অর্কিডিয়াম-Orchideum

অর্কিডিয়াম-Orchideum গাছ মনের কথা বলে

কিছু মানুষের গাছ হয়ে জন্মানোর কথা ছিল,ভুলে মানুষ হয়ে জন্মেছে তারা।
27/09/2025

কিছু মানুষের গাছ হয়ে জন্মানোর কথা ছিল,
ভুলে মানুষ হয়ে জন্মেছে তারা।

23/08/2025

গাছ করতে গিয়ে ভুল সবাই করে ...তিন দিনের বাগানির ভুল হয় আবার তিরিশ বছর ধরে যে গাছ করে আসছে তারও ভুল হয়।
এমনিতে ভুল করাটা দোষের কিছু না , বরং ভুল থেকেই সবথেকে ভালো শেখা যায়.. তবে এক ভুল বারবার না করাই ভালো।

কিন্তু লেজেন্ড তারাই যাঁরা অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে!

আমি গাছ করছি তিরিশ বছরের ওপরে। ওই পাঁচ সাত বছর বয়স থেকে গাছপালা করতে শুরু করি , এখন বয়স চল্লিশ! এই তিরিশ বছরে বহু গাছ করেছি....অগুনতি ভুল করে অগুনতি গাছ মেরে ফেলেছি , কিন্তু ইম্পর্ট্যান্ট বিষয়টা হচ্ছে ভুল থেকে শিখেছি!

আজ যেটুকু গাছ নিয়ে জানি বা গাছকে বুঝি তার নব্বই শতাংশ এই ভুল থেকে শেখা।

এই তিরিশ বছরে তিনশোর ওপর ভুল করেছি। কয়েকটা লেখার চেষ্টা করছি , জানি না বুঝতে পারবেন কিনা।

*প্রথম ভুল - সার দিলে গাছ ভালো হয়।*

বহু বছর এই ধারণা নিয়ে গাছ করে ভালো গাছ করতে পারিনি। তারপর বুঝলাম এটা সবথেকে বড়ো ভুল।

সত্যিই যদি সার দিলে গাছ ভালো হয় তাহলে সারের দোকানের মালিকের বাড়িতে সবথেকে ভালো গাছটা থাকতো। কিন্তু সেটা তো হয় না !

গাছের খাবার গাছ নিজে বানায় । পাতাতে ... সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। আমরা বাইরে থেকে যেগুলো দিই সেগুলো এসেনশিয়াল এলিমেন্ট ....

এখন ব্যাপারটা হচ্ছে আপনার এলাকার মাটি খুব খারাপ না হলে মোটামুটি এই এলিমেন্ট গুলো ভালোই থাকে।

তাহলে গাছ বাড়ে না কেনো? কারণ টবে গাছ করতে গিয়ে আমরা মাটির মাইক্রো অর্গানিজম গুলোর দফারফা করে ফেলি। মাইক্রোঅর্গানিজম বলতে ফাঙ্গাস , ব্যাকটেরিয়া , প্রোটোজোয়া এইসব ....

এরাই মাটি থেকে এসেনশিয়াল নিউট্রেন্ট গুলোকে গাছকে দেয় !

তাই সার টা যতো না ইম্পর্ট্যান্ট, তার থেকেও হাজার গুনে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট মাটির এই অণুজীব গুলো! এরা না থাকলে আপনি শুন্য কলসিতে জল ঢেলেই যাবেন , কারো কোনো কাজে আসবে না ।

প্রশ্নটা হচ্ছে আমরা কীভাবে মাটির এই অণুজীব গুলোকে মেরে ফেলি ?

১. মাটিকে খটখটে রোদে শুকাতে দিয়ে ভালো করে গুড়ো করে নিলে এই অণুজীব গুলোর বারোটা বেজে যায়।

২. মাটি তৈরির সময় মাটিতে ফ্যাঙ্গিসাইড মেশালে , একটু করে কেমিক্যাল ইনসেক্টিসাইড মেশালে এই অণুজীব গুলোর বারোটা বেজে যায়।

৩. টবের ড্রেনেজ ঠিক না থাকলে জল বসলে মাটিতে অক্সিজেন এর সাপ্লাই কমে যায় । তখন এই অণুজীব গুলো মরে যায়।

