ARCHITECT nasir uddin DEEDAR

ARCHITECT nasir uddin DEEDAR Alhamdulillah for everything.

সাতোশি নাকামোতো কে? এ প্রশ্নের উত্তর আজও কেউ জানে না।অনেক খুঁজেছে তাঁকে মানুষ। কিন্তু খুঁজে পায়নি। কেউ কেউ বলেন, নাকামোত...
04/08/2025

সাতোশি নাকামোতো কে?

এ প্রশ্নের উত্তর আজও কেউ জানে না।

অনেক খুঁজেছে তাঁকে মানুষ। কিন্তু খুঁজে পায়নি।

কেউ কেউ বলেন, নাকামোতো একজন নন, একদল মানুষ।

এ নিয়েও হয়েছে নানা জল্পনা–কল্পনা।

সাতোশি নাকামোতো লিখে গুগল করলে যাঁর ছবি আসে, তিনি ডোরিয়ান সাতোশি নাকামোতো।

তাঁকে নিয়ে প্রথম ২০১৪ সালের ৬ মার্চ নিউজউইক-এ একটি লেখা প্রকাশিত হয়—‘দ্য ফেস বিহাইন্ড বিটকয়েন’।

বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘বিটকয়েনের পেছনের মানুষ’। লেখক লিয়া ম্যাকগ্র্যাথ গুডম্যান।

ডোরিয়ান একজন জাপানি-আমেরিকান। বসবাস করেন ক্যালিফোর্নিয়ায়।

কিন্তু তাঁর জন্ম জাপানের বেপ্পু শহরে। জন্মের সময় তাঁর নাম ছিল সাতোশি নাকামোতো।

গুডম্যান দেখান, ২৩ বছর বয়সে, ১৯৭৩ সালে ডোরিয়ান নিজের নাম বদলে রাখেন ‘ডোরিয়ান প্রেন্তিস সাতোশি নাকামোতো’, যদিও তিনি সাধারণত লেখেন ‘ডোরিয়ান এস নাকামুতো’।

ক্যালিফোর্নিয়ার পোমোনায় অবস্থিত ক্যাল পোলি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন।

পরবর্তী সময়ে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন ক্ল্যাসিফায়েড ডিফেন্স প্রজেক্টে।

প্রজেক্ট শেষে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক তথ্য সেবাদাতা কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন কম্পিউটার প্রকৌশলী হিসেবে।

গুডম্যান দাবি করেন, ডোরিয়ান তাঁর কাছে নিজের পরিচয় স্বীকার করে বলেছেন, ‘ওসবের সঙ্গে আমি এখন আর যুক্ত নই।

তাই এসব নিয়ে আমি আলোচনা করতে চাই না।

সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ এখন মানুষের হাতে।

আমার এখন আর ওসবের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’

এ লেখা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে হুলুস্থুল পড়ে যায় পৃথিবীজুড়ে।

পরে এ নিয়ে ডোরিয়ানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ভেবেছেন, গুডম্যান তাঁকে ক্ল্যাসিফায়েড ডিফেন্স প্রজেক্ট নিয়ে প্রশ্ন করেছেন।

সে জন্যই অমন জবাব দিয়েছেন তিনি।

পরে ২০১৪ সালের ৭ মার্চ সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামের মানুষটি পিটুপি ফাউন্ডেশনের ফোরামে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ছোট্ট একটি মেসেজ দেন, ‘আমি ডোরিয়ান নাকামুতো নই।’

ডোরিয়ানকে ছাড়া আরও অনেকের দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে নানা সময়।

এর সবই জল্পনাকল্পনা। কোনোটিরই সুনিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাতোশি নাকামোতো তাই আজও কেবলই একটি ছদ্মনাম। মানুষটি যে আসলে কে, কেউ জানে না।

এই সাতোশির নামেই বিটকয়েনের সবচেয়ে ছোট একক সাতোশির নামকরণ করা হয়েছে।

১০০ পয়সায় যেমন ১ টাকা, তেমনি ১০ কোটি সাতোশিতে ১ বিটকয়েন।

বিটকয়েনের প্রথম লেনদেনের ঘটনাটি বেশ মজার।

২০১০ সালের ২২ মে একজন বিটকয়েন প্রোগ্রামার প্রথম বিটকয়েন লেনদেন করেন।

তিনি বিটকয়েনের একটি ফোরামে লিখেছিলেন, কেউ তাঁর বাসায় দুটি পিৎজা পৌঁছে দিলে তিনি তাঁকে ১০ হাজার বিটকয়েন দেবেন।

সত্যি সত্যি সেদিন একজন তাঁর বাসায় দুটি পিৎজা পৌঁছে দেন এবং বিনিময়ে পান ১০ হাজার বিটকয়েন।

সে সময় পিৎজা দুটির বাজারমূল্য ছিল ২৫ ডলার, আর ১০ হাজার বিটকয়েনের মূল্য ছিল ৪০ ডলার, মানে ৪ হাজার ৮৫৪ টাকা।

আর এ প্রবন্ধ লেখার সময় বিটকয়েনের মূল্য ১ বিটকয়েন সমান ১ লাখ ১৮ হাজার ২৪৫ ডলার বা ১ কোটি ৪৩ লাখ ১৬ হাজার ২৫৪ টাকা!

