04/11/2025
লক্ষ্য করলাম ছেলের বউ আমায় ভিষণ ভয় পায়।অথচ আমি তাকে সবসময় মা সম্বোধনে কথা বলি।একদিন...
" মা,চা করতে পারবে?মাথাটা ধরেছে "
বউমা ঘড় ঝাড়ু দিচ্ছিলো।আমায় কথায় ঝাড়ু রেখে সঙ্গে সঙ্গে বললো " হ্যা বাবা এক্ষুণি দিচ্ছি "
" ঘর ঝাড়ু দিচ্ছো তো,শেষ করে দাও।এতো তাড়াহুড়ো করতে হবে না "
" চা করে ঝাড়ু দিবোনি।আপনি বসেন "
আমি বেশ চিন্তিত হয়ে পরলাম।কি মুশকিলের বিষয়!মেয়েটা আমায় এতো ভয় পায় কেনো!
বিয়ের শুরুতে ভেবেছিলাম নতুন নতুন তাই ভয় পাচ্ছে।ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।বিয়ের ২ মাস পরও তার ভয় আরো বেড়েছে।ভয় কাটানো আর ভাব জমানোর জন্য দু'একটা ফরমায়েশ দেই।যেমন " মা,মাথায় একটু তেল দিয়ে দিবে? "
ভেবেছিলাম এভাবে ওর ভয় কিছুটা হলেও কাটবে।সেই তেল দেওয়াতেও তার হাত কাঁপতে লাগলো।বোতলের মুখ খুলতে গিয়ে অসাবধানতায় অর্ধেক বোতল তেল ঢাললো আমার মাথায়।তেলে চপচপে শরীর হয়ে গেলো।
বুঝলাম মেয়েটা বাবা মায়ের খুব আদরের।হয়তো তার পরিবারে কেউ তার সাথে রেগে কথা বলে না,বা রাগী কারো সাথে তার পরিচিতি খুবই কম।
কিন্তু আমার পরিবারে আমায় সবাই অকারণে ভয় পায়।ছেলে নিশ্চয়ই বউকে বলেছে আমি রাগী।সেজন্যই বউ এতো ভয় পায় আমায়।কিন্তু বউকে আমি মন থেকে মেয়ে হিসেবে মেনে নিয়েছি।অথচ সেই মেয়ে কিনা আমায় দেখে এতো ভয় পায়!
বাজারে গিয়েছিলাম।ঝালমুড়ির দোকান দেখে দাঁড়ালাম।বাচ্চা মেয়েরা খুব ঝালমুড়ি খেতে পছন্দ করে।বিশ টাকার ঝালমুড়ি কিনে বউমার হাতে দিলাম।তার চোখ চকচক করে উঠলো,মিষ্টি হেসে বললো " আমার বাবাও ঝালমুড়ির দোকান দেখলে কিনে আনতো "
মেয়ের আনন্দ দেখে মন ভরে গেলো।এরপর থেকে বাজারে গেলে টুকটাক খাওয়ার জিনিস কিনে আনি।মেয়েটা প্রতিবারই বড্ড খুশি হয়।একদিন আমায় অবাক করে দিয়ে বউমা বললো " বাবা আমার আচার খেতে ইচ্ছে করছে।বাজার গেলে আমার জন্য আচার নিয়ে আসিয়েন "
মেয়ের আবদারে কি যে ভালোলাগা তৈরী হলো!পায়ে ব্যথার জন্য সারাদিন শুয়ে ছিলাম।মেয়ের আবদার শুনে পাঞ্জাবিটা গায়ে দিয়ে গেলাম দোকানে।মেয়ের আবদার শুনেও কোনো বাবা শুয়ে থাকতে পারে?পা খুড়িয়ে খুড়িয়ে বাজার থেকে আচার কিনে নিয়ে গেলাম।এভাবেই ওর ভয় ভাঙ্গাবো।
✍️সংগ্রহীত
🤍