৪. গাছে ফ্যাঙ্গিসাইড বা ইনসেক্টিসাইড স্প্রে করার সময় ওগুলো টবের মাটিতে এসে এই অণুজীব গুলোকে ধ্বংস করে।
অনেকে আবার বেঁচে থাকা ফ্যাঙ্গিসাইড বা ইনসেক্টিসাইড গোলা জল গাছের গোড়ায় ঢেলে দেয়। সবই ওই ভুঁইফোড় ইউটিউবে গাছ নিয়ে চ্যানেল গুলোর দেওয়া শিক্ষা।

৫. প্রচণ্ড গরমকালে টবের গাছে মালচিং না করলে মাটি আগুনের মতো গরম হয়ে এই অণুজীব গুলোকে নষ্ট করে।

৬. মাটিতে কেমিকেল সার প্রয়োজনের অতিরিক্ত দিলে মাটির ph ভ্যালু বদলে গেলে এই অণুজীব গুলোর বেঁচে থাকতে সমস্যা হয়।

তাহলে কী করলে মাটিতে অণুজীব এর পপুলেশন বাড়বে ?

১.নষ্ট হয়ে যাওয়া মাটিকে শোধন করতে না হলে কোনোভাবেই কোনো মাটিকে দিনের পর দিন খটখটে শুকনো অবস্থায় রেখে দেবেন না।
একদিন , দুদিন , তিনদিন মাটি শুকনো থাকলে ঠিক আছে । কিন্তু এক মাস মাটি শুকনো থাকলে সমস্যা আছে।

২.কোনোভাবেই টবের মিডিয়া তৈরির সময় মাটির সাথে ফ্যাঙ্গিসাইড বা পেস্টিসাইড মেশাবেন না। ওই এক চামচ SAAF দেওয়ার বদ অভ্যাস ত্যাগ না করলে আপনার হাতে গাছ ভালো হবে না ।

৩.টবের ড্রেনেজ সিস্টেম ঠিক করুন। ওটা ছাড়া ভালো গাছ হওয়া মুস্কিল। জলের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ গোড়ায় জল জমে থাকা পছন্দ করে না ।

৪.গাছে ফ্যাঙ্গিসাইড বা পেস্টিসাইড মিস্টিং করুন, স্প্রে করবেন না। ঠিক ততটুকুই মিস্টিং করুন যাতে শুধুমাত্র যে জায়গায় সমস্যা সেই জায়গায় জিনিসটা যায় ,মাটিতে যেনো না মেশে ।
প্রয়োজন ছাড়া এগুলো ব্যবহার করবেন না।

৫.গরমকালে গাছের গোড়ায় মাল্চিং করুন ।

৬.কেমিক্যাল সার পাতাতে স্প্রে করুন। মাটির গাছে গোড়ায় দেবেন না। Cinder এর গাছের গোড়ায় দিতে পারেন কারণ জল দিলে সল্ট ধুয়ে চলে যাবে ।

৭. টবের মাটি তৈরির সময় Tata Ralligold এর মতো মাইক্রোরাইজিয়াল বায়োফার্টিলাইজার ব্যবহার করুন। এতে মাটিতে অণুজীব এর পরিমাণ বাড়বে।
আমি এটা ব্যবহার করি বলে আপনাকেও করতে হবে এরকম কোনো মানে নেই, আপনি আপনার ইচ্ছামত অন্য কোনো মাইক্রোরাইজিয়াল বায়োফার্টিলাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

আমি আট ইঞ্চি টবে Tata Ralligold দু চামচ করে ব্যবহার করে খুব ভালো রেজাল্ট পেয়েছি ।

কম পয়সায় কাজ সারতে চাইলে ওয়েস্ট ডিকম্পোজাআর জলে গুলে মাঝে মধ্যে গাছের গোড়ায় দিতে পারেন।

সার দেবেন বাদে । আগে এইগুলোর ব্যবস্থা করা দরকার। নাহলে সার দিলেও গাছ নিতে পারবে না ।

আপনি সার দিচ্ছেন গাছ নিতে পারছে না , এর থেকে খারাপ জিনিস টবের গাছের জন্য আর কিছু হতে পারে না । ওই সার যাবে কোথায়? জমতে জমতে মাটির হিস্ট্রি জিওগ্রাফি সব বদলে দেবে !