বিটকয়েনের বাজার গত কয়েক বছর ধরে পড়তির দিকে ছিল। এই পড়তির সূচনা করেছিলেন ইলন মাস্ক।

২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জানা গিয়েছিল, ইলন মাস্কের টেসলা ইনকরপোরেশন ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন কিনেছে।

টেসলা জানায়, তাদের সব ধরনের পণ্য, ইলেকট্রিক কার, সোলার প্যানেল—সবকিছু বিটকয়েন দিয়ে কেনা যাবে। সঙ্গে সঙ্গে অনেক বেড়ে যায় বিটকয়েনের দাম।

এর কিছুদিন পর, ২৭ এপ্রিল ইলন মাস্ক একটি টুইট করেন। সেখানে বলেন, ‘টেসলা বিটকয়েনে আর কোনো ধরনের পণ্য বিক্রি করবে না।

মাস্কের টুইটের ফলে ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিটকয়েন ও অন্যান্য ক্রিপ্টোমুদ্রা। এরপর বিটকয়েন যখন খানিকটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে, তখনই শুরু হয় ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ।

এ কারণে নানা রকম সমস্যার মুখে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি। এ ধাক্কা লাগে ক্রিপ্টোমুদ্রার বাজারেও।

এতদিন পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিটকয়েন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কল্যাণে এমনটা হয়েছে।

এইবারে নির্বাচিত হওয়ার আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের ক্রিপ্টো-রাজধানী’ বানাবেন।

সেই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারিভাবে এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে, পরিষ্কার নিয়মনীতিও গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।

ফলে বিটকয়েনের দারুণ পুনরুত্থান ঘটেছে এখন।

আর এর ফলে ব্লকচেইনের উদ্ভাবক সাতোশি নাকামোতোর ১.০৯৬ মিলিয়ন বা ১০ লাখ ৯৬ হাজার বিটকয়েনের বর্তমান মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২৯ বিলিয়ন ডলার।

মানে ১২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার! টাকায় নাহয় আপনারাই হিসাব করে নিন।

এর ফলে তিনি এখন বিশ্বের ১১তম ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।

এমনকি বিল গেটসের চেয়েও বেশি ধনী হয়ে উঠেছেন সাতোশি!

সূত্র: বিজ্ঞানচিন্তা

এমন বর্ণাঢ্য অন্তিম যাত্রা কেউ কোনোদিন দেখেনি...শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর চোখের জলে এক বীরকে চির বিদায় জানালো নিউইয়র্ক। বন্দু...
01/08/2025

এমন বর্ণাঢ্য অন্তিম যাত্রা
কেউ কোনোদিন দেখেনি...

শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর চোখের জলে এক বীরকে চির বিদায় জানালো নিউইয়র্ক। বন্দুকধারীর হামলায় নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারে জানাজায় অংশ নেন ২০ হাজার মানুষ। পরে তাঁকে নিউ জার্সির লোরেল গ্রোভ কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, দিদারুল ইসলামকে মরনোত্তর প্রথম শ্রেণীর ডিটেকক্টিভ হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

এ যেন এক বীরের বর্ণাঢ্য বিদায়। অশ্রু আর সম্মানে মোড়ানো অন্তিম যাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনটি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যেমন ছিল শোকের, তেমনি গর্বেরও। ঝড়-বৃষ্টি আর বন্যার সতর্কতা উপক্ষো করে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের জানাজায় উপস্থিত হন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। শুধু নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগেরই ৫ হাজার সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকেরই কণ্ঠে ছিল দিদারুলের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা।

দিদারুলের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় ছিলেন নিউইয়র্কের গভর্নর, সিটি মেয়র, পুলিশ কমিশনার, আইন প্রণেতা-সহ বিভিন্ন কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং আসন্ন মেয়র নির্বাচনের প্রার্থীরা। তাদের বক্তব্যে বারবার উচ্চারিত হয়েছে বাংলাদেশের নাম।

জানাজা শেষে দিদারুলের মরদেহ দাফনের উদ্দেশে নেয়া হলে রাস্তার ধারে হাজার হাজার পুলিশ সদস্য তাঁকে শেষবারের মতো স্যালুট জানায়। আকাশ পথেও হেলিকপ্টারে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন জানিয়েছে, দিদারুল ইসলামকে মরণোত্তর ফার্স্ট গ্রেড ডিটেকটিভ হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এতে নিহত দিদারুলের স্ত্রী, সন্তান ও পরিবার পেনশন ও অন্যান্য সর্বোচ্চ সুবিধা পাবে।

গেল সোমবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় কর্তব্যরত অবস্থায় ৩৬ বছর বয়সী পুলিশ অফিসার দিদারুল ইসলাম-সহ ৪ জন নিহত হন। হামলাকারী ২৭ বছরের শ্যেন ডেভন তামুরা নিজেও আত্মহত্যা করে। গান ভায়োল্যান্স আর্কাইভের তথ্য অনুসারে, এবছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৫৪টি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন শত শত মানুষ।

প্রসঙ্গত, নিহত দিদারুল ইসলাম ৪ বছর আগে পুলিশে যোগ দেন। এর আগে তিনি স্কুল সেইফটি ও ট্রাফিক বিভাগেও কাজ করেছেন। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। দিদারুলের দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্ব।

কৃতজ্ঞতা: হাসানুজ্জামান সাকী ভাই।।

আসুন ভালোবাসা ছড়াই....❤️❤️

এটা হলিউড মুভির সাইন্স ফিকশন কোন বানানো সিন নয়-আদেল মাদি।বয়স ২৭ বছর।  চরম পর্যায়ে ক্ষুধা, অপুষ্টি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎস...
01/08/2025

