02/12/2019
ছাদ বাগানের বিভিন্ন ফসলে গ্রীন সুপার গ্রোথের ব্যবহার বিধি।
গ্রীন সুপার গ্রোথ হলো উদ্ভিদের একটি বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক (Plant Growth Regulator, PGR)।এর মূল উপাদান 4-Cholorophenoxy Acetic Acid যা চীন থেকে আমদানীকৃত এবং এর সাথে কিছু ম্যাক্রো এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট ও বেনিফিসিয়ারী উপাদানের সংমিশ্রণে আমাদের দেশের বিভিন্ন ফসলের উপযোগী করে তৈরী করা হয়েছে। গ্রীন সুপার গ্রোথ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, আইএমপি নং-৬৩৯৪ । গ্রীন সুপার গ্রোথের নিয়মিত ব্যবহারে উদ্ভিদের শিকড়ের পুষ্টি আহরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, গাছের বাড় বাড়ন্ত তরান্বিত হয়, ফুল-ফল বেশী আসে, ফল এবং ফলের আকার বেশী বড় হয়, ফলের কালার ও মান বেশী ভালো হয়। গ্রীন সুপার গ্রোথ এর ব্যবহার মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি কর নয়।
ব্যবহারের নিয়মাবলীঃ-
গ্রীন সুপার গ্রোথ অতিরিক্ত পরিপূরক (Supplemental ) হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ মাটিতে যে সকল সার বা পুষ্টি উপাদান প্রদান করতে হয় তা করতে হবে। গ্রীন সুপার গ্রোথ খুব সকালে, শেষ বিকালে সন্ধ্যার আগে আগে বা রাত্রে স্প্রে করতে হবে । তীব্র রোদ্র বা বেশী বাতাসের সময় স্প্রে করা যাবে না। সঠিক বৃদ্ধির ও ফলনের জন্য ৭-১০ দিন পরপর নিয়মিত স্প্রে করতে হবে তবে সপ্তাহে দুই বা তিন দিন দিতে পারলে বেশী ভালো হবে । এই ক্ষেত্রে সকল উপাদানের ঘনত্ব আনুপাতিক হারে কমিয়ে নিতে হবে। গাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হলে কয়েক দিন বিরতি দিতে হবে। একবার পানিতে গুলানো গ্রীন সুপার গ্রোথ ব্যবহারের পরে কিছু থেকে গেলে তা গাছের গোড়ায় মাটিতে দিয়ে দিতে হবে । এর ফলে আরও ভালো কাজ পাওয়া যাবে । প্রতি লিটার পানিতে ১০ মিলি করে গ্রীন সুপার গ্রোথ মাঝে মাঝে গাছের গোড়ায় মাটিতে দিলে তা আরও ভালো কাজ করেবে। গ্রীন সুপার গ্রোথের দ্রবণ গাছের উপরে স্প্রে এমন ভাবে করতে হবে যেন সম্পূর্ণ পাতা ভিজে যাবে কিন্তু পানি গড়িয়ে পড়ে যাবে না। গাছ পাতা ছাড়াও, মূল, কান্ড, বাকল, ফুল এবং ফলের মাধ্যমেও গ্রীন সুপার গ্রোথের মধ্যস্থিত উপাদান শোষণ করতে পারে এজন্য গাছের সকল অংশেই প্রদান করা যাবে । যে সকল ফসলের উপরে ব্যবহার বিধির বিষয়টি উল্লেখ করা হলো তার বাইরে কোন ফসল থাকলে অভিজ্ঞতার আলোকে মাত্রা নির্ধারণ করে ব্যবহার করতে হবে। গ্রীন সুপার গ্রোথ এর সাথে ছত্রাকনাশক বা কীটনাশক ও ব্যবহার করা যাবে। প্রতি ১৫ থেকে ৩০ দিন অন্তর অন্তর গ্রীন সুপার গ্রোথের সাথে প্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৩ গ্রাম কুইক পটাশ বা সাধারণ পটাশ সার (মিউরেট অব পটাশ) মিশিয়ে ব্যবহার করলে ফলাফল বেশী ভালো পাওয়া শুধু গ্রীন সুপার গ্রোথ দ্রবণ ব্যবহারের পরপরই সব্জি ও ফল তোলা যাবে কারণ এতে কোন বিষাক্ত উপাদান নেই। তবে ভালোভাবে ধুয়ে ব্যবহার করা ভালো। In case of soil application 10 ml GSG mixed with 1 litter of water and then apply on root zone 7- 10 days intervals.
