07/10/2017
একজন আর্কিটেক্ট। সারাজীবন অন্যের বাড়িঘরেরই ডিজাইন করে গেছেন কিন্ত নিজের বাড়ির ডিজাইনটা আর করতে পারেন নি। ৩ ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন এক ভাড়া বাসায়।
তিনি যে আর্কিটেক্ট ফার্মে কাজ করতেন সেটাতে বেতনাদি মোটামুটি পেতেন। কম করে হলেও ৬০ টি বিল্ডিং একাই ডিজাইন করেছেন, তদারকি করেছেন প্রথম ইটের গাঁথুনি থেকে দেয়ালে শেষ রংতুলির আঁচড় দেয়া পর্যন্ত।
হঠাৎ একদিন ফ্যামিলিকে না জানিয়ে ফার্মের ডিরেক্টরের কাছে আবেদন করলেন তার পক্ষে আর চাকুরী করা সম্ভব নয়। শেষ জীবনটা পরিবারের সাথে গ্রামের বাড়িতেই কাটিয়ে দিবেন।
ডিরেক্টর সব শুনলেন, মনে মনে ভাবলেন - তার মত একজন আর্কিটেক্টের খুব প্রয়োজন ছিল। যাই হোক, তারপর উনাকে বললেন - আমাদের একটা বাড়ির প্রজেক্ট আছে, আপনি প্লিজ এই শেষ কাজটা করে আমার অনুরোধটা রাখুন।
কথামত বাড়ির ডিজাইন শুরু করা হল। কিন্তু আর্কিটেক্টের কাজ দেখে মনে হচ্ছে সে অন্যমনস্ক, মন দিয়ে কাজ করছেনা। কোনমত একটা নকশা দাঁড় করিয়ে বাড়ি তৈরীর কাজ শুরু করে দেয়া হল। কাজ চলছে। এদিকে আর্কিটেক্ট বাড়িটার কাজের কোন কিছুই দেখভাল করছেন না মন দিয়ে।
একদিন বাড়ির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হল। ঐ ডিরেক্টর আসলেন বাড়ি দেখতে। আর্কিটেক্ট চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে ডিরেক্টর তাকিয়ে বললেন- হ্যালো, কেমন আছেন? আপনি একটু এদিকে আসুন। আর্কিটেক্ট কাছে যেতেই ডিরেক্টর তাকে অবাক করে দিল।
- "এই চাবিটা রাখুন। বাড়ির সদর দরজার চাবি এটা। আপনাকে বাড়িটা উপহার দিলাম।"
আর্কিটেক্ট বেচারা হা করে দাঁড়িয়ে আছে। কি বোকামি করল সে। মনে মনে ভাবছে, যদি আগে জানতে পারতাম যে এইটা আমার বাড়ি হবে, তাহলে কি এমন জঘন্যভাবে বাড়ির ডিজাইনটা করতাম, আর এভাবে ঢিলেঢালা ভাবে কাজের তদারকি করতাম!
হ্যা জীবন এমনই। জীবনটা ঠিক বুমেরাংয়ের মত। আমরা এই মুহুর্তে যে কাজটি করছি সেটার ফলাফল কোন না কোন ভাবে আমার কাছেই ফিরে আসবে। অবেচতন মনে যে কাজটি অন্যের মনে করে করছি, সেটা কিন্তু ঐ বাড়ির মত নিজের ভাগ্যেও এসে পড়তে পারে। ভুলে গেলে চলবেনা- “Life is a do-it-yourself project. Your attitude, and the choices you make today, help build the house you will live in tomorrow. Therefore, Build it wisely".