এটা হলিউড মুভির সাইন্স ফিকশন কোন বানানো সিন নয়-

আদেল মাদি।
বয়স ২৭ বছর। চরম পর্যায়ে ক্ষুধা, অপুষ্টি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে ও মারাত্মক ঘাটতির কারণে আজকে খানইউনুসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে ইন্তেকাল করেছেন।

ক্ষুধা তার শরীরকে জীর্ণশীর্ণ বানিয়ে দিয়েছে , রোগ তার সব শক্তি কেড়ে নিয়েছে, এ এমন এক স্হানে মা:রা গিয়েছে যেখানে বেচে থাকার নুন্যতম সরঞ্জামও উপস্হিত নেই।

ব্যর্থ ব্যক্তিরা পৃথিবী বদলে দিয়েছেন----১) মাত্র চার মাস পর টমাস আলভা এডিসনকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল; তার শিক্...
31/07/2025

ব্যর্থ ব্যক্তিরা পৃথিবী বদলে দিয়েছেন----
১) মাত্র চার মাস পর টমাস আলভা এডিসনকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল; তার শিক্ষক তাকে মানসিকভাবে দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছিলেন। পরে তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা আবিষ্কারক হয়ে ওঠলেন ।

২) চার্লস ডারউইনকে চিকিৎসাবিদ্যা ত্যাগ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল, তার বাবা তিক্তভাবে বলেছিলেন: "তুমি তোমার কল্পনা ছাড়া আর কিছুই পরোয়া করো না!" তিনি শেষ পর্যন্ত জীববিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন।

৩) " সৃজনশীলতার অভাব "_এর জন্য ওয়াল্ট ডিজনিকে একটি সংবাদপত্রের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপর তিনি বিশ্বব্যাপী প্রজন্মের কাছে প্রিয় একটি বিনোদন সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।

৪) বিথোভেনের সঙ্গীত শিক্ষক তাকে সম্পূর্ণ প্রতিভাহীন বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে কালজয়ী কিছু মাস্টারপিস রিদোমিক আইডিয়া তৈরি করেছিলেন।

৫) আলবার্ট আইনস্টাইন চার বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতেন না এবং তার শিক্ষক তাকে মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। তিনি ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হয়ে উঠেন ।

৬) আর্ট স্কুলের প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর অগাস্ট রডিনের বাবা তাকে "বোকা" ঘোষণা করেছিলেন। রডিন এখন সর্বকালের সেরা ভাস্করদের একজন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

৭) সম্রাট ফার্দিনান্দ বিখ্যাতভাবে মোজার্টের "দ্য ম্যারেজ অফ ফিগারো"-এর সমালোচনা করেছিলেন "অনেক বেশি নোট" হিসেবে। আজ, মোজার্টের প্রতিভা প্রশ্নাতীত।

৮) দিমিত্রি মেন্ডেলিফ রসায়নে গড় নম্বর অর্জন করেছিলেন, তবুও তিনি পরে পর্যায় সারণী তৈরি করেছিলেন, যা বিজ্ঞানকে মৌলিকভাবে রূপান্তরিত করেছিল।

৯) অটোমোবাইলের কিংবদন্তি স্রষ্টা হেনরি ফোর্ড মৌলিক স্বাবলম্বীতার সাথে লড়াই করেছিলেন এবং অসাধারণ সাফল্য অর্জনের আগে একাধিকবার দেউলিয়া ঘোষণা করেছিলেন।

১০) যখন মার্কনি রেডিও আবিষ্কার করেছিলেন এবং বাতাসের মাধ্যমে শব্দ প্রেরণের বর্ণনা দিয়েছিলেন, তখন তার বন্ধুরা তাকে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান, ভেবেছিলেন যে তিনি তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। কয়েক মাস পরে, তার আবিষ্কার সমুদ্রে অসংখ্য জীবন বাঁচিয়েছিল। এবং তার ফলশ্রুতি এখন মোবাইল-স্যাটেলাইট!!

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা: অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিকে কখনই আপনার সম্ভাবনাকে সংজ্ঞায়িত করতে দেবেন না। মহত্ত্ব প্রায়শই ব্যর্থতা দিয়ে শুরু হয়-অন্যায়কারী সবসময়ই ন্যায়কারীকে হিংসে করবে-ভেঙে না পড়ে- নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন !নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন!!

আসুন ভালোবাসা ছড়াই …..….............

অনু আগারওয়াল কে কি মনে আছে আপনাদের?  আমরা যারা ৯০ এর দশকের তাদের কাছে এক নস্টালজিক স্মৃতি পরিচালক মহেশ ভাটের "আশিকী" ! ন...
31/07/2025

