মিষ্টি সুর। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে, গ্রামটির কাঁচা রাস্তা ভিজে গেছে বৃষ্টির জল। রাহাত ছাতা হাতে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে। হালকা বাতাসে তার চুল উড়ছে। একটু দূরে একটি মেয়েকে দেখতে পেল সে। পরনের লাল শাড়ি ভিজে গেছে বৃষ্টিতে, আর তার চোখে এক অদ্ভুত মায়াবী আকর্ষণ।

মেয়েটি ছুটে এল তার দিকে। “তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন? ভিজে যাবে তো!” রাহাত মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকল। “তুমি?” মেয়েটি হেসে বলল, “আমার নাম আনিকা। তুমি কি ছাতাটা শেয়ার করতে পারবে?”

দু’জনের মাঝে ছাতাটা সেতু হয়ে দাঁড়াল। কাঁচা রাস্তার পাশে পুকুরের ধারে হাঁটতে হাঁটতে তারা বৃষ্টির শব্দ শুনছিল। আনিকা কথা বলছিল অনর্গল। তার হাসির মাঝে যেন এক অদ্ভুত উষ্ণতা।

রাহাত তার গল্প শুনতে শুনতে নিজের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো মনে করছিল। এই বৃষ্টি, এই মিষ্টি মুহূর্ত—সব যেন একটা স্বপ্নের মতো। হঠাৎ আনিকা বলল, “তুমি এত চুপ কেন? কিছু বলছো না কেন?”

রাহাত মুচকি হেসে বলল, “তোমার কথা শুনতে শুনতে বৃষ্টি আরও সুন্দর লাগছে।” আনিকা লজ্জা পেয়ে বলল, “তুমি খুব অদ্ভুত, জানো?”

পুকুরের ধারে একটা বড় কদম গাছের নিচে তারা দাঁড়াল। বৃষ্টির ফোঁটা গাছের পাতা থেকে পড়ছে। আনিকা বলল, “জানো, বর্ষা আমার খুব প্রিয় ঋতু। বৃষ্টির দিনে মনে হয়, পুরো পৃথিবীটা নতুন করে বেঁচে উঠছে।”

রাহাত আনিকার চোখে তাকিয়ে বলল, “আমার তো আজ মনে হচ্ছে, এই পৃথিবীতে তুমি আর এই বৃষ্টি ছাড়া কিছুই দরকার নেই।” আনিকা চমকে তাকাল। কিছু বলল না, শুধু হেসে মাথা নিচু করে রইল।

বৃষ্টি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করল। মেঘের ফাঁক দিয়ে সূর্যের হালকা আলো পড়ল তাদের ওপর। আনিকা হেসে বলল, “তাহলে দেখা হবে আবার?” রাহাত তার দিকে তাকিয়ে বলল, “এই বর্ষা যতদিন থাকবে, ততদিন তোমার সাথে থাকার ইচ্ছেটাও থাকবে।”

আনিকা চলে গেল, কিন্তু তার হাসিটা রাহাতের মনে ঠিকই রয়ে গেল। বৃষ্টি থেমে গেলেও রাহাত জানত, এই বর্ষা তার জীবনে এক নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে।

📚❤️🌙সকালবেলার হালকা রোদ আর গাছের ছায়া মিলে এক মায়াময় পরিবেশ তৈরি করেছিল। আরিয়ান বাসার পাশের লাইব্রেরিতে ঢুকলো। বইয়ের পোক...
04/12/2024

📚❤️🌙
সকালবেলার হালকা রোদ আর গাছের ছায়া মিলে এক মায়াময় পরিবেশ তৈরি করেছিল। আরিয়ান বাসার পাশের লাইব্রেরিতে ঢুকলো। বইয়ের পোকা আরিয়ান প্রায়ই এখানে আসে, কিন্তু আজকের দিনটা অন্যরকম ছিল। লাইব্রেরির এক কোণে একজন মেয়ে, লাল স্কার্ফ আর হালকা মেকআপে বসে বই পড়ছিল। আরিয়ান তাকে দেখে কিছুটা থমকে গেল। মেয়েটির চোখে ছিল এক অদ্ভুত আকর্ষণ।

আরিয়ান সাহস করে তার দিকে এগিয়ে গেল।
– "এই বইটা কি ভালো?"
মেয়েটি মাথা তুলে হাসলো।
– "ভালোই, তবে আপনার পছন্দের উপর নির্ভর করছে।"
আরিয়ানের বুকের ভেতর কেমন যেন শিহরণ হলো। তাদের আলাপ জমে উঠলো। মেয়েটির নাম ছিল তাসফিয়া

আরিয়ান আর তাসফিয়ার মধ্যে একটা সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো। প্রতিদিন লাইব্রেরিতে দেখা করা যেন তাদের রুটিন হয়ে গেল। তাসফিয়া ছিল গল্পের বইয়ের ভক্ত, আরিয়ান আবার ভালোবাসে ইতিহাস। তাদের আলাপের ফাঁকে ফাঁকে গল্প আর হাসি মিশে যেতে লাগলো।

একদিন তাসফিয়া বললো,
– "তুমি কি কখনও আকাশের তারাগুলো দেখতে গিয়ে কিছু মিস করেছ?"
আরিয়ান একটু ভেবে বললো,
– "হ্যাঁ, কিছু অনুভূতি, যা বলে বোঝানো যায় না।"
তাসফিয়া মুচকি হেসে বললো,
– "আমিও তাই মনে করি।"

একদিন সন্ধ্যাবেলায়, লাইব্রেরির বাইরে তারা দুজন হাঁটছিল। তাসফিয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো,
– "তোমার সাথে কথা বলতে গিয়ে কখন যে সময় কেটে যায় বুঝতেই পারি না।"
আরিয়ান একটু থেমে বললো,
– "তোমার সাথে সময় কাটানোটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।"

তাসফিয়া হেসে বললো,
– "তাহলে এই সুন্দর অনুভূতিটা সারাজীবন ধরে রাখার ইচ্ছা নেই?"
আরিয়ান চুপ করে তার দিকে তাকালো। কিছুক্ষণ পরে বললো,
– "আমার মনে হয়, তুমি সেটা আগেই বুঝে গেছো।"
তাসফিয়ার মুখে এক প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠলো। আরিয়ান তার হাতটা ধরলো। আকাশের তারা যেন তাদের এই মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকলো।

নীরবতার মাঝে শান্তির ঠিকানা খুঁজি 🗻
03/12/2024

নীরবতার মাঝে শান্তির ঠিকানা খুঁজি 🗻

Address

Barishal

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Jakia Diaries posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share