26/03/2025
করলার চাষে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোঃ
চারা রোপনের সময়ঃ
১ম ধাপঃ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি মার্চের ১ম সপ্তাহ। ২য় ধাপঃ জুলাই-আগস্ট।
জমি প্রস্তুত করনঃ
(৩৩ শতাংশ জমির জন্য প্রযোজ্য) করলা চাষাবাদে দোঁআশ মাটি সবচেয়ে উত্তম। এছাড়া এটেল দোঁআশ ও বেলে দোঁআশ মাটিতে চাষাবাদ করা যায়। জমি নির্বাচন করে ৫-৬টি চাষ দিয়ে মাটি সম্পূর্ণভাবে ঝুরঝুরে করে নিয়ে নিম্নোক্ত সারগুলো প্রদান করতে হবে:
টিএসপি ৪০ কেজি
ডিএপি ২০ কেজি
এমওপি ৩০ কেজি
জিপসাম ১০ কেজি + বোরন ১ কেজি ১ কেজি (আলাদা করে ১/২ দিন আগে/পরে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে) ২ কেজি
ফুরাডান * 1-ভার্মিকম্পোস্ট/1-ট্রাইকোকম্পোস্ট ২০০ কেজি(একসাথে মিক্স করে বেড তৈরির পূর্বে প্রোয়োগ করে দিতে হবে)
সম্পর্ণ সার মিশ্রিত করে শেষ চাষে জমিতে বেড তৈরি করে নিতে হবে।
২য় ধাপে সার প্রয়োগ (গাছের বয়স ৪০-৪৫ দিন হলে, ফলের গুটি আসলে)
বেডের মাপঃ
ডিএপি ১৫ কেজি
এমওপি ১০ কেজি
ম্যাগনেশিয়াম ২কেজি
[পানি সেচের পর ড্রেনে প্রয়োগ করতে হবে
১.৫ ফুট দৈর্ঘ্য পরিমান মত বেড থেকে বেডের দূরত্ব ১.৫ ফুট বেডের উচ্চতা ৮’-১০” ইঞ্চি (উচু জমি)/১২”-১৬” ইঞ্চি (নিচু জমি) ড্রেন গভীরতা- ১ ফুট
চারা থেকে চারার দূরত্ব- ২.৫-৩ ফুট।
মালচিং পদ্ধতিঃ
করলা চাষের ক্ষেত্রে মাটির আর্দ্রতা প্রচুর পরিমানে প্রয়োজন হয়, যে কারণে করলা চাষে মালচিং ব্যবহার আবশ্যক । মালচিং ফিল্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, মালচিং বেডে বিছানোর সময় দু’পাশে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। যাতে বেডের ভিতরে আলো ও বাতাস চলাচল না করতে পারে।
চারা তৈরিঃ
করলা চাষে চারা তৈরি করে মূল জমিতে রোপন করা সবচেয়ে উত্তম। করলার জন্য চারা তৈরি করে ১৫ থেকে ১৮ দিন বয়সে চারা মূল জমিতে রোপন করতে হয়। চারাগুলো অবশ্যই আধুনিক পদ্ধতিতে নেট হাউজের মধ্যে ট্রে ও কোকোপিটের মাধ্যমে তৈরি করতে হবে ।
চারা রোপনঃ
তৈরিকৃত চারা উল্লেখিত ২.৫-৩ ফুট দূরত্বে মালচিং ছিদ্র করে বেডের মাঝখানে কোকোপিট পর্যন্ত গভীরতায় রোপন করতে হবে। এ সময় খেয়াল রাখতে হবে যেনো চারার গোড়া মাটির বেশী গভীরে প্রবেশ না করে, এতে চাড়ার গোড়া পচে যাওয়ার আশঙ্খা থাকে ।
মাচা প্রদানঃ