সংরক্ষণঃ-গ্রীন সুপার গ্রোথ ঘরের ছায়াতে শিশুদের নাগালের বাইরে সংরক্ষণ করতে হবে।
ব্যবহারবিধিঃ- ছাদ বাগানের বিভিন্ন ফসলে গ্রীন সুপার গ্রোথ কি ভাবে ব্যবহার করলে সবচাইতে বেশী ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে তা নীচে উপস্থাপন করা হলো। গ্রীন সুপার গ্রোথের কৌশলগত
বিভিন্ন ধরণের পাতা জাতীয় শাকঃ- লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, মূলাশাক, ্যবহারকে গ্রীন সুপার গ্রোথ প্রযুক্তি বা জিএসজি টকনোলজি হিসাবে অবহিত করা হয়েছে পাটশাক, ডাটাশাক, বাটিশাক, লেটুস, ধনিয়াপাতা, পুদিনাপাতা ইত্যাদিতে প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলি গ্রীন সুপার গ্রোথ যেহেতু শাক ফসলটি খুব অল্প সময়ের ফসল এজন্য এই মাত্রায় ৭ দিনের পরিবর্তে ৫ দিন পরপরও ব্যবহার করা যেতে পারে। আর যদি মাত্রা কমিয়ে প্রতিদিন দেওয়া যায় তবে আরও ভালো কাজ করবে।
বিভিন্ন সব্জি ( ফুল থেকে ফল হয়) যেমন, বেগুন, ঢেঁড়স, বরবটি, করলা, শশা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা কাঁকড়ল, চলকুমড়া, লাউ, মিষ্টিকুমড়া প্রভুতিঃ- প্রতি লিটর পানিতে ৩ মিলি গ্রীন সুপার মিশিয়ে ফসেলের অবস্থা দেখে ৭-১০ দিন পরপর ব্যবহার করতে হবে।
টমেটো, মরিচ, আলুঃ প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলি গ্রীন সুপার গ্রোথ মিশিয়ে ফসলের অবস্থা দেখে ৭-১০ দিন পরপর নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি- প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলি গ্রীন সুপার গ্রোথ মিশিয়ে চারা রোপণের ৭ দিন পর থেকে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। আগাম ফুল কপি এবং বাঁধা কপিতে খুব ভালো ফল হবে।
লেবু, কমলা ,মাল্টা, পেয়ারা, সফেদা, ডালিম, জলপাই, পেঁপে, কলা, ড্রাগণ ফ্রুট, পারসিমনঃ- -প্রতি লিটার পানিতে ৫-৭ মিলি গ্রীন সুপার গ্রোথ, মিশিয়ে ৭-১৫ দিন পরপর ব্যবহার করতে হবে। পেঁপের উপরে ব্যবহারের সময় একমাস পরপর প্রতিলিটার পানিতে এক গ্রাম হারে সলুবর বোরণ সার ব্যবহার করলে অধিক ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। সলুবর বোরণ সকল ফলের উপরেই ব্যবহার করা যায় এতে আরও অধিক ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
আমের উপরে ব্যবহারঃ আম গাছের বৃদ্ধির জন্য সারা বছর ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে আম হারভেষ্ট করার পর থেকেই ব্যবহার শুরু করতে হবে। এর ফলে গাছের বৃদ্ধি অনেক ভালো হবে। ছাদ বাগানের আম গাছে ব্যবহারের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ৫-১০ মিলি গ্রীন সুপার গ্রোথ ১০-১৫ দিন পরপর নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। মুকুল আসার আগ মুহুর্তে স্প্রে করা যাবেনা। মুকুল আসার পর কিন্তু ফুল ফোটার আগে একবার স্প্রে করতে হবে। এরপর আম মার্বেল এর মত হলে তারপর উপরের নিয়মে ১০ দিন পরপর ব্যবহার করতে হবে।
লেবু, পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন ফ্রুট, লটকন, পারসিমন, জামরুল ইত্যাদিঃ- প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলি গ্রীন সুপার গ্রোথ এবং সাথে ৫ গ্রাম ইউরিয়া ও ৩ গ্রাম কুইক পটাশ সার মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পরপর নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।
লিচুর উপর ব্যবহারঃ- প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি গ্রীন সুপার গ্রোথ ও ০.৫ (অর্ধেক ) গ্রাম সলুবর বোরণ এবং চিলেটেড দস্তা মিশিয়ে লিচু মটর দানার মত হবার পর থেকে ১০ দিন পরপর নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।