ওই মাটিতে কোনোদিনই আর ভালো গাছ হবে না।

তাই সার দিলেই ভালো গাছ হয় এটা খুব খুব ভুল ধারণা। সার দিতে হয় গাছের সাইজ দেখে , গাছের হেলথ দেখে আর ওয়েদার দেখে।

গাছের ফিডিং চার্ট হিসাবে গাছ করলে দুজনের গাছ ভালো হবে, চার জনের গাছ ভালো হবে না। গাছ রেসপন্স না করলে থামতে হবে....সার বন্ধ করে গাছকে রিকভার হওয়ার সময়টা দিতে হবে । অন্ধের মতো চার্ট ফলো করে গেলে হবে না। চার্ট টা একটা ফ্রেমওয়ার্ক ...নিজের বিচার বুদ্ধি অনুযায়ী , নিজের গাছ হিসাবে নিজের মতো করে আপনাকে একটু অদল বদল করতে হবে ।

রোগগ্রস্ত গাছকে কখনও সার দিতে নেই। শুধু জল দিয়ে তাকে রিকভারি হতে দিতে হয় , তারপর গ্রোথ নিতে শুরু করলে তারপর সার ।

এই গেলো আমার তিরিশ বছরে তিনশোটা ভুলের মধ্যে প্রথম ভুলটা । আমার ভুল থেকে যদি আপনি শিখতে পারেন সেইজন্যই এই পোস্টটি করা ।

পারলে শেয়ার করে অন্যদেরকেও পড়তে বলুন। অনেকের টাকা , পরিশ্রম আর গাছ বাঁচবে।

~ গাছপাকা ( ফেসবুক পেজ )

17/08/2025

একবার পাইবার পর
নিতান্তই মাটির মনে হয় তার সোনার মোহর।

08/07/2025

একদিন যে জলা জংলা থেকে এসেছিলাম
ফিরে যাব

সুগন্ধি মোমফুল/হয়া কার্নোসা রেডশুভ সকালমঙ্গল হোক সবার।
07/07/2025

সুগন্ধি মোমফুল/হয়া কার্নোসা রেড
শুভ সকাল
মঙ্গল হোক সবার।

06/07/2025

হয়া/মোমফুল
কলি আসছে।

মোমফুলচিনি নাই কয়দিন আগেও। এত চমৎকার ঘ্রাণ এরা ছড়ায় যে এদের এখন চিনি ভাবতেই আনন্দ পাই। লতা-পাতা গুল্মের এই পৃথিবী মোমফুল...
19/06/2025

মোমফুল
চিনি নাই কয়দিন আগেও। এত চমৎকার ঘ্রাণ এরা ছড়ায় যে এদের এখন চিনি ভাবতেই আনন্দ পাই। লতা-পাতা গুল্মের এই পৃথিবী মোমফুলের সুবাসে ভরে উঠুক বারুদের গন্ধমুক্ত হয়ে।

তারাঝরা
14/05/2025

তারাঝরা

গাছপাকা পাতাটা দারুন। গাছ নিয়ে আমি যা করতে বা বলতে চাই, ওরা তা করছে এবং বলছে। ফলো করতে পারেন।
11/05/2025

গাছপাকা পাতাটা দারুন। গাছ নিয়ে আমি যা করতে বা বলতে চাই, ওরা তা করছে এবং বলছে। ফলো করতে পারেন।

গাছ ভালবাসে না , ফুল ভালবাসে না এরকম মানুষ পাওয়া সত্যি মুস্কিল। কিন্তু অনেকের কাছে গাছ জিনিসটা ওই প্রথম প্রেমে ধোকা খাওয়ার মতো হয়ে যায় !!

রাস্তার ধারে গাছ বিক্রি হচ্ছে দেখে Love at First Sight। গাছের প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে কিনে ফেললেন বেশ কিছু গাছ। তারপর জানেন না কি করে বসাবেন,কোথায় রাখবেন,কিভাবে যত্ন করবেন?

