খামারবাড়ী KhamarBari

খামারবাড়ী KhamarBari কিছু মানুষের স্বপ্নের আর এক নাম খামারবাড়ী

01/06/2026

little girls, enjoying their moments 👭

01/06/2026
একটা গাছ থেকে সংগৃহীত পেঁপে। টানা বৃষ্টিতে গোড়া নরম হয়ে উল্টে গেছে।
06/08/2025

একটা গাছ থেকে সংগৃহীত পেঁপে।
টানা বৃষ্টিতে গোড়া নরম হয়ে উল্টে গেছে।

খামারবাড়ির ঈদ আমেজ চলে গেলো হাটে ✨🐄🐂
05/06/2025

খামারবাড়ির ঈদ আমেজ চলে গেলো হাটে ✨🐄🐂

02/01/2025

🐋🐋🦈

প্রচুর হাসতে হবে। লবঙ্গ আর আর দারুচিনির ঘ্রাণের মতো নিজেকে তাজা রাখতে হবে। হাওয়াই মিঠাই এর মতো রঙীন থাকতে হবে। আরো অনেক ...
13/12/2024

প্রচুর হাসতে হবে। লবঙ্গ আর আর দারুচিনির ঘ্রাণের মতো নিজেকে তাজা রাখতে হবে। হাওয়াই মিঠাই এর মতো রঙীন থাকতে হবে। আরো অনেক পড়তে হবে। লেখক, কবি, শিল্পীদের প্রতি আরো দরদী হতে হবে। জীবনের সমস্ত উঠোন জুড়ে শুদ্ধদের প্রিয় বানিয়ে রাখতে হবে। মিনিমালিস্ট লাইফ লিড করতে হবে।

নর্দান লাইট দেখার জন্য নরওয়ে যেতে হবে। জীবনের মধ্যে আরো অসংখ্য নদী, সাগর, পাহাড়, ফরেস্ট, মহাদেশ এনে ঢুকাতে হবে।

অল্পতেই দমে যায় যারা, তাদেরকে আরো সাহস দিতে হবে। মনোবল বাড়াতে সরল মানুষদের সুন্দর সুন্দর কমপ্লিমেন্টস দিতে হবে। আগের জেনারেশনের জাত, পাত, বংশ, সার্টিফিকেট, সম্পদ, স্ট্যাটাস দেখে জাজ করার ভুলভাল এপ্রোচকে ‘নো মোর’ বলে বেরিয়ে আসতে হবে।

অনেক গাছ লাগাতে হবে, সবুজের যত্ন নিতে হবে। প্লাস্টিকের ইউজ কমাতে হবে। নদী আর সাগর ক্লিন রাখার জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। দুনিয়া খুব সুন্দর করে আগামী প্রজন্মের জন্য গুছিয়ে রেখে যেতে হবে। আর…শেষ দিন পর্যন্ত রবের কাছে এই ব্লেসড লাইফটার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে….!

ম্যানিফেস্টিং এ পিসফুল লাইফ......

সাভার ডেইরি ফার্ম 🐄
03/12/2024

সাভার ডেইরি ফার্ম 🐄

Big shout out to my newest top fans! 💎 Sabiha Sultana, Shi L ADrop a comment to welcome them to our community,  fans
03/12/2024

Big shout out to my newest top fans! 💎 Sabiha Sultana, Shi L A

Drop a comment to welcome them to our community, fans

রোদ, জল, হাওয়া
01/11/2024

রোদ, জল, হাওয়া

গাছে জল দেওয়া ...এটা আবার কোনো ব্যাপার নাকি ! সবাই তো গাছে জল দেয় । আপনি আবার নতুন কি শেখাবেন ?

জেনে রাখুন , একশো জনের মধ্যে অন্তত নব্বই জন গাছে জল দেয় ভুল ভাবে বা ভুল পরিমাণে ! একজন সফল বাগানী আর একজন এভারেজ বা খারাপ বাগাণীর মধ্যে তফাৎটা অনেকটাই কিন্তু এই জল দেওয়াতে । বিশ্বাস না হলেও এটাই কিন্তু সত্যি !