ঘরের বিভিন্ন ইনডোর প্লান্টঃ- প্রতি লিটার পানিতে শুধুমাত্র ৫মিলি গ্রীন সুপার গ্রোথ মিশিয়ে ৭-১০ দিন পরপর নিয়মিত স্প্রের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে। ইনডোর প্লান্ট সপ্তাহে একদিন রোদ্রে দিতে হবে।
গোলাপ, ডালিয়া, জবা, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা, গ্ল্যাডিউলাস, রজনীগন্ধ্যা, হাসনাহেনা,গন্ধরাজ, জারবেরা, এলামন্ডা, মুসান্ড, ইত্যাদি ফুলঃ প্রতি লিটার পানিতে ৩-৫ মিলি গ্রীন সুপার গ্রোথ মিশিয়ে ৭-১০ দিন পরপর নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।
বেলীফুল ও হাইব্রীড আতা ফল- প্রতি লিটার পানিতে শুধুমাত্র ৩ মিলি গ্রীন সুপার গ্রোথ মিশিয়ে ৭-১০ দিন পরপর ব্যবহার করতে হবে। বৃদ্ধি ভালো হয়ে গেলে কিছু দিন বিরতি দিতে হবে।
অরকিডের উপরে ব্যবহারঃ-অরকিডের বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। এগুলোর সব প্রজাতির উপরেই গ্রীন সুপার গ্রোথ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। গ্রীন সুপার গ্রোথ ব্যবহারে দ্রুত নতুন চারা (কেকি) আসে, অরকিডের বৃদ্ধি ভালো হয়, পাতার কালার বেশী সবুজ হয়, শিকড়ের বৃদ্ধি ভালো হয়, দ্রুতফুল আসে, স্পাইকে ফুলের সংখ্যা বেশী হয় ও ফুল বেশী দীর্ঘস্থায়ী হয়। অরকিডের কিছু রোগবালাইও কম হয় ফলে অরকিড কম মারা যায়। রিপট করার পরপর প্রতি দিন ব্যবহারে অধিক ভালো ফল পাওয়া যায়। অরকিডের উপরে গ্রীন সুপার গ্রোথের ব্যবহারবিধি নীচে উল্লেখ করা হলো।
ক) অরকিডের উপরে ব্যবহারের সময় যদি সম্ভব হয় তবে প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি গ্রীনসুপার গ্রোথ মিশিয়ে প্রতিদিন একবার করে স্প্রে করতে হবে। অথবা
খ) প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি গ্রীনসুপার গ্রোথ মিশিয়ে একদিন পরপর একবার করে স্প্রে করতে হবে। অথবা
গ) প্রতি লিটার পানিতে ৩ মিলি গ্রীনসুপার গ্রোথ মিশিয়ে তিন/চার দিন পরপর স্প্রে করতে হবে। অথবা
ঘ) প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলি গ্রীনসুপা র গ্রোথ মিশিয়ে পাঁচ বা সাত দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।
তবে অরকিডের বৃদ্ধি বেশী করতে চাইলে মাসে একবার গ্রীন সুপার গ্রোথের সাথে প্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৩ গ্রাম কুইক পটাশ সার দিতে হবে। এসময়ে একটি ছত্রাকনাশক মিশিয়ে দিলে আরও বেশী ভালো হবে।
বিভিন্ন ধরণের সাকুলেন্ট ও ক্যাকটাসঃ-প্রতি লিটার পানিতে ৩-৫ মিলি গ্রীন সুপার গ্রোথ মিশিয়ে ৭-১০ দিন পরপর নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।
এ্যাডেনিয়াম বা মরু গোলাপঃ-প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলি হারে গ্রীন সুপার গ্রোথ মিশিয়ে ৭ দিন পরপর গাছের কান্ড এবং পাতায় নিয়মিত স্প্রে করতে হবে। ফুল অবস্থাতে দিলে ফুলের উপরে যেন বেশী দ্রবণ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এই বিষয়টা সকল ফুলের জন্যই প্রযোজ্য হবে।
বীজ বপণের আগে ব্যবহারঃ যে সকল বীজ পানিতে ভিজিয়ে বপন করতে হয় (যেমন ধনিয়া, পালং শাক, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শশা, চাল কুমড়া, ঝিঙ্গা,চিচিঙ্গা ইত্যাদি সেগুলো ভিজানোর সময় প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলি গ্রীন সুপার গ্রোথ মিশিয়ে তার মধ্যে ১২-১৪ ঘন্টা বীজ ভিজিয়ে তার পরে ছায়াতে শুকিয়ে বপন করতে হবে।
একমাত্র উৎপাদনকারী এবং পরিবেশকঃ- ন্যাশনাল সীডস এন্ড এগ্রো কেমিক্যাল, সেক্টর নং-২. হাউস নং ৩৮৫ .থানা বোয়ালিয়া, উপ-শহর, রাজশাহী।