11/09/2018
ইন্টেরিয়র ডিজাইন বলতে সাধারণত আমরা বুঝি একটি বাড়ি দেখতে কেমন হবে, কতটা ভিন্ন হবে কিংবা কীভাবে চমকে অন্যকে দেওয়া যাবে ইত্যাদি। আর সেজন্য আমরা কতইনা নতুন নতুন নকশা খুঁজে বের করি কিন্তু এটা মূল কাজের একটা ছোট্ট অংশ মাত্র।
কখনো কি ভেবে দেখেছেন আপনার বাড়ির নকশা আপনার মনে প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়ন্ত্রণ করতে পারে আপনার ভাল থাকা, মন্দ থাকা। আপনার অবচেতন মনে আবাস্থলের নকশার প্রভাবের উপর রয়েছে মনোবিজ্ঞানীদের নানান গবেষণা। নিজের স্বপ্নের আবাসনকে সাজানোর আগে জেনে নিন এই গবেষণাগুলোর ফলাফল কি বলছে!
একটা সময় ছিল বাসা-বাড়ির সৌন্দর্য্য বলতেই মানুষ বাইরের চাকচিক্যটাই বুঝত। বাইরের দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনকেই আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হতো। সময়ের সাথে মানুষের সেই ধারণা পাল্টেছে। এখন মানুষ তার আবাসস্থলের ভেতর-বাহির সমানভাবে পরিপাটি করতে চায়। এক্ষেত্রে বাইরের চেয়ে ভেতরের সজ্জাকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে। ফলে আমাদের দেশেও দিন দিন কদর বেড়েই চলছে ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন বা অন্দর সজ্জার।
ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে একটা কনসেপ্ট ফলো করেন। একে বলা হয় ‘Perception of Space’। তারা চেষ্টা করেন ঘরের জায়গা এমনভাবে ব্যবহার করতে যাতে মনে হয় ঘরটি বেশ বড়। ঘরে যত বেশী ফাকা জায়গা থাকবে তত আপনার মন ভাল লাগবে। অতিরিক্ত আসবাব ঘরের সৌন্দর্য্যই শুধু নষ্ট করে না, আপনার মুডও নষ্ট করে দেয়।
আধুনিক জনজীবনে ইন্টেরিয়র একটি নতুন মাত্রা। সামর্থ্যরে মধ্যে সবাই চায় তার নিবাসটি সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে। এজন্য তারা বাসার ভেতরের রঙ থেকে শুরু করে আসবাবপত্র সবকিছুতেই রুচির পরিচয় রাখতে চায়। আগে যেখানে মানুষ আসবাবপত্র হিসেবে ব্যবহার করত কাঠ বা স্টিলের তৈরির জিনিস সেখানে এখন ঠাঁই করে নিয়েছে আধুনিক শৈল্পিক জিনিসপত্র। আর এটা সম্ভব হচ্ছে ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন বা ডিজাইন শিল্পের বিকাশের ফলে। সজ্জিত গৃহ দিয়েই গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রী আগন্তুকদের তাদের রুচি ও শৈল্পিক মনের পরিচয় বুঝিয়ে দিতে চান।
অন্দর সজ্জা বা ইন্টেরিয়র এর প্রধান উপকরণ ফার্নিচার, লাইটিং, রং, কার্পেট ও বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম। এগুলো হল প্রধান অংশ। এর সঙ্গে সাজানর জন ব্যবহৃত হয় নানা ধরনের অনুষঙ্গ। যেমন-লাইটের শেড, সোফার কুশন, ছবির জন্য ফ্রেম, ফ্লাওয়ার ভাস ইত্যাদি।
মনে রাখবেন, আপনি যখন আপনার ঘরের জন্য কোন রঙ পছন্দ করছেন তখন যেকোনো একটি রঙ বেছে নেওয়ার বদলে বেছে নিন ৩টি রঙ। দেয়াল বা ফ্লোরের জন্য বেছে নিন প্রকৃতির কাছাকাছি কোনো রঙ। আসবাবগুলোকে দিন শীতল রঙ, আর ঘর সাজানোর বাকি জিনিসগুলো ব্যবহার করুন উজ্জ্বল কোন একটি রঙের। রঙের বৈচিত্র্য যত মানানসই হবে সে ঘরে শান্তিও তেমনি বজায় থাকবে।