17/11/2025
https://www.facebook.com/share/p/1JtMjJs26j/
পৃথিবীতে হার্ট ডিজিজের সবচে বড় ডায়েটারি রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে ধরা হয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রান্স ফ্যাটকে।
ট্রান্স ফ্যাট হচ্ছে মূলত দুই প্রকার।
১)চতুষ্পদ ঘাস খাওয়া প্রানীর গাট ব্যাকটেরিয়া যেটা তৈরি করে, সেটা ন্যাচারাল ট্রান্সফ্যাট। এগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর দিক এখনো পাওয়া যায় নাই যদি না রোগীর শরীরে আগে থেকেই ইনফ্ল্যামেশান থাকে। এটা মূলত বাটার-ঘিতে পাওয়া যায়। ন্যাচারালি তৈরি হওয়া ট্রান্স ফ্যাটে স্বাস্থ্য ঝুকি সীমিত।
২)যখন মানুষ বানিজ্যিকভাবে লিকুইড তেলকে ঠান্ডা করে সলিড ফ্যাট বানায় এবং তা ক্রমেই শক্ত হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে হাইড্রোজেনেটেড হয়, সেটাকে বলা হয় আর্টিফিসিয়াল ট্রান্স ফ্যাট।
আমরা অনেকে যে ডালডা-ভেজাল ঘি-মাখন খাই, নকল পাম অয়েল-সয়াবিন তেল খাই, সো কল্ড ভেজিটেবল ঘি/বাটার খাই, এগুলো সব এই আর্টিফিসিয়াল ট্রান্স ফ্যাটে ভরপুর। একইভাবে, বাংলাদেশে যে সয়াবিন-সানফ্লাওয়ার তেল বাজারজাত করা হয়, তাতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমানে ট্রান্সফ্যাট।
বাংলাদেশে যেসব স্ট্রিট ফুট এবং প্যাকেজড ফুড বিক্রি হয় এগুলিতে ট্রান্স ফ্যাট রেগুলেশানের কোন ধার ধারা হয় না। ইউএসএর ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশান ২০১৮ সালের এপ্রিলে পার্শিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল উৎপাদনই নিষিদ্ধ করে দেয়। এরপর ব্রাজিল, কানাডা, পেরু, সউদী আরব, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, সাউথ কোরিয়া, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নরওয়ে, আইসল্যান্ডের মত দেশগুলো সবাই এই পার্শিয়াল হাইড্রোজেনেশানের বিরুদ্ধে আইন করে।
বাস্তবে, কৃত্রিম ট্রান্স ফ্যাট এত ভয়ংকর যে লম্বা সময় ধরে দিনে ২ গ্রামের বেশি ট্রান্স ফ্যাট খেলে হার্ট ডিজিজের ঝুকি বাড়ে প্রায় ২০-৩৫%।
২০১০-২০২০ সালে হওয়া বিভিন্ন গবেষনায় দেখা গেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্টরি মেইড ফুডের স্যাম্পলে ট্রান্স ফ্যাটের পরিমান ০.৯% থেকে ২০% এরও বেশি। বাংলাদেশের ফ্যাক্টরি ফুডে ট্রান্স ফ্যাটের গড়ই হচ্ছে ১১%, মানে সো কল্ড যেসব প্যাকেটজাত হেলদি খাবার আমরা খাই, এগুলো খাওয়ার যোগ্যই না।
বেশিরভাগ রেস্টুরেন্টের কিচেনে খরচ কমিয়ে স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয় প্রচুর পারশিয়ালি হাইড্রোজিনেটেড অয়েল, এগুলিও ট্রান্সফ্যাটের আখড়া।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাইড্রোজেনেশানের বাইরেও সয়াবিন তেলে লিনোলেনিক এসিড পারসেন্টেজ প্রায় ৫১-৫৪%, যা উচ্চ তাপে হাইড্রোজেনেটেড হয়ে যায়। আর আমাদের প্রায় পুরো স্ট্রিট ফুড ইন্ডাস্ট্রি এটার ওপরেই টিকে আছে যেখানে একই তেলে ২-৩ দিন পর্যন্ত সবকিছু ভাজা হয়।
তাই সবাইকে অনুরোধ করবো ঘরে তৈরি খাবার খান এবং বাসায় ভেজিটেবল ঘি/বাটার-ডালডা এবং সয়াবিন তেল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।