24/07/2024
বাজারে এখন সারা বছরই চড়া দামে পাওয়া যায় সুস্বাদু সজনে ডাটা। অথচ আমাদের আশপাশের সজনে গাছে ফল-ফুলের দেখা মেলে ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিলেই। কোথা থেকে এই ডাটা আসছে, তার খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পেরেছিলাম, মহারাষ্ট্র আর গুজরাত থেকে প্রতি দিন সজনে ডাটা ভর্তি লরি ঢোকে পশ্চিমবঙ্গের আড়তগুলিতে। জানতে পেরেছিলাম, দক্ষিণ ভারতের ওদামছত্রম বা ODC ভ্যারাইটির কথা। এই জাতের সজনে চাষ করেই বাঙালির পাতে সারা বছর সজনে সাপ্লাই করে মারাঠি আর গুজরাতি ফার্মগুলি।
পশ্চিমবঙ্গে এই জাতের সজনে চাষ করার চেষ্টা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের কৃষকেরা যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হয়েছেন সেগুলি হল..
১. কেনা বীজ অঙ্কুরিত হয়নি।
২. গাছ হলেও ফল-ফুল নেই।
৩. এক বছর পর গাছের শিকড়ে পোকা লেগে যাচ্ছে।
তিন বছর আগে আমরা দক্ষিণ ভারতের একাধিক সাপ্লায়ারের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করি। যে বীজ অঙ্কুরিত হয়নি, সেই বীজ প্রথমেই সরিয়ে ফেলে দিই। তারপর বীরভূমের ফার্মে চারাগাছগুলি আলাদা আলাদা জোন করে লাগানো হয়। যে গাছে দু বছরেও ফুল আসেনি, সেই গাছও কেটে ফেলা হয়। যে গাছে ফল-ফুল-পাতা সব থেকে বেশি সেই গাছটিকেই বীজ তৈরির জন্য নির্বাচন করি। একই সঙ্গে এই নির্বাচিত বীজের চারা আমরা পরীক্ষামূলকভাবে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বসাই। সব ক্ষেত্রেই ফল-ফুল-পাতায় সে সারাবছর ভরিয়ে রাখছে গাছ। কোনও কোনও গাছে বছরে তিনবার ফসলও ফলছে। সার বলতে শুধু গোবর সার আর ভার্মি কম্পোস্ট।
শিকড়ে পোকা লাগলে বিনা রাসায়নিকে তার মোকাবিলা করার কাজেও অনেকটা এগিয়েছি আমরা।
এই ফসল অর্থকরী। এর হাজারো প্রোডাক্ট নিয়েও আমরা কাজ করছি।
আপাতত কিছুটা বীজ আমরা নিজেরাই বানিয়েছি আমাদের বীরভূমের ফার্মে। সদ্য বানানো এই বীজের এই মুহূর্তে জার্মিনেশন রেট ৯০-৯৫ শতাংশ। অক্টোবরে গিয়ে জার্মিনেশন রেট দাঁড়ায় ৬০ শতাংশ।
সংগ্রহ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন 8777035990 নম্বরে।
প্রতিটি বীজের দাম আমরা রেখেছি আড়াই টাকা (Rs. 2.50)। ৫০ টির ওপর বীজ নিলে বিশেষ ছাড় থাকবে।