cranky clumsy life

cranky clumsy life fun? cooking? eating? travelling? it's bachelor time

16/04/2026

গল্প: ভালোবাসা আর দায়িত্বের মাঝে
চতুর্থ পর্ব —

দেখতে দেখতে কেটে গেল আরও ১০–১২ দিন।

সেদিন স্কুলে একটা বিশেষ প্রোগ্রাম ছিল। সময়ের আগেই পৌঁছে গিয়েছিল নীলিমা। ভেবেছিল একটু শান্তভাবে বসবে, সবকিছু গুছিয়ে নেবে… কিন্তু সেখানে গিয়েই তার বুকটা ধক করে উঠল।

আরাবি…
সে তো আগেই এসে দাঁড়িয়ে আছে।

দূর থেকেই চোখে পড়ল তাকে—সেই চেনা চেহারা, শান্ত দৃষ্টি। নীলিমার ভেতরে হঠাৎ করেই অদ্ভুত একটা অস্থিরতা শুরু হলো।

তার সাথে ছিল ৪–৫ জন বান্ধবী। তারা তো আগেই জানত, নীলিমার মনে কী চলছে। তাই আরাবিকে দেখামাত্রই শুরু হলো হাসাহাসি, খোঁচা দেওয়া—

“ওই দেখ, তোর আরাবি!”

নীলিমা লজ্জায় হালকা রেগে গিয়ে বলল,
—“ধুর, চুপ কর তোরা!”

কিন্তু কথার ফাঁকে হঠাৎই তার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল—
—“ইশ… যদি একবার কথা বলতে পারতাম ওর সাথে…”

এই কথাটা শুনেই এক বান্ধবী আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না।
দৌড়ে চলে গেল আরাবির দিকে।

—“এই! যাস না!” —নীলিমা থামানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আরাবিকে নিয়ে ফিরে এলো।

নীলিমার বুকের ভেতরটা কেমন যেন কাঁপতে লাগল।
এখন… সে কী বলবে?

মজা করে বলা একটা কথা, কিন্তু এখন সেটাই বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সামনে।

আরাবি এসে শান্তভাবে দাঁড়াল। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল—
—“ডেকেছো, আপু?”

নীলিমা একটু থমকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল—
—“তুমি… আমাকে চেনো?”

আরাবি হালকা মাথা নেড়ে বলল—
—“হ্যাঁ, চিনি।”

এই ছোট্ট উত্তরে যেন নীলিমার ভেতরে কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি জেগে উঠল।

সে তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি সামলাতে বলল—
—“আসলে… আমার ফ্রেন্ডরা মজা করে তোমাকে ডেকেছে। কিছু মনে কোরো না।”

—“আচ্ছা,” —বলেই আরাবি চলে যাওয়ার অনুমতি চাইল।

নীলিমা মাথা নেড়ে অনুমতি দিল।

সবকিছু এত দ্রুত ঘটে গেল যে, নিজেকে ঠিকমতো বোঝার সুযোগই পেল না সে।

কিন্তু এবার…
মনে কোথা থেকে যেন একটু সাহস এল।

অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ডাক পড়ল। সবাই সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছে।

হঠাৎ করে নীলিমা পিছন ফিরে দাঁড়াল।
আরাবির হাত থেকে একটা কাগজ নিয়ে নিল—যেটা সে এতক্ষণ ধরে দেখছিল।

—“কবিতা আবৃত্তি করবে?” —চোখে হালকা কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল নীলিমা।

আরাবি ছোট্ট করে হেসে বলল—
—“না… গান গাইব।”

নীলিমা কাগজটার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে আবার ফিরিয়ে দিল।

তারপর সবাই গিয়ে বসল স্কুলের অডিটোরিয়ামে।

এক এক করে সব অনুষ্ঠান শেষ হতে লাগল।

সবশেষে—গান।

নীলিমার নাম আগেই ডাকল।
স্টেজে উঠে সে নিজের মতো করে গান গাইল। কণ্ঠে হালকা কাঁপন থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ভালোই হলো।

স্টেজ থেকে নেমে এসে সে আর কারো দিকে তাকাল না।

এবার আরাবির পালা।

সে ধীরে ধীরে মাইকের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
মাইকটা হাতে নিল।

