19/05/2026
অন্তরে আজ দেখব।
আত্মদর্শন কি ভাবে হয়? নিজেকেই নিজের সাক্ষী করে তুলে বাইরে থেকে দেখা। রবীন্দ্রনাথ বারে বারে এ ভাবে নিজেকে দেখেছেন। একরাত্রে, তাঁকে বিছে দংশন করেছিল। যন্ত্রনা যখন প্রবল হয়েছে, তিনি বলছেন, "নিজেকে নিজের থেকে সরিয়ে আনলাম। এই যে তোমরা যাঁকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলো, সে এত সামান্য বিষে কাতর হয়ে উঠলো! তখন নিজেকে দেখে লজ্জা পেলাম। ভোররাতে আস্তে আস্তে যন্ত্রনার উপশম হল।" রবীন্দ্রনাথ পারেন। আমরা কি পারি না! কত গানে কত মর্মন্তুদ যন্ত্রনার উপশমের পথ তিনি দেখিয়ে দিয়ে গেছেন৷ সত্যকে সহজে নেওয়ার সংকল্প করে গেছেন৷
আজকাল অনেকেই রবিঠাকুরের গান নিয়ে মনবিকার নিরাময়ের পথ খুঁজছেন।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় কাউন্সেলিং ও থেরাপির একটা নির্ভরশীল বিষয় হতে পারে রবীন্দ্রসঙ্গীত। অনেকেই বলেন, "মন শান্ত হয়।" এটুকুই কি যথেষ্ট!
ফ্রয়েডের অবচেতন মনের সুপ্ত বাসনার কেন্দ্রে ছিল কামনার প্রবৃত্তির কথা। রবীন্দ্রনাথ সে কথা মানেন নি। তিনি বলেন, অবচেতনের একেবারে কেন্দ্রে আছে "self assertion" বা আত্ম প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা। একটি সদ্যজাত শিশুর মনে যৌন বাসনার আকাঙ্খা থাকে না, কিন্তু সে যখন বাবা-মায়ের আদর, স্বীকৃতি পায়, সে আনন্দিত হয়। এই যে বাবা-মায়ের, সমাজের স্বীকৃতি ও প্রতিষ্ঠা, এই ভাবনাই তার অবচেতনের ক্রিয়া হয়ে সমস্ত কাজে আত্মপ্রকাশ করে। উপনিষদেও সেই পরমব্রহ্ম, এক থেকে দুই হয়েছেন, নিজেই নিজের সাক্ষী হবেন বলে।
আমার সামান্য আয়োজনে কুসুমকুঞ্জে আগামী মাসে আত্মসমীক্ষনের উদ্দেশ্যে একটি কর্মশালার আয়োজন করেছি। এই কর্মশালার উদ্দেশ্য মানসিক সমস্যা নির্ণয় নয়, নিরাময় তো নয়ই বরং মানসিক সুস্থতার দিকটাকে তুলে ধরা। আমরা নিজেদের শারীরিক সুস্থতা চোখে দেখতে পাই কিন্তু মানসিক সুস্থতাকে কি অনুভব করি? কি করে অনুভব করব নিজেকে! এই সংকট থেকে মুক্তি দিতে পারে রবীন্দ্রসঙ্গীত।
দুটি স্তরে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত একদল নতুন প্রজন্ম। তাদের চিন্তাভাবনা, দর্শন একটু পৃথক। তাদের পথটা এগোবার, তাদের সমস্যাগুলোও সেইমত।
আরেকটি বিভাগ যাদের বয়স ৪০ পার হয়েছে। তাদের যাত্রা পিছন ফিরে দেখবার। তাদের ভাবনাচিন্তা অনুসারে সেই কর্মশালা পরিকল্পিত।
রবীন্দ্রগানের চর্চা হেতু যেটুকু আমার উপলব্ধি, তার সাথে মনোবিজ্ঞানের পড়াশোনা মিলিয়ে এই প্রচেষ্টা।
যারা কুসুমকুঞ্জে গান শেখেন, তারা তো আছেনই, বাইরের যদি কেউ আসতে চান, সাদর আমন্ত্রন জানাই।