ফল যা হওয়ার, সেটাই হয়। কয়েকমাসের মধ্যে সাধের বাগান লন্ডভন্ড । কোনোটার পাতা হলুদ হয়ে খেকুঁড়ে দেখতে হয়ে গেল , অন্যটা গলে পচে একাকার।দুর্গন্ধ ,পোকা মাকর নিয়ে সে এক যাচ্ছেতাই বেপার। ব্যাস সেই প্রথম ,সেই শেষ।

এইসব পাবলিকদের সামনে একবার কোনও গাছ নিয়ে কিছু বলতে যাবেন, দেখবেন এমন ভাব করবে যেন ইন্টারেস্টেডই না, আসলে মনে যে তখনও প্রথম প্রেমে ধোঁকা খাওয়ার চিনচিনে ব্যথা!

কি ? মিল পাচ্ছেন আশেপাশে কোনো বন্ধু বান্ধব , বা কোনো আত্মীয় স্বজন এর সাথে?? বা ....নিজের সাথে??

আসলে কিন্তু কয়েকটা খুব ছোট ছোট জিনিস মেনে চললে আমি একদম ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি যে ধোঁকা তো খাবেনি না ,উপরন্তু আপনার বারান্দা বাগান আপনাকে দুহাতে ভরিয়ে দেবে ফুলে ফলে।

আমি একদম শিওর যে মনে মনে ভাবছেন বলে কি !!! এরকমও হয়???

গাছ নিয়ে যাঁরা সমস্যা থাকেন তাদের ৯০% এর সমস্যা কিন্তু খুব সহজেই সলভ করা যেত যদি এই কটা ছোট ছোট কথা মাথায় রেখে গাছ লাগানো হতো। গাছ করাটা কোনো রকেট সায়েন্স না,কিন্তু সায়েন্স তো বটেই !! একদম না বুঝে গাছ করতে গেলে গাছ টেকানো মুশকিল।

চলুন তাহলে পয়েন্ট টু পয়েন্ট দেখা যাক। এখানে একদম জটিল কিছু বলবো না , মানে মাটির texture, ph কিকরে দেখবেন বা adenium এর গোড়া কিকরে মোটা করবেন বা একটা গোলাপ গাছ বা একটা adenium গাছে কিকরে ৫/৬ রকমের ফুল করবেন সেসব কিছু বলবো না। একদম সোজাসাপ্টা কিছু জিনিস যেগুলো মেনে চললে গাছ বেঁচে থাকবে আর মোটামুটি ফুলফল দেবে।

গাছ কেনার আগে একটু প্ল্যান করুন ।

গাছ ভালো লাগলেই কিনে ফেলবেন না বা গাছ কিনে কোথায় রাখবেন সেটা ভাববেন না । বরং উল্টোটা করুন । প্রথমে ঠিক করুন কোথায় কোথায় গাছ রাখবেন। তারপর সেই হিসাবে গাছ কিনুন ।

এটা বলার কারণ আছে।

সব গাছের আলোর requirement সমান না। কিছু কিছু গাছের একদম ডিরেক্ট সানলাইট লাগে,যেমন ধরুন টগর , গোলাপ , adenium বা পদ্ম। এগুলো যদি একদম ঘরের এমন কোনায় রাখেন যেখানে সূর্যের রোদ কোনো কালে আসে না , গাছ এর দফারফা হয়ে যাবে।

আবার কোনো কোনো গাছের ওপর ডিরেক্ট সানলাইট পড়লেই গাছের বারোটা বেজে যাবে , যেমন পিসলিলি ,লাকি বাম্বু,মুন ক্যাকটাস,অর্কিড এইসব।

তাই ঘরের কোথায় গাছ রাখবেন সেটা ঠিক করার পর দেখুন যে কোথায় কেমন সূর্যের আলো আসে , সেই হিসাবে গাছ কিনুন। দেখবেন আপনার ইন্ডোর বাগান হাসছে।

ইন্ডোর প্লান্ট মানেই আলো একদম না পেলেও চলে জিনিসটা কিন্তু এরকম না।

এটা একদম মাথায় গেঁথে রাখুন । বাচ্চা বেলায় সবাই পড়েছি যে গাছের সূর্যের আলো লাগে সালোকসংশ্লেষণ করে খাদ্য তৈরি করতে,অথচ ইন্ডোর প্লান্ট নাম শুনেই গাছটাকে রাখলাম ঘরের এক কোনে টিভির পাশে, যেখানে কোনো কালে সূর্যের আলো ঢোকে না , এরকম করলে গাছ কিন্তু বেশিদিন টিকবে না। আসলে এই ইন্ডোর প্লান্ট নামটাই এমন যে লোকে ভাবে ঘরের ভিতরে যেখানে ইচ্ছা রাখলেই হবে।

