11/01/2025
তামিমের হার মানতে না জানা দৃঢ়তাকে কেউ দয়া করে পরাজয় হিসেবে ব্যাখ্যা করবেন না!
আমার কষ্ট লাগে যখন দেখি ১৮ বছর দেশের জন্য খেলার পরও কেউ কেউ তার চলে যাওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তামিমকে খোলোয়াড়ের বাইরে মানুষ হিসাবে আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। একটা ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমি তার সাথে একসাথে গত ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে গিয়েছিলাম, শর্ত ছিল আমি তার টীম ব্রাজিল এর খেলায় তার সাথে থাকবো, আর সে আমার টীম আর্জেন্টিনার খেলার সময় আমার সাথে মাঠে থাকবে। আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন এমন গ্লোবাল আয়োজনে অনেক হাঁটতে হয় কারণ গাড়ি পার্কিং থেকে স্টেডিয়াম অনেক দূরে হয়। সেখানে হাঁটতে গিয়ে আমি একটা ইনজুরি তে পরে যাই এবং তামিম কে বলি আমি পারছি না, আপনারা যান, আমি হোটেল ফিরে রেস্ট করি। আমাকে অবাক করে দিয়ে, তামিম নিজে সেখানে আমার পরিচর্যা করলো এবং আমাকেই নিয়েই খেলা দেখলো । আমি সেদিন প্রথম বুঝতে পারি তামিম এমন এক মানুষ যে নিজে হারতে জানে না, এবং কাউকে হারতেও দেয় না।
আর হারতে জানে না বলেই ১৮ বছর বয়সে ডাউন দা উইকেটে এসে জাহির খানকে ছক্কা মেরে বিশ্ব জানিয়ে দেয়, আমরা এক নতুন বাংলাদেশ। হারতে জানে না বলেই ভাঙ্গা আঙ্গুল নিয়ে ক্যারিয়ার বাজি রেখে বাংলাদেশের জন্য ব্যাট করে। হারতে জানে না বলেই লর্ডসের অনার বোর্ডে তার নাম আছে। আর হারতে জানে না বলেই, তার বিদায়টা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মতোই সে নিজেও কোথায় যেন মেনে নিতে পারে নাই।
তামিম বয়সে আমার ছোট, কিন্তু তারপরও সে আমাকে শিখেয়েছে কিভাবে হারের সামনে দাঁড়িয়েও জেতা যায়। আর আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি তামিমের মতো হার না মানতে জানা এইসব মানুষের হাত ধরেই আসবে বাংলাদেশের সত্যিকারের বিজয়। সে দেখিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের মাটি থেকে উঠে আসা প্রতিটি মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারে, স্বপ্ন ছুঁতে পারে।
তামিম, তুমি শুধু একজন খেলোয়াড় নও, তুমি আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের গর্ব।
দেখা হবে বিজয়ে, তামিম !!