অনু আগারওয়াল কে কি মনে আছে আপনাদের?
আমরা যারা ৯০ এর দশকের তাদের কাছে এক নস্টালজিক স্মৃতি পরিচালক মহেশ ভাটের "আশিকী" !
নজর কে সামনে জিগার কে পাস ................
আশিকী সিনেমার নায়িকা। আচ্ছা হঠাৎ করে যদি একদিন আপনার জীবনে সব বদলে যায়,কেমন লাগবে?
৯০ দশকে নায়ক রাহুল রায়ের সাথে মিলে তিনি সুপারডুপার এই সিনেমা উপহার দেন।করতে থাকেন নানা বিজ্ঞাপন আরো অনেক কাজ।বলিউডের মিষ্টি মেয়ে খ্যাত অনু পড়াশোনায়ও টপ ছিলেন।দিল্লী বিশ্বিবদ্যালয় থেকে স্নাতকে স্বর্ণপদক পান।
পরপর ১৫ টির বেশী সিনেমা সাইন করে ফেলেন।
আর ঠিক তখনি একদিন ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হন তিনি।মুখের ভেতর অসংখ্য কাঁচ ঢুকে যায়।টানা ২৯ দিন তিনি কোমায় থাকেন।বাঁচার আশা এরকম ছেড়ে দেয় ডাক্তাররা। কিন্তু অনু আগারওয়াল ফিরে আসেন কোমা থেকে।তবে হারিয়ে ফেলেন স্মৃতিশক্তি।চেহারায়ও অনেক পরিবর্তন। কাঁটাছেড়া,কেমন জানি ভয়াবহ অবস্থা।নিজেকে এবং পরিবারকে চিনতে পারেন না।অনুর মা তাকে তার অভিনীত সিনেমার ভিডিও দেখাতেন।এভাবে বছর চলে যায়।ধীরে ধীরে সব কাজ থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়।অনেক সময় লাগে অনু আগারওয়াল এর স্মৃতি ফিরে পেতে।
কিন্তু এরপর তিনি আর বলিউডে ফিরেন নি।আধ্যাত্মিক জীবন বেছে নেন।বস্তির শিশুদের পড়ান আর যোগ ব্যায়াম শেখান।সাধারণ জীবন যাপন শুরু করেন।বিয়ে না করে থেকে যান একা।চলে যান চেনা পরিসরের বাইরে।

কি অদ্ভুত মানুষের জীবন তাই না?এক লহমায় ভেঙ্গে যেতে পারে সকল অর্জন,সাফল্য,গৌরব কিংবা সাজানো সব কিছু।অথচ আমরা সেটা ভাবি না।আমরা বড়াই করি,অহংকার দেখাই।আদৌ কি সেটা উচিত।জীবন ভীষণ অনিশ্চিত। আপনি আমি কেউ জানি আগামীকাল কি হতে যাচ্ছে।
সুতরাং আমরা সহানুভূতিশীল হই এবং সব সময় স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞ থাকি।।

আসুন ভালোবাসা ছড়াই …....….......

25/07/2025

Tranquility & peace...........

AI আমাদের  জীবনে সর্বত্র প্রভাব বিস্তার করা শুরু করেছে।সকালে ঘুম থেকে ওঠা শুরু করে ঘুমোতে যাওয়ার  আগ পর্যন্ত প্রতিটি কা...
25/07/2025

AI আমাদের জীবনে সর্বত্র প্রভাব বিস্তার করা শুরু করেছে।সকালে ঘুম থেকে ওঠা শুরু করে ঘুমোতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি কাজে এখন AI এর প্রভাব আমরা দেখতে পাই। সিইও জেনসেন হুয়াং সম্প্রতি বললেন, যদি আজকের ২০ বছরের ছাত্র হতাম, তাহলে সফটওয়্যার বা কোডিংয়ের বদলে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং বায়োলজি শেখার দিকে আমার পুরো ফোকাস থাকতো। কারণ তিনি ভবিষ্যতের AI-কে “Physical AI” হিসেবে দেখেন — অর্থাৎ AI যা শুধু কম্পিউটারের কোডের মধ্যে নয়, বাস্তব জগতের সঙ্গে মিশে কাজ করবে।

এই Physical AI-তে এমন প্রযুক্তি রয়েছে যা গাড়ি, ড্রোন, ফ্যাক্টরি রোবট, মেডিকেল রোবোটিক্স, স্মার্ট ফার্মিং ও ক্লাইমেট টেকের মতো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। এসব ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সফটওয়্যার কোডিং নয়, পৃথিবীর পদার্থবিজ্ঞান, শক্তির গতিবিধি, বায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়া এবং মেটেরিয়াল সায়েন্স জানা আবশ্যক। ফ্রিকশন, জড়ত্ব, শক্তি সঞ্চালন — এসব নিয়ম না বুঝলে কার্যকর AI সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব নয়।

গত দুই দশকে কোডাররা রাজত্ব করলেও এখন কোডিং নিজেই AI দ্বারা অটোমেটেড হয়ে যাচ্ছে। GPT-4o, Gemini, Claude প্রভৃতি মডেল প্রায় সব রকম কোডিং করতে সক্ষম। তাই শুধু কোড লিখতে পারাটা আর বিশেষ কিছু নয়। আসল ফোকাস থাকা উচিত কোডিংয়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ের গভীর জ্ঞান মিলিয়ে AI সিস্টেম তৈরি করতে পারার ওপর।

রোবটিক্সের উদাহরণ নিই — একটা রোবটের হাত দিয়ে ডিম তুলতে গেলে শুধু কোড লেখা নয়, সেন্সর, সফট রোবোটিক্স, বায়োমেকানিক্সের জ্ঞান থাকা জরুরি। আবার AI-ভিত্তিক ড্রাগ ডিসকভারি সফল হতে হলে রসায়ন এবং বায়োলজির গভীর বোঝাপড়া থাকা লাগবে।

Tesla, DeepMind, Figure AI-এর সাফল্য প্রমাণ করে, শুধু সফটওয়্যার নয়, বাস্তব জগতের নিয়ম বুঝে AI বানানোই আগামী দশকের মূল চাবিকাঠি।

হুয়াংয়ের এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে বড় বাজি — AI-র সঙ্গে হার্ডওয়্যার, সেন্সর ফিউশন, কাস্টম সিলিকন এবং রোবোটিক্স নিয়ে কাজ। অর্থাৎ AI এখন শুধু মস্তিষ্ক নয়, তার সঙ্গে শরীরও চাই।

