Kosturi - The Explorer

Kosturi - The Explorer FireCrackers. Life is a mysterious journey, and I savor every moment—through thoughts or cooking. What I love, I don’t just see—I feel, share, and keep it alive.

I don’t just create content; I tell stories that stay with you, touch you, and make you feel.

বাংলাদেশে কোনো আলোচিত মানুষের ব্যক্তিগত জীবন কখনোই শুধু ব্যক্তিগত থাকে না। বিশেষ করে যদি সেই মানুষটি একজন ক্রিকেটার হন, ...
18/05/2026

বাংলাদেশে কোনো আলোচিত মানুষের ব্যক্তিগত জীবন কখনোই শুধু ব্যক্তিগত থাকে না। বিশেষ করে যদি সেই মানুষটি একজন ক্রিকেটার হন, একজন পরিচিত মুখ হন, তাহলে তার সম্পর্ক, বিয়ে, বিচ্ছেদ, সন্তান—সবকিছুই জনমানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে যায়। নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা এবং রাকিব হাসানকে ঘিরে যে ঘটনাগুলো বছরের পর বছর ধরে আলোচনা হয়েছে, সেটাও ঠিক তেমনই এক গল্প। এই গল্পে প্রেম আছে, বিচ্ছেদ আছে, আইন আছে, সামাজিক বিচার আছে, আবার একটা ছোট্ট শিশুর নীরব কষ্টও আছে।

মানুষ সাধারণত কোনো ঘটনার এক পাশ দেখে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। কেউ তামিমাকে দোষী ভাবে, কেউ নাসিরকে, কেউ আবার রাকিবের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সম্পর্কের ভেতরের সত্য শুধুমাত্র সেই মানুষগুলোই পুরোপুরি জানে, যারা সেই সম্পর্কের মধ্যে ছিল।

তামিমা সুলতানার আগের সংসার ছিল রাকিব হাসানের সঙ্গে। তাদের একটি কন্যাসন্তানও ছিল। পরে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং জাতীয় ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর থেকে পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে আলোচিত হতে থাকে, যেন এটা শুধুই মানুষের বিচার করার বিষয়।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে রাকিব হাসানের বিষয়টি। অনেক মানুষ তাকে “ত্যাগী বাবা” হিসেবে দেখেন। বলা হয়, তামিমা নতুন জীবন শুরু করলেও রাকিব আর বিয়ে করেননি। নিজের মেয়েকে নিয়েই জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন। এই জায়গাটা মানুষকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। কারণ আমাদের সমাজে এখনও একটা ধারণা প্রচলিত—পুরুষেরা নাকি মা ছাড়া সন্তানকে ঠিকভাবে বড় করতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে অনেক বাবাই আছেন, যারা একা হাতে সন্তানের দায়িত্ব পালন করেন, সন্তানের জন্য নিজের ব্যক্তিগত জীবনকেও পেছনে ফেলে দেন।

রাকিবকে নিয়েও অনেকেই সেই দৃষ্টিতেই দেখেন। একজন বাবা হিসেবে মেয়েকে আগলে রাখার বিষয়টি অবশ্যই সম্মানের। কারণ সন্তান বড় করা শুধু অর্থনৈতিক দায়িত্ব না, এটা মানসিক দায়িত্বও। একটি শিশু যখন বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের মধ্যে বড় হয়, তখন সে সবচেয়ে বেশি চায়—কেউ যেন তাকে একা না ফেলে।

এখানে রাকিবের প্রতি মানুষের সহানুভূতি কাজ করাটা খুব স্বাভাবিক। কারণ মানুষ একজন বাবাকে দেখছে, যিনি মেয়েকে নিয়ে জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই দৃশ্য আবেগ তৈরি করে।

কিন্তু একইসাথে আরেকটা বাস্তবতাও আছে।
তামিমা সুলতানা এখন নাসির হোসেনের সঙ্গে সংসার করছেন। তাদের একটি পুত্রসন্তানও আছে। বাইরে থেকে দেখলে তাদের সংসারটাও একটি বাস্তব পরিবার। সেখানে ভালোবাসা থাকতে পারে, বোঝাপড়া থাকতে পারে, পারস্পরিক সম্মানও থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজ অনেক সময় দ্বিতীয় সংসারকে “বৈধ সুখ” হিসেবে দেখতে চায় না, বিশেষ করে যখন সেই নারীর আগের সংসার ছিল।

এখানেই সবচেয়ে বড় সামাজিক দ্বন্দ্বটা তৈরি হয়।
একজন নারী যদি নতুন জীবন শুরু করেন, মানুষ খুব সহজে তাকে ক্ষমা করতে চায় না। তার অতীত বারবার সামনে আনা হয়। তার মা হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তাকে এমনভাবে বিচার করা হয়, যেন একজন নারী ভুল করলে তার আর দ্বিতীয়বার সুখী হওয়ার অধিকার নেই।

আবার অন্যদিকে, অনেকেই মনে করেন পুরো ঘটনাটিকে “পরকীয়া” বলা ঠিক না। কারণ পরকীয়া সাধারণত গোপনে চলে। এখানে বিষয়টি প্রকাশ্য বিয়ে পর্যন্ত গিয়েছে, সংসার হয়েছে, সন্তান হয়েছে। মূল বিতর্কটা ছিল আইনি এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে—ডিভোর্সের পর নির্ধারিত সময় বা ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়েছে কিনা, সেই জায়গা নিয়ে।

এই বিষয়টি আদালতের বিষয়। আইন যদি কোনো ভুল দেখে, তাহলে তার বিচার আইনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের সমাজে আইনগত বিচার শুরুর আগেই সামাজিক বিচার শুরু হয়ে যায়। মানুষ এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যেন তারা প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনার ক্ষতিগ্রস্ত।

এখানে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট—মানুষের আবেগ অনেক সময় ন্যায়বিচারের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। কেউ রাকিবের কষ্ট দেখে তামিমাকে ঘৃণা করে। কেউ আবার তামিমার নতুন সংসারকে সমর্থন করে। কেউ নাসিরকে দোষ দেয়, কেউ তাকে “ভালোবাসার জন্য লড়াই করা মানুষ” ভাবে।

কিন্তু সত্যি বলতে, সম্পর্কের গল্পগুলো এত সাদা-কালো না।
একটা সম্পর্ক ভাঙলে সেখানে একজন মানুষই শুধু কষ্ট পায় না। তিনজন, চারজন, কখনও পুরো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে সন্তান থাকলে বিষয়টা আরও জটিল হয়ে যায়।

একটা শিশু কখনও চায় না তার পরিবার ভেঙে যাক। সে শুধু চায় মা-বাবা দুজনকেই কাছে পেতে। কিন্তু বড়দের সিদ্ধান্তের বোঝা অনেক সময় সেই ছোট্ট শিশুটিকেই বহন করতে হয়।

