18/06/2026
আজকাল আমাদের দেশে সা*মা*জি*ক যো*গা*যো*গ মাধ্যমে এক অ*স্ব*স্তি*ক*র প্র*ব*ণ*তা ক্রমশ বেড়ে চলেছে।
অন্যকে না চিনে, না জেনে বিচার করা, ক*টু মন্তব্য করা, অযথা অ*প*মা*ন করা এবং অন্যের ব্য*ক্তি*গ*ত বিষয়ে নাক গলানো—এগুলো যেন এখন খুবই সাধারণ ঘটনা!
যারা একজন আরেকজনকে চেনেনই না, তার ব্যক্তিগত জীবন, অতীত বা বর্তমান সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখেন না, তারাই অনায়াসে একে অপরকে আ*ঘা*ত করছেন।
আমার নিজের কিছু অভিজ্ঞতার কথাই বলি; আমি কে, কোথায় বাস করি, এদেশে আছি কি না—এসব কিছুই তারা জানে না। আমার জীবনে কী আছে আর কী নেই, সে সম্পর্কেও তাদের সামান্যতম জ্ঞা*ন*টু*কুও নেই। তবু তারা নির্দ্বিধায় বলে, “তু*ই তো ফ*কি*ন্নি”, “জীবনে কখনো এটা দেখেছেন, ওটা দেখেছেন চোখে”—এমন হী*ন ও অ*প*মা*ন*জ*ন*ক কথাবার্তা।
আরও এক ধরনের মানুষ আছে, যারা ক*মে*ন্ট কিনবা ই*ন*ব*ক্সে প্রথমবারই সরাসরি জিজ্ঞেস করে, “আপনার কত টা*কা আছে?”, “কী চাকরি করেন?”, "চাকরি করে খরচ করেন বুঝি"- ভদ্রতার সামান্যতম সীমারেখাও এখন আর মানা হয় না। যেন আমরা ভুলেই গেছি যে, ভ*দ্র*তা ও অ*ভ*দ্র*তা*র মাঝে একটি স্পষ্ট, দৃঢ় সীমানা আছে।
ধরুন একটি পেজ আনন্দের সাথে তার ফলোয়ারদের মাঝে গিফট বিতরণ করলো; সেখানেও কেউ কেউ গিয়ে জিজ্ঞেস করে বসে, “কত টা*কা*র গিফট?”। গিফট নিয়ে ঠা*ট্টা-বি*দ্রূ*প করে, আর যদি কেউ গিফট না পায় তবে পরিবারের সদস্যদের, এমনকি নিষ্পাপ শিশুদেরকেও অ*ভি*শা*প দিতে দ্বিধা করে না। এত গভীর ট*ক্সি*সি*টি ও নে*তি*বা*চ*ক*তা একটি স*মা*জে কীভাবে এত সহজে ছড়িয়ে পড়লো একবার ভেবেছেন কি?
এর মূল কারণটি হলো হি** সা (J/e/a/l/o/u/s/y), যা আসে সাধারণত নিজের জীবনের ই*ন*সি*উ*রি*টি থেকে।
কারো সাফল্য, সম্পদ বা সুখ দেখলে সহ্য না হওয়াটাই হচ্ছে এই ই*ন*সি*উ*রি*টি*র আসল কারণ।
"কে কি খাচ্ছে, কিভাবে খাচ্ছে, কেনো খাচ্ছে", "কে কোথায় ঘুরতে গেলো, কেনো গেলো", "কে কি কিনলো, কেনো কিনলো, কিভাবে কিনলো", "কে কোন খাটে শোয়, সেটা কোন কাঠের খাট, সেগুন কাঠের ফার্নিচার কেনার ক্ষমতা আছে কি না"—এসব তু*চ্ছ বিষয় নিয়ে অবিরাম আ*লো*চ*না চলে। যেন একজনের একটা জিনিস না থাকলে সেটা আর কারো থাকারও অধিকার নেই। আরেকজনের জীবনে কি চলছে সেটা নিয়ে আমাদের কৌ*তু*হ*লে*র শেষ নেই যেনো!
কিছু মানুষের আচার আচরণ দেখলে মনে হয় এটা ফে*স*বু*ক নয় বরং গ্রামের কোনো চায়ের দোকান, যেখানে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে অন্যের স*মা*লো*চ*না করাই একমাত্র বি*নো*দ*ন।
কিন্তু যারা এমন আচরণ করেন, তাঁরা একবারও ভেবে দেখেন না যে, জীবন চক্রাকারে ঘোরে। আজ যা অন্যকে দিচ্ছেন, কাল তা নিজের কাছেই ফিরে আসবে। ক*র্ম*ফ*ল কাউকে ছাড় দেয় না। কাউকে অ*প*মা*ন করার আগে এক মুহূর্ত সময় নিয়ে ভাবুন—একই কথা যদি আপনার সম্পর্কে বলা হয়, একইভাবে যদি আপনাকে অ*প*দ*স্ত করা হয় তাহলে আপনার কেমন লাগবে? যদিও আমার কথায় কারোরই কিছু আসবে যাবেনা, যাদের যেটা কাজ সেটা তারা করবেই।
তবে হ্যা,একটা কথা মনে রাখবেন যখন কেউ আপনাকে নিয়ে বি*দ্রূ*প করে বা অ*প*মা*নে*র চেষ্টা করে, তখন বুঝে নিতে হবে—আপনি তাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে নিয়ে ভাবার মতো অযথা সময় তাদের কাছে আছে বলেই এমনটা করছে। যদি আপনি সত্যিই তাদের কাছে অ*প্রা*স*ঙ্গি*ক হতেন, তাহলে তারা আপনাকে নিয়ে কখনোই মাথা ঘামাতো না। এটি তাদের অভ্যন্তরীণ হী*ন*ম্ম*ন্য*তা ও হি**সারই বহিঃপ্রকাশ তাছাড়া আর কিছু নয়।
অ/ন/লা/ই/ন বু /লিং আজকাল এদেশে অত্যন্ত সস্তা ও সুলভ হয়ে গেছে। এই বি*ষা*ক্ত অ/প/সং/স্কৃ/তি যেটা আপনি তৈরি করছেন একদিন সেটাই আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য ক্ষ*তি*র কারণ হয়ে দাঁড়াবে এটা মনে রাখা প্রয়োজন, আপনারই নিজের কেউ না কেউ এসবের ভি*ক্টি*ম হবেই।
তাই নিজে ভদ্র থাকুন, অন্যকে সম্মান করুন! নিজের সীমারেখা নিজেই তৈরি করুন, মনে রাখবেন যা আমরা ছড়াই, তাই একদিন ফিরে পাই। একটু সহানুভূতি, একটু ভদ্রতা আর সংযম যদি আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি, তাহলে আমাদের সমাজটা আরো সুন্দর ও মানবিক হয়ে উঠবে।
তাই ভালো থাকুন। সুন্দর করে ভাবুন।🤍