খুব সাধারণ একটা জিনিস , কিন্তু অনেকটা পার্থক্য গড়ে দেয়। এমনকি টবের গাছের সমস্যার নব্বই শতাংশ এই জল দেওয়ার গণ্ডগোল থেকেই আসে!

দশ বারোটা জিনিস আপনাদের জানানো আছে জল নিয়ে , আজ প্রথমটা বলি ... পোস্টটা দীর্ঘ হবে , তবে পড়লে উপকার পাবেন। ধৈর্য্য ধরে রাখতে না পারলেও গোটাটা পড়ুন।

১. জল বুঝে জল দেওয়া : সব জায়গার জল টবের গাছের জন্য উপযুক্ত না । মাটির গাছ অনেকটা জায়গা জুড়ে থাকে আর মাটির নিচে জলের লেয়ার থেকে জল নেয় বলে বাইরে থেকে আপনি কি জল দিচ্ছেন সেটা খুব একটা ম্যাটার করে না । কিন্তু টবের জায়গা যেহেতু খুব ছোটো তাই আপনি কি জল দিচ্ছেন সেটা খুব খুব ম্যাটার করে।

শহরের দিকে অনেক জায়গার জল ভালো না । বিশেষ করে কলকাতার জল। নিউটাউন বা সল্টলেকের কথা তো ছেড়েই দিলাম। আয়রনে ভর্তি , সাথে ক্লোরিন । গাছের জন্য খুব খুব ক্ষতিকর।

শহরের দিকে অনেকে ভালো গাছ , ভালো মিডিয়াতে বসিয়েও গাছ নিয়ে সারাবছর সমস্যায় থাকেন এই একটাই কারণে। গাছকে ঠিক শেপে আনতে এটা ওটা করে যাচ্ছেন , অথচ জলটা দিচ্ছেন খারাপ জল ! আসলে জল যে গাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এটা সবাই জানে , সবাই পড়েছে .....কিন্তু ওই যে , বইয়ের জিনিস মাথায় গেছে কিন্তু আত্মস্থ হয়নি ।

একই গাছ , একই জায়গায় , একই মিডিয়াতে কিন্তু একটা ভালো জলে আর একটা খারাপ জলে গ্রো করুন । দেখবেন আকাশ পাতাল তফাৎ দেখতে পাবেন।

নিজের এক্সপেরিমেন্ট এর রেজাল্ট নিজের চোখের সামনে দেখলে যে জ্ঞানটা হবে সেটা আপনার আত্মার সাথে মিশে যাবে । আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এই ফার্স্ট হ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স এর ওপর বিন্দুমাত্র জোর দেওয়া হয় না । তাই বাচ্চাগুলো যা পড়ছে , মাথায় রাখছে.... আত্মস্থ করছে না!
গাছের প্রাণ আছে সবাই জানে, ফিল করবেন তখন যখন একটা বীজ থেকে গাছ করবেন । বীজ ফুঁড়ে একটুখানি সবুজ কিছু একটা বেরোলো , তারপর একটা পাতা থেকে দুটো পাতা, দুটো থেকে চারটে .... চোখের সামনে দেখলে তবে না ফিল করবেন যে গাছের প্রাণ আছে!

এই ফিলিংসটা দরকার। নাহলে চোখের সামনে একটা প্রজন্মকে মোবাইল , কম্পিউটার ঘেঁটে বড়ো হতে দেখছি যাঁদের মাটির সাথে কোনো যোগাযোগ নেই! আজ থেকে তিরিশ চল্লিশ বছর বাদে এই প্রজন্মটা যখন বড়ো হবে , যখন বুঝতে শিখবে মেশিন টাকার যোগান দিতে পারে , শান্তি দিতে পারে না .....তখন কোথায় যাবে শান্তি খুঁজতে?