তাই এই গল্পে সবচেয়ে নীরব চরিত্র সম্ভবত সেই কন্যাসন্তানটি।
সে হয়তো বড় হয়ে একদিন সবকিছু বুঝবে। বুঝবে তার মা নতুন জীবন শুরু করেছেন, তার বাবা তাকে নিয়ে থেকেছেন, সমাজ তাদের নিয়ে বিচার করেছে। কিন্তু একটা শিশুর ভেতরের শূন্যতা বাইরের কেউ পুরোপুরি বুঝতে পারে না।

আমার ব্যক্তিগতভাবে সবসময় মনে হয়েছে, একটা ভুলের শাস্তি যদি পুরো জীবনের একটা সংসার ধ্বংস হয়ে যাওয়া হয়, তাহলে সেখানে শুধু আইন না, অনেকগুলো জীবনের মানসিক শান্তিও জড়িয়ে যায়।

আমি ব্যক্তিগতভাবে নাসির ও তামিমার একটা সুন্দর সংসারই দেখতে চেয়েছি। কারণ যা হওয়ার, তা তো হয়েই গেছে। যদি আইন কোনো ভুল খুঁজে পায়, আদালত তার বিচার করবে। কিন্তু তাই বলে প্রতিদিন প্রকাশ্যে অপমান, ঘৃণা, সামাজিক লাঞ্ছনা—এসব কি শেষ পর্যন্ত কাউকে ভালো রাখে?

আমাদের সমাজে একটা অদ্ভুত প্রবণতা আছে—মানুষ অন্যের সম্পর্ক ভাঙতে দেখতে অনেক সময় গোপনে আনন্দ পায়। বিশেষ করে কোনো আলোচিত মানুষ হলে তো কথাই নেই। তখন মানুষ অপেক্ষা করে—কখন তাদের সংসারে সমস্যা হবে, কখন বিচ্ছেদ হবে, কখন তারা ভেঙে পড়বে।

কিন্তু একটা পরিবার ভেঙে যাওয়া কখনো বিনোদন না।
হ্যাঁ, ভুল হয়ে থাকতে পারে। হ্যাঁ, বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু একটা পরিবারে যদি এখন বোঝাপড়া থাকে, সন্তান থাকে, দায়িত্ববোধ থাকে—তাহলে সেই পরিবারটাকে টিকিয়ে রাখাও একটা মানবিক দিক।

অনেকে হয়তো হিংসা থেকেও বিষয়টিকে মেনে নিতে পারেন না। কারণ আমাদের সমাজে এখনও একজন অবিবাহিত পুরুষ যদি একজন বিবাহবিচ্ছিন্ন নারীকে গ্রহণ করে, তাকে সম্মান দেয়, তাকে পরিচয় দেয়—সেটা অনেকের কাছে অস্বস্তিকর লাগে। যদি নাসির কোনো অবিবাহিত মেয়েকে বিয়ে করতেন, তাহলে হয়তো এত আলোচনা হতো না। কিন্তু একজন সন্তানের মা, একজন আলোচিত নারীর পাশে দাঁড়ানোকে সমাজ সহজভাবে নেয়নি।

আবার এটাও সত্য, রাকিব হাসানের প্রতি মানুষের আবেগও অস্বাভাবিক না। কারণ একজন বাবার সন্তানের জন্য নিজের জীবন গুছিয়ে নেওয়ার গল্প মানুষকে ছুঁয়ে যায়।তাই এখানে কেউ পুরোপুরি নায়ক না, কেউ পুরোপুরি খলনায়কও না।এখানে আছে ভাঙা সম্পর্ক, নতুন সম্পর্ক, সামাজিক বিচার, মানসিক ক্ষত, সন্তানের ভবিষ্যৎ আর মানুষের সীমাবদ্ধতা।

দিনশেষে আমার শুধু একটা কথাই মনে হয়—সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সবসময় প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে বড় মানসিকতার পরিচয় দেয়। আর কোনো সম্পর্কের বিচার করতে গেলে আমাদের একটু বেশি মানবিক হওয়া উচিত। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাদের নিয়ে আমরা আলোচনা করি, তারাও বাস্তব মানুষ। তাদেরও কষ্ট হয়, ভয় হয়, তারা ভুলও করে, আবার নতুনভাবে বাঁচার চেষ্টাও করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন আশীর্বাদও, আবার অভিশাপও। বিশেষ করে আলোচিত মানুষদের জন্য। নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা কিংবা রাকিব হাসানের মতো মানুষদের ক্ষেত্রে একটা বিষয় খুব পরিষ্কার—তাদের ব্যক্তিগত জীবন আর পুরোপুরি ব্যক্তিগত নেই। মানুষ তাদের জীবন নিয়ে মতামত দিবে, বিচার করবে, সমালোচনা করবে, সহানুভূতি দেখাবে, আবার অপমানও করবে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তারা নিজেরা কীভাবে বিষয়গুলো সামলাচ্ছেন।

আমার মনে হয়, সবার আগে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “প্রমাণ করার যুদ্ধ” বন্ধ করা দরকার। কারণ মানুষকে খুশি করার শেষ নেই। আজকে আপনি ব্যাখ্যা দিলেন, কাল মানুষ নতুন প্রশ্ন তুলবে। আজকে আপনি নিজের সুখের ছবি দিলেন, মানুষ বলবে অভিনয়। কষ্টের কথা বললে বলবে নাটক। তাই সবকিছুর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে গেলে মানসিক শান্তি শেষ হয়ে যায়।

নাসির ও তামিমার সবচেয়ে বড় করণীয় হওয়া উচিত তাদের বর্তমান পরিবারটাকে সম্মানের সাথে গুছিয়ে রাখা। যদি তারা সত্যিই সুখী থাকে, তাহলে সেই সুখকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত দেখানোর চেয়ে বাস্তবে টিকিয়ে রাখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সম্পর্কের শক্তি ছবিতে না, বাস্তব আচরণে বোঝা যায়। তাদের উচিত নিজেদের সন্তানদের মানসিক নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। ভবিষ্যতে এই সন্তানরাই একদিন বড় হয়ে সবকিছু পড়বে, দেখবে, বুঝবে। তাই অনলাইনে কাউকে ছোট করা, পাল্টা আক্রমণ করা, পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলা—এসব শেষ পর্যন্ত সন্তানদের মনেও প্রভাব ফেলে।

তামিমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিজের অতীত নিয়ে অতিরিক্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের পথে না যাওয়া। মানুষ যদি কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলে, তাহলে শত ব্যাখ্যাতেও তারা বদলাবে না। বরং শান্ত, সংযত এবং দায়িত্বশীল আচরণ অনেক সময় সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর হয়। একজন মা হিসেবে যদি তিনি তার আগের কন্যাসন্তানের প্রতিও সম্মান ও দায়িত্ববোধ দেখান, সেটাই মানুষের কাছে সবচেয়ে ইতিবাচক বার্তা হবে। কারণ মানুষ ভুলে যায় না, কিন্তু মানুষ পরিবর্তনও দেখতে চায়।