বাংলাদেশের ছাত্র-যুবকদের জন্য স্পষ্ট বার্তা — শুধু কোড শেখা আর যথেষ্ট নয়। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, বায়োলজি সহ যেকোনো ডোমেইনে AI-র জ্ঞান মেলানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এটাই আগামী দিনের সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দেয় এমন স্কিলসেট।

সুতরাং প্রশ্ন হলো, আমরা কি এই নতুন যুগের জন্য প্রস্তুত? কোডিংয়ের সঙ্গে অ্যাটম এবং এলগরিদম দুটোই একসঙ্গে শেখার জন্য? কারণ আগামী AI-র শক্তি আসবে মস্তিষ্ক আর শরীরের পারফেক্ট কম্বিনেশন থেকে।

মনে রাখতে হবে আগামীর পৃথিবী হবে AI এর পৃথিবী l

যখন তরুণ মালদিনি এসি মিলানের জার্সি গায়ে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু করেন, তখন তার প্রতিপক্ষ ছিলেন মারাদোনা, লোথার মাথাউস, প্ল...
05/07/2025

যখন তরুণ মালদিনি এসি মিলানের জার্সি গায়ে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু করেন, তখন তার প্রতিপক্ষ ছিলেন মারাদোনা, লোথার মাথাউস, প্লাতিনি, রুমেনিগে-এর মতো ফুটবল কিংবদন্তিরা।

এরপর এলো ভ্যান বাস্টেন, বাজিকো, গুলিট, বাতিস্তুতা, রোনালদো নাজারিও, জিদান, দেল পিয়েরোর মতো মহাতারকারা।
সবাই এসেছেন, খেলেছেন, বিদায় নিয়েছেন। মালদিনি ছিলেন।

তার ক্যারিয়ারের শেষদিকে যখন তিনি ৩৯-৪০ বছর বয়সে খেলছেন, তখন প্রতিপক্ষ দলে ছিলেন তরুণ মেসি, টরেস, কাকা, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
তবুও তিনি ছিলেন একইরকম ঠান্ডা মাথার, একইরকম নিখুঁত, একইরকম শ্রদ্ধার পাত্র।

মারাদোনা থেকে মেসি পর্যন্ত সময়কে পেরিয়ে যাওয়ার নাম মালদিনি।
তিনি শুধু সময় টিকে ছিলেন না, বরং প্রতিটি সময়েই ছিলেন সেরা।

একজন ডিফেন্ডার হয়েও তিনি ছিলেন বিশ্বসেরা তারকাদের চেয়েও বড়।
যখন তরুণ ছিলেন, তখন মারাদোনাকে পেয়েছেন প্রতিপক্ষ হিসেবে।
যখন শেষপ্রান্তে ছিলেন, তখন রোনালদোকেও পেয়েছেন প্রতিপক্ষ হিসেবে।

৯০২ ম্যাচ, ২৫ বছরের ক্লাব ক্যারিয়ার, একমাত্র ক্লাব এসি মিলান।
৭টি সিরি আ, ৫টি ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়নস লিগ, ১টি কোপা ইতালিয়া,
৩ বার চ্যাম্পিয়নস লিগ রানার আপ,
বিশ্বকাপ ফাইনাল ও ইউরো ফাইনাল খেলেছেন দেশের হয়ে।

ইতালির হয়ে ১২৬ ম্যাচ, ৭বার বর্ষসেরা ডিফেন্ডার,
আর কখনও লাল কার্ড না দেখা এক বিস্ময়কর ক্যারিয়ার।

তাঁর জন্য কোনো অতিরঞ্জনের দরকার হয় না।
তিনি ছিলেন মাঠে শ্রেণির প্রতীক, ডিফেন্সের কবি, স্টাইল ও শৃঙ্খলার এক নিরব কিংবদন্তি।

শুভ জন্মদিন পাওলো চেজারে মালদিনি ❤️ ভালোবাসা নিবেন।

বিঃ দ্রঃ লেখা ও ছবি সংগৃহীত।

আপনি কি জানেন এমন একটি স্থান আছে, যেখানে সভ্যতা হঠাৎ থেমে যায়, আর প্রকৃতি তার অনন্ত রাজত্ব গড়ে তোলে?  কথা বলছি ব্রাজিলের...
20/03/2025

আপনি কি জানেন এমন একটি স্থান আছে, যেখানে সভ্যতা হঠাৎ থেমে যায়, আর প্রকৃতি তার অনন্ত রাজত্ব গড়ে তোলে? কথা বলছি ব্রাজিলের মানাউস শহর ও বিশাল আমাজন রেইনফরেস্টের সংযোগকারী সীমানা নিয়ে—

এক পাশে একটি আধুনিক শহর— গাড়ির আওয়াজ, সুবিশাল অট্টালিকা এবং নগরজীবনে পরিপূর্ণ। আর অন্য পাশে এক গাঢ় সবুজ বনভূমির হাতছানি, যা দিগন্তকে পর্যন্ত গ্রাস করে নেয় এবং বিস্মৃত সময়ের নিস্তব্ধ নিঃশ্বাস ছাড়ে।