দিন না আপনার ছোটো বাচ্চাটাকে কয়েকটা ছোলা বা মটরের দানা আর একটু মাটি ...যেকোনো মাটি , হাতের কাছে যেটা পাবেন। গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি এই ছোট্ট বিনা পয়সার কাজের জন্য বৃদ্ধ বয়সে আপনাকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হবে না .....কারণ আপনার বাচ্চাটি খুব ছোট্ট বয়স থেকে অন্যের কেয়ার নিতে শিখবে ।

বোধহয় অহেতুক জ্ঞান দিয়ে ফেললাম , যেটা অনেকের পছন্দ হবে না । মাফ করবেন..

হ্যা , যেটা বলছিলাম ... তাহলে শহরের জল বেশিরভাগ জায়গায় খুব খারাপ। তাহলে উপায় ?

যাঁদের বাড়িতে ওয়াটার ফিল্টার আছে , তারা ওই জল ব্যবহার করুন । তবে টেকনিশিয়ান কে বলবেন TDS 150 রাখতে। অনেকে না জেনে বা না বুঝে বাড়ির ওয়াটার ফিল্টার এর TDS অনেক কমিয়ে রাখেন। TDS মানে টোটাল ডিসলভ সলিড .... একশো বা তার কম TDS জল মানুষের জন্যও খারাপ । এতে মিনারেল প্রায় থাকে না বললেই চলে । এই জল দিনের পর দিন খেলে আপনার বোন ডেনসিটি কমবে , অস্টিওপোরেসিস হবে ... শারীরিক ভাবে সবসময় দুর্বল মনে হবে । সবসময় ক্লান্ত থাকবেন ।

যদি আপনার এই লক্ষণগুলো থাকে , বাড়িতে ওয়াটার ফিল্টার এর TDS চেক করুন । খুব লো থাকলে বাড়িয়ে দিন । যখন সার্ভিসিং করতে আসবে ওদের বলবেন , একটা নব থাকে একটু ঘুরিয়ে দিলেই TDS এডজাস্ট হয়ে যাবে। আর আপনিও আমাজন থেকে একটা TDS মিটার কিনে নিন , দাম বেশি হয় না , ওই তিনশোর মধ্যে ভালো মিটার পেয়ে যাবেন ।

মানুষের টোটাল বডি ওয়েটের একটা বড়ো অংশ হলো জল । এই জায়গাটায় কম্প্রোমাইজ করবেন না। যেগুলো বললাম মাথায় রাখবেন না , আত্মস্থ করুন।

গাছের জন্যও তাই। খুব কম TDS জল দিনের পর দিন গাছে দিয়ে গেলে গাছ দূর্বল হয়ে যাবে ।

যাঁদের এলাকায় জল খুব খারাপ এবং বাড়িতে ওয়াটার ফিল্টার নেই , তারা একটা বড় জায়গায় জল অন্তত 24 ঘণ্টা ধরে রেখে তারপর সেই জল গাছে দিন। ক্লোরিন , যেটা গাছের সবথেকে বেশি ক্ষতি করে সেটা অনেকটাই উবে যাবে। খানিকটা সেডিমেন্ট নিচের দিকের জলে চলে যাবে। জলের হার্ডনেস কমানোর জন্য ট্যাবলেট পাওয়া যায় , দাম খুব বেশি না । একটা ট্যাবলেট ফেলে দিন , অনেকটাই TDS কমে যাবে।

এই গেলো যাঁদের এলাকায় জল খারাপ তারা কি করবেন । কিন্তু ভালো জল আসলে কোনটা?

