24/05/2026
❤️
আমার এক কাজিন বোন আছে, বিদেশ যাওয়ার আগ পর্যন্ত সে বালিশে কোন দিন কাভার পর্যন্ত পরায়নি।
ল্যান্ড করেই রাতে আমাকে কল দিয়ে বলে, এই অনিপু বালিশে কাভার পরাবো কেম্নে! আমি যে কোন দিন বালিশে কাভার পরাইনি😭
বোনের এই করুণ পরিণতি দেখতে না পেরে ওকে নিয়ে এক খান কান্নার ইমোজি দিয়ে স্টোরিও দিয়েছিলাম। 🤲
আর তাকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছিলাম তুই নিজে নিজে একা একা কিভাবে এই দূরদেশে খেয়ে পরে বাঁচবি!
আমার ধারণা ছিল অন্তত রান্নাটা সে এইবার শিখবে।
কিন্তু না।
ঘাউড়ামি আমাদের রক্তে।
আমাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত করে দিয়ে সেই বেটি দুই বছরে দুইবার খিচুড়ি, আর একবার মুরগি রান্না করলো। সে পড়াশোনার পাশাপাশি যে রেস্টুরেন্টে কাজ করতো সেইখান থেকে যে ফ্রি মিল প্রোভাইড করা হত ওই একই খাবার মুখ বুজে খেয়ে খেয়ে পড়ে থাকতো। ফোনে বলত, একই খাবার খেতে খেতে আমার বমি আসে- তাও নিজে রান্না করা শিখেনি।
তার ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন আমরা গভীর ভাবে শংকিত তখন ফট করে তার এমন এক ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে গেল, যে থিসিস করছে, জবও করছে, আবার নিজেই রান্না করে খায়।
আমরা সহ বোনের পুরো পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো, যাক, এইবার মেয়েটা মাঝে মধ্যে অন্তত ঠিক মত ভাত তরকারি খেতে পাবে..
আমার বোন এখনো পুরোপুরি রান্না শিখেনি, টুকটাক চেষ্টা করে। কিন্তু সে জব থেকে ফিরে দেখে তার বর খাবার সাজিয়ে রেখে গেছে। বাড়ির ছোট মেয়ে বিধায় তাকে স্পয়েল্ড প্রিন্সেস বলা হত। তার এমন পার্টনার জুটেছে যে তাকে এই প্রিন্সেস ট্রিটমেন্টই দেয়।
আমার প্লে স্কুলে পড়ার সময় থেকে যে বেস্টি, কত বছর ধরে চেষ্টা করার পর তার ফাইনালি একটা মিষ্টি বাবু হল।
হাসপাতালে বাবুকে আগে বের করা হল, বাবুর বাবা'র মুখে তখনো হাসি নাই। চিন্তার ছাপ।
যখন খবর এলো আমার বেস্টি ঠিক আছে, ভাল আছে, সুস্থ আছে- ফাইনালি বউ এর মুখ দেখে তার মুখে হাসি ফুটলো; নিশ্চিন্ত হলেন।
প্রেগ্নেন্সির জার্নিটা আমার বেস্টির জন্য সবসময় স্মুদ ছিল না, অনেক আপস এন্ড ডাউন্স গেছে.. কিন্তু ভাইয়ার একটাই কথা ছিল, তুমি সুস্থ থাকবা, ভাল থাকবা এইটা মেইন প্রায়োরিটি আমার। তুমি ভাল থাকো, বাকিটা আমরা দুজন মিলে বুঝে নিব।
আমার আরেক পরিচিত বোন আছে, দুনিয়ার অলস।
সেও বিদেশ।
জব করে রান্না করতে প্যারা লাগে তাই দুদিন পর পর দেখি পিজ্জা কিনে। এক পিজ্জা কিনলে দুই দিন যায় 🤲
তার কপালে এমন পার্টনার জুটেছে জব করার পাশাপাশি উইকেন্ডে সপ্তাহের ফুল মিল রান্না করে রাখে তো বটেই, উল্টো তাকে বাসন ও মাজতে দেয়না। বলে, তোমার মাজা আমার পছন্দ না, আমাকে ভাল করে মাজতে দাও।
(এই সেইম কাজ আমার বর ও করেন, উনি বাদে অন্য কেউ মাজলেই সেটা উনার পছন্দ হয়না)
সব মেয়েরাই সংসারি হয়না, কিন্তু এই বোন সেটার একদম peak এ। সে একদম উদাসীন, ভবঘুরে, ছন্নছাড়া ছিল।
অথচ জীবনে সঠিক মানুষটা আসার পর তার জীবনটা গোছালো হল, ডিসিপ্লিন ফিরলো, তার চোখে মুখের গ্লো ফিরলো!
যে আজকের বাচলে কালকের প্ল্যান করব এই নীতিতে চলত, সে এখন ফিউচারের প্ল্যান করে। ভাল আছে মাশাল্লাহ!
