13/01/2026
কৃষিখাতে এআই সাফল্যের নজির
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতির প্রভাব এখন ক্রমে দৃশ্যমান হচ্ছে। কৃষি, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবার মত গুরুত্বপূর্ণ খাতে এআই ব্যবহার বাড়লেও বাংলাদেশে তার পুরো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ দক্ষতার অভাব রয়েছে, কাঠামোগত প্রস্তুতিও দুর্বল।
বাংলাদেশে কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয় ২০২১ সালের দিকে। এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ও সফল উদ্যোগ হল জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেডের ‘ডা. চাষী’ অ্যাপ।
এই অ্যাপে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষকের দরকার হবে ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি স্মার্টফোন, যেখানে ‘ডা. চাষী’ অ্যাপ ডাউনলোড করে নিতে হবে। কৃষক এই অ্যাপি থেকে ফসলের আক্রান্ত স্থান বা পোকামাকড়ের ছবি তুললে অ্যাপ বলে দেয় কোন পোকা বা রোগ আক্রমণ করেছে। সেই সঙ্গে সমাধানও বলে দেয়। কোন ধরনের ওষুধ বা কীটনাশক দিতে হবে, সেই পরামর্শ দেয়।
কৃষক অনেক সময় কৃষিবিদের পরামর্শ না নিয়ে অপ্রয়োজনীয় মাত্রায় সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন, যা মাটিও পরিবেশের ক্ষতি করে। ‘ডা. চাষী’ অ্যাপ সার ও কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়েও কৃষককে পরামর্শ দিতে পরে। তাতে অপ্রয়োজনীয় কীটনাশকের জন্য অর্থের অপচয় এবং রাসায়নিকের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে ফসল বাঁচানো যায়।
ডা. চাষী অ্যাপ আগাম সাত দিনের কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়। তাতে কৃষকের বীজ বোনা, ফসল কাটাসহ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
এ ছাড়া এই অ্যাপে আইওটি–ভিত্তিক মাটির সেন্সর রয়েছে। ‘স্প্রে ড্রোন’ ব্যবহার করা হচ্ছে। আরও নানা স্মার্ট কৃষি সমাধানও যুক্ত আছে এতে।
জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী মেদিনা আলী বলেন, চ্যাটজিপিটির মত এআই টুল সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয় ২০২২–২৩ সালে। কিন্তু দেশের কৃষকরা এর আগেই এআই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হন।
বর্তমানে ‘ডা. চাষী’ অ্যাপের নিবন্ধিত ব্যবহারকারী ৮৭ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষক। বাকিরা শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী, কৃষি পেশাজীবী ও অন্যান্য শ্রেণিপেশার।
জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেডের ভাষ্য, এই অ্যাপের ব্যবহার মাঠপর্যায়ে ফল দিচ্ছে। ফসলের ফলন বেড়েছে ১২–১৬ শতাংশ। কীটনাশকের ব্যবহার কমেছে ২৫–৩০ শতাংশ। সারের ব্যবহার কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। সময় ও খরচ সাশ্রয় হয়েছে গড়ে ৩৩ শতাংশ।
মেদিনা আলী বলেন, “এই ফল প্রমাণ করে, এআই কৃষকদের সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমছে; ঝুঁকি কমছে। অনেকে কৃষিকে এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক পেশা হিসেবে দেখছেন।”
কৃষিতে এ ধরনের ইতিবাচক চিত্র থাকলেও অন্যান্য খাতে তা দৃশ্যমান নয়।
“বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এখন মানুষ বনাম এআইয়ের মধ্যে নয়, বরং এআই জানা দেশ ও এআই না জানা দেশের মধ্যে,” বলেন বিশ্লেষক শু.....