08/12/2024
#ডিসেম্বর মাসে যে-সব শাকসবজি চাষ করতে পারেন।
১। টমেটো চাষ: টমেটো একটি উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন সবজি যা ডিসেম্বর মাসে চাষ করা যায়। দেশি জাতসহ যেকোনো প্রকার হাইব্রিড জাত আমরা এই মাসে রোপণ করতে পারি। এই মাসে টমেটো রোপণ করলে রোগ বালাই যেমন কম হবে তেমনি ফলন ও লাভজনক বেশি হবে। টমেটোর ভালো ফলন পেতে এখনই চারা সংগ্রহ করে লাগিয়ে দিন।
২। আলু চাষ: আলু বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসলের মধ্যে অন্যতম। আর এই ডিসেম্বর মাসেও আলু চাষ করা যায়। আলুর ভালো ফলনের জন্য অবশ্যই ভালোমানের বীজ সংগ্রহ করতে হবে এবং রোপণের পূর্বে বীজ শোধন করে নিতে হবে।
৩। মিষ্টি কুমড়া চাষ: বাজারে মিষ্টি কুমড়ার ভালো দাম পাওয়া যায় এবং মিষ্টি কুমড়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলন এবং অল্প সময়ে অধিক মিষ্টি কুমড়া পেতে অবশ্যই হাইব্রিড বীজ রোপণ করতে হবে। আপনারা বাসার ছাদ, বসত বাড়ির আশেপাশে অথবা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মিষ্টি মিষ্টি কুমড়া বাস করতে পারেন এই ডিসেম্বর মাসে।
৪। স্কোয়াশ চাষ: স্কোয়াশ একটি লাভ জনক সবজি। বর্তমানে বাজারে এর বেশি চাহিদা থাকায় এটি চাষ করে খুব সহজেই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। মাত্র ৩৫ থেকে ৪৫ দিন এর মধ্যে ফলন পেতে অবশ্যই হাইব্রিড জাতের বীজ রোপণ করতে হবে। বীজ রোপণের পূর্বে অবশ্যই দেখে নিবেন জাতটি অধিক ফলনশীল কি না।
৫। লাউ চাষ: শীতকালীন সবজি হিসেবে লাউ অনেক জনপ্রিয়। তবে এখন সারাবছর লাউ চাষ করা হয়। সাধারণত শীতকালের লাউ বেশ সুস্বাদু হয়। বাসার ছাদ, বসত বাড়ির আশেপাশে সহজে লাউ চাষ করা যায়। চারার ভালো জার্মিনেশনের জন্য পলি ব্যাগ বা ছোট কাপে বীজ জার্মিনেশন করে পরবর্তীতে ১৫-২০ দিন পরে রোপণ করতে পারেন।
৬। ফুলকপি চাষ: এই ডিসেম্বর মাসে ফুলকপি চাষ করতে পারেন। ফুলকপি চাষের জন্য ভালো মানের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করবেন। মুখ সহজেই বাড়ির আশেপাশের পরিত্যক্ত জমিতেও চাষ করতে পারেন। শীতের সময় ফুলকপির ফলন ভালো হয়ে থাকে।
৭। বাঁধাকপি চাষ: ফুলকপির ন্যায় বাঁধাকপিও চাষ করতে পারেন ডিসেম্বর মাসে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো মানের চারা সংগ্রহ করে জমিতে লাগাতে হবে।
৮। ক্যাপসিকাম চাষ: ক্যাপসিকাম একটি উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সবজি যা, সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায়। আর শীতকালে ক্যাপসিকাম অনেক ভালো চাষ হয়ে থাকে। এইজন্য ভালো মানের উচ্চ ফলনশীল জাত নির্বাচন করতে হবে।
৯। মরিচ চাষ: এই ডিসেম্বর মাসের মরিচ চাষ করতে পারেন। মরিচের ভালো ফলনের জন্য অবশ্যই ভালো মানের চারার প্রয়োজন। এইজন্য আপনারা ভালো জাতের মরিচের চারা বা বীজ সংগ্রহ করতে হবে। বাসার ছাদ, বসত বাড়ির আশেপাশে কিংবা বারান্দাতেও মরিচ চাষ করা যায়।
১০। পেঁয়াজ ও রসুন চাষ: পেঁয়াজ ও রসুন মসলা জাতীয় উদ্ভিদ যা শীতকালে ভালো ফলন হয়ে থাকে। প্রথমেই রসুনের কোয়া এবং ছোট আকারের পেঁয়াজ বিভিন্ন ছত্রাক নাশক দিয়ে শোধন করে দুই-একদিন বালুর মধ্যে রেখে দিলেই শিকর গজিয়ে যাবে। তারপরে মূল জমিতে রোপণ করতে পারেন। দেখবেন কিছু দিনের মধ্যেই জমিতে সবুজে করে উঠতে উঠবে।
১১। গাজর চাষ: গাজরের চাষ শুধু মাত্র শীতকালে হয়ে থাকে। এইজন্য ডিসেম্বর মাসে গাজরের চাষ করতে পারেন। গাজরের ভালো ফলনের জন্যে ভালো মানের বীজের প্রয়োজন। আপনারা খুব সহজে বাসার ছাদ, বসত বাড়ির আশেপাশে ছোট পরিসরে গাজর চাষ করতে পারেন। ছোট পরিসরে গাজর চাষ করে খুব সহজে পরিবারে চাহিদা মেটানো যায়।
১২। পালং শাক চাষ: পালং শাক ছোট-বড় সবাই পছন্দ করে। আর পালং শাক চাষও অনেক সহজ। এর জন্য তেমন কোনো খাটাখাটনির প্রয়োজন নেই। বাজার থেকে বীজ কিনে জমিতে ছিটিয়ে দিলেই দেখবেন কিছু দিনের মধ্যেই চারা গছিয়ে যাবে। এরপর ১ মাসের মধ্যে পালং শাক খাওয়ার উপযোগী হয়ে যাবে।
আপনারা এই ডিসেম্বর মাসে লেটুস, বথুয়া শাক, ধনেপাতা, মুলা, বিট, শালগম, ব্রকলি, ফুলকপি, ফ্রেঞ্চ বিনস, শীম, মটরশুঁটিসহ আরও অনেক সবজি চাষ করতে পারেন। সকল প্রকার সবজি চাষ করার পূর্বে অবশ্যই জমি চাষের জন্য প্রস্তুত করতে হবে এবং জমির সমস্ত আগাছা পরিষ্কার করে নিতে হবে। পনি নিষ্কাশনসহ ছত্রাকনাশক স্প্রে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। কারণ শীতকালে কুয়াশা থাকার কারণে ফসলে সহজে ছত্রাকের আক্রমণ করতে পারে। এই জন্য নিয়মিত ছত্রাকনাশক এবং কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।