আমার এক নতুন বান্ধবী জুটেছে, তার একটা সিভিয়ার অসুখ আছে। অবস্থা একসময় এত খারাপ হয়েছল, যে তার হাজব্যান্ড জব ছেড়ে দিয়েছিলেন সারাদিন তার দেখাশোনা করবে বলে। হাসপাতালে আসা যাওয়া, তার পাশে থাকা, টেক কেয়ার করা সব একা হাতে সামলেছেন। তাও পাশে থেকেছেন।
আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়কার সবচেয়ে ভাল বন্ধু, তার ছিল ১০ বছর ধরে প্রেম। প্রেমিকা কোনদিন মিনারেল ওয়াটার ছাড়া নরমাল পানি খায়না। আমরা পড়াশোনা শেষ করলাম, কেউ চাকরি কেউ ব্যবসা শুরু করলাম, বিয়ে করলাম। আমার বিয়ের দুই মাস পর আমার বন্ধুর ও বিয়ে হল, তার মিনারেল ওয়াটার খাওয়া প্রেমিকার সাথে। বিয়ের প্রায় ১০ বছর হতে যাচ্ছে তার বউ এখনও মিনারেল ওয়াটারই খায়, আর আমার প্রেমে অন্ধ বন্ধু রোজ মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিনে কিনে বাসা ভর্তি করে..
শেষ করি আমার আব্বুর গল্প দিয়ে।
আমার বাসার ছবি বা ভিডিও তো আপনারা অনেকেই দেখেছেন, তাই না? বিশাল দৈত্যের মত বাসা। বাসার ভেতরে ফুটবল খেলা যাবে অথচ বাসায় মানুষ ছিলাম আমরা তিন জন মাত্র। আমার ভাই ভাবি থাকেন ঢাকা, বছরে দুবার আসেন, আবার চলে যান। এত বড় বাসার কোন দরকার ছিল না।
কিন্তু এত বড় বাসা আমার বাপ বানিয়েছিলেন আমার মায়ের নামে।
একদিন আপন মনে বলছিলেন, আসলে, আমারই তো আগে চলে যাওয়ার কথা ছিল। আমি না থাকলে তোমার মায়ের যেন থাকার জায়গার কোন সমস্যা না হয়, কারো কাছে যেন যেতে না হয় সেইজন্যই তো এই বাসা বানিয়েছিলাম..
এই আম্মুই আব্বুকে মাসে ৩০ দিনের মধ্যে ২৫ দিন হুংকার দিয়ে থ্রেট দিতেন যে তিনি বলেই এই সংসারে পড়ে আছেন, নাহলে অন্য যে কেউ এই সংসারের মুন্ডু নিপাত করে চলে যেত..
এই যে এতগুলো কাহিনী বললাম, এত রকমের কাহিনী বললাম, এইসবের মোদ্দা কথা হচ্ছে যেসব ছেলে করতে চায়, তারা আসলেই করে। ছেলেদের ইকুয়েশন সবসময়ই সিম্পল। তারা সেটাই দেখায়, সেটাই করে যেটা তারা আসলেই চায়।
আপনারা যারা ভাবেন এমন মেয়েদের কারা বিয়ে করে, উচ্চশিক্ষিত, ইন্ডিপেন্ডেন্ট বা হাই মেইন্টেনেন্স মেয়েদের বিয়ে আসলেই টেকে কিনা..তাদের পার্টনাররা বোধহয় দুনিয়ার দুখি মানুষ, বা কোন সমস্যা আছে- আদতে গিয়ে দেখবেন এরা বেশিরভাগ সময়ে ভালই থাকে। বরং এসব মেয়েরাই সেসব পার্টনার পায় যারা তাদের লাইফস্টাইল এর সাথে ম্যাচ করতে পারবে। ওভার অল একটা রিলেশনে সুখ দুঃখ- আপস এন্ড ডাউন্স সবই থাকে, তারাও এইটা মেনে বুঝে ওকে অপরের সাথে থাকা শিখে যায়।
রান্না না পারা, অলসতা এইগুলা কোন ভাল গুণ না, কিন্তু ঠিক মানুষটার জন্য তারাও আস্তে আস্তে নিজেদের পরিবর্তন করেছে, হয়তো সামনে আরো করবে।
১০ বছর আগে আমি রান্নাঘরেই ঢুকতাম না।
এখন আমার বরের সব পছন্দের খাবার রান্না করতে পারি।
সেই মানুষ টার জন্য শিখতে বা করতে আমার খারাপ লাগেনা যে নিজে আমার জন্য ভাত রান্না করা শিখেছে, শাক রান্না করা শিখেছে, সবজি রান্না করা শিখেছে।
না, এইগুলো আমার পছন্দ না মোটেও।
কিন্তু উনি রান্না করে জোর করে খাওয়ান যেন শাক সবজি খেয়ে আমি সুস্থ থাকি। আমার আম্মু চলে গেছেন, কিন্তু তার ছায়া রেখে গেছেন আমার বরের মধ্যে🤲
মেয়েদের কে বারবার একই সবক দিতে থাকি, আবার ও দেই:
মেয়েরা, ভালবাসা দিয়ে ভুল মানুষকে শুদ্ধ করা যায়না।
বরং যে তোমার জন্য সঠিক, একজন ভাল মানুষ যে, তুমি তার জন্য নিজেকে প্রয়োজন মত মডিফাই করতে পারো, প্রয়োজন অনুসারে কম্প্রোমাইজ করতে পারো, তাকেও প্রিন্স ট্রিটমেন্ট দিতে পারো কিন্তু যে তোমার জন্য করেনা, তার জন্য জান উজাড় করে দিলেও সে করবেনা।
ইকুয়েশনটা খুবই সিম্পল।