03/09/2025
আঙুর চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় হলো শীতের শেষ থেকে বর্ষার শুরু পর্যন্ত (বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য মাচ এবং এপ্রিল ), তখন মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে এবং চারার বৃদ্ধি ভালো হয়। শীতপ্রধান দেশগুলোতে (USA, Canada, UK, Japan, Australia) বসন্তকাল (March–April) হলো চারা লাগানোর সেরা সময়।
চাষের জন্য উপযুক্ত জাত হলো—Baikunur,Dixon, Green Long, Velez,Lora's, Black Magic,white muscot etc এবং বিভিন্ন বিদেশী জাত। বাংলাদেশের আবহাওয়ায়ও কলম করা/ গ্র্যাফটিং আঙুরের চারা ভালো ফল দেয়।
চারা রোপণের জন্য গর্ত করতে হবে প্রায় ২.৫–৩ ফুট চওড়া ও ২.৫ ফুট গভীর। প্রতিটি গর্তে মাটির সঙ্গে ২০–২৫ কেজি গোবর সার, ২০০ গ্রাম হাড়গুঁড়া, ১০০ গ্রাম কাঠের ছাই মিশিয়ে নিতে হবে। গাছের দূরত্ব রাখতে হবে সারি থেকে সারি ৮–১০ ফুট এবং গাছ থেকে গাছ ৬–৮ ফুট। আঙুর গাছ লতানো বলে সাপোর্ট বা ট্রেলিস সিস্টেম দিতে হবে, যাতে ডালপালা ছড়িয়ে বেড়ে উঠতে পারে।
প্রতি ২০–২৫ দিন অন্তর আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং গাছের গোড়ায় মাটি আলগা করতে হবে। প্রতি মৌসুমে বর্ষার আগে ও শীতকালে ৫–৭ কেজি করে পচা গোবর সার, ২০০–২৫০ গ্রাম হাড়গুঁড়া ও কিছু কাঠের ছাই দিতে হবে। ফুল আসার আগে জৈব তরল সার (ভার্মিওয়াশ বা কলার খোসার তরল সার) ব্যবহার করলে ফলন অনেক বেড়ে যায়।
আঙুর গাছ খোলা রোদ পছন্দ করে, তাই প্রতিদিন কমপক্ষে ৭–৮ ঘণ্টা সরাসরি রোদ থাকা প্রয়োজন। শুষ্ক মৌসুমে ৭–১০ দিন অন্তর সেচ দিতে হবে। তবে জলাবদ্ধতা হলে শিকড় নষ্ট হয়ে যায়।
রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণে জৈব পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর। নিমতেল স্প্রে (৫ মি.লি. + ১ লিটার পানি + সামান্য সাবান) ১০–১২ দিন অন্তর ব্যবহার করতে হবে। ফলের মাছি, এফিড ও মিলিবাগ দমনে রসুন-লঙ্কা-আদা পেস্ট ফিল্টার করে স্প্রে করা যায়। গাছের গোড়ায় ছাই ব্যবহার করলে ছত্রাক ও পচন প্রতিরোধ হয়।
ফলন বাড়াতে নিয়মিত ডাল ছাঁটাই /সঠিক পুনিং করতে হবে। নতুন ডালে সাধারণত বেশি ফুল-ফল ধরে। কলার খোসা, হাড়গুঁড়া ও কাঠের ছাই ব্যবহার করলে ফলন ও আকার দুটোই উন্নত হয়। যত্ন সহকারে চাষ করলে ২–৩ বছরের মধ্যেই আঙুর গাছ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে সক্ষম হয়।
#আঙ্গুরবাগান #রাজশাহীআঙ্গুরবাড়ি #আঙ্গুর