যে জলে মাছ থাকে সেটা গাছের জন্য খুব ভালো । যে জলের নিচে জলজ গাছ থাকে সেই জল গাছের জন্য ভালো। তাই বাড়ির পাশে পুকুর থাকলে সেই জল গাছে দিন , রেজাল্ট এক মাসের মধ্যে দেখতে পাবেন । এই জল ভালো কারণ এই জলের মধ্যে অর্গানিক কন্টেন্ট থাকে প্রচুর।

বাড়িতে আকোয়ারিয়াম থাকলে রোজ একটু করে জল তুলে গাছে দিন । মাছের গায়ে একরকম পিচ্ছিল পদার্থ থাকে যেটা অনেক উপকারী ফাঙ্গাস , ব্যাকটেরিয়া কে ইনভাইট করে নিয়ে আসে । সেই কারণে মাছ ধোয়া জল গাছের জন্য খুব খুব ভালো । তবে এটা কেবলমাত্র যে গাছ খোলা জায়গায় সারাদিন রোদের মধ্যে থাকে সেগুলোতে দেবেন , ইনডোর গাছে দেবেন না । এই জল দেওয়ার পর রোদ না পেলে অন্য ইস্যু চলে আসবে । গন্ধ হবে , পোকামাকড় হবে , গাছে ফাঙ্গাস এর সমস্যা হবে ..... মোরাল অফ দ্যা স্টোরি ...আপনাকে গাছ করতে হবে বুঝে , জেনে।

বৃষ্টির জল গাছের জন্য খুব খুব ভালো । কারণ এতে অক্সিজেন এর পরিমাণ খুব বেশি । মাটিতে যতো বেশি অক্সিজেন এর সাপ্লাই থাকবে , মাটিতে মাইক্রবিয়াল একটিভিটির বাড়বাড়ন্ত হবে। হেলদি মাটি মানেই কিন্তু এই মাইক্রোব দের নিয়ে একটা সুন্দর ইকোসিস্টেম!
আপনার টবের গাছের জন্য বৃষ্টির জল একদম বিরিয়ানির মতো! দিলেই গাছ সুন্দর বাড়বে। তাই বর্ষাকালে দেখবেন বেশির ভাগ গাছের বাড়বাড়ন্ত দেখা যায় ।
বৃষ্টির জলের ph নিউট্রাল । আপনার টবের মাটি কোনো কারণে অতিরিক্ত অম্ল বা অতিরিক্ত ক্ষারীয় হয়ে গিয়ে থাকলে বৃষ্টির জল পেলে মাটি শোধন হবে । অতিরিক্ত অম্ল বা ক্ষারীয় মাটি থেকে গাছ ঠিকভাবে পুষ্টি নিতে পারে না ।

মাটির ph জানা খুব খুব জরুরি ভালো গাছ করতে হলে। এটা একটা বড়ো বিষয় , কোনোদিন সময় পেলে জানাবো।

যাইহোক বৃষ্টির জল ঠিকভাবে ধরে রেখে সারা বছর ব্যাবহার করতে পারেন , যদি জায়গা থেকে। শহরের মানুষ আর কোথায় পাবে অত জায়গা।

অনেক গ্রুপেই দেখি অনেক অভিজ্ঞ মানুষ লোকজনকে চাল ধোয়া জল , মাছ মাংস ধোয়া জল এসব গাছে দিতে বলেন । কিন্তু কোন ক্ষেত্রে দেওয়া যাবে আর কোন জায়গায় দেওয়া যাবে না সেটা নিয়ে বিস্তারিত বলেন না। আধা জ্ঞান মারাত্মক ...

গাছের ব্যাপারে আমার একটা মত আছে। সেটা হলো গাছের যত্নের কোনো একটা মেথড হয় না। নানা মুনির নানা মত ....হয়তো সবকটাই ঠিক । সমস্যাটা হয় যখন নানা মুনির নানা মত নিয়ে আপনি নিজের মাথার মধ্যে একটা জগা খিচুড়ি বানিয়ে সেটা গাছে প্রয়োগ করেন । গাছগুলো নিতে পারে না...

