11/03/2026
- মা, আমার একটা অনুরোধ রাখবে?"
- তুই চাইলে আমি কি না করতে পারি? বল, তোর সব কথা আমি রাখব।
- তোমার বৌমা বলছিল তোমার বয়স হয়েছে! এখন তোমার শরীরে একটু বিশ্রাম প্রয়োজন। আর এই বাড়িটাও খুব একটা বড় না — ছোট ঘুপচি! তোমার কাশিটাও বেড়ে গেছে। আর ডায়াবেটিস তো আছেই, হার্টের সমস্যা, হাড়ের সমস্যা, আরো কত কি!
- হ্যাঁ রে, মনে হয় আর বেশিদিন...!
- আহ থামো তো মা! তোমার সব সময় দেখাশোনার জন্য কাউকে রাখতে হবে।
- আচ্ছা আমাকে তাহলে গ্রামের বাড়িতে...।
- না না, তোমাকে বৃদ্ধাশ্রমের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চে ভর্তি করালে কেমন হয়? এটাই বলছিল তোমার বৌমা। ওখানে অনেকে থাকবে তোমার মতোই। তাদের সাথে গল্প করতে পারবে। এ বাড়িতে তো কেউই নেই! আমি ব্যবসায় দৌড়াচ্ছি, তোমার বৌমা অফিসে আর মিঠু তো সারাদিনই স্কুলে। ওখানে তুমি আরামেই থাকবে মা। এটাই আমার, মানে আমাদের চাওয়া।
- আচ্ছা তুই চাইলে তাই হবে।
- থ্যাংকস মা। আচ্ছা, কাল বিকেলেই কিন্তু ওখানে যাচ্ছো তাহলে! তোমার ব্যাগ গুছিয়ে রাখবে।
পরের দিন ট্রাফিক জ্যামে আটকে আছে মা-ছেলে। নীরবতা ভাঙলেন মা, "বাবা ওখানে আমাকে দেখতে যাবি তো? পারলে একটা ফোন কিনে দিস আমাকে!"
- মা তুমি ফোন দিয়ে কি করবে? ওখানে ল্যান্ডফোন আছে তো!
- তোর বাবা মারা যাওয়ার পর আত্মীয়স্বজনরা যখন আমাদের ঘরবাড়ি দখল করে নিল, তোর ছোট বোনকে কোলে নিয়ে আর তোর হাত ধরে আমি অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলাম। মনে আছে তোর?
- মনে আছে মা।
- সেদিন তুই বারবার জিজ্ঞাসা করছিলি, মা আর কতদূর?
- এসব কথা এখন বলছ কেন মা?
- আজ আমার কেন জানি সেই দিনটার কথা খুব মনে পড়ছে। সেদিন আর আজকের মধ্যে কোথায় জানিস? সেদিন তুই আমার সাথে গিয়েছিলি, আর আজ আমি তোর সাথে যাচ্ছি!
কিছুক্ষণ পর একটা বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামাল। সবকিছু নিরীক্ষণ করে ছেলে বলে উঠল, "নামো মা, এটাই তোমার বৃদ্ধাশ্রম। বলেছিলাম না, তোমার পছন্দ হবে। তোমার জন্য দোতালার দক্ষিণের ঘরটা বুকিং দিয়ে রেখেছি।"
টিং ডং টিং ডং (দরজা খুললো)
হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ ! হ্যাপি বার্থ ডে টু ডিয়ার 'মা'!
দরজা খুলতেই চমকে গেলেন মা। আরে ওই তো তার একমাত্র নাতি আর বৌমা কেক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একসাথে এত বেলুন আগে কখনো দেখেননি তিনি। এমন আয়োজন করে কেউ কখনও তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানায়নি। আরে, ওই তো তার মেয়ে আর জামাই দাঁড়িয়ে। ওদেরও ডেকে এনেছে তার পাগল ছেলেটা।
"হ্যাপি বার্থ ডে মা।"
"আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না", মা কান্না ভেজা কন্ঠে বললেন, "এটা কার ঘর?"
- নামফলকটা দেখনি? বাবার নামে বাড়ির নাম রেখেছি। এই পুরো বাড়িটাই আমাদের। ভাড়া বাসায় তোমাকে আর থাকতে হবে না। এবার তুমি আরামে থাকতে পারবে।
- তুই না! এমন কেউ করে? (মা চোখের জল মুছতে মুছতে জোরে জোরে মাথা নাড়ছেন। আনন্দে কথা বলতে পারছেন না।)
আয়োজন শেষে সবাই ঘুমাতে যাবে, এমন সময় পেছন থেকে মায়ের ডাক! হাতের ব্যাগটা আতিপাতি খুঁজে একটা কৌটা বের করে ছেলের হাতে ধরিয়ে দিলেন।
নে এটার আর দরকার হবে না! ভেবেছিলাম যদি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসিস, সেদিনই ইঁদুর মারা বিষটা খেয়ে নেব।
ধুর মা, কি যে বলো! এটা তো আমি কাল রাতেই পাল্টে তোমার ক্যালসিয়ামের ওষুধ ভরে রেখেছি। তুমি ঘুমাও।
জনমদুখিনী মায়ের আজ আর কিছু চাওয়ার নেই। আর কিছু না হোক তার ছেলেকে অন্তত মানুষ করতে পেরেছেন তিনি। যাক, আজকের ঘুমটা সত্যিই আরামের হবে, ঘুমের ট্যাবলেট খেতে হবে না।