উপর থেকে দেখলে, যেন এই দুই ভিন্ন জগতের সীমানা একটি বড় দেয়ালে আলাদা করা হয়েছে । হাটঁতে হাটঁতে কখন যে অ্যাসপাল্ট আর কংক্রিট হঠাৎ করেই মিলিয়ে যায় টেরই পাওয়া যায় না , আর সেখান থেকেই শুরু হয় হাজার হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত ঘন অরণ্যের চাদর। আমাজনের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই মানাউস শহর। শহরটি দিন-রাত আলোকিত থাকে, কিন্তু কয়েক কদম দূরেই প্রকৃতির সাম্রাজ্য শুরু হয়, যেখানে সময় ধীর হয়ে আসে, আলো মৃদু হয়ে আসে, বাতাস আর্দ্রতায় ভারী হয়ে ওঠে, আর জীবন চলে এক ছন্দময় গতিতে।

এমন বৈপরীত্য পৃথিবীর খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়। মানাউসে, আকাশচুম্বী ভবনগুলো আকাশের দিকে মুখ করে থাকে, আর মাত্র কয়েক মিনিটের পথ পেরোলেই দেখা মেলে দৈত্যাকার আমাজনীয় গাছগুলোর, যারা হাজার বছর ধরে একইভাবে নীরবে আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে রেখেছে....
Courtesy;রাইসা ইসলাম.

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ পেলেও কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা প্রয়োজন ছাড়া তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে আসে...
19/03/2025

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ পেলেও কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা প্রয়োজন ছাড়া তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে আসেননি। রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত কোনো কিছু তিনি গ্রহণ করেননি। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে বিদেশি অতিথিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত উপহার তিনি সরকারি তোষাখানায় জমা দিয়েছেন। সাধারণ পোশাক-পরিচ্ছদই তাঁর সবসময় পছন্দ ছিল। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেকেই তাঁকে নতুন কিছু জামাকাপড় বা স্যুট তৈরির কথা বলেছিলেন। সেসব কথাকে তিনি আমল দেননি।

বলছি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কথা। অতীতে বা পরে নানা বিষয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের স্ত্রী, পারিবারিক সদস্য বা আত্মীয়স্বজনের যে দোর্দণ্ড প্রভাব ও হস্তক্ষেপ দেখা গেছে, সেখানে বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের ক্ষেত্রে এর এক কণা দেখা দূরের কথা, এ রকম কোনো কিছু শোনাও যায়নি। তাঁর স্ত্রী একবারের জন্যও বঙ্গভবনে আসেননি। রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যায়নি।

বিচারপতি সাহাবুদ্দীন থেকেছেন নিভৃতে, পরিবারের মধ্যে। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির সন্তান-সন্তানাদির কোনো কথা শোনা যায়নি। কারও জন্য ছিল না কোনো বিশেষ সুবিধা। তাঁর বাসভবনে কোনো আত্মীয়স্বজনের আসা-যাওয়া ছিল প্রায় নিষিদ্ধ। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সবসময় রাষ্ট্রীয় অর্থ বাঁচাতেন তিনি। নিয়ম থাকলেও নিজের পরিবারের প্রতিদিনকার বাজারের খরচ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নিতেন না সাহাবুদ্দীন আহমদ। এর বদলে নিজের পকেটের টাকা দিতেন।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, বিদেশে থাকা ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সতেরশ টাকার বিল রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নয় বরং নিজে দিয়েছেন। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন বক্তৃতা বা অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ক্যাসেট করিয়ে তার খরচ দিতে না পারলেও (এমন কোনো নিয়ম নেই বলে) একটি নতুন ভিডিও ক্যাসেট দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে।

বিচারপতিদের সাধারণত বেশ কিছুটা বিচ্ছিন্ন থাকতে হয় সমাজ থেকে। কিন্তু বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ তার চেয়েও বেশি সতর্ক ছিলেন। এসবই তিনি করেছেন রাষ্ট্রীয় নেতাদের জীবনযাপনের একটি নির্দিষ্ট মান তৈরির জন্য এবং সেখানেও তিনি সফল হয়েছেন।

সময়ানুবর্তিতার ব্যাপারে তাঁর তীক্ষ্ণ নজর ছিল। প্রতিদিন সকালে দৈনিক পত্রিকা পড়ার মধ্য দিয়ে দিনের কাজ শুরু হয় তাঁর। ঠিক সময়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন প্রতিদিন, ব্যতিক্রমহীনভাবে। কখনো কোনো ফাইল তাঁর টেবিলে পড়ে থাকেনি। অবসর সময়ে তাঁর নেশা ছিল বই পড়া।

ফেসবুক মনে করিয়ে দিচ্ছে গত কয়েকবছর ধরে আজকের এই দিনে প্রয়াত হবার পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও বিচারপতি সাহাবুদ্দীনকে নিয়ে কথাগুলো লিখেছিলাম। এই দেশে সুযোগ পেলেই পদে বসা লোকজন যেভাবে ক্ষমতার বাহাদুরি করে সেই বিবেচনায় তরুণ প্রজন্মসহ সবার জন্য আজ কথাগুলো আরেকবার লিখতে ইচ্ছে হলো।

বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সরকারি অর্থ খরচে যে মিতব্যয়িতা অবলম্বন করতেন সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান নিজের স্মৃতি কথায় তা লিখেছেন। তখন বিচারপতি লতিফুর রহমান মাত্রই আপীল বিভাগের বিচারপতি হয়েছেন। তাঁর মেয়ে রূম্পা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেড়াতে এসেছেন। তিনি বললেন পর্দার কাপড় তিনি পছন্দ করবেন। তাঁর মেয়ে যে পর্দার কাপড় পছন্দ করল তার প্রতিগজ মূল্য ১১০ টাকা। তিনি তৎকালীন রেজিস্ট্রারকে ডেকে বললেন, আমার মেয়ে ১১০ টাকা গজের কাপড় পছন্দ করেছে এবং ঐ ঘরের পর্দার জন্য দশ হাজার টাকার উপরে লাগবে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার বললেন, এটা কোন ব্যাপার না। পর্দা সময়মত এসে গেল এবং লাগানো হলো। অনেকদিন পর প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ বিচারপতি লতিফুর রহমানকে ডেকে বললেন, আপনার এক ঘরের পর্দার দাম এসেছে দশ হাজার টাকার ওপরে। অথচ প্রধান বিচারপতির বাসায় চল্লিশ টাকা গজের পর্দা লাগানো হয়।

বিচারপতি লতিফুর রহমান বললেন, তিনি সৌখিন লোক। তাছাড়া মেয়ে এটা পছন্দ করেছে। তিনি জানতে চাইলেন এখন তাকে কী করতে হবে। তখন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ বললেন, আপনি সাড়ে চার হাজার টাকা দিয়ে দিন। বাকিটা সরকার দেবে। ওইভাবে নোট লেখা হলো। বিচারপতি লতিফুর রহমান টাকা দিয়ে দিলেন। টাকা দেয়ার পর প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা বেড়ে গেল।

ভাবতেই ভালো লাগে, এই দেশে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের মতো অসাধারণ মানুষও ছিলেন!
আপনারা হয়তো জানেন, কখনও রাজনীতি না করেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে মানুষটির ভূমিকা অনন্য। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ছিলেন। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

এরশাদের পতনের পর রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে বসবেন কে; আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানই বা কে হবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলো। এই চরম বিভ্রান্তির মুহূর্তে কে হবেন রাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী প্রধান? কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির পদে? যিনি দায়িত্ব নেবেন তাকে যেমন হতে হবে নিরপেক্ষ তেমনি সবার কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে।

বাম জোটের পক্ষ থেকে হঠাৎ প্রস্তাব দেওয়া হলো সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নাম। মুহূর্তেই সবাই সেটা মানলেন। কারণ বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রতি সবার আস্থা ছিল। কিন্তু যখন সাহাবুদ্দীন আহমদকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলো, তিনি অস্বীকৃতি জানালেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তখন টেলিফোন করে সাহাবুদ্দীন আহমদকে বললেন, 'আপনি ছাড়া এই মুহূর্তে জাতিকে সংকট থেকে বের করতে পারে এমন কেউ নেই। আমরা আশা করি আপনি জাতিকে এই সংকট থেকে উত্তরণ করবেন।' তিনটি রাজনৈতিক জোটের পীড়াপীড়িতে একপ্রকার বাধ্য হয়েই তিনি প্রস্তাব গ্রহণ করবেন বলে জানালেন। তিনি তখন একটি শর্ত জুড়ে দিলেন। বললেন, 'যে দলই নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করুক, সরকার গঠনের পর যদি আমাকে দায়িত্ব পালন শেষে স্বপদে অর্থাৎ প্রধান বিচারপতির পদে ফিরিয়ে আনা হয় তবেই আমি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির পদ নিতে রাজি।'

রাজনৈতিক জোটগুলো তার প্রস্তাব মেনে নিল। এই দেশে সবাই ক্ষমতার সবচেয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে চান। আর সাহাবুদ্দিন আহমদ ফিরতে চাইলেন প্রধান বিচারপতি পদে। এজন্য অবশ্য সংবিধান পরিবর্তন করতে হয়। প্রথমবার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হলেও পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে রাষ্ট্রপতি করে। এবারও তাকে রাজি করাতে বেগ পেতে হয় আওয়ামী লীগকে।

২০০১ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন। যদিও এবার নানা বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাথে মতবিরোধ তৈরি হয়। ২০০১ সালে নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য লতিফুর রহমান ও তাঁকে দোষারোপ করা হয়। তবে অসাধারণ এই মানুষটি সকল মোহের ঊর্ধ্বে নিভৃতে তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকাজ শুরুর প্রস্তাব তিনি দিয়েছিলেন। শ্রদ্ধা মানুষটাকে।

সরকারি একজন কর্মকর্তা সারোয়ার আলম বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ও তাঁর দুই কন্যাকে নিয়ে লিখেছেন, অন্তর্মুখি এই বিশাল ব্যক্তিত্ব, মহান পুরুষ সম্পর্কে সম্ভবত বর্তমান প্রজন্ম অজ্ঞাত আর আমরা তখনকার প্রজন্ম বিস্মৃত। সারোয়ার আলম লিখেছেন, সম্ভবত ১৯৯৭/৯৮ সাল। তদানীন্তন মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই কন্যা সেতারা পারভীন ও সামিয়া পারভীন হুমায়রা আসবেন কলকাতায়। তখন আমি ডেপুটি হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব। প্রটোকলের সার্বিক গুরু ও সংবেদনশীল দায়িত্ব পড়লো আমার কাঁধে। ঊনারা কলকাতায় পৌঁছালেন।কিন্তু সমস্যা হলো কলকাতা বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে যেয়ে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতির মেয়ে, নিয়ম মতো পূর্ণ প্রটোকল পাবন। কিন্তু উনারা দূতাবাসের সরকারি গাড়িতে কিছুতেই চড়বেন না । পরে নিরাপত্তার কথা আর খরচ তাঁরাই বহন করবেন — এই প্রতিশ্রুতিতে মিশনের গাড়িতে সফরে রাজি করানো হলো। উপদূতাবাস আগে থেকে নিউমার্কেটের কাছে রাজ্য সরকারের অতিথিশালা ঊনাদের থাকার বন্দোবস্ত করে রেখেছিল। আমি অজস্র প্রটোকল করেছি। কিন্তু এই অতিথিশালায় এবারই প্রথম। বিমানবন্দর থেকে ঊনাদের নিয়ে এসে আমি কিংকর্তব্যবিমূড়। এটি এতোটাই সাদামাটা আর অগোছালো, কিন্তু ঊনারা দু জনেই তা সাদরে গ্রহণ করলেন।

আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন, সিতারা পারভীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বাবার মতোই ভীষণ বিনয়ী মানুষ। তিনি যে রাষ্ট্রপতির মেয়ে ছিলেন কখনোই বোঝা যেত না।
২০০৫ সালের ২৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় সিতারা পারভীন নিহত হন। আমি তখন বিডিনিউজে কাজ করি। দিনটি ছিল ভীষণ বিষাদের। সিতারার পারভীনের স্বামী আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলীও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এবং আরেকজন বিনয়ী ও অসাধারণ মানুষ।

যাই হোক সারোয়ার আলমের স্মৃতিচারণে ফিরি। তিনি লিখেছেন, একদিন শ্রদ্ধেয় সেতারা আপা জানালেন বাবা ( মহামান্য রাষ্ট্রপতি) রাতে প্রায় সাধারণ লুঙ্গি পরে লনে নেমে আসেন, অফিসারদের কাছে চলে যান। ঊনি তাই রাতের ঘুমানোর পোশাক পায়জামা ও কোর্তা বাবাকে উপহার দিতে কিনতে চান। কারণ বাবা নিজে তা কিনবেন না। একদিন উনাদের কলকাতার এসি মার্কেটসহ সেসময়ের বড় শপিং মলে নিয়ে গেলাম। কিন্তু বাঁধ সাধলো দাম।

বেশি দাম দিয়ে কিনলে আর আড়ম্বরপূর্ণ হলে যে পিতা সাহাবুদ্দীন আহমদ তা গ্রহণ করবেন না! পরে অনেক খুঁজেটুজে গড়িয়াহাটের সাধারণ মার্কেট থেকে কেনা হলো — তদানীন্তন মাননীয় রাষ্ট্রপতির জন্য — সস্তায় ও অতি সাধারণ মানের নাইটি বা রাতের পোশাক। পিতার মতোই সন্তানেরাও নম্র, ভদ্র; চিন্তা, চেতনা ও কর্মে সৎ এবং পূর্ণ আদর্শবান । এমন সাটামাটা জীবনযাপন ও আদর্শবান মানুষ ভবিষ্য প্রজন্মের কাছে অনুপ্রণীয় শুধু নয় পুরোটা অনুসরণীয়।

আমরা ভারতের রাষ্ট্রপতি এপিজে কালামকে নিয়ে এমন অনেক ঘটনা জানি। অথচ বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে নিয়ে এগুলো সেভাবে প্রচার হয়নি। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ দেশে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং গণতন্ত্রের সঠিক উত্তরণ; বিচার, সংবিধান ও শাসন পরিচালনায় সততা, শুদ্ধতার বিরল সব দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।

আজ কথাগুলো আবার লেখার কারণ, সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ২০২২ সালের আজকের দিনে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীত তাকে শ্রদ্ধা। দোয়া করি আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। আমাদের সৌভাগ্য এই দেশে এমন মানুষ ছিলেন। কাজেই সেই গল্পগুলো ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি যাতে চারপাশে খারাপের ভীড়ে আমরা সততার চর্চা হারিয়ে না ফেলি! বিশেষত এই দেশের নানা পদে থাকা ক্ষমতাসীন মানুষগুলোর কাছে অনুরোধ, বিচারপতি সাহাবুদ্দিনকে অনুসরণ করতে পারেন। কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট কী জিনিস তা বিচারপতি শাহাবুদ্দিনকে দেখে শিখতে পারেন।

- Courtesy Hasan

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি না থাকায়; তারা একটি ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকায় ছাত্ররাজনীতি...
12/03/2025

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি না থাকায়; তারা একটি ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকায় ছাত্ররাজনীতি না থাকায়; যোগ্য নেতৃত্ব বিকশিত হতে পারে না। ফলে নেতৃত্বের অভাবে আমেরিকা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আপনি জেনে অবাক হবেন- ছাত্ররাজনীতি না থাকায় রাশিয়া, চীন, জাপানের ছাত্ররা অধিকার বঞ্চিত। তাদেরকে হলে হাফ ইঞ্চি সাইজের মাংসের পরিবর্তে এক বাটি মাংস দিয়ে জুলুম করা হয়। ছাত্ররাজনীতি না থাকায়; তারা ক্যান্টিনে ফাও খেতে পারে না। ছাত্ররাজনীতি না থাকায়; পাবলিক বাসের ড্রাইভার, মেইন গেটের দোকানদার মামা, অটোওয়ালা মামা কেউ তাদের দাম দেয় না।
পৃথিবীর যেসব দেশে ছাত্ররাজনীতি নেই। তারাই ব্যর্থ দেশে পরিনত হয়েছে। কানাডা, ফ্রান্স, সৌদি আরব, রাশিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া যার উজ্জ্বল উদাহরণ।
© copied.

Address

Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ARCHITECT nasir uddin DEEDAR posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to ARCHITECT nasir uddin DEEDAR:

Share