কৃষি : ফল খাই বল পাই আসুন ফলের গাছ লাগাই I
কৃষি প্রধান বাংলাদেশে ফলচাষ কৃষিরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মাঠ ফসলের চাষাবাদের পাশাপাশি ফলচাষ একদিকে যেমন লাভজনক তেমনি দেশের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে ফলের অবদান অতীব গুরম্নত্বপূর্ণ। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বিভিন্ন ঋতুতে নানা ধরনের ফল পাওয়া গেলেও মধু মাসে বাহারি ফলের ব্যতিক্রমী আয়োজন আমাদের জীবনে নিয়ে আসে আনন্দের পরশ। বর্তমানে যে দেশ যত বেশি ফল খায় সে দেশকে
ই ধনী হিসেবে গণ্য করা হয়।
মানুষের শরীরের সুস্থতা এবং সবল ও সুন্দর থাকার জন্য প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকায় ফল থাকা একানত্ম জরম্নরি। ফল আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বিশেষত ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের সবচে সহজ ও সসত্মা উৎস। ফল দেহের রোগ প্রতিরোধ ড়্গমতা বৃদ্ধি করে। ফলে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রকার খনিজ উপাদান যেমন- ক্যালসিয়াম, লৌহ, ফসফরাস ইত্যাদি দেহের বিপাক কার্যবলী স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
ফল শুধু খাদ্য হিসেবেই নয় জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে, চিকিৎসা শাস্ত্র, অর্থনীতি, সামাজিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদিতে নানাভাবে অবদান রাখছে। ফলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা প্রকার শিল্প, সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থানের এবং ফল রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি ফলে রয়েছে নানা রকম ভেষজগুণ। আমাদের ফসলভিত্তিক জাতীয় আয়ের শতকরা ১০ ভাগ আসে ফল থেকে। বর্তমানে ফল চাষের আওতায় আছে মোট জমির প্রায় ২% এবং বার্ষিক ফলের উৎপাদন ১৪ লাখ টনের বেশি। আমাদের প্রাত্যহিক ফল গ্রহণ করা প্রয়োজন ১০০-১১০ গ্রাম, সেখানে আমরা গ্রহণ করছি মাত্র ৩৫-৪০ গ্রাম। যার ফলে আমাদের শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ফলের যে ভূমিকা থাকা প্রয়োজন তা থাকছে না। এর বড় কারণ মাথাপিছু ফলের প্রাপ্যতা অপ্রতুল।
আমাদের জাতীয় অপুষ্টি সমাধানে ফল হতে পারে উৎকৃষ্ট সহায়। কারণ ফলে আছে সুস্থ ও সবল থাকার সব উপাদান। বিদেশী কমলা পেলে আমরা দেশি আমলকীকে দূরে ঠেলে দেই যদিও আমলকীতে কমলা থেকে ২০ গুণ বেশি ভিটামিন থাকে। একইভাবে আমরা আপ্যায়নে পেয়ারা দিতে সঙ্কুচিত, আপেল বা আঙ্গুর দিয়ে গর্বিত হই। অথচ পেয়ারা পুষ্টিমানে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। ফল চাষে অর্থনৈতিক লাভ যেমন বেশি তেমনি ক্যালোরি উৎপাদনের মাপকাঠিতেও বেশি। আমরা যেখানে ধান, গম, মিষ্টি আলু থেকে যথাক্রমে হেক্টরপ্রতি ১১.২, ৬.৬ ও ৩৯.৮ লাখ কিলোক্যালরি শক্তি পাই কলা থেকে সেখানে পাই ৫০.০০ লাখ কিলোক্যালরি। কলাতে পাওয়া যায় ১১ ধরনের ভিটামিন তার মধ্যে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি ও ভিটামিন-সি প্রধান এবং কলা খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। কিন্তু কলার হেক্টরপ্রতি বার্ষিক উৎপাদন মাত্র ১৫.৮৮ টন যা হেক্টরপ্রতি প্রায় ৫০-৬০ টন করা সম্ভব।