19/05/2026
আপনি কি কথায় কথায় ইমোশনাল হয়ে যান?
কারো সামান্য অবহেলা, একটু কটু কথা, কিংবা মেসেজের রিপ্লাই দিতে দেরি হওয়া- এসব কি আপনার পুরো দিনটাই নষ্ট করে দেয়?
যদি উত্তর "হ্যাঁ" হয়, তবে আপনি নিজের অজান্তেই নিজেকে ধ্বংস করছেন।
ইমোশন থাকাটা মানুষ হওয়ার লক্ষণ, কিন্তু "অতিরিক্ত ইমোশন" হলো লজিক কাজ না করার লক্ষণ।
যখন আপনি ইমোশনের বন্যায় ভেসে যান, তখন আপনার ব্রেনের যৌক্তিক অংশটা কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
আর ঠিক এই সুযোগটাই মানুষ নেয়।
অতিরিক্ত ইমোশন কন্ট্রোল করতে না পারলে আপনি পদে পদে হারবেন।
করণীয় কী? নিজেকে পাথর বানিয়ে ফেলা?
না।
নিজেকে পাথর বানাতে হবে না, শুধু ইমোশনের লাগামটা নিজের হাতে রাখতে হবে।
কীভাবে?
কিছু প্র্যাকটিক্যাল সল্যুশন দিচ্ছি…
১. রিয়েক্ট করার আগে ‘পজ’ বাটন চাপুন
কেউ আপনাকে রাগিয়ে দিল বা কষ্ট দিল- সাথে সাথে উত্তর দিবেন না।
আমাদের ইমোশনাল ব্রেন যেকোনো ঘটনায় ইনস্ট্যান্ট রিয়েক্ট করতে চায়।
নিজেকে অন্তত ৫ মিনিট সময় দিন। লম্বা শ্বাস নিন।
দেখবেন, ৫ মিনিট আগে যে কথাটা বলতে চেয়েছিলেন, ৫ মিনিট পর সেটা আর বলতে ইচ্ছে করছে না।
নীরব থাকাটা অনেক সময় শ্রেষ্ঠ উত্তর।
২. ঘটনা এবং গল্প আলাদা করুন
আপনার বন্ধু ফোন ধরেনি- এটা হলো ঘটনা (Fact)।
আর আপনি ভাবছেন "ও আমাকে ইগনোর করছে, ও আর আমাকে আগের মতো কেয়ার করে না"- এটা হলো আপনার বানানো গল্প (Story)।
অতিরিক্ত ইমোশনাল মানুষরা ঘটনার চেয়ে নিজের বানানো গল্পে বেশি কষ্ট পায়।
ঘটনাকে শুধু ঘটনা হিসেবে দেখতে শিখুন, এর সাথে রং চড়িয়ে নাটক বানাবেন না।
৩. এক্সপেক্টেশন বা প্রত্যাশা কমান
আপনার কষ্টের মূল উৎস কী জানেন?
আপনি মানুষের কাছে ঠিক সেটাই আশা করেন, যা আপনি তাদের জন্য করেন।
কিন্তু বাস্তবতা হলো- সবার হৃদয় আপনার মতো না।
আপনি কারো জন্য জান দিয়ে দিলেও, সে আপনার জন্য এক গ্লাস পানি এগিয়ে নাও দিতে পারে।
এটা মেনে নিন। প্রত্যাশা যত কম, মানসিক শান্তি তত বেশি।
৪. নিজের ‘ইমোশনাল ডাস্টবিন’ হওয়া বন্ধ করুন
সবাই এসে আপনার কাছে দুঃখের কথা বলে, আর আপনি তাদের কষ্ট নিজের কাঁধে নিয়ে নেন?
সহমর্মিতা ভালো, কিন্তু অন্যের নেগেটিভিটি নিজের ভিতরে নেওয়া বোকামি।
মানুষের সব কথা গায়ে মাখবেন না।
জানতে হবে- কোনটা রিসিভ করবেন, আর কোনটা এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দিবেন।
৫. নিজেকে ব্যস্ত রাখুন
খালি কলসি বাজে বেশি, আর অলস মস্তিষ্ক ইমোশনাল হয় বেশি।