নাসিরের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। একজন পুরুষ হিসেবে তিনি যদি তার স্ত্রীকে সম্মান দেন, সংসারকে স্থির রাখেন এবং দায়িত্বশীল স্বামী ও বাবা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন, তাহলে সময়ের সাথে অনেক সমালোচনাই কমে যাবে। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানুষের মন খুব অস্থির—আজ যে বিষয় নিয়ে ঝড়, কিছুদিন পর সেটাই মানুষ ভুলে যায়। কিন্তু একজন মানুষের ব্যবহার, ধৈর্য আর দায়িত্ববোধ দীর্ঘসময় মনে থাকে।

আর রাকিব হাসানের জন্য সবচেয়ে বড় করণীয় হলো—নিজেকে “শুধু ত্যাগী এক্স-হাজবেন্ড” পরিচয়ের মধ্যে আটকে না ফেলা। একজন বাবা হিসেবে মেয়েকে বড় করা অবশ্যই সম্মানের।

নিজেকে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া সবসময় মহৎ ত্যাগ না, কখনও কখনও সেটা নিজের প্রতি অবিচারও হয়ে যেতে পারে। তারও ব্যক্তিগত সুখ, মানসিক শান্তি, নতুনভাবে জীবন গুছানোর অধিকার আছে। সমাজ অনেক সময় একজন কষ্ট পাওয়া মানুষকে “চিরকালের কষ্টের প্রতীক” বানিয়ে রাখতে ভালোবাসে। কিন্তু বাস্তবে মানুষকে বাঁচতে হয় সামনে তাকিয়ে।

আমার মনে হয়, এই তিনজন মানুষেরই সবচেয়ে বড় করণীয় হলো—নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয়কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম টেনে আনা। কারণ মানুষ যত বেশি ব্যক্তিগত জীবন দেখবে, তত বেশি মতামত দিবে। সব অনুভূতি, সব সম্পর্ক, সব ব্যথা অনলাইনে প্রমাণ করতে হয় না।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুদ্ধ থেকে দূরে রাখা। বড়দের সম্পর্কের জটিলতা শিশুদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। কোনো ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট, স্ট্যাটাস, ভিডিও বা পরোক্ষ আক্রমণ শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে সন্তানদেরই।

সময় অনেক কিছুর উত্তর দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তর্কে কেউ শেষ পর্যন্ত জেতে না। মানুষ কিছুদিন আলোচনা করে, বিচার করে, তারপর নতুন বিষয়ে চলে যায়। কিন্তু যাদের জীবন, তাদের সেই বাস্তবতাটুকু নিয়েই বেঁচে থাকতে হয়। তাই তাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হওয়া উচিত শান্তি খোঁজা, প্রতিশোধ না; দায়িত্ব নেওয়া, নাটক না; আর বাস্তব সম্পর্কগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা, মানুষের মন্তব্যকে নয়।

©️Kosturi.

আমরা সাধারণত ভালোবাসাকে খুব বড় কিছু দিয়ে মাপতে শিখেছি। কে কাকে কত দামি উপহার দিল, কে কত ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেল, ...
17/05/2026

আমরা সাধারণত ভালোবাসাকে খুব বড় কিছু দিয়ে মাপতে শিখেছি। কে কাকে কত দামি উপহার দিল, কে কত ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেল, কে বিশেষ দিনে কী চমক দিল—এসব দিয়েই যেন সম্পর্কের গভীরতা বিচার করা হয়। অথচ বাস্তব জীবনে সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে নিরাপদ এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসাগুলো অনেক সময় খুব ছোট ছোট আচরণের ভেতরে লুকিয়ে থাকে। এমন কিছু সাধারণ কথা, যেগুলো বাইরে থেকে খুব সাধারণ মনে হলেও একজন মানুষের মনকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়।

আমার স্বামীর অনেক ভালো দিকের মধ্যে একটা দিক আমি সবসময় খুব খেয়াল করি—সে আমাকে খুব কম “না” বলে। সত্যি বলতে আমি মনে করতে পারি না, কোনো কিছুর জন্য সে আমাকে রূঢ়ভাবে “না” বলেছে কিনা। আমি যদি বলি, “এটা নিবো?” সে বলে, “নাও।” আমি যদি বলি, “ওটা খাবো?” সে বলে, “খাও।” আমি যদি বলি, “ওখানে যাবো?” সে খুব স্বাভাবিকভাবেই বলে, “চলো।”

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, যেটা হয়তো বাস্তবে সম্ভব না, সেটাতেও সে প্রথমে আমাকে থামায় না। বরং আগে আমার আগ্রহটাকে নষ্ট না করে পরে খুব শান্তভাবে বুঝিয়ে বলে—“আসলে এটা করলে হয়তো এই সমস্যাটা হতে পারে, তাই মনে হয় না করাটাই ভালো হবে। তুমি কী বলো?”

এই “তুমি কী বলো?” কথাটার মধ্যে যে সম্মান আছে, সেটা আমি খুব গভীরভাবে অনুভব করি। কারণ এখানে জোর নেই, কর্তৃত্ব নেই, ছোট করে দেওয়া নেই। এখানে দুজন মানুষের সমান গুরুত্ব আছে। আমার মতামতকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। আর একজন নারীর জন্য এই অনুভূতিটা ভীষণ শান্তির।

কারণ আমাদের সমাজে বেশিরভাগ মেয়েই এমন পরিবেশে বড় হয়, যেখানে তাদের সিদ্ধান্তকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ছোটবেলা থেকেই তারা শুনতে শুনতে বড় হয়—“এটা লাগবে না”, “এত শখ ভালো না”, “মেয়েদের এত চাহিদা থাকতে নেই”, “যেটা আছে সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে শেখো।” ফলে অনেক মেয়েই ধীরে ধীরে নিজের ছোট ছোট ইচ্ছাগুলোকে চেপে রাখতে শিখে যায়। তারা কিছু চাইতে গেলেও আগে অপরাধবোধে ভোগে। মনে মনে ভাবে—“এটা চাওয়া কি বেশি হয়ে যাচ্ছে?” “আমি কি অযথা আচরণ করছি?” “আমার কি এটা চাওয়া উচিত?”

তাই যখন কোনো সম্পর্কে একজন মানুষ আপনার আনন্দটাকে গুরুত্ব দেয়, আপনার আগ্রহকে তুচ্ছ না করে বরং স্বাভাবিকভাবে জায়গা দেয়, তখন সেটা খুব অন্যরকম শান্তি দেয়।

গতকাল ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে ব্যাপারটা আবার খুব অনুভব করলাম। আমরা Sailor এ গিয়েছিলাম। সবকিছুতেই ছাড় চলছিল। আমি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ঘুরলাম। একটার পর একটা পোশাক পরে দেখলাম। পাঁচটা পরে দেখার পর অবশেষে একটা পছন্দ হলো। পুরো সময়টাতে সে একবারও বিরক্ত হয়নি। একবারও বলেনি—“এখনো ঠিক করতে পারলে না?” কিংবা “এত সময় কেন লাগছে?” বরং খুব ধৈর্য নিয়ে পাশে ছিল।

এরপর আমরা ব্যাগের অংশে গেলাম। আমি আসলে ব্যাগ কিনতে যাইনি, শুধু দেখছিলাম কী কী আছে। তখন সে এসে খুব স্বাভাবিকভাবে বললো, “ব্যাগ নিবা একটা?” আমি বললাম, “না, নিবো না। শুধু দেখছি কী কী আছে।” সে বললো, “পছন্দ হলে নাও।”

এই ছোট্ট কথাটা হয়তো অনেকের কাছে খুব সাধারণ। কিন্তু সত্যি বলতে এই সাধারণ কথাগুলোই একজন মেয়েকে মানসিকভাবে খুব নিরাপদ অনুভব করায়। কারণ অনেক নারীই সম্পর্কে সবসময় নিজেকে ব্যাখ্যা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়। তারা যদি একটা ব্যাগ দেখতে যায়, তখনই শুনতে হয়—“আর কয়টা লাগবে?” “আগেরটা কি নষ্ট?” “টাকা কি গাছে ধরে?”