একদম দুপুর বারোটায় , ঘরের সব জানালা খুলে দিন।ঘরের যে জায়গাগুলো একটুও অন্ধকার অন্ধকার লাগছে ,সেগুলো হলো আমার ভাষায় dead পয়েন্ট । এই জায়গায় কোনো গাছই ভালো হবে না। তাই এখানে গাছ রাখবেন না। বা রাখলেও সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার অন্য পদ্ধতি।

সবথেকে ভালো স্পট গুলো হলো বারান্দা আর জানালা । এটার ওপর এত জোর দেওয়ার কারণটা বলছি , মাটি আপনার হাতে, জল দেওয়াও আপনার হাতে , সার বা কীটনাশক সব আপনার হাতে , কিন্তু সূর্যের আলো একমাত্র ওটাই আপনার হাতের বাইরে। তাই ওটাকে নিয়ে আপনি বেশি কিছু করতে পারবেন না।

আপনি বলবেন ঘরের মধ্যে তো প্রায় সবসময় লাইট জ্বলে ,ওতে হবে না দাদা? না হবে না। সূর্যের আলোতে যে রেঞ্জের তরঙ্গদৈর্ঘের ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক রেডিয়েশন থাকে ওটা আপনার টিউবলাইট বা এলইডি আলোতে থাকে না । তাই দুটোর মধ্যে তুলনা টানবেন না। হতে পারে আপনার এলইডি লাইট টা designer লাইট, ১০ হাজার টাকা দাম নিয়েছে, কিন্তু তাও ওটা বিনাপয়সার সূর্যের আলোর ধারে কাছে আসতে পারবে না। বাজারে কিছু atrificial গ্রোও লাইট পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলোতে কতটা কাজ হয় সেটা জানা সত্যি মুশকিল। আপনার গ্রোও লাইট এর স্পেকট্রাম analysis করাতেই পারেন,কিন্তু তাতে ঢাক এর দায় মনসা না বিক্রি হয়ে যায় !!!

টব কিরকম কিনবেন ? মাটি কিরকম হবে ?

পদ্ম বা শালুক এর মত কিছু গাছ ছাড়া মোটামুটি কোনো গাছই গোড়ায় জল জমা পছন্দ করে না। ক্যাকটাস ,শুকুলেন্ট,অর্কিড বা adenium তোহ একদমই না,এদের গোড়ায় একটু জল জমলেই গাছ শেষ ।

তাই দয়া করে এমন টব কিনুন যার তলায় অনেকগুলো ছিদ্র থাকবে । না থাকলে করে নিন ।

অনেকে পরসেলিন এর জায়গায় খুব সুন্দর করে গাছ লাগিয়ে ফেসবুকে ফুটেজ খায়। এদের ফটো দেখি আর ভাবি ভগবান এদের ক্ষমা করে দিও,এরা জানেনা এরা কি করতে যাচ্ছে !!! পোরসেলিন এ ফুটো করা চাট্টিখানি কথা না , করতে গেলে খুব সাবধানে না করলে ভেঙে যায় , তাই আমি একদম শিওর যে এদের বেশিরভাগই সেটা করে না। এরকম জায়গায় জল দিলেই জল নীচে জমবে , সেখান থেকে শিকড় পচবে, তারপর ব্যাকটেরিয়াল ইনফেক্টিণ ,ফাঙ্গাল ইনফেক্টিণ এসব হয়ে গাছ টার বারোটা বেজে যাবে ।

তাই টবের তলায় ৩/৪ টে ফুটো থাকা খুবই দরকার।

ফুটো তো করলেন অনেক কষ্টে । এবার কাজ ফুটোটা যেন বুজে না যায়।বুজে গেলে আর ফুটো করে লাভ কি হলো ??