আপনাকে হ্যাপিলি হেল্প করবেন এরকম কাউকে খুঁজে নিন। যাকে আপনার মনে ধরে । তারপর শুধু তাকেই ফলো করুন । বাকি সব জায়গা থেকে নিজেকে একদম ব্লক করে রাখুন । গাছবিদ্যা গুরুমুখী বিদ্যা ..... ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রপে বিভিন্ন মানুষের একশোটা পরামর্শ নিয়ে , একাধিক ইউটিউব চ্যানেল ফলো করে আপনার গাছ এক ইঞ্চিও বাড়বে না ।

বড়ো বড়ো নামীদামী মানুষের কোনো মেডিক্যাল ইমারজেন্সি হলে দেখবেন মেডিক্যাল বোর্ড বসে । পাঁচজন বা দশজন এক্সপার্ট বসে প্রথমে যেটা ঠিক করেন সেটাকে মেডিক্যাল এর ভাষায় বলে "Line of treatment " , মানে গোদা বাংলায় কীকরে পরিচর্যা হবে সেটা ঠিক করেন , তারপর শুরু হয় মেডিসিন বা লাইফ সাপোর্ট।

গাছের জন্যও তাই । লাইন অফ ট্রিটমেন্টটা ঠিক করাটা দরকার । একবার এর কথা শুনে এটা দিয়ে দিলেন , আর একবার অন্য কারো কথা শুনে অন্য একটা কিছু করে দিলেন ..... গাছের বারোটা বাজবে।

সোজা সাপটা ভাষায় , একজনের ল্যাজ ধরুন । কোথায় ল্যাজ পাবেন সেটা আপনাকেই খুঁজে নিতে হবে।

আমার ভাগ্য ভালো ছিলো। আমার মামার বাড়ির দাদু ছিলেন একজন এক্সপার্ট বাগানি । যখন ইন্টারনেট এর আবিষ্কার হয়নি , সেই যুগেও দাদুর কাছে সারা ভারতবর্ষ থেকে এক্সপার্ট বাগানীরা আসতো গাছ করা শিখতে । আজকের দিনে পপুলারিটি পাওয়াটা অনেক সোজা হয়ে গেছে। অনেক ইউটিউবার কে দেখি গুগল করা বিদ্যা দিয়ে ঝাঁ চকচকে রিপ্রেজেন্টেশন দিয়ে ভিডিও বানিয়ে ছাড়ছেন ...লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখছে , লাইক করছে ......সাথে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ গাছ মারছে!

কলকাতার নামীদামী ফ্লাওয়ার শোতে যে চোখ ধাঁধানো গাছগুলো ফার্স্ট প্রাইজ পায় , সেকেণ্ড প্রাইজ পায় সেই গাছগুলো আমার দাদুর হাতে বানানো গাছগুলোর কাছে লিলিপুট। আমি নিজের চোখে দেখেছি আমার দাদুর ডালিয়া গাছ আমার বাবার থেকে লম্বা , দানবাকৃতি গাছের পাতা , সেইরকম ফুলের সাইজ ....

আমার গাছের হাতেখড়ি এই দাদুর থেকেই। গরমের ছুটিতে যখন মামার বাড়ি যেতাম , সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাগানে থাকতাম । দাদু কাজের ফাঁকে ফাঁকে যেটুকু টুকরো টুকরো করে জিনিস শেখাতো সেইগুলোই আজও ভাঙিয়ে গাছ করছি ।
একটাই আক্ষেপ যখন এই বিদ্যার মূল্য বুঝলাম ততদিনে দাদুর এই জগতের মায়া শেষ। শিখবো বলে বসে কোনোদিন দাদুর থেকে গাছ করা শিখিনি .... ওই অল্প সময় টুকুতেই যা শিখেছি সারা জীবন ধরে ভাঙিয়ে যাচ্ছি!

এই রকম মানুষ হয়তো আজও পাবেন , কিন্তু এই মানুষগুলো অন্য রকমের । সোশ্যাল মিডিয়াতে এদের পাবেন না, গাছের নেশায় এমন মেতে আছেন যে ওই সোশ্যাল মিডিয়ার দুটো লাইক , চারটে কমেন্ট এর অনেক ঊর্ধ্বে এরা ।
এরা লিখতেও চায় না। আশি বছরের অভিজ্ঞতা শ্মশানে আগুনের সাথে মিলিয়ে যায় পঞ্চভূতে।

