07/12/2013
নবান্ন উৎসব ফটিকছড়ির কৃষক
পরিবারে
এস এম মোরশেদ মুন্না, নাজিরহাট
আমনের সমারোহে ফটিকছড়ির
প্রতিটি ধানি জমি সোনালি ধানে ছেয়ে গেছে।
হেক্টরপ্রতি উচ্চ ফলনশীল জাতের
উৎপাদন সাড়ে ৫ হতে ৬ টন।
ফলে ফটিকছড়ির প্রতিটি কৃষক
পরিবারে চলছে নবান্নের আগাম
উৎসব।ইতিমধ্যে ফটিকছড়িতে ৩০
ভাগ জমির ধান কাটা সম্পন্ন
হয়েছে। ধান কাটা আর
ঘরে তুলতে ব্যসত্ম হয়ে পড়েছেন কৃষক
পরিবারের সদস্যরা।
সময়মত বৃষ্টিপাত হওয়া, সারের
ন্যায্যমূল্য, ভাল ও সঠিক পরামর্শ,
রোগবালাই কম, সর্বোপরি কৃষকের
অধিক তদারকির
কারণে মাঠজুড়ে সোনালি আমনের
ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে। গত বোরো,
আমন দুই মৌসুমে বাম্পার ফলন
হওয়াতে চলতি আমন
মৌসুমে উপজেলার চাষীরা অনেক
উদ্দীপনা নিয়ে আমনের চাষ
করেছেন এবং সফলও হয়েছেন। ফলন
দেখে বোঝা যায়, কৃষকের এমন
উদ্দীপনা বৃথা যায়নি।
চলতি আমনের ব্যাপক ফলন
দেখে কৃষকরাও বেজায় খুশি।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন
ঘুরে জানা গেছে, চলতি আমন
মৌসুমে কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জাতের
বিআর ১১, ২২, ৩২, ৩৯, ৪০ ও ৪১
কামত্মা ইরি, পায়জম,
দিনাজপুরী পায়জম ও
দিনাজপুরী সাদা পায়জম
এবং স্থানীয় জাতের মধ্যে বিন্নি,
কালিজিরা ও গিগচ রোপণ
করেছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
সূত্রে জানা গেছে, বছরের ১ জুলাই
হতে আগস্ট পর্যমত্ম আমন রোপণের
উৎকৃষ্ট সময় হলেও শুরম্নতে অনাবৃষ্টির
কারণে উপজেলার বেশিরভাগ
জায়গায় কৃষকরা সময়মত চারা রোপণ
করতে পারেনি। তাই
চলতি বছরে ধানকাটা শেষ
হতে একটু সময় লাগবে।
এছাড়া চলতি বছরে আমনের
বীজতলা প্রস্ত্ততের সময় শেষের
দিকে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের
ফলে পানিজমে বীজতলা নষ্ট
হয়ে যাওয়াতে গত বছরের
চেয়ে উপজেলায় আমনের
লক্ষমাত্রা ১ হাজার ৮২০ হেক্টর কম
ধরা হয়েছে। গত বছর
ফটিকছড়ি উপজেলায় আমনের
লক্ষযমাত্রা ধরা হয়েছিল ২২
হাজার ৩৬০ হেক্টর জমি। চলতি বছর
আমনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ২০
হাজার ৫৪০ হেক্টর জমি। অর্জিত
হয়েছে ২১ হাজার ৩ শত হেক্টর জমি।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়
লক্ষমাত্রার চেয়ে অর্জন ৭৬০ হেক্টর
বেশি।
এ ব্যাপারে দৌলতপুরের
চাষী মেহাম্মদ মোজাফ্ফর জানান,
গত আমন বোরো দুই মৌসুমে আমার
ফলন অনেক ভাল হয়েছিল।
চলতি আমনের ফলন
দেখে আমি অনেক খুশি।
সঠিক পরিচর্যা ও সময়মত
বৃষ্টিপাতের কারণে আমার
জমিতে আমনের ব্যাপক উৎপাদন
হয়েছে। নানুপুরের মোহাম্মদ
আলী আকবর জানান, গত
বোরো মৌসুমে বন্যার ফলে আমার
ফলন ভাল হয়নি। ফলে চলতি আমন
মৌসুমে আমি খুব
বেশী মনোযোগী ছিলাম চাষের
প্রতি। শুভনছড়ির নাছির উদ্দীন
জানান, আমার এলাকার মানুষের
প্রধান চাষাবাদ হচ্ছে ধান চাষ।
ফলে শুভনছড়ির বিসত্মীর্ণ একর
জমিতে ধানের চাষাবাদ হয়। গত
আমন বোরো দুই মৌসুমে আমাদের
ফলন অনেক ভাল হয়েছিল। কঠোর
পরিশ্রম আর আবহাওয়া আমাদের
অনুকূলে ছিল বলে এ এলাকার সবার
আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ
ব্যাপারে উপজেলার উপ
সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ
কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম
জানান, উপজেলায় গত দুই মৌসুম
বাম্পার ফলন হয়েছে।
ফলে কৃষকরা অনেক
বেশি আত্মবিশ্বাসী।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের
আমরা অনেক সহযোগিতা করেছি।
উৎপাদন
দেখে মনে হচ্ছে কৃষকরা আমাদের
পরামর্শ
ভালভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন।
এ
ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন
দেবনাথ জানান, আমি উপজেলার
বেশিরভাগ ইউনিয়ন
ঘুরে দেখেছি আশাতীত ফলন
হয়েছে ফটিকছড়িতে। আমাদের
সহযোগিতা এবং কৃষকের
হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফল আমনের
বাম্পার ফলন।
সুত্র - দৈনিক পুর্বকোণ
Just now