এই মুহূর্তে—
দু’জন মানুষের হার্টবিট যেন স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি জোরে বাজছে।

নীলিমা ইচ্ছে করেই তাকাল না তার দিকে।

সে চায়নি, আরাবি আবার অপ্রস্তুত হয়ে পড়ুক।

শুধু চুপচাপ বসে শুনতে লাগল তার কণ্ঠ…

আরাবির গলায় এক ধরনের শান্ত সুর ছিল। খুব জোরালো না, আবার একদম মৃদুও না—কিন্তু অদ্ভুতভাবে মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।

“খারাপ না… ভালোই,” —মনে মনে বলল নীলিমা।

অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফিরে এল সে।

কিন্তু সেদিন রাতটা আর স্বাভাবিক ছিল না।

তার মাথার ভেতর বারবার ভেসে উঠছিল—
আরাবির কণ্ঠ…
সেই গানের সুর…

অজান্তেই কয়েকবার আস্তে আস্তে গুনগুন করে গেয়ে ফেলল সে।

আর ভাবতে লাগল—
সেই ছেলেটার কথা…

যাকে সে এখনো ঠিকমতো চেনে না,
তবুও…
কেন যেন মনে হয়, অনেকদিনের চেনা।

চলবে…

#ভালোবাসাআরদায়িত্বেরমাঝে



05/04/2026

গল্প: ভালোবাসা আর দায়িত্বের মাঝে

তৃতীয় পর্ব —

নীলিমা সেদিন বাসায় ফিরে যেন অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল, তবুও তার ভেতরে একটা অজানা অস্থিরতা কাজ করছিল। মাথার ভেতর ঘুরছিল একটাই ছবি—চেক শার্ট পরা, চশমা পরা, হালকা চাপ দাড়িওয়ালা সেই ছেলেটা।
রাতের খাবার শেষ করে সে ধীরে ধীরে বাবার পাশে গিয়ে বসল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে হঠাৎ বলেই ফেলল—
—“আব্বু… আজকে একটা ছেলেকে দেখলাম…”
তার বাবা একটু অবাক হয়ে তাকালেন—
—“কেমন ছেলে?”
নীলিমা একটু ভেবে নিয়ে বলল—
—“চেক শার্ট পরা… চশমা ছিল… হালকা চাপ দাড়ি… আজকে আমাদের সাথেই স্কুল বাসে ফিরছিল। তুমি কি চিনো?”
বাবা হালকা হাসলেন—
—“হ্যাঁ, চিনি তো। ও তো আরাবি। আমাদের স্কুলেরই স্টুডেন্ট।”
নীলিমা একটু চমকে উঠল—
—“তাই নাকি! আমি তো কখনো দেখিনি…”
বাবা মাথা নেড়ে বললেন—
—“চিনবি কিভাবে? এতদিন তো সবাই মাস্ক পরে থাকত। এখন ধীরে ধীরে খুলছে, তাই না চেনা লাগছে।”
কথাগুলো খুব সাধারণ ছিল, কিন্তু নীলিমার মনে যেন অদ্ভুত একটা আলো জ্বলে উঠল।
“আরাবি…” —নামটা মনে মনে বারবার উচ্চারণ করল সে।
জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো নীলিমা। বাইরে রাত নেমেছে, চারপাশে নিস্তব্ধতা। কিন্তু তার ভেতরে যেন নতুন একটা গল্পের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
সে নিজেও বুঝতে পারছিল না—
কেন একটা অপরিচিত ছেলের ব্যাপারে এত জানতে ইচ্ছে করছে…
হয়তো—
এই অনুভূতিটা নতুন, অচেনা…
সেদিনের পর থেকে নীলিমা অদ্ভুত এক অস্থিরতায় ভুগতে লাগল।
ছেলেটাকে দেখার পর থেকে তার ভেতরে কিছু একটা বদলে গেছে।
প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময়, ক্লাসের মাঝে হঠাৎ করেই তার চোখ দুটো খুঁজতে থাকে সেই চেনা চেহারাটা—চেক শার্ট, হালকা দাড়ি, আর চোখে সেই চশমা।
কিন্তু আরাবি যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
কোথাও নেই… একদমই নেই।
একদিন সাহস করে নীলিমা তার বান্ধবী মিথিলাকে জিজ্ঞেস করল—
“এই, আরাবি নামে কেউ আছে আমাদের স্কুলে?”
মিথিলা একটু ভেবে বলল,
“হুম… নামটা শুনেছি মনে হয়। আমাদের ইমেডিয়েট জুনিয়র। কিন্তু ও তো খুব চুপচাপ টাইপ। কারো সাথে মেশে না তেমন।”
এই কথাটা শুনে নীলিমার বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল।
“কারো সাথে মেশে না…”
তাহলে সেদিন বাসে কেন তার দিকে তাকিয়েছিল?
সেদিন সকালে নীলিমা ইচ্ছে করেই একটু তারাহুরো করে বাসা থেকে বের হল।
মনে মনে একটা আশাই ছিল—হয়তো আজ আবার দেখা হবে…
স্কুলের রাস্তায় যখন মোড়টা ঘুরে নীলিমা দাড়ালো, তার চোখ দ্রুত চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে…
হঠাৎ—
স্কুলের এই কর্ণারে দাড়িয়ে থাকা একটা চেনা মুখ!
হৃদপিণ্ডটা যেন হঠাৎ করেই জোরে ধাক্কা দিতে শুরু করল।
আরাবি…!
আজও সেই একই শান্ত চেহারা।
কিন্তু আজ তার চোখ সরাসরি নীলিমার-র দিকে।
দুজনের চোখ এক মুহূর্তের জন্য আটকে গেল।
সময়ের মতোই থেমে গেল সবকিছু।
নীলিমা তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিল, কিন্তু বুকের ভেতরটা কেমন যেন অচেনা লাগছে।