আমার গাছ করা শুরু আমার পাঁচ বছর বয়সে। এখন বয়স চল্লিশ। যদিও দেখে মনে হয় না আমার এতো বয়স! কারণ নিজের শরীরটাকেও আরও একটা গাছ মনে করি। ভুলভাল খাবার না দিলে , সঠিকভাবে জল দিলে , অকারণে ওষুধ না দিলে আর রোদ হাওয়া লাগলে এমনিই ভালো থাকবে। অনেকটা বড়ো উপলব্ধি এটা ... লাইটলি নেবেন না।

আসলে গাছ করাটা কিন্তু শুধু একটা ভালো লাগার জিনিস না। এটা একটা জীবন দর্শন। প্রথম প্রথম মনে হবে দামী দামী মিডিয়া , সার , ওষুধ এসব দিলে বোধহয় গাছ ভালো হবে ...তারপর ঠোক্কর খেতে খেতে শিখবেন যে গাছের যেটা সবথেকে জরুরী সেটা হলো ঠিকঠাক জল আর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা। আরো বছর দশেক গাছ করার পর বুঝবেন দু একটা পোকা লাগলেই কীটনাশক স্প্রে করাটা কি পরিমান ক্ষতিকর গাছের জন্য।

মানুষের বাচ্চাও তাই। একটু একদিন হাঁচলো , পরের দিন জ্বর .... অনেক মা বাবাই আতঙ্কিত হয়ে এন্টিবায়োটিক শুরু করে দেয়। খুব খুব বড় ভুল করছেন। গাছের বাচ্চা , মানুষের বাচ্চা ...যেকোনো জীবজন্তুর বাচ্চা ...সব এক ...একদম এক

ভগবান কাউকে খালি হাতে পাঠায় না । প্রত্যেকের মধ্যে একটা রেসিসটেন্স আছে যেটা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। কিন্তু সেটাকে কাজ করার সময়টা আপনাকে দিতে হবে। জ্বর হলেই যদি আপনার বাচ্চাকে সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ খাইয়ে দেন, এই ন্যাচরাল রেজিস্ট্যান্সটাই এক্টিভেট হবে না। আবার জ্বর আসবে ...আসবেই আসবে । একটা সময় আপনার বাচ্চা , বড় হবে , একদিন বুড়োও হবে । ততদিনে এই ন্যাচরাল রেজিস্ট্যান্স আর বিন্দুমাত্র থাকবে না । কাজ না করলে যেমন পেশী নরম হয়ে যায় .... দিনের পর দিন বসে থাকতে থাকতে এই রেজিস্ট্যান্সটাও নরম হয়ে যাবে।

তখন আর কোনো ওষুধ কাজ করবে না। আপনার বাবা মা বৃদ্ধ বয়সে যা না অসুখে ভুগেছেন, আপনি ভুগবেন তার একশো গুণ আর আপনার বাচ্চা ভুগবে তার হাজারগুণ।

গাছও তাই। একটু পোকা লাগলেই যদি কীটনাশক দিয়ে দেন , সেই গাছের ন্যাচারাল ইমিউনিটি তৈরি হবে না। এই কারণেই দেখবেন নার্সারী তে গাছ একদম ঐশ্বরিয়া রাই , বাড়ি নিয়ে এলেই রাখী সাওয়ান্ত! নাখরার শেষ নেই।

নার্সারীতে প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে ফ্যাঙ্গিসাইড, কীটনাশক চলে গাছকে ঝিনচ্যক রাখার জন্য .... গাছ ভিতর থেকে ফোপড়া ।

এই গাছ ঘরে নিয়ে এল ওই সেম রুটিন ফলো করে যেতে হবে গাছটাকে যদি ঠিক রাখতে চান । ওষুধ বন্ধ করলেই পোকা আসবে , ফাঙ্গাস আসবে আর সেটা গাছটা নিতে পারবে না । অনেকে ভাবেন ফাঙ্গাস আসে...ফাঙ্গাস আসলে সব গাছেই থাকে, সবসময় ...চব্বিশ ঘন্টা থাকে। দূর্বল গাছে এদের পপুলেশন বেড়ে যায়, তখন চোখে দেখা যায় আর গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শুরু করেছিলাম জল নিয়ে জ্ঞান দিতে ... কোথা থেকে কোথায় চলে এলাম। যাইহোক , যে জলে মাছ থাকে , যে জলের তলায় জলজ গাছ থেকে আর জলের ওপরে পানা জাতীয় গাছ থেকে সেই জল গাছের জন্য সবথেকে ভালো।

