09/04/2026
সহচরের গল্পটা অনেক আগেই প্রকাশ করার কথা ছিল। সময় ও অভ্যাস—কোনোটাই তা করতে দেয়নি। যাই হোক, অনেক রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আজকে প্রকাশ করার সুযোগ হলো।
সহচর আসলে কী ছিল?
বাংলায় সহচর শব্দের অর্থ হলো সাথী, সঙ্গী, সখা বা বন্ধু। যে সখা সবসময় আপনার সাথে চলে, বিপদে, আপদে এবং উৎসবে আপনাদের পাশে থাকে, সে ই আপনার সহচর।
এই কম্পিটিশনটা যখন ঘোষনা করেছিল, তখন তারা শুধু জানিয়েছিল they wanted to preserve a pond with low cost। আমরা যখন সাইটে গিয়েছিলাম, দেখি যে এই পুকুরটা কাগজে-কলমে একটা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পত্তি, কিন্তু ব্যবহারিক দিক থেকে এটা আশেপাশের কমিউনিটি, ব্যবসায়ী ও জীববৈচিত্র—সবার। সবাই এটাকে সংরক্ষণ করতে চায় , কিন্তু তারা জানত না কীভাবে করতে হবে।
এই জায়গা থেকেই আমাদের প্রস্তাবের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হতে শুরু করে।
এখন আসি সমস্যা সমাধানে।
যেহেতু আমাদের ঢাকা শহরে জলাশয়ের পরিমাণ খুবই কম, আমরা এই পুকুরটাকে একটা স্ট্যান্ডার্ড সলুশনে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবি , যেটা ঢাকার যেকোনো পুকুরে অ্যাপ্লাই করা যেতে পারে ।
প্রথমত, পুকুরগুলোকে আমরা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেখানে আমরা বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্টিভিটি প্রপোজ করেছিলাম, যা পুকুরের সাথে আশেপাশের কমিউনিটিকে যুক্ত করত এবং এখান থেকে কমিউনিটি প্রত্যক্ষভাবে সুবিধা ভোগ করত, আর পুকুরের মালিক পরোক্ষভাবে লাভবান হতো।
তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পুকুরের ইকোলজি, যা আমরা ময়লা-আবর্জনা দিয়ে ধ্বংস করে রেখেছিলাম। এর সলুশন কীভাবে দেওয়া যায়—সেখানেই আমাদের কাজের মূল ফোকাস ছিল।
যেহেতু এখানে বাজেট অনেক বড় একটা ইস্যু ছিল, we found out all conventional and modern solutions for a pond। We picked some ideas and processes which were more eco-friendly and easy to maintain. Then we made a strategy for our urban pond।
মালিকানার সমস্যার সমাধান পেয়েছিলাম, পুকুরও রিভাইব করার প্রসেস ও পেয়েছিলাম—এরপর প্রশ্ন ছিল, how to connect other people from the other side of our town?
এই সংযোগটা আমরা খুবই সাদামাটাভাবে ভাবতে শুরু করেছিলাম—site-এ কী কী আছে, সেখান থেকেই।
আমরা দেখেছিলাম এখানে অনেকগুলো হোগলা গাছ ছিল। So we decided to make a hogla bagan, যার মাঝখান দিয়ে একটা সুন্দর বাঁশের মাচা যাবে। যেখানে দিনের বেলা বসে মানুষজন মাছ ধরবে, আর রাতের বেলা শোনবে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক বা দেখা যাবে জোনাকি।
পাড়গুলোতে অনেক নারিকেল, হিজল, কৃষ্নচূড়া গাছ ছিল। এর সাথে আমরা আরও কিছু গাছ যোগ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যার ছায়ার নিচে পথচারীরা হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার পাশে থাকা ভ্যানগাড়ি থেকে কিনে নিবে পুকুরপাড়ে চাষ করা সবজি।
ও আরেকটা জিনিস যোগ করা হয়েছিল—কাটা বেগুন, যার কাটায় লেগে থাকত পুকুরপাড়ে মূত্র বিসর্জনকারীর লুঙ্গি।
এইভাবে, restoration-কে আমরা শুধু একটি technical intervention হিসেবে না দেখে একটি relationship হিসেবে ফ্রেম করার চেষ্টা করেছিলাম। যখন মানুষ এই জায়গার সাথে যুক্ত হয়, অংশ নেয়, যত্ন নেয় এবং উপকৃত হয়—তখন একটি জলাশয় আবার তার purpose এবং identity ফিরে পায়।
তখন সেটি শুধু একটি pond থাকে না—
শহরের ভেতরে একটি জীবন্ত সঙ্গী হয়ে ওঠে—একটি সহচর।