চলবে.....

#ভালোবাসাআরদায়িত্বেরমাঝে



04/04/2026

জীবন পর্ব-৩

জীবনের আরেক ধাপে পা বাড়ালাম। নিয়ে যাওয়া হলো আমায় বড় ফুপুর বাসায়। নিজ বয়সী বাচ্চাদের সাথে ভালোই দিন শুরু। এরই ফাঁকে নতুন স্কুলে ভর্তির যুদ্ধে জয়ী হলাম।‌ নতুন মানুষ, নতুন স্কুল, নতুন বইয়ের গন্ধ। সকালে ছোট্ট চাচ্চুর হাত ধরে স্কুলে পদার্পন, কান্না করিনি বরং কৌতুহল ছিল। ফিরে আসতাম বড় ফুপুর হাত ধরে, তারপর গোসল, খাওয়া নিয়ে আপুদের যুদ্ধ শেষ হলে, Beauty sleep ছিলো বরাদ্দ। ঘুম থেকে উঠে পড়া শেষ হলে তবেই টিভি দেখার অনুমতি ছিল। তাই বলে কি, আমি রাজি ছিলাম? ভুলেও না মার খেয়েছি অনেক এই পড়া নিয়ে ক্লাস ফাইভ অবধি ( কী লজ্জা!!!!)। ভদ্র বাচ্চার মতো ইংরেজি, বাংলা নয় শিখেছিলাম হিন্দি‌ । কী যে ঝগড়া এ নিয়ে! এখন মনে পড়লে, হাসি পায়।

এরই মাঝে যেন সকলের বিয়ের ঘন্টা বাজলো। দ্বিতীয় শ্রেণীতে উঠতেই শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে চলল মেজপা, সে যে আমার বড্ড প্রিয়। কিন্তু ভাগ্য যে তার নিয়মে চলছে। তৃতীয় শ্রেণীর মাঝামাঝি সময়ে আমার চাচুর নিজ সংসার হলো (বলা বাহুল্য, তখনও চাচুর হাতেই ভাত খাই)। ভয় পেয়ে গেলাম, কখনো আর কাউকে প্রিয় মানুষের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত এখানেই নিলাম, সবাইকে যে সহজেই হারিয়ে ফেলছি।

চতুর্থ শ্রেণীর শেষ সময়, বড়দার বিয়ের পর আমাকে আর রাখতে রাজি নয় ফুপু। কারণ? জায়গার যে বড্ড অভাব। সবচেয়ে বড় কথা, পড়ালেখার অবস্থা খারাপ করে ফেললাম। কেননা মেজপা আর চাচু দুজনেই যে নেই সাথে। এর দায়ভার নিবে কে? উপায়? দেখাশোনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে চাচু - চাচি নিয়ে এলো আমাকে। আবারো আরেক সংসারে অতিথির বেশে সদস্য হতে চললাম। এসবের মধ্যে বাবা কোথায়? নিজের নতুন সংসারে ব্যস্ত যে। নতুন মা (সৎ মা) পেয়েছি প্রথম শ্রেণীতে‌। দুই বছরের মাথায় ছোট্ট বোন। বাবা-মা(সৎ মা) চেয়েছিলেন আমাকে নিতে, কিন্তু বাঁধ সাধলো আমার চাচু। কি জন্য? ভয়! যদি পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়? যদি বাল্যবিবাহের উদ্দেশ্য থাকে? তাহলে যে দাদুকে দেয়া কথার বরখেলাপ হবে। তাই বাবার সংসারে নয়, চাচুর সংসারে বাস শুরু হলো। মায়ের দায়িত্ব জন্মের সাথে আর বাবার দায়িত্ব যেন এখানেই শেষ। কেন বললাম?




30/03/2026

"Not all angels have wings, some wear stethoscope 🩺."
Thank you for your dedication and commitment to providing the best care to your patients and being a beacon of hope and healing in our lives. So wishing our all highly inspiring doctors " Happy Doctor's Day"

🩺 👩🏻‍⚕️🥼

From , your junior medicos






27/03/2026

তুমি কি জানো, একাকিত্ব কতটা নীরবে মানুষকে ভেঙে দিতে পারে? বাইরে থেকে সব ঠিকঠাক মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে একটা মানুষ প্রতিদিন একটু একটু করে হারিয়ে যায়।

আমি এখন ঠিক সেই জায়গাটাতেই দাঁড়িয়ে আছি… চারপাশে মানুষ আছে, কথা আছে, কিন্তু মনটা যেন কোথাও আটকে আছে—একটা অদ্ভুত শূন্যতায়। অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে, কিন্তু ভাষা খুঁজে পাই না।

সবকিছু ঠিক থাকার পরও কেন যেন কিছুই ঠিক লাগে না… মনে হয়, আমি নিজেকেই হারিয়ে ফেলছি ধীরে ধীরে।

তুমি হয়তো বুঝবে না পুরোটা, কিন্তু তবুও বললাম… কারণ কখনো কখনো একটা মানুষ শুধু চায়—কেউ তার না বলা কথাগুলো একটু অনুভব করুক।

হয়তো আমি খুব বেশি কিছু চাই না… শুধু এমন একজন, যার কাছে নিজের এই ভাঙা অনুভূতিগুলো নির্ভয়ে বলতে পারি। যে না বুঝলেও অন্তত পাশে থাকার চেষ্টা করবে।

আজকাল খুব ক্লান্ত লাগে… শরীরের না, মনটা ক্লান্ত। তবুও বেঁচে আছি, হয়তো এই আশায়—একদিন সবকিছু আবার একটু ঠিক হয়ে যাবে।

তুমি যদি কখনো সময় পাও… একটু পাশে থেকো, কথা না বললেও শুধু থাকলেই হবে।......

🖋️~"নীলিমা"

#ভালোবাসাআরদায়িত্বেরমাঝে

23/03/2026

গল্পের নাম: ভালোবাসা আর দায়িত্বের মাঝে

দ্বিতীয় পর্ব (ফ্ল্যাশব্যাক)

অতীতের স্মৃতিগুলো কখনো কখনো হঠাৎ করেই ফিরে আসে—কোনো কারণ ছাড়াই, কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই। ভিড়ের মাঝে দেখা এক জোড়া চোখ, একটুখানি নীরব হাসি, কিংবা না বলা কিছু অনুভূতি—সব মিলিয়ে মনে গেঁথে থাকা এক টুকরো গল্প। সময়ের সাথে সাথে সবকিছু বদলে যায়, মানুষ বদলে যায়, জীবনও নতুন পথে এগিয়ে যায়… কিন্তু কিছু স্মৃতি ঠিক আগের মতোই থেকে যায়। সেগুলো ভুলে যাওয়া যায় না, আবার পুরোপুরি ফিরে পাওয়াও যায় না। শুধু নীরবে মনের ভেতর বেঁচে থাকে—একটু হাসায়, একটু কাঁদায়, আর মনে করিয়ে দেয়—জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো কখনো কখনো না বলাতেই থেকে যায়।

চার বছর আগের সেই দিনটা....
স্মৃতীর পাতায় আজও স্পষ্ট হয়ে আছে নীলিমার।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মানুষের ভিড়—সবাই করোনা ভ্যাকসিন নিতে এসেছে। চারদিকে এক অদ্ভুত উত্তেজনা, ভয় আর কৌতূহলের মিশ্রণ। নীলিমাও তার বান্ধবীদের সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল।
হাজারো মানুষের মাঝে হঠাৎই তার চোখ আটকে গেল এক ছেলের উপর।
ছেলেটা একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল, চেক শার্ট...একদম ফর্মাল, চোখ দুটো এত শান্ত আর গভীর—যেন অনেক কথা লুকিয়ে আছে।
নীলিমা প্রথমে নিজেই অবাক হয়ে গেল।
“আমি কেন ওর দিকে তাকিয়ে আছি?”
সে চোখ সরিয়ে নিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার তাকাল।
এইবার ছেলেটাও তাকিয়ে আছে…
একটা অদ্ভুত মুহূর্ত—চোখে চোখ পড়তেই দুজনেই হালকা অপ্রস্তুত হয়ে গেল।
ভ্যাকসিন নেওয়ার পর নীলিমা বাইরে এসে বান্ধবীদের সাথে গল্প করছিল। কিন্তু তার মনটা ঠিক সেখানে ছিল না… বারবার চোখ চলে যাচ্ছিল সেই ছেলেটার দিকে।
ছেলেটা একটু দূরে একটা কর্নারে বসেছিল।
নীলিমা জানে না কেন, কিন্তু তার মনে হলো—
“কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, কী নাম তার…”
কিন্তু সাহস হলো না।
ঠিক তখনই ছেলেটা একবার তাকিয়ে হালকা হাসলো।
সেই ছোট্ট হাসিটাই যেন নীলিমার ভেতরে কিছু বদলে দিল।
সে বুঝতে পারলো না এটা কি—
নীলিমা ইচ্ছে করেই আর ছেলেটার দিকে তাকালো না।
নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছিল—
“এভাবে তাকানো ঠিক না…”
কিন্তু মন কি আর কথা শোনে?
বান্ধবীরা গল্পে মশগুল, কেউ হাসছে, কেউ ছবি তুলছে…
আর নীলিমা?
সে শুধু অভিনয় করছিল—হাসছে, মাথা নাড়ছে… কিন্তু মনটা অন্য কোথাও।
একটু পরে তারা সবাই বের হওয়ার জন্য গেটের দিকে এগোলো।
হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ নীলিমার মনে হলো—
“একবার… শুধু একবার পিছনে তাকাই…”
সে থেমে গেল।
ধীরে ধীরে পিছনে তাকালো।
ছেলেটা তখনো বসে ছিল না।
সে দাঁড়িয়ে গেছে…
আর অবাক করার মতো ব্যাপার—
সে-ও তাকিয়ে আছে নীলিমার দিকেই।
আবার চোখে চোখ।
এইবার কেউ চোখ সরালো না।
কয়েক সেকেন্ড… কিন্তু সময়টা যেন থেমে গেল।
হঠাৎ নীলিমার বান্ধবী ডাক দিল—
“এই, কি হলো? চল!”
সে চমকে উঠলো, তাড়াতাড়ি সামনে ফিরে হাঁটা শুরু করলো।
কিন্তু এবার তার মনে একটা অদ্ভুত অনুভূতি—
যেন কিছু একটা শুরু হলো, অথচ কিছুই শুরু হয়নি…
সেদিন তাদের কোনো কথা হয়নি।
কোনো পরিচয় হয়নি।
তবুও—
সেই অচেনা ছেলেটা নীলিমার জীবনের এক নীরব স্মৃতি হয়ে রয়ে গেল…
নীলিমা মনে মনে এটা মেনেই নিয়েছিলো, ছেলেটাকে সে আর কোনোদিন দেখতে পাবে না, জানতেও পারবে কী তার পরিচয়....