আবারো একবার অন্য একটা জিনিস বলি। আমি একবার আমার মামার বাড়ির দাদুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম "ডালিয়া গাছের যত্ন কিভাবে করবো?" দাদু উত্তর দিয়েছিল ...কোনো একটা স্পেসিফিক গাছের যত্ন যদি জানিস শুধু সেই গাছটা করতে পারবি ...বরং রোদ, জল, হাওয়া নিয়ে শেখ...দুনিয়ার যেকোনো গাছ করতে পারবি।

সেদিন কথাটা মনঃপূত হয়নি .... আজ পঁয়ত্রিশ বছর গাছ করার পর বুঝি কথাটার মানে। "হাওয়া" মানে বাতাস না , হাওয়া মানে "আবহাওয়া"। এগুলোই বাগান করার অ আ ক খ।

এই পোস্টটা একশো জন পড়লে অন্তত নব্বই জন মনে মনে ভাববেন অহেতুক হ্যাজাচ্ছে.... বাকি পাঁচ জন মনে করবে লেখাটা ভালই কিন্তু আমার গাছটার ঠিক কিভাবে যত্ন করবো কেনো কিছুতেই বলছে না....বাকি তিনজন ভাববে অনেকগুলো জিনিস জানলাম ,কিন্তু এরাও রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠবে আর পটির সাথে এই জ্ঞান সব প্যান এর ভিতরে ফ্লাশ করে দেবে । দিয়ে আবার গ্রুপে গ্রুপে দশজনের থেকে সাজেশন নিয়ে দশ রকম কীটনাশক এনে গাছের ওপর এপ্লাই করবেন ।

বাকি দুজন এমন মানুষ এই পোস্টটা পড়বেন , যাঁরা জীবনের অনেকগুলো বছর অতিক্রম করে এসেছেন। বহু বছর ধরে বহু গাছ করেছেন। তাঁরা ভাববেন হ্যা,ছেলেটা বোধহয় ঠিকই বলছে।

আমার একজন মামা , মাসি দুজন । সব মিলিয়ে আমার মায়েরা চার ভাইবোন । প্রত্যেকের দুটো করে সন্তান। সেই হিসাবে আমরা আট ভাইবোন । সবাই গরমের ছুটির সময় মামার বাড়ি যেতাম । একসাথে হৈ হুল্লোড় করতাম । আমিই একমাত্র যে বাগানে দাদুর সাথে গাছের পরিচর্যায় হাত মেলাতাম।

সময়ের সাথে সাথে বুঝেছি এসব জিনিস বলে কয়ে , ধরে বেঁধে হয়না। যার প্যাশন আছে, সে ঠিকই খুঁজে নেবে ।

লাকিলি আমার ছেলেটা প্রচণ্ড গাছ ভালবাসে। এমনিতে অসম্ভব দুরন্ত। কোনো খেলনা একদিনের বেশি টেকে না । ভেঙে তছনছ করে দেয় । আনব্রেকেবেল খেলনা এনে দিয়েছিলাম , ভাঙতে না পেরে দাঁতে করে চিবিয়ে ছিবড়ে করে দিয়েছে।

অথচ সেই ছেলেই গাছের কাছে গেলে কি অদ্ভুত ভাবে শান্ত হয়ে যায়। এই গাছ , ওই গাছ করে...গাছের পাতাতে হাত বুলায় । এটা পাতা ...ওটা ফুল ...গাছ ভালো...বাবা গাছ করে...এটা আমার গাছ ....এইসব নিজের মনেই কিসব ছাই পাঁশ বকতে থাকে ।