করলার জন্য A প্যাটার্নের মাচা সবচেয়ে উপযোগী, সেই ক্ষেত্রে মাচার ব্যবহৃত বাতা ৬.৫ – ৭.৫’ ফুট উচ্চতা নিয়ে বেডের দু’পাশে A প্যাটার্নের শক্ত করে পুতে দিতে হবে। কাঠি অথবা সুতলীর মাধ্যমে দু’পাশে ও মাঝ বরাবর টানা দিয়ে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে মাচার উচ্চতা ৬ ফুট হতে হবে।
স্প্রে শিডিউলঃ
চারা রোপনের পর ঝাঝুরি অথবা বদনা দ্বারা পানি দিতে হবে।
১নং স্প্রে-চারার বয়স ৪/৫ দিনঃ- ম্যানসার-৩০ গ্রাম/২০লিটার পানিতে। কট\রেলিথ্রিন-১৫ মিলি/২০লিটার পানিতে
২ নং স্প্রে-চারার বয়স ৮/৯ দিনঃ- সাকা-২০মিলি/২০লিটার পানিতে উলালা-৫ গ্রাম/২০লিটার পানিতে
৩ নং চারার বয়স ১০/১৫ দিন– ম্যানসার-৪০ গ্রাম/২০লিটার পানিতে চেলাজিং-১০ গ্রাম/২০লিটার পানিতে +
৪ নং স্প্রে-গাছের বয়স ১৭/১৯ দিনঃ- + 4 সাকা-২০মিলি/২০ লিটার পানিতে উলালা ৫ গ্রাম / ২০ লিটার পানিতে সাস্পেন্স\ওয়ান্ডার ১৫ গ্রাম/২০ লিটার পানিতে
৫ নং স্প্রে-গাছের বয়স ২২/২৫ দিনঃ- + কমপ্লেসাল-৫০মিলি/২০ লিটার পানিতে ম্যানসার ৪০ গ্রাম/২০ লিটার পানিতে
৬ নং স্প্রে-গাছের বয়স ২৭/২৯ দিনঃ- 4 সাকা-২০মিলি/২০লিটার পানিতে উলালা -৫ গ্রাম/ ২০লিটার পানিতে সাস্পেন্স\ওয়ান্ডার ১৫ গ্রাম / ২০ লিটার পানিতে
৭ নং স্প্রে-গাছের বয়স ৩৫/৩৮ দিনঃ- 4 + ওবেরন-২০মিলি/২০ লিটার পানিতে সলোমন ২০মিলি / ২০ লিটার পানিতে এন্ট্রাকল ৫০ গ্রাম / ২০ লিটার পানিতে
৮ নং স্প্রে-গাছের বয়স ৪৩/৪৫ দিনঃ- সাকা-২০মিলি/২০লিটার পানিতে উলালা ৫ গ্রাম/২০লিটার পানিতে সাস্পেন্স\ওয়ান্ডার ১৫ গ্রাম / ২০ লিটার পানিতে
৯ নং স্প্রে-গাছের বয়স ৫০/৬০ দিনঃ- কম্পেস্যাল\ ফ্লোরা ৫০মিলি / ২০লিটার পানিতে। সলুবর বোরন ৩২ গ্রাম/২০লিটার পানিতে ২ নং স্প্রে থেকে একই ভাবে চলতে থাকবে।
সেচ ব্যবস্থাঃ
করলা চাষে মাটির পর্যাপ্ত আর্দ্রতার ব্যবস্থা করতে হয়, তাই প্রয়োজন অনুসারে ৫/৭ বার পর্যন্ত সেচ প্রয়োজন হয়।
করলার চাষে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোঃ
মাচার নিচের প্রশাখাগুলো ছাটাই করতে হবে।
করলা মাটি অথবা মালচিং ফিল্ম এর সাথে স্পর্শ করানো যাবে না।
গাছের নিচের বয়স্ক পাতা ও রোগাক্রান্ত পাতা নিয়মিত ছাটাই করতে হবে। ফলের সাইজ বড় হওয়ার পূর্বে সুতলি অথবা নেটের মাধ্যমে বেধে দিতে হবে। করলা চাষে ড্রেনে অনেক সময় পানি রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
গাছের প্রয়োজনে (ড্রেনে) ইউরিয়া অথবা ডিএপি সার ব্যবহার করতে হবে।
প্রতিনিয়ত জমি পরিদর্শনের মাধ্যমে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
Send a message to learn more