11/06/2026
বাবা কত অনুনয় বিনয় করল আমি কোথায় যাবরে মা,আমি অসুস্থ এই বৃদ্ধ বয়সে আমাকে বাড়ি থেকে বাহির করে দিও না, শেষ পর্যন্ত চোখের পানিতে ভিজে গেল গায়ে পাঞ্জাবি খানা, চোখ মুছতে মুছতে বাড়ি থেকে বাহির হয়ে গেল অজানার উদ্দেশ্যে ,
অসহায় এক পিতার আ*কু*তি,
এই ঘটনা গুলি লেখার সময় মাঝে মধ্যে আমার চোখে পানি এসে যায়,
হাটি হাটি পা পা করে একদিন যে বাবার হাত ধরে মানুষ হয়েছিল ছোট্ট এই টুকটুকি মেয়েটি, এই বাবা তাকে মানুষ করে গড়ে তুলেছেন, সে এখন স্কুলের শিক্ষিকা, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মেয়েকে শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করে মানুষ করেছিলেন, সেই বাবা আজকে স্ট্রোক করে শারীরিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ায়, এই মেয়ে মায় মিলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বার করে দিল, এই অসহায় বৃদ্ধ মানুষটি এখন কোথায় যাবে, গাছ তলায় না রাস্তায় রোদ বৃষ্টি মেঘে ভিজে কোথায় হবে এই অ*সহায় বাবার ঠিকানা, একবারও চিন্তা করলো না মেয়ে,
জীবন সঙ্গী করে যে মানুষটিকে মন প্রাণ দিয়ে সংসার করেছে ৫০ বছর,সেই স্ত্রী কিনা এখন তাকে রাস্তা ধরিয়ে দিল মেয়ে কে নিয়ে, মেয়ের কাছে বাবার জন্য শিক্ষার কোন মূল্য নেই,
এই বৃদ্ধ লোকটিকে স্ত্রী ও মেয়ে মিলে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেটি সত্যি নয়। ভুলবুঝাবুঝি বা গুজব।
বৃদ্ধের ছেলে আমাদের এক বন্ধু। বর্তমানে সে আমেরিকায় পিএইচডি করতে অবস্থান করছে। বাসায় আংকেলকে দেখাশোনা করেন আন্টি আর আপু।
আংকেল গত দুই-তিন বছর ধরে মানসিক ও শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। দুবার স্ট্রোক করেছেন। উনার যখন মন ভালো থাকে, তখন সবার সাথে ভালো আচরণ করেন। কিন্তু অন্য সময়ে বাসার সবার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেন। উনাকে কিছু করতে নিষেধ করলে সবচেয়ে বেশী রেগে যান। কাপড়চোপরও নষ্ট করে ফেলেন।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে, উনি মোবাইল মানিব্যাগ কিছুই ব্যবহার করেন না। হুট হাট বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে আর ফেরত আসতে পারেন না। বেশ কয়েকবার হারিয়ে গিয়েছিলেন।
উনার শিক্ষিকা স্ত্রী এবং মেয়ে তাকে পাগলের মতো হন্যে হয়ে খুঁজেন। থানায় জিডি করেন। এমন ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটেছে। উনি কুমিল্লার মানুষ অথচ উনাকে কখনও সাভার থেকে উদ্ধার করা হয়। কখনও আবার ভিন্ন কোন স্থান থেকে।
ভাবতে পারেন? দুজন মহিলার জন্য এটা কত কষ্টের? মেয়ের জামাইও ঢাকায় চাকুরী করেন।
ভিডিওতে আপনারা লাঠি দেখেছেন মা-মেয়ের হাতে। মূলত লাঠি শুরুতে ছিলো আংকেলের হাতে। উনিই মারতে উদ্যত হোন। উনার লাঠি কেড়ে নেওয়া হয়। থানার ওসিসহ পুলিশ এসেছিলো। ওসি আপুকে দেখে চিনে ফেলেন, পূর্বে আংকেল হারিয়ে যাওয়ার জিডির সূত্র ধরে। উনারা পুরো সিসিফুটেজও দেখে গিয়েছেন।
ভিডিওতে আপনারা লাঠি হাতে উনার স্ত্রী-মেয়েকে দেখছেন। তারা বৃদ্ধ মানুষটাকে বারবার ঘরে ঢুকতে বলছিলেন। শুধুমাত্র হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। ভয় দেখিয়ে যেন ঘরের ভেতরে যাতে কোনভাবে ঢুকিয়ে নিরাপদে রাখতে পারে।
লাঠি হাতে ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু লাগলেও উনারা নিরূপায় ছিলেন।
ভিডিও দেখলেই বুঝতে পারবেন, উনার মেয়ে। আপু প্রেগন্যান্ট! উনার স্ত্রীও একজন শিক্ষিকা। স্কুলে থাকতে হয়। দুজনের উপর প্রচুর প্রেসার যায় একটা মানুষকে সামলাতে।
আংকেলকে প্রায়ই Dr. Avijit Das Saikat ভাই চেকআপ করেন। উনি এই পরিবারকে একদম কাছ থেকে চিনেন জানেন। নিজের বন্ধুর অবর্তমানে আংকেলকে সাধ্যমতো সেবা দেন। এমনকি সাভার থেকে উদ্ধার করার সময় উনিই ছুটে গিয়েছিলেন।
উক্ত ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সব জায়গায় মা-মেয়েকে নিয়ে অনেক আজেবাজে কথা বলা হচ্ছে। যা দেখে উনাদের পরিবার খুব মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
আর ''প্রবাসফেরত বাবাকে মেয়ে স্ত্রীর অত্যাচার করা'' মাছরাঙ্গা টিভি যেই শিরোনাম করেছে। মাছরাঙ্গা টিভি! আপনারা ঘটনা যাচাই করেছেন?
উনি ২০০৫ সালেই প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফিরেছেন। ২০টা বছর আগের ঘটনা। কিন্তু এমনভাবে লিখেছেন যেন, উনি প্রবাস থেকে ফিরেই নির্যাতিত হচ্ছেন।
পুরোটাই ভুল বুঝাবুঝি। দয়া করে আপনারা এই ঘটনার সত্যতাটা জানুন।
ধন্যবাদ সবাইকে।
✍️অন্তরদুনিয়া স্নেহ মায়া মমতা আসলেই অনেক ক্ষেত্রে বৃথা বা মিছা, ঘটনাটি ঘটেছে দেবিদ্দার উপজেলা ন কলেজের উত্তর গেটের সাথে ।😰