সরাসরি মাটি দিলে ফুটো বুজতে খুব বেশিদিন লাগবে না । তাই টবের একদম তলায় ২ ইঞ্চি স্টোনচিপস দিন।তার ওপর পারলে একটা জালি টাইপ এর কিছু যেমন ছেড়া মশারির টুকরো দিয়ে তার ওপর ১ ইঞ্চি বালি দিন । এবার মাটি দিয়ে গাছ লাগান। বা সিম্পলি টবের একদম নিচে দেড় ইঞ্চি কাঠকয়লা দিয়ে দিন ।

এই সিস্টেমে ভুল করে জল বেশি দিয়ে দিলেও অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাবে।গাছ এর ক্ষতি এড়াতে পারবেন।

এবার মাটির কথায় আসি । ক্যাকটাস ,শুকুলেন্ট এর মাটি আলাদা হয়। এগুলো ছাড়া বাকি যেকোনো হউসপ্লান্ট এর জন্য নিচের ফর্মুলা টা ব্যবহার করতে পারেন।

40% - গার্ডেন সইল + 30% ভারমিকম্পোস্ট + 20% বালি।

ক্যাকটাস ,শুকুলেন্ট হলে গার্ডেন সইল আর ভেরমিকম্পোস্ট এর পরিমাণ ১০% করে কমিয়ে সেই জায়গায় বেশি করে বালির কাকর মিশিয়ে দেবেন ।

গাছ বিশেষজ্ঞ রা এক্ষুনি হইহই করে উঠবেন। বলেন কি মশাই !!!সব গাছের মাটি এক!!! আপনি কি ধরণের গাছ বিশেষজ্ঞ মশাই???

কারণ টা বলি .....এই পোস্টটা কিন্তু একদম ওয়ার্ল্ড ক্লাস জবা বা adenium করার জন্য না।এই পোস্টটা একদম প্রথম বাগান করছেন যারা বা খুব কম অভিজ্ঞতা আছে এরকম বাগানি দের জন্য। এই অনুপাতে মাটি করলে মোটামুটি গাছটা বেঁচে থাকবে , ফুলফলও দেবে । আমি এখন যদি এনাদের বলতে যাই যে , প্রতিটা গাছের মাটির composition আলাদা আলাদা , এরা হয় বলবে ধুতেরি , গাছ আর করবোই না , নাহলে সিধা গার্ডেন সইল এনে গাছ পুঁতে দেবেন।

আর তাছাড়া এরা কোথায় পাবেন perlite, pine bark, কোকোপিট বা লিভিং microorganism !!!

আমার মতে শুরুটা একটু সহজ ভাবে করা ভালো ,নাহলে উৎসাহ থাকে না। এই মাটিতেই গাছ চারা থেকে বেড়ে যখন ফুল দেবে তখন দেখবেন উৎসাহ ১০০০ গুন বেড়ে গেছে। তখন দেখবেন নিজেরাই জানতে চাইছে যে ফুল বড়ো করবো কিকরে, বা ১০ টা ফুল দিয়েছে জবাটা,সেটাকে বাড়াবো কি করে।তখন বলুন যে এটাকে রিপট করুন আর তাতে এই composition এ মাটি তৈরি করুন।

বাচ্চা ছেলেকে অ আ ক খ না শিখিয়ে যদি মধুসূদন দত্তের মেঘনাদ বধ প্রথমেই শেখানো লাগেন,তাহলে চিন্তা করবেন না , ৩ লাইন পড়ানোর পর আপনাকে একটা চার অক্ষরের মধুর সম্ভাষণ দিয়ে দেবে!

জল কিভাবে দেবেন?

গাছে জল দেওয়াটা একটা শেখার মতো জিনিস । শুধু জল দিয়েই একটা মরতে বসা গাছকে বাঁচিয়ে তোলা যায় আবার শুধু জল দিয়েই একটা গাছকে মেরে ফেলা যায়।

আমার অভিজ্ঞতায় ৯৯% হাউস প্ল্যান্ট মারা যায় অতিরিক্ত জল দেওয়ার জন্য। আসলে নতুন গাছ করার উৎসাহে অনেকেই সকাল বিকাল জল দিতে থাকেন,গাছ সেটা নিতে পারে না। গোড়া পচে যায়,ফাঙ্গাল ইনফেকশন হয়ে যায়।

সব গাছে ওপর থেকে জল দেওয়া যায় না , কিছু গাছে নিচে থেকে জল দিতে হয়।

আর হ্যা , ১৫ দিন ছাড়া একবার করে নিমপাতা বেটে জলে মিশিয়ে ,ছেকে নিয়ে গাছের ওপর ,মাটিতে স্প্রে করুন ( ক্যাকটাস ,শুকুলেন্ট বাদে,এরা স্প্রে পছন্দ করে না ) , দেখবেন পোকামাকড় , ফাঙ্গাল ইনফেকশন এসব দশ হাত দূরে থাকবে। সাথে মাঝে মধ্যে গাছের গোড়ায় কোনো পাতা বা আগাছা জমে গেলে পরিষ্কার করে দিন আর মাঝে মধ্যে একটু মাটি খুঁচিয়ে দিন ।

যে ঘরে এসি চলে সেই ঘরে কোনো গাছ রাখবেন না।

আশা করি খুব ছোট্ট করে আপনাদের কিছু ইম্পর্ট্যান্ট কিছু টিপস দিতে পারলাম। কিন্তু ভালো গাছ করতে গেলে আরো অনেকটা শিখতে হবে ।

ভালো গাছ করাটা কোনো রকেট সায়েন্স না , শুধু ছোটো ছোটো বেশ কিছু জিনিস জানা থাকলেই দেখবেন অনেক কম খরচে অনেক বেশি ভালো গাছ হচ্ছে আপনার হাতে।

আপনার শেখার আগ্রহ থাকলে আমি ইনডোর প্ল্যান্ট নিয়ে একদম গোড়া থেকে মানে একদম অ আ ক খ থেকে শেখানোর একটা প্ল্যান করছি। কাল রবিবার রাত ৯.৩০ থেকে অনলাইনে একটা ওরিয়েন্টেশন সেশন রেখেছি ....ওখানেই প্ল্যানটা ডিটেলসে আপনাদের জানাবো।

এই ওরিয়েন্টেশন সেশনে যেকেউ জয়েন করতে পারবেন । কোনো এন্ট্রি ফি নেই। মিটিং লিঙ্ক রবিবার রাত আটটা নাগাদ সবাইকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

আপনি যদি এই ফ্রি ওরিয়েন্টেশন সেশনটা করতে চান তাহলে দুটো কাজ করবেন ।

১. আপনার ডিভাইসে "Zoom Workspace" এই অ্যাপটা ডাউনলোড করে ইনস্টল করে রাখবেন । আপনি বয়স্ক মানুষ হলে বাড়ির যেকোনো ইয়ং মেম্বারকে বলবেন ,এটা দু মিনিট এর কাজ।
ইনস্টল করার পর লগইন আইডি ক্রিয়েট করে রাখবেন । সবটাই ফ্রি তাই কোনো টাকাপয়সার গল্প নেই ।

২. এই পেজের একদম ওপরে আমার WhatsApp লিঙ্ক আছে , ওটা ক্লিক করে আমাকে মেসেজ করবেন "Add me please"

বাকিটা আমি আপনাকে ওখানেই গাইড করে দেবো ।

যাঁরা অল্পতে খুশি তাঁদের জন্য সেরা দশটি ভুল এর একটা তালিকা দিয়ে দিলাম

১. গাছের সম্বন্ধে না জেনে গাছ কিনে নিয়ে আসা ।
২. গাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল দেওয়া।
৩. সার দিলেই গাছ ভালো হবে এই ভুল ধারণা করে নেওয়া।
৪. প্লাস্টিকের পটে গাছ করা।
৫. গাছকে ভুল জায়গায় রাখা ।
৬. টবের ড্রেনেজ ঠিকঠাক না রাখা ।
৭. নার্সারী থেকে ভুল গাছ বেছে ঘরে নিয়ে আসা।
৮. নিয়মিত গাছে কীটনাশক ও ফ্যাঙ্গাসনাশক দেওয়া।
৯. নানা মুনির নানা মত নিয়ে একটাই গাছে অ্যাপ্লাই করা ।
১০. ভুল সময়ে গাছ কেনা।

গাছপালা নিয়ে ভালো থাকুন 🙏

জমা দেই নি।
11/05/2025

জমা দেই নি।

07/05/2025
22/03/2025

বসন্ত..

Address

House No/85/A, Road-17, Tilpapara, Khilgaon
Dhaka
1219

Telephone

+8801985457501

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অর্কিডিয়াম-Orchideum posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to অর্কিডিয়াম-Orchideum:

Share