31/08/2024
স্বৈরাচার হাসিনার দোসর ও সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের অপরাজনীতির প্রবর্তক ও পৃষ্ঠপোষক, দুর্নীতিবাজ ড. মুহাম্মদ আলমগীরের ইউজিসির চেয়ারম্যান পদসহ সকল কার্যক্রম থেকে অপসারণ ও বিচার চাই।
ড. মুহাম্মদ আলমগীর তৎকালীন ভিসি ড. নওশের আলী মোড়লকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় ভিসির বাসভবনের সামনে মাইকিংসহ নানানভাবে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মেয়াদ সম্পন্ন হওয়ার আগেই পদত্যাগে বাধ্য করেন। অতঃপর তিনি ২০১০ ইং সাল থেকে ২০১৮ ইং সাল পর্যন্ত ২ মেয়াদে ৮ বছর কুয়েটের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে কুয়েটের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। ক্যাম্পাসকে নোংরা রাজনীতি ও সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়। তার দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি কুয়েটে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিতে থাকেন। তার পৃষ্ঠপোশকতায় ছাত্রলীগ কুয়েট ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। হলের সিট বাণিজ্য, ডাইনিং হলের খাবার বানিজ্য, টর্চার সেল গঠন, রেগিং, টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য, শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য, সাধারণ ছাত্র, এমনকি শিক্ষক কর্মচারীদের বহিরাগত ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন ও মারধর, তার ইন্ধনে ছাত্র কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে দুজন শিক্ষকের মৃত্যু, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা আন্দোলনের বিরোধিতা ও আন্দোলন দমনের চক্রান্ত ইত্যাদি অপকর্মের সাথে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তার স্বেচ্ছাচারী, অনৈতিক ও অপকর্মের কিছু বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো:
ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন ও রেগিং : ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই তার মদদে প্রতিটি হলে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করা হয়। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে বিভিন্ন হলের ভিন্ন মতাবলম্বী ও সাধারণ ছাত্রদের বিভিন্ন কায়দায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তাদের নির্যাতনে অনেকেই হল থেকে বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়। অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে। অনেকের প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন অন্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়।
হলে হলে গেস্ট রুম টর্চার সেল গঠন: তার ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালিন সময়ে কুয়েটের প্রতিটি হলে গেস্ট রুম টর্চার সেল নীতি চালু করা হয় অর্থাৎ প্রতিটি গেস্ট রুমকে টর্চার সেলে পরিণত করা হয়। ভিন্ন মতের, এমনকি সাধারণ ছাত্রদেরও ধরে এনে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তিনি শুধু সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয়ই দেননি, মদদ দিয়েছেন, উৎসায়িত করেছেন এবং সময়ে সময়ে পুরস্কৃত করেছেন।
ছাত্রী নির্যাতন ও লাঞ্ছনা: তার আশ্রয় প্রশ্রয়ে গঠিত ও লালিত পালিত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী কর্তৃক ইভটিজিং বা ছাত্রী নির্যাতন ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। তার প্রশ্রয়ে ছাত্রী নির্যাতনের বিচার নীরবে নিভৃতে কেঁদেছে। সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ কর্তৃক লাইব্রেরীতেও ছাত্রী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। তার প্রশ্রয়ে ও ছত্রছায়ায় এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তি প্রদানের বিষয়ে গড়িমসি করা এবং প্রহসনের নাটক সাজিয়ে অপরাধীদের রেহাই বা নিষ্কৃতি দেয়া ছিল অতি স্বাভাবিক ঘটনা।
টেন্ডার ও কমিশন বানিজ্য: তার সময় থেকে কুয়েটে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য শুরু হয়। তিনি বহিরাগত ও ছাত্রলীগের নেতাদের সহযোগিতায় কুয়েটকে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্যের আস্তানায় পরিণত করেন। প্লানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনে নিজস্ব জনবল নিয়োগ প্রদান এবং তাদেরকে হাতে রেখে ও অংশীদারিত্বের সুবিধা দিয়ে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেন। তার কর্মকান্ড ছিল " যত বেশি বাজেট-প্রজেক্ট তত বেশি লাভ।"
শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ বানিজ্য: মেধা নয়, তার পছন্দ, অর্থনৈতিক লেনদেন ও ছাত্রলীগের সার্টিফিকেটই ছিল শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের মূল ভিত্তি। যোগ্যতার মাপকাঠিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও বিধি বহির্ভূতভাবে তিনি অনেক শিক্ষক কর্মচারীকে নিয়োগ প্রদান করেন। এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সহযোগিতায় তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
মদ জুয়ার আড্ডাখানা: তার ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পূর্বে কুয়েটে কখনো মদ জুয়ার কথা চিন্তাই করা যেত না কিন্তু তার সময়ে এই অনৈতিক কাজকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেয়া হয়। এমনকি অতিরিক্ত মদ্যপান করে ছাত্রলীগ সভাপতির মৃত্যুবরনের পর শিক্ষক ও সাধারণ ছাত্রদের বিরোধীতা সত্ত্বেও ঐ ছাত্রের স্মৃতি রক্ষার্থে ক্যাম্পাসে স্মৃতি ফলক তৈরি করা হয়।
শিক্ষক-কর্মচারী নির্যাতন ও শিক্ষকের মৃত্যু: তার সময়ে তার প্রত্যক্ষ মদদে ও যোগসাজশে বহু শিক্ষক ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের দ্বারা অসম্মান, অপমান, নির্যাতন ও মারধরের শিকার হয়। তার পরিচালনায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ড. আরিফ এবং ড. সেলিমের মতো শিক্ষককে অকালে মৃত্যুবরণ করতে হয়। কোন ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি বা হতে দেয়া হয়নি। তার উস্কানি ও প্রশ্রয়ে সাধারণ কর্মচারীরাও নির্যাতন ও মারধরের শিকার হয়েছে। যা কুয়েট ক্যাম্পাসকে প্রতিনিয়ত কলঙ্কিত ও কলুষিত করেছে।
কয়েকবার কুয়েট ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা: তার সময়ে বহিরাগত ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের নিপীড়ন, নির্যাতনে অতিষ্ঠ সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে তুললে ক্যাম্পাস অশান্ত ও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকবার কুয়েট ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনের বিরোধিতা: তিনি প্রতিনিয়ত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন এবং আন্দোলন দমনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তারই ইন্ধন ও ষড়যন্ত্রের নীল নকশায় খুলনায় বহু আন্দোলনকারী ছাত্র জনতা ছাত্রলীগ, যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছে এবং আহত হয়েছে।
ইউজিসির সদস্য হিসেবে অনিয়ম ও দুর্নীতি: ইউজিসি'র সদস্য হিসেবেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ, পদোন্নতি, তদারকি, পরিদর্শন, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা, পরীক্ষার ফলাফলের স্বচ্ছতা বিধান, সার্টিফিকেট ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্পের তহবিল ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা, পক্ষপাতিত্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
উপরে উল্লেখিত দুর্নীতি, অপকর্ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারিগর দলকানা, পাছাটা, কুয়েটে অপরাজনীতির প্রবর্তক ও ধারক বাহক ড. মুহাম্মদ আলমগীরকে বর্তমানে ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যাহা অনাকাঙ্ক্ষিত। তার এই নিয়োগ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা আন্দোলনে হাজারো শহীদ এবং হাজার হাজার পঙ্গুত্ব বরণকারী ছাত্র জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে শুধু প্রশ্নবিদ্ধই করছে না, অসম্মান ও কলঙ্কিত করছে বলেই আমরা মনে করি। তাই অনতিবিলম্বে অপরাজনীতির প্রবর্তক, স্বেচ্ছাচারী, দুর্নীতিবাজ, স্বৈরাচারের দোসর ও তল্পিবাহক, দলকানা ড. মুহাম্মদ আলমগীরকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে এবং দেশ ও জাতির প্রয়োজনে ইউজিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বসহ সকল কার্যক্রম থেকে অপসারণ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
নিবেদক-
বৈষম্য বিরোধী প্রকৌশলী সমাজ।