05/06/2021
গত কয়েক বছরে লাগাতার লোকসানের মুখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম।
ব্যবসায়ীরা যখন পথে বসতে যাচ্ছিল তখনই অনলাইন ব্যবসায়ীদের তৎপরতায় আবার তাদের মুখে হাঁসি ফুটতে শুরু করেছে।
হয়তো এতোদিন ফলের দোকানীর ধোকায় পড়ে পাড়ার আমকে চাঁপাইয়ের আম ভেবে খেয়ে আসা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই অনলাইন ব্যবসায়ীদের কল্যানেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের পিওর আম খেতে পাচ্ছেন।
আবার আপনারা কিনছেন বলেই বিভিন্ন মিডিয়ার অপপ্রচার এ ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষীরা নায্য দাম পাচ্ছে এবার।
"চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের গাছে ক্ষতিকর কীটনাশক দেওয়া হচ্ছে"শিরোনাম দিয়ে দেশের মানুষের সরল বিশ্বাস নিয়ে খেলা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষীদের যে সাংবাদিক ভাইয়েরা পথে বসাতে চেয়েছিলেন তাদের কাছে প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করে-
বিশ্বের কোন কীটনাশক সুস্বাদু যেটা সেই সাংবাদিক ভাইদের গিলাতে পারব।
আরে ভাই কীটনাশক তো বিষাক্তই হবে।নাহয় কীট পতঙ্গ মরবে কিভাবে?তাছাড়া গাছে যথাযথ মাত্রায় কীটনাশক দিয়ে ফলন বাড়ানো গেলে ক্ষতি টা কিসের?আপনি অসুস্থ হলে ঔষধ খান,আর গাছ অসুস্থ থেকে বাঁচতে পোকা মারতে পারেনা?
যাই হোক,যারা আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম কিনছেন তাদের প্রতি আমচাষী দের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই!!❤️
কিন্তু আপনাদের অনেকের কয়েকটা অভিযোগ আছে।
যেমনঃ আম টক,থেঁতলানো, কম মিস্টি।কেমন যেন এতোদূর থেকে নিয়ে যাওয়ার পর যেমন স্বাদ হওয়া উচিত তেমনটা না,তাই না?
এর সমাধান পেতে আপনাদের একটু সতর্ক হতে হবে।আম হাতে পাওয়া মাত্রই কেটে খেয়ে নিলে তো আম টকই থাকবে😁
আম যদি ঠিকমতো পাকার সুযোগ না দেন তবে সুক্রোজ উৎপন্ন হবেনা।তাই আম একটু টক হবেই।তাই প্রথম শর্ত হল আম ঠিকঠাক পাকাতে হবে।
আবার,
ভাই কুরিয়ারে আমের উঠানামা যদি একবার নিজ চোখে দেখেন তবে বুঝবেন আম যে আস্ত আছে এটাই অনেক😁
তারা একটু অযত্নেই আম উঠানামা করে।এখানে আমচাষী বা আম ব্যবসায়ীর কিছুই করার নাই।তাই মাঝেমধ্যে ২-১ টা আম থেঁতলে যাবেই।এটা যে মেনে নিতে হবে😊
আম সংরক্ষণ ও পাকানোর জন্য কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
তবেই কেবল আপনার আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম নেওয়া স্বার্থক মনে হবে।
প্রথমত,
ক্যারেট হাতে পাওয়ার পর প্রথমেই মোড়ক খুলে সরাসরি মেঝেতে রাখবেন না।মেঝেতে চট কিংবা মোটা করে পেপার বিছিয়ে তার উপর আমগুলো রাখুন।এরপর আম গুলো অন্য একটা চট দিয়ে ঢেকে দিন।
দ্বিতীয়ত,
আম পাকানোর জন্য উপাদান ইথিলিন মুলত একটা গ্যাসীয় পদার্থ।তাই আমের ভিতরে প্রাকৃতিক ভাবেই এই গ্যাস উৎপন্ন হওয়ার পর তা উড়ে যাওয়া ঠেকাতে আম ফ্যানের বাতাসের নিচে রাখা যাবেনা।এসি রুমে বা ফ্রিজেও আম রাখা যাবেনা।
সবচেয়ে ভাল হয় রান্নাঘরে বা খাটের নিচে আম রাখা।উপরে চট দিয়ে ঢেকে রাখলে উৎপন্ন ইথিলিন গ্যাস ভালভাবে আম পাকাতে পারবে।এতে আম সর্বচ্চো সুমিস্ট হবে।
তৃতীয়ত,
প্রতিদিন অন্তত একবার আমগুলো চেক করে দেখবেন।প্রয়োজনে দিনে ২ বার চেক করবেন।আম ভালমতো পাকলে তারপর সেগুলো খান।ভালভাবে না পাকলে মিস্টির পরিবর্তে সুক্রোজ উৎপাদন কম হয়ে টক লাগারও সম্ভাবনা রয়েছে।
একটা অফ টপিক কথা বলি,
প্রতি ১০ কেজি আমের ওজন ক্যারেটসহ ১১ কেজির কিছু বেশি হয়।
আবার আমের ওজন পাকার পর কিছুটা কমে যায়,এবং সেটা কেজিতে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত কমে থাকে।।(ইউটিউবে দেখে নিতে পারেন,এর পেছনের সায়েন্স সহ দেওয়া আছে)তাইএখানে বিভ্রান্ত হবেন না।ভাবিয়েন না আপনাকে আম কম দেওয়া হয়েছে 😁
আরেকটা কথা,
কিছু আজগুবি গুজবে কান দিবেন না।যেমন আমে ফরমালিন দেওয়া আছে,ইথিলিন দিয়ে পাকানো, ক্ষতিকর ক্যামিকেল দেওয়া ব্লা ব্লা ব্লা.......
১. ফরমালিন দেওয়ার প্রশ্ন ই আসেনা।কারন ফরমালিন দেওয়া হয় প্রোটিন জাতীয় খাদ্যে।আম প্রোটিন জাতীয় কিছু না।
২. ইথিলিন যদি দেওয়াই হয় তবে সেটা যথাযথ মাত্রায় দিলে ক্ষতির কোন কারন নাই।উদাহরণ স্বরুপ,ইইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বেশির ভাগ আম ইথিলিন দিয়েই পাকানো হয়।তারা আম পাকার স্টেজে আসার অন্তত ১৫ দিন আগেই পেড়ে নিয়ে ১% ইথিলিন যথাযথ মাত্রায় দিয়ে পাকায়।
৩. অযথা কেমিকাল দিতে যাওয়ার কোন দরকারই নাই।
আর হালকা উজ্জ্বল কালারের জন্য যদি দেওয়া হয়ই সেটা ভালভাবে আম ধুয়ে নিলেই উঠে যাবে।ভালভাবে ধুয়ে নিলেই এর সমাধান হয়ে যায়।
তাই বিভ্রান্ত হবেন না,নিশ্চিন্তে আম খান😀
বেশি বেশি ফল খান,শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান।
ভুয়া অনলাইন নিউজে কান না দিয়ে কৃষকদের দিকে সুনজর দিন।
কৃষক বাঁচলেই বাঁচবে দেশ❤️
কৃষিবিদ তোহিদুর রহমান
বিএসসি ইন এগ্রিকালচার,সিকৃবি
এম এস ইন প্ল্যান্ট প্যাথলজি,শেকৃবি।