একদিন সকালে ঘুম থেকেই উঠে বলে "বাবা প্রজাপতি দেখতে যাবো"। খুব ছোটবেলাতে বেবী ক্যারিয়ার এ বুকে বেঁধে নিয়ে ওকে সকালে প্রজাপতি দেখাতে নিয়ে যেতাম...তখন পুরোদমে লকডাউন চলছে । সেই থেকেই দেখেছি প্রকৃতির ওপর এক অদ্ভুত টান চলে এসেছে ।

হাওড়া স্টেশনে দেখবেন কতো প্লাটফর্ম । এক একটা প্লাটফর্ম থেকে গাড়ি ছাড়ছে ...কেউ দিল্লি যাচ্ছে , কেউ কন্যাকুমারিকা ... একবার ভুল ট্রাকে ট্রেন চলতে শুরু করলে ফেরানো মুস্কিল। বাচ্চার জন্ম থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময়টা আপনার হাতে । আপনার বাচ্চাকে কোন ট্রাকে বসাবেন আপনার মর্জি । পাঁচ বছর বাদে একবার গাড়ি চলতে শুরু করলে আপনি যতো যাই করুন , বাচ্চা চলবে নিজের ট্রাকেই......

অথচ এই পাঁচটা বছর আমাদের জেনারেশন এর বাবা মা কি করছে দেখুন। প্রি স্কুল .. টিউশন... এক্সাম, কম্পিটিশন... মোবাইল গেমস ...গ্যাজেট .... এই বাচ্চাই বড়ো হয়ে লাইফটাকেই কম্পিটিশন ভেবে নেবে । স্ট্রেস সবাইকেই নিতে হবে, সেটা ঠিকই ... কিন্তু রিলিজ করার একটা জায়গা তো করে দিন । গাছ , হবি , গান , আঁকা , আর্ট , নাচ ....কিছু একটার বীজ পুতুন এই পাঁচ বছরের মধ্যে।

জোর করবেন না । শুধু রাস্তাটা দেখান । হাওয়া মানে "আবহাওয়া" টা তৈরি করুন । হাতে দুটো গাছের বীজ আর একটু মাটি দিয়ে দিন বা ক্লাসিকাল মিউজিক এর একটা কনসার্ট এ নিয়ে যান । আর্ট গ্যালারি তে নিয়ে যান। ইসরো তে নিয়ে গিয়ে রকেট লঞ্চ দেখান ..... অবজার্ভ করুন আপনার বাচ্চাটা কিসে ইন্টারেস্ট পাচ্ছে। সেই হিসাবে আরো এক কদম আগে পা ফেলুন।

প্রতিটা বাচ্চা জিনিয়াস। সমস্যাটা আমরা এই মডার্ন বাবা মা রা। দু বছর বয়স থেকে আমরা ওদের কম্পিটিশন এ জুড়ে দিই । বুঝি না এটা ওদের সরভাইভাল এর টাইম না , এটা ওদের স্কিল তৈরির টাইম । আজ স্কিল তৈরি না হলে কাল সরভাইভ করতে পারবে না ।

একই রকম ভাবে বীজ থেকে গাছ বেড়ানোর প্রথম একটা বছর হচ্ছে গাছের জন্য স্কিল তৈরির সময় । এই সময় গাছে একটা দুটো পোকা লাগতে দিন । আমার একটা শিউলি গাছ আছে যেটাতে খুব ছোটোবেলায় একবার মিলিবাগ ধরেছিল... কিচ্ছু না করে যেমন আছে রেখে দিয়েছিলাম । টানা তিন চারমাস একটাও নতুন পাতা গজায়নি। তারপর সেই যে বাড়তে লাগলো আজ তার হাইট প্রায় কুড়ি ফুট ।
শিউলি গাছে এমনি সুয়াপোকার আক্রমণ হয় । অথচ আজ পর্যন্ত এই গাছে সুয়াপোকা বা অন্য কোনো পোকার আক্রমণ হতে দেখিনি । অজস্র ