06/07/2021
-----------নগর কৃষি তথ্যবাতায়ন---------
*******পর্ব ০৫********
প্রতিটি গাছেরই ঠিকমতো সুস্থ ও স্বাভবিকভাবে বেড়ে উঠার জন্য মাটি প্রয়োজন। গাছের মূল মাটির নিচে থাকে। এই মূলের মাধ্যমেই গাছ ঠিকভাবে গড়ে ওঠে। তাই গাছের বেড়ে উঠা সম্পূর্ণ নির্ভর করে মাটির উপর। আমরা যারা শহরে বাস করি এবং ছাদ বাগান করতে চাই তাদের ক্ষেত্রে চাই হালকা ওজন, পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ও পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা সম্পন্ন মাটি। শুধু বাইরে থেকে মাটি এনে তাতে গাছ লাগালাম আর গাছ বেড়ে উঠবে তা কিন্তু সঠিক নয়।
গাছের পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে এবং বিভিন্ন রোগ যাতে না হয় আর আগাছামুক্ত গাছের বৃদ্ধির জন্য পটিং মিক্স একটি মিডিয়া। এই পটিং মিক্স কি, কেন প্রয়োজন, কিভাবে ঘরেই তৈরি করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা যাক।
পটিং মিক্স ছাদ বাগান বা ঘরের আঙিনায় টবে লাগানো গাছের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ক্রমবর্ধমান মিডিয়াম। কর্ণেল ইউনিভার্সিটিতে ১৯৬০ সালে জেমস কুডলি ও তার টিম কর্ণেল মিক্স নামে একটা মিক্স উদ্ভাবন করেন যা পটিং মিক্স হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। বিভিন্ন দেশে পটিং মিক্সের উপাদান স্থানীয় উৎস অনুযায়ী বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমনঃ আমেরিকাতে প্রধানত পিট মস, কম্পোস্ট, পারলাইট, ভার্মিকুলাইট ইত্যাদি মিক্স করে পটিং মিক্স তৈরি করা হয়। আমাদের দেশে পিট মসের বদলে কোকোপিট বা কোকোডাস্ট এবং পারলাইট- ভার্মিকুলাইটের বদলে ঝামা ইটের টুকরা ব্যবহার করে পটিং মিক্স তৈরি করা যায়। এ ধরনের তৈরিকৃত মাটি যেমন গাছের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে তেমনি পানি নিষ্কাশন ভাল হওয়ায় পানি জমে গাছের মারা যাওয়ার ভয় থাকে না।
পটিং মিক্সের উপাদান
(১) কোকোপিট বা কোকোডাষ্ট
মাটির সাবস্টিটিউট হিসেবে এটা ব্যবহার করা হয়। কখনও কখনও কোকোপিটের বদলে পিট মসও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কোকোপিট মূলত নারকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি হয়। ৫ কেজি/৫০০ গ্রাম এমন বড় বড় হালকা ওজনের কোকোপিটের ব্লক হিসেবে পাওয়া যায় যা দেখতে চারকোণা ইটের মতো।
(২)ভার্মিকম্পোস্ট
ভার্মিকম্পোস্ট একটি জৈব সার যা উর্বরতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। এক মাসের বাসি গোবর বা তরি-তরকারির ফেলে দেওয়া অংশ, ফলমূলের খোসা, উদ্ভিদের লতাপাতা, পশুপাখির নাড়িভুঁড়ি হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, ছোট ছোট করে কাটা খড়কুটো খেয়ে কেঁচো মল ত্যাগ করে এবং এর সাথে কেঁচোর দেহ থেকে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ বের হয়ে যে সার তৈরি হয় তাঁকে কেঁচো কম্পোস্ট বা ভার্মি কম্পোস্ট বলা হয়। এ সার সব ধরনের ফসল ক্ষেতে ব্যবহার করা যায়। এটি পৃথিবীতে অধিক ব্যবহৃত জৈব সারের অন্যতম, পরিবেশবান্ধব সার।
(৩) পার্লাইট
দেখতে সাদা নুড়ি পাথরের মতো। এর বদলে ভার্মিকুলাইট অথবা ইটের গুঁড়া বা ছোট পাথরের টুকরা ব্যবহার করা যায়।
পার্লাইট মূলত আগ্নেয়শিলা থেকে আসে। একে ভল্কানিক রক বা ভল্কানিক গ্লাসও বলা হয়। আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে একে সংগ্রহ করা হয়। এরপর একে ছোট ছোট টুকরায় ভাগ করে ৮৫০°- ৯০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়। ফলে ছোট ছোট এয়ার পকেট তৈরি হয় যার যেকারণে এটার সত্যিকারের সাইজ থেকে ১৫ গুণ বড় হয়। এজন্য খুবই নিমিষেই আঙুল দিয়ে গুড়ো করা যায়।
পটিং মিক্স তৈরিতে সতর্কতা অবলম্বন
ক) যখন অর্গানিক বা জৈব পদার্থ নিয়ে কাজ করা হবে তখন মুখে মাস্ক পড়ে নিতে হবে।
খ) উপাদান গুলো মিশানোর সময় অবশ্যই হাতে গ্লোভস বা দস্তানা পরা উচিৎ।
গ) চোখকে নিরাপদ রাখতে চশমা পরা উচিৎ।
ঘ) ডাস্টযুক্ত উপাদানের জন্য স্প্রে বোতল ব্যবহার করতে হবে।
ঙ) ঝড়ো আবহাওয়ায় পটিং মিক্স তৈরি থেকে বিরত থাকা।
চ) কাজ শেষে খুব ভালো করে হাত ধোঁয়া।
পটিং মিক্স তৈরির পদ্ধতি
~ ৬০% কোকোপিট
~ ২০% ভার্মিকম্পোষ্ট
~ ১৫% পার্লাইট
~ ৫% নিম মিক্স
প্রথম ধাপ
একটি বড় প্লাস্টিকের পাত্রে কোকোপিটের ব্লক নিয়ে তা ছোট টুকরো করে গরম পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে।ফলে কোকোপিট সম্পূর্ণ পানি টেনে নিয়ে ছোট্ট থেকে বড় হয়ে যাবে। হাত দিয়ে পরে তা ঝুড়ঝুড়ে করে দিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ
আলাদা আর একটা বড় পাত্র বা বালতিতে কোকোপিটের গুড়ো এবং ভার্মিকম্পোস্ট মিশিয়ে নিতে হবে। ভার্মিকম্পোস্ট মিশানোর আগে অবশ্যই সিভ বা চালুনি দিয়ে কম্পোস্ট চেলে নিতে হবে যাতে কোনো দলা না থাকে।
তৃতীয় ধাপ
এরপর এতে পার্লাইট যোগ করতে হবে।
চতুর্থ ধাপ
খুব ভালোভাবে উপাদান গুলো মিশিয়ে নিতে হবে হাতের গ্লোভস পরে।
প্রয়োজনীয় টিপস
ক) পটিং মিক্স তৈরির ক্ষেত্রে বড় কন্টেইনার নিতে হবে। অথবা ছাদে প্লাস্টিকের পেপার বিছিয়ে নিয়েও পটিং মিক্স তৈরি করা যায়।
খ) কোকোপিট দ্রুত ভিজানোর জন্যে গরম পানি ব্যবহার করা উচিত।
গ) ডাস্টের মধ্যে মাইক্রোস্কোপিক সিলিকা থাকে ফুসফুসে অক্সিজেন গ্রহণে বাধা দেয়।তাই অবশ্যই বাসায় পটিং মিক্স তৈরির সময় মুখে মাস্ক পরে নিতে হয়।
ঘ) যদি বাইরে থেকে পটিং মিক্স কেনা হয় তাহলে লক্ষ্য করতে হবে প্যাকেটের গায়ে অস্ট্রেলিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস মার্ক( AS 3743) আছে কিনা
#নগরকৃষি_তথ্য_বাতায়ন
#তরুমেলা