#ভালোবাসাআরদায়িত্বেরমাঝে


20/03/2026

Eid Mubarak🌙

"May this Eid remind us to spread kindness, love, and forgiveness. We hope this special occasion will bring immense happiness and peace to you and your loved ones.Wishing you a joyous and blessed Eid."

19/03/2026

গল্পের নাম: সুদূরের পথে অজান্তা

জীবন পর্ব-২

পরিবারের বড় মেয়ে না হলেও আদরের কমতি ছিল না, হয়তো সহানুভূতিই ছিল। মায়ের নয়, দাদুর ছায়ায় বড় হতে থাকলাম। বড় ফুপু ও তার পরিবার নিজের মেয়ের মতন বড় করে তুলতে লাগলো। ছোট্ট চাচু নিজ হাতে না খাইয়ে দিলে, রাতে ভাত না খাওয়া নাছোড়বান্দা ছিলাম। রাতে দাদুর শাড়ি কোলে নিয়ে, একপাশে দাদু, আরেকপাশে বাবাকে নিয়ে ঘুম যে কি শান্তির ছিলো।
দুষ্ট হলেও যন্ত্রণা দেইনি, বড়রা বলেছে, আমার উক্তি নয়। বেশি কিছু করতাম না, দুপুরে দাদুর সাথে টিভি সিরিয়াল "Saath nibana saathiya" দেখতে দেখতে ভাত খেয়ে দৌড় বাবার দোকানে, কোনো কোনো দিন খাট নিয়ে ঝুলে থাকতাম( খাট ভাঙার রেকর্ডও করেছি), রাতে দাঁত ব্রাশ করে আবার পান খেয়ে দাঁত লাল করে বসে থাকতাম। এভাবে সময় গড়িয়ে চলল, হঠাৎ দাদু ও অসুস্থ হয়ে পড়ল, চলে এলাম বড় ফুপুর কাছে। বড় ফুপুর ছায়ায়, ফুফাতো ভাই - বোনের আদরে থাকতাম, নতুন নাম হলো আমার - আয়নাবানু। কারণ? আয়না দেখে দেখে কান্না করতাম দাদুর কাছে যেতে। চলে এলাম দাদুর কাছে, সময় গড়িয়ে ভর্তি হলাম নার্সারিতে।
দাদুর কাঁধে ব্যাগ দিয়ে, তার হাত ধরে চললাম স্কুলে। বুঝতে পারিনি তখনও দাদুর কষ্ট, আনন্দ শেষ হতে সময় বেশিদিন লাগেনি। কেজি ওয়ানের পরীক্ষা শেষের সাথে সাথেই হারিয়ে ফেললাম আমার জীবনের দ্বিতীয় প্রিয় মানুষকে, দাদুও চলে গেল সৃষ্টিকর্তার কাছে। মাত্র ছয় বছর বয়স যে, সকলে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছে, আমি নিস্তব্ধ। এক ফোঁটা জলও পড়েনি চোখ থেকে, কিন্তু রাত যত গভীর হলো ততই যেন ভয় গ্ৰাস করল, পাশে যে দাদু নেই। দাদু, দাদুর শাড়ি সবই চলে গেল, নিঃস্ব হয়ে চেয়ে রইলাম এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে, ছয় বছরই যথেষ্ট হয়ে দাঁড়ালো জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দুটো মানুষকে হারানোর।

চলমান

#সুদূরেরপথেঅজান্তা




Let me know your thoughts...

18/03/2026

মেঘের গুরুগম্ভীর গর্জন
বাজের বর্ষণ
টিনের চালে বৃষ্টির গান
ঘর আঁধার
আর ভোরের কোয়েলের ডাক

স্মৃতির সুন্দরতম প্রাতঃসকাল

18/03/2026

Off to cumilla 🏡




Address

Dhaka
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when cranky clumsy life posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share