ফলে ধীরে ধীরে তারা নিজের আনন্দ দেখানোই কমিয়ে দেয়। তারা কিছু পছন্দ করলেও মুখে বলে, “না না, লাগবে না।” কারণ তারা আগেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে—হয়তো কথাটা শুনতে হবে।

পরে আমি স্যান্ডেলের দিকে গেলাম। এখানেও একই কথা—“ভালো লাগলে নিও।” তখন আমি নিজেই হেসে বললাম, “আরে! দেখলেই কি নিতে হয়? শুধু দেখছি কী কী আছে। বাসায় যেগুলো আছে আগে ওগুলো ব্যবহার করি।” সে একটু অস্বস্তি নিয়ে বিল দিতে চলে গেল।

আর ঠিক তখনই পাশের একটা ছোট্ট ঘটনা আমার মনটা অদ্ভুতভাবে খারাপ করে দিল।

আমার স্বামীর পেছনে একজন ভাইয়া দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার স্ত্রী কাউন্টারের পাশে রাখা মগগুলোর মধ্যে একটা খুব পছন্দ করলেন। খুব সুন্দরভাবে বললেন, “এইটা নিবো? আমার খুব পছন্দ হয়েছে।”

তার স্বামী সাথে সাথে বললেন, “বাসায় যেগুলো আছে, ওইগুলোই তো সুন্দর।”
ভদ্রমহিলা আবার নরমভাবে বললেন, “ছাড় তো আছে…”
উনার হাসবেন্ড বললো, “সারাবছরই থাকে।”
তারপর তিনি আবার বললেন, “এই মগটা পরে হয়তো আর পাবো না…”
উত্তরে লোকটা একটু বিরক্ত হয়েই বললো, “রেখে আসো, লাগবে না।”

পুরো কথোপকথনটা হয়তো খুব সাধারণ ছিল। হয়তো বাস্তবসম্মতও। হয়তো সত্যিই প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আমার খুব খারাপ লাগলো। কারণ কথাগুলোর ভেতরে একটা অবহেলার অনুভূতি ছিল। যেন একজন বড় মানুষ না, বরং অযথা আবদার করা একটা শিশুকে থামানো হচ্ছে।

মগটার দাম হয়তো খুব বেশি ছিল না। আবার হতে পারে লোকটার সত্যিই টাকার সমস্যা ছিল। আমি সেটা বিচার করছি না। কিন্তু পুরো ঘটনাটার মধ্যে যেটা সবচেয়ে বেশি চোখে লাগলো, সেটা হলো—মহিলাটার আনন্দটা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একদম মরে গেল।

এই অনুভূতিটা খুব কষ্টের। বিশেষ করে যখন একজন মানুষ খুব ছোট্ট কোনো জিনিস নিয়ে সত্যি সত্যি খুশি হয়, আর তার সবচেয়ে কাছের মানুষটা সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে একদম থামিয়ে দেয়।

এখানে মগটা আসল বিষয় না। বিষয় হলো—আপনি আপনার সঙ্গীর ছোট ছোট আনন্দগুলোকে কীভাবে দেখছেন।

আমাদের সমাজে অনেক পুরুষ বুঝতেও পারেন না যে তাদের ছোট ছোট কঠিন কথাগুলো একজন নারীর মনে কত গভীর প্রভাব ফেলে। “এত কিছুর দরকার কী?”, “তুমি শুধু টাকা খরচ করতে জানো”, “তোমার পছন্দের কোনো ঠিক নাই”—এসব কথা ধীরে ধীরে একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দে

একসময় সে নিজের পছন্দকেই গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করে দেয়। সম্পর্ক তখন আর দুজন মানুষের সমান সম্পর্ক থাকে না, বরং একজন সবসময় উপরে আর আরেকজন নিচে—এমন একটা অবস্থায় চলে যায়।

আর এই জায়গাটা খুব অস্বাস্থ্যকর।

আমি এটা বলছি না যে স্বামী মানেই সবকিছু কিনে দিতে হবে। সম্পর্ক কোনো কেনাকাটার জায়গা না। কিন্তু সম্পর্ক এমন একটা জায়গা হওয়া উচিত, যেখানে দুজন মানুষ একে অপরের ছোট ছোট আনন্দকে সম্মান করবে।

কেউ যদি খুব খুশি হয়ে একটা মগ দেখায়, আর আপনি সেটা কিনে দিতে না-ও পারেন, তবুও সুন্দরভাবে কথা বলা যায়। কারণ অনেক সময় মানুষ জিনিসটার চেয়ে ব্যবহারটা বেশি মনে রাখে। একজন নারী অনেক বছর পরেও মনে রাখবে—সে খুশি হয়ে কিছু দেখালে তার স্বামী তাকে কীভাবে অনুভব করিয়েছিল।

এই জায়গা থেকেই আমি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—নারীর নিজের অর্থনৈতিক সক্ষমতা খুব জরুরি। আর এই সক্ষমতা মানেই শুধু বড় চাকরি বা অনেক টাকা না। বিষয় হলো, নিজের ছোট ছোট প্রয়োজনের জন্য যেন সবসময় কারও মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে না হয়।

নিজের একটা আয় থাকলে মানুষ মানসিকভাবে অনেক শক্ত থাকে। তখন একটা মগ কিনতে গেলেও বুক ধড়ফড় করে না। নিজের পছন্দের একটা পোশাক কিনতে গেলেও মনে হয় না—“আমি বোঝা হয়ে যাচ্ছি।”

তবে এটাও সত্যি, শুধু টাকা থাকলেই সম্পর্ক সুন্দর হয় না। অনেক উপার্জন করা নারীও মানসিকভাবে অসুস্থ সম্পর্কে থাকে। কারণ ভালো সম্পর্কের মূল জায়গা টাকা না, সম্মান।

আমার কাছে ভালো স্বামী মানে শুধু সংসারের খরচ চালানো মানুষ না। ভালো স্বামী মানে এমন একজন মানুষ, যার পাশে নিজের ইচ্ছাগুলো বলতে ভয় লাগে না। যে শুনতে জানে। যে সঙ্গীর আনন্দকে তুচ্ছ করে না। যে জোর করার চেয়ে বোঝাতে জানে। আর সবচেয়ে বড় কথা—যে “না” বললেও মানুষটাকে ছোট অনুভব করায় না।

কারণ সম্পর্কে কোমল ব্যবহার খুব কম মূল্যায়ন করা হয়। আমরা দায়িত্ব নিয়ে কথা বলি, বিশ্বস্ততা নিয়ে কথা বলি, সংসার চালানো নিয়ে কথা বলি—কিন্তু মনের কোমলতা নিয়ে খুব কম কথা বলি। অথচ একজন মানুষ সারাজীবন সবচেয়ে বেশি মনে রাখে—আপনি তাকে কেমন অনুভব করিয়েছেন।

সবশেষে একটা কথাই বলতে চাই—সব নারী দামি উপহার চায় না। অনেক নারী শুধু এই অনুভূতিটা চায় যে তার ছোট ছোট ইচ্ছাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তার আনন্দগুলো বিরক্তিকর না। তাকে সবসময় নিজের ইচ্ছার জন্য অপরাধবোধে ভুগতে হবে না।

আর সত্যি বলতে, ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর ভাষাগুলোর একটা সম্ভবত এইটাই—“পছন্দ হলে নাও।”

©️Kosturi.

গতরাতের খবরটা অনেকের মতো আমাকেও ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। কারিনা কায়সার আর নেই। যে মানুষটাকে এতদিন ধরে হাসতে দেখেছি, মানুষ...
16/05/2026

গতরাতের খবরটা অনেকের মতো আমাকেও ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। কারিনা কায়সার আর নেই। যে মানুষটাকে এতদিন ধরে হাসতে দেখেছি, মানুষকে হাসাতে দেখেছি, হালকা মজার ভিডিও দিয়ে দিনের ক্লান্তি দূর করতে দেখেছি—সে মানুষটা হঠাৎ করেই চলে গেলেন। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে কিছু মানুষকে আমরা ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও, ধীরে ধীরে তারা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে যায়। তাদের ভিডিও, তাদের কথা, তাদের উপস্থিতি—সবকিছুই অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায়। কারিনা কায়সার আপুও ঠিক তেমনই একজন মানুষ ছিলেন। তাই যখন জানা গেল তিনি Hepatitis A এবং Hepatitis E তে আক্রান্ত হয়ে লাইফ সাপোর্টে আছেন, তখন থেকেই বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত অস্বস্তি কাজ করছিল। আর যখন শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর খবর এল, তখন মনে হলো—জীবন আসলে কতটা অনিশ্চিত!

জানা গেছে, তার শরীরে Fatty Liver ও ছিল। Hepatitis A এবং E মূলত দূষিত পানি, অপরিষ্কার খাবার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং দীর্ঘদিন unhealthy food habit এর কারণে হয়ে থাকে। আমরা অনেকেই এই রোগগুলোকে খুব সাধারণভাবে নেই। ভাবি—জ্বর, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব, stomach upset—এসব তো নরমাল ব্যাপার। কিন্তু শরীরের ভেতরে ভেতরে কখন কী ভয়ংকর ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, সেটা আমরা বুঝতেই পারি না।

আজ সকালে একটা দৃশ্য দেখে হঠাৎ কারিনা আপুর কথাই মনে পড়লো। রাস্তায় বের হয়ে দেখি, একজন লোক ব্যস্ত রাস্তার পাশে খোলা ঘুঘনি, ভেলপুরি, ঝালমুড়ি বিক্রি করছে। চারপাশে ধুলাবালি, গাড়ির ধোঁয়া, মাছি—সব মিলিয়ে পরিবেশটা ছিল পুরোপুরি অস্বাস্থ্যকর। অথচ একজন বাবা তার ছোট্ট বাচ্চার জন্য ভেলপুরি কিনে দিলেন। একজন মহিলাও দাঁড়িয়ে খাচ্ছিলেন। সবচেয়ে অবাক লাগলো একটা ব্যাপার ভেবে—এসব খাবার আমরা সাধারণত বিকেলের নাস্তা হিসেবে দেখি। কিন্তু এখন সকাল থেকেই মানুষের দিন শুরু হচ্ছে এইসব খোলা খাবার দিয়ে।

আমি কাউকে ছোট করছি না। স্ট্রিট ফুড খাওয়া অপরাধও না। কিন্তু একটা প্রশ্ন সত্যিই ভাবায়—আমরা কি কখনও থেমে চিন্তা করি, এই খাবারগুলো কী পরিবেশে তৈরি হচ্ছে? যে পানি ব্যবহার হচ্ছে সেটা কেমন? যে প্লেট ব্যবহার হচ্ছে সেটা কতটা পরিষ্কার? যে হাত দিয়ে খাবার বানানো হচ্ছে, সেই হাত আদৌ জীবাণুমুক্ত কিনা? রাস্তার ধুলো, ধোঁয়া, মাছি—এসব কতটা সরাসরি খাবারের উপর পড়ছে? আমরা এসব নিয়ে ভাবিই না। কারণ আমাদের একটা ভয়ংকর অভ্যাস হয়ে গেছে—নিজে অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুকেই সিরিয়াসলি না নেওয়া।

আমরা মনে করি, “এত মানুষ খাচ্ছে, কিছু তো হচ্ছে না।” কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব অসুখ সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে না। কিছু কিছু রোগ বছরের পর বছর শরীরের ভেতরে ক্ষতি করতে থাকে। বিশেষ করে লিভার সংক্রান্ত সমস্যাগুলো শুরুতে খুব silent থাকে। Fatty Liver একসময় খুব কমন ছিল না। এখন এটা ভয়ংকরভাবে বেড়ে গেছে। কারণ আমাদের lifestyle completely বদলে গেছে। আমরা ঘরে রান্না করা খাবারের চেয়ে processed food বেশি খাই, পানি কম খাই, soft drinks বেশি খাই, ফলমূলের চেয়ে fast food বেশি খাই, হাঁটাহাঁটির চেয়ে সারাদিন বসে থাকি, ঘুম কমাই, stress বাড়াই। সব মিলিয়ে শরীরটা ধীরে ধীরে ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে যায়।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো—আমরা শরীরকে খুব taken for granted নিই। রাত জেগে থাকি, যা ইচ্ছা তাই খাই, পানি কম খাই, hygiene maintain করি না, অসুস্থ হলেও ডাক্তার দেখাই না। তারপর একদিন হঠাৎ করে বড় কোনো সমস্যা ধরা পড়ে, আর তখন আমরা বুঝতে পারি—শরীর এতদিন ধরে warning দিচ্ছিল।

কারিনা কায়সারের ঘটনাটা হয়তো অনেকের জন্য একটা wake up call হতে পারে। কারণ Hepatitis A ও E কোনো “দুর্লভ” রোগ না। এগুলো আমাদের আশেপাশেই আছে। শুধু আমরা সচেতন না বলেই ঝুঁকিটা বুঝতে পারি না। আমাদের দেশে স্ট্রিট ফুড সংস্কৃতি অনেক বড় একটা অংশ। ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, ভেলপুরি, ঘুঘনি—এসব খাবারের সাথে আমাদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বন্ধুদের আড্ডা, বিকেলের নাস্তা, কলেজ লাইফ—সবকিছুতেই এগুলোর উপস্থিতি আছে। কিন্তু সমস্যাটা খাবারে না, সমস্যাটা hygiene এ।

অনেক বিক্রেতা আছেন যারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে খাবার তৈরি করেন। আবার অনেক জায়গায় এমন অবস্থা থাকে যে খাবার দেখলেই বোঝা যায় কতটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেটা তৈরি হচ্ছে। আমরা সস্তা বলেই খাই, সহজে পাওয়া যায় বলেই খাই, মজার লাগে বলেই খাই। কিন্তু খুব কম মানুষই ভাবে—এই “মজার” মূল্য একসময় শরীরকে কত বড়ভাবে দিতে হতে পারে।

আজ একটা পুরোনো ঘটনার কথাও খুব মনে পড়ছে। একদিন কথায় কথায় আমি আমার এক বান্ধবীকে বলেছিলাম, আমার হাজব্যান্ড স্ট্রিট ফুড খুব একটা পছন্দ করে না। আমাকে খেতেও দেয় না, নিজেও খায় না। তাই বাইরে খেতে গেলে একটু ভালো রেস্টুরেন্টেই যাওয়া হয়, ফলে খরচটাও বেশি পড়ে। আমি কথাটা একদম সাধারণভাবেই বলেছিলাম। কিন্তু সে কথাটা এমনভাবে নিয়েছিল যেন আমি তাকে বা অন্য কাউকে ছোট করছি, কিংবা টাকার দেমাগ দেখাচ্ছি। পরে শুনলাম, সে নাকি কয়েকজনকে কথাটা নিজের মতো করে বলেছেও। তখন খুব খারাপ লেগেছিল। কারণ আমাদের সমাজে একটা অদ্ভুত সমস্যা আছে—স্বাস্থ্য সচেতনতাকে অনেক সময় “বড়লোকি” ভাবা হয়।

কেউ যদি বলে সে রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলে, তখন অনেকে ভাবে সে show off করছে। কেউ যদি healthy খাবার খেতে চায়, তখন অনেকে ভাবে সে attitude দেখাচ্ছে। কেউ যদি hygiene নিয়ে careful হয়, তখন অনেকে তাকে over smart ভাবে। অথচ বিষয়টা আসলে এত complicated না। নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া কোনো luxury না। এটা necessity। সবাই দামি রেস্টুরেন্টে খেতে পারবে এমন না, সেটাও সত্যি। কিন্তু অন্তত basic hygiene maintain করা তো সম্ভব। পরিষ্কার পানি খাওয়া, যেখানে-সেখানে খোলা খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত oily বা junk food কমানো, হাত পরিষ্কার রাখা, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলে doctor দেখানো—এসব কোনো বিলাসিতা না। এগুলো basic self care।

আমরা অনেক সময় fashion, makeup, mobile phone, outing—এসবের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করি। কিন্তু শরীরের জন্য ভালো খাবার কিনতে গেলে মনে হয় “এত খরচ কেন?” আসলে আমরা priority ভুল জায়গায় সেট করে ফেলেছি। আমরা বাইরের appearance নিয়ে যতটা চিন্তা করি, ভেতরের health নিয়ে ততটা করি না। একটা healthy body ছাড়া পৃথিবীর কোনো কিছুই শেষ পর্যন্ত meaningful থাকে না। অসুস্থ হওয়ার পরে মানুষ বুঝতে পারে—ভালো খাবার, সুস্থ শরীর আর স্বাভাবিক জীবন কত বড় নিয়ামত ছিল।

কারিনা আপুর পরিবার অন্তত তাকে দেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করতে পেরেছে। কিন্তু দেশের অধিকাংশ মানুষের সেই সামর্থ্যও থাকে না। একটা middle class পরিবারে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে পুরো পরিবার financially collapse করে যায়। চিকিৎসার খরচ, টেস্ট, ICU, ওষুধ—সবকিছু মিলিয়ে জীবনটা ওলটপালট হয়ে যায়। তবুও আমরা সচেতন হই না। কারণ মানুষ সবসময় ভাবে—“আমার কিছু হবে না।” এই “আমার কিছু হবে না” mentality টাই সবচেয়ে dangerous।

জীবন বারবার আমাদের শেখায়—অসুখ, দুর্ঘটনা, মৃত্যু—এসব কাউকে বলে আসে না। আজকে যে মানুষটা perfectly healthy মনে হচ্ছে, কাল সে হয়তো ICU তে। আমরা কেউই জানি না আমাদের শরীরের ভেতরে ঠিক কী চলছে। তাই অন্তত নিজের শরীরের প্রতি এই অবহেলাটা কমানো উচিত।

আরেকটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—শুধু physical health না, food culture নিয়েও আমাদের mindset বদলানো দরকার। আমরা অনেক সময় unhealthy eating habit কে “fun” হিসেবে normalize করি। রাত ২টায় heavy খাবার খাওয়া, প্রতিদিন soft drinks খাওয়া, অতিরিক্ত oily food খাওয়া, সারাদিন পানি না খেয়ে চা-কফি খাওয়া, ফলমূল এড়িয়ে চলা—এসব ধীরে ধীরে শরীরকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। লিভার এমন একটা অঙ্গ, যেটা silently damage হতে থাকে। শুরুতে কোনো বড় symptom থাকে না। তাই মানুষ বুঝতেই পারে না পরিস্থিতি কতটা খারাপ হচ্ছে। Fatty Liver এখন এত common হয়ে গেছে যে অনেক মানুষ এটাকে serious problem ই মনে করে না। কিন্তু untreated fatty liver ভবিষ্যতে মারাত্মক complications তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হলো, আমরা অনেক সময় health advice কে personally নিয়ে ফেলি। কেউ যদি বলে, “খোলা খাবার কম খান”—তখন মনে হয় সে judge করছে। কেউ যদি hygiene নিয়ে কথা বলে, তখন মনে হয় সে superiority দেখাচ্ছে। আসলে health সচেতনতা কখনও অহংকার না, বরং নিজের এবং নিজের প্রিয় মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ।

কারিনা কায়সারের মৃত্যু আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল—জীবন খুব fragile। আমরা যারা প্রতিদিন ভাবি “কাল থেকে healthy হবো”, “পরের মাস থেকে diet শুরু করবো”, “সময় পেলে checkup করাবো”—তাদের সবার জন্য এটা একটা reminder। সময় সবসময় হাতে থাকে না। শরীর একদিন হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে। আর তখন অনুশোচনা ছাড়া কিছুই করার থাকে না।

স্ট্রিট ফুড খাওয়া মানেই অসুস্থ হওয়া না। কিন্তু blind trust করাটাও ঠিক না। খাবার বেছে খাওয়া, hygiene দেখা, নিজের শরীরের warning sign গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া—এসব এখন luxury না, survival skill। কারণ এই পৃথিবীতে অসুস্থ হওয়ার পর মানুষ শুধু শরীর না, অনেক স্বপ্নও হারিয়ে ফেলে।

কারিনা কায়সার আপু হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তার মৃত্যু যদি অন্তত কিছু মানুষকে নিজের শরীরের প্রতি সচেতন করে তোলে, তাহলেও হয়তো এই ঘটনাটা আমাদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, জান্নাত নসিব করুন। আর আমাদের সবাইকে নিজের শরীর, নিজের জীবন আর নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাওফিক দিন।

©️Kosturi.

কারিনা কায়সার আপু হয়তো আর কখনও দরজা খুলে বাসায় ফিরবেন না, আর কখনও এই ছোট্ট প্রাণীটাকে কোলে তুলে আদর করবেন না, আর কখনও খা...
16/05/2026

কারিনা কায়সার আপু হয়তো আর কখনও দরজা খুলে বাসায় ফিরবেন না, আর কখনও এই ছোট্ট প্রাণীটাকে কোলে তুলে আদর করবেন না, আর কখনও খাবার দিতে দিতে তার সাথে কথা বলবেন না—কিন্তু এই পোষ্যটা তো সেটা জানে না। সে শুধু জানে, তার প্রিয় মানুষটা হঠাৎ করেই আর ফিরে আসছে না।

সবচেয়ে হৃদয় ভাঙা বিষয়টা সম্ভবত এইটাই—মানুষ চলে যাওয়ার অর্থ মানুষ বুঝে নেয়, কিন্তু এই বোবা প্রাণীগুলো বুঝে না।

প্রতিদিন হয়তো সে দরজার দিকে তাকাবে।পরিচিত পায়ের শব্দ খুঁজবে।বিছানার সেই জায়গাটায় গিয়ে ঘুমাবে, যেখানে তার অভিভাবকের গায়ের গন্ধ আছে।হয়তো মাঝরাতে উঠে পুরো ঘর ঘুরে বেড়াবে, খুঁজবে সেই মানুষটাকে, যে তাকে আদর করে “বেবি” বলে ডাকতো।প্রাণীদের অনুভূতি নেই—এই কথাটা সম্পূর্ণ ভুল।

ভালোবাসা, অভ্যাস, অপেক্ষা—এসব তারা খুব গভীরভাবে অনুভব করে। তারা ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না বলেই কষ্টটা কম না। বরং অনেক সময় তাদের অপেক্ষাটা আরও নির্মম হয়। কারণ তারা বুঝতে পারে না “মৃত্যু” কী। তারা শুধু বুঝে—যে মানুষটা প্রতিদিন ছিল, সে আজ নেই।

এই ছোট্ট বিড়ালটার চোখের দিকে তাকালেই একটা অদ্ভুত শূন্য
অনুভব হয়। মনে হয়, সে যেন এখনও অপেক্ষা করছে। এখনও বিশ্বাস করছে—তার প্রিয় মানুষটা দরজা খুলে একসময় ফিরে আসবে।

মৃত্যু শুধু একজন মানুষকে নিয়ে যায় না, তার সাথে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য অভ্যাস, সম্পর্ক, নির্ভরতা আর ছোট ছোট ভালোবাসাগুলোও ভেঙে দিয়ে যায়।কারিনা আপুর জন্য যেমন কষ্ট হচ্ছে, তেমনি এই বোবা প্রাণীটার জন্যও বুকটা হাহাকার করে উঠছে।

এই ছোট্ট প্রাণীটার হৃদয়ের অদৃশ্য শূন্যতাটুকুও যেন কোনোভাবে শান্ত করে দেন।

©️Kosturi.

এতো হাসিখুশি একটা মানুষ হঠাৎ করে এভাবে চলে যেতে পারে?সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে আমরা প্রতিদিন অসংখ্য মুখ দেখি। কেউ নাচে, কে...
16/05/2026

এতো হাসিখুশি একটা মানুষ হঠাৎ করে এভাবে চলে যেতে পারে?

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে আমরা প্রতিদিন অসংখ্য মুখ দেখি। কেউ নাচে, কেউ গান করে, কেউ অভিনয় করে, কেউ মানুষকে হাসায়। স্ক্রিনের ওপাশে থাকা সেই মানুষগুলোর সাথে আমাদের কখনও ব্যক্তিগত পরিচয় না থাকলেও, ধীরে ধীরে তারা আমাদের জীবনের অংশ হয়ে যায়। তাদের ভিডিও, তাদের কথা, তাদের হাসি—সবকিছু যেন আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায়।

কারিনা কায়সারও ঠিক তেমনই একজন মানুষ ছিলেন।

একটা সময় ছিল, যখন ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ তার কোনো ফানি ভিডিও সামনে চলে আসতো, আর অজান্তেই মুখে হাসি ফুটে উঠতো। খুব সাধারণ বিষয় নিয়েও মানুষকে হাসাতে পারার যে সহজাত ক্ষমতা, সেটা সবার থাকে না। কারিনা আপুর মধ্যে সেই ব্যাপারটা ছিল। তার ভিডিওগুলোতে কোনো কৃত্রিমতা ছিল না, ছিল না অতিরিক্ত নাটকীয়তা। খুব স্বাভাবিক, খুব প্রাণবন্ত একটা মানুষ ছিলেন তিনি।

তাই যখন হঠাৎ খবরটা সামনে এলো—“কারিনা কায়সার লাইফ সাপোর্টে”—তখন অনেকের মতো আমিও কিছুক্ষণ বিশ্বাস করতে পারিনি।

কিছুদিন আগেও যে মানুষটা ভিডিওতে হাসছিল, মানুষকে হাসাচ্ছিল, সে হঠাৎ করে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন।

জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। সাধারণ জ্বর ভেবেই হয়তো বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমাদের সমাজে এমনটা প্রায়ই হয়। জ্বর, দুর্বলতা, শরীর খারাপ—এসবকে আমরা অনেক সময় “নরমাল” ভেবে অবহেলা করি। মনে করি, দুইদিন বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু শরীর সবসময় আগাম সংকেত দেয়। আর আমরা ব্যস্ততা, অবহেলা কিংবা অসচেতনতার কারণে সেই সংকেতগুলো বুঝতে পারি না।

কারিনা আপুর ক্ষেত্রেও সম্ভবত সেটাই হয়েছে।

হঠাৎ তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তাররা জানান, তিনি Hepatitis A এবং Hepatitis E তে আক্রান্ত হয়েছেন। এই দুই ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ তার লিভারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে যায় যে তাকে ICU তে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

এরপর শুরু হয় আরেক যুদ্ধ।

পরিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। চারপাশে দোয়া, উদ্বেগ, কান্না—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত ভারী পরিবেশ। মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় তার জন্য প্রার্থনা করছিল। কেউ কুরআন খতম দিচ্ছিল, কেউ নামাজে তার জন্য দোয়া করছিল, কেউ আবার শুধু চুপচাপ তার পুরোনো ভিডিওগুলো দেখছিল আর বিশ্বাস করার চেষ্টা করছিল—সব ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু জীবন সবসময় আমাদের আশা অনুযায়ী চলে না।

অবশেষে খবর এলো—কারিনা কায়সার আর নেই।
“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”

এই একটি বাক্য কতটা ভারী হতে পারে, সেটা হয়তো শুধুই সেই মানুষগুলো বুঝতে পারে, যারা হঠাৎ করে প্রিয় কাউকে হারিয়েছে।

তার বাবার সেই স্ট্যাটাসটা পড়ে বুকটা আরও ভারী হয়ে যায়—
“আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে…”

একজন বাবা যখন নিজের সন্তানের মৃত্যুর খবর লিখতে বসেন, তখন পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষটা সম্ভবত তিনিই হন।

আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় যাদের দেখি, তারা শুধু content creator না। তাদেরও পরিবার আছে, স্বপ্ন আছে, ভয় আছে, অসুস্থতা আছে। তারা আমাদের মতোই মানুষ। কিন্তু অনেক সময় আমরা এটা ভুলে যাই। স্ক্রিনের ওপাশে থাকা মানুষটাকে “character” ভাবতে ভাবতে তার বাস্তব অস্তিত্বটাই যেন ভুলে যাই।

কারিনা কায়সারের মৃত্যু আমাদের জন্য শুধু একজন পরিচিত মুখ হারানোর ঘটনা না, এটা একটা বড় সতর্কবার্তাও।

আমরা নিজের শরীরের প্রতি কতটা অবহেলা করি, সেটা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।এক সপ্তাহের জ্বরকে আমরা সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যাই। শরীর দুর্বল লাগলে বলি—“স্ট্রেসের জন্য।” মাথা ঘুরলে বলি—“ঘুম কম হয়েছে।” অথচ অনেক সময় এই ছোট ছোট লক্ষণই বড় বিপদের শুরু হতে পারে।

বিশেষ করে Hepatitis এর মতো রোগগুলো শুরুতে খুব সাধারণ উপসর্গ নিয়ে আসে—জ্বর, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা। মানুষ বুঝতেই পারে না ভেতরে ভেতরে লিভার কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এই ঘটনা আমাদের আরও একটা জিনিস মনে করিয়ে দেয়—জীবন ভীষণ অনিশ্চিত।আজ যে মানুষটা হাসছে, কাল সে হয়তো হাসপাতালের বেডে। আজ যে মানুষটা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছে, কাল হয়তো সে আর পৃথিবীতেই নেই।

আমরা মানুষ হিসেবে খুব অদ্ভুত। আমরা ধরে নিই—সময় অনেক আছে। পরে ডাক্তার দেখাবো। পরে নিজের যত্ন নিবো। পরে পরিবারকে সময় দিবো। পরে ক্ষমা চাইবো। পরে ভালোবাসা প্রকাশ করবো।

কিন্তু সেই “পরে” অনেকের জীবনেই আর আসে না।

কারিনা আপুর মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার মানুষ তার ভিডিও শেয়ার করছে, তার জন্য কাঁদছে, তার কথা লিখছে। অথচ হয়তো তিনি বেঁচে থাকতে প্রতিদিন এমন হাজারো মানুষকে হাসিয়েছেন, যাদের কোনোদিন চিনতেনও না।

একজন content creator এর সবচেয়ে বড় অর্জন সম্ভবত এটাই—অচেনা মানুষের মন ছুঁয়ে যেতে পারা।কারিনা কায়সার সেই কাজটা করতে পেরেছিলেন।

তাই তার মৃত্যু শুধু তার পরিবারের ক্ষতি না, এটা সেই অসংখ্য মানুষেরও ক্ষতি, যারা তার ভিডিও দেখে একটু হলেও ভালো থাকতো।

মৃত্যু খুব নিষ্ঠুর একটা সত্য।সে কাউকে সময় দেয় না, warning দেয় না, বয়স দেখে না। কখন, কাকে, কীভাবে নিয়ে যাবে—কেউ জানে না।

এই পৃথিবীতে আমরা সবাই খুব অল্প সময়ের অতিথি। কেউ আগে চলে যায়, কেউ পরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাইকেই যেতে হয়।

রয়ে যায় শুধু স্মৃতি, কিছু ছবি, কিছু ভিডিও, কিছু অসমাপ্ত কথা আর কিছু মানুষের চোখের পানি।কারিনা কায়সার হয়তো আর নেই, কিন্তু তার হাসিগুলো, তার ভিডিওগুলো আর মানুষকে ভালো রাখার সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো থেকে যাবে।

আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, তার কবরকে শান্তিময় করুন এবং তাকে জান্নাত নসিব করুন। আমিন।আর আমাদের সবাইকে নিজের শরীর, নিজের মানুষ এবং নিজের জীবনের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার তাওফিক দিন।

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন—“মৃত্যুর পর একজন মানুষের ছবি কেন শেয়ার করা হলো?” কিংবা “এভাবে ছবি দেওয়ার প্রয়োজন কী ছিল?”

আসলে এর পেছনে উদ্দেশ্যটা অসম্মান না, বরং স্মরণ করা।

আমরা যখন কোনো প্রিয় মানুষকে হারাই, তখন তার স্মৃতিগুলোই সবচেয়ে বেশি আঁকড়ে ধরি। একটা ছবি শুধু একটা ছবি না—এটা একজন মানুষের জীবনের উপস্থিতির প্রমাণ, তার হাসির স্মৃতি, তার অস্তিত্বের ছাপ। কারিনা কায়সারের ছবিটা দেওয়ার কারণ ছিল মানুষ যেন তাকে শুধুমাত্র “মৃত্যুর খবর” হিসেবে না দেখে, বরং সেই হাসিখুশি, প্রাণবন্ত মানুষটাকে মনে করতে পারে, যাকে তারা এতদিন ভিডিওতে দেখেছে।

মৃত্যুর পরে মানুষকে স্মরণ করা আমাদের সংস্কৃতি, আবেগ এবং মানবিকতারই একটা অংশ। কেউ ছবি দিয়ে দোয়া চায়, কেউ স্মৃতি লিখে, কেউ পুরোনো ভিডিও শেয়ার করে। কারণ মানুষ চলে গেলেও তার প্রতি ভালোবাসা, মায়া আর স্মৃতিগুলো থেকে যায়।

তবে হ্যাঁ, এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে।যদি কোনো ছবি sensationalism, attention seeking বা মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই অনুচিত। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য হয় সম্মান জানানো, স্মরণ করা এবং মানুষের কাছে দোয়া চাওয়া—তাহলে সেটাকে সম্পূর্ণ অমানবিক বা ভুল বলাও ঠিক না।

আমরা প্রায়ই দেখি, কোনো মানুষ মারা গেলে তার জীবিত অবস্থার সুন্দর ছবিগুলো মানুষ শেয়ার করে। কারণ মৃত্যু মানুষটাকে মুছে দেয় না, বরং স্মৃতিগুলোকে আরও গভীর করে দেয়।

কারিনা আপুর ছবিটা দেওয়ার কারণও ঠিক সেটাই—মানুষ যেন তাকে ভয়ংকর অসুস্থতার ছবি দিয়ে না, বরং তার সেই পরিচিত হাসিমাখা মুখটা দিয়েই মনে রাখে।

©️Kosturi.

Address

Dhaka

Telephone

+8801714349618

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kosturi - The Explorer posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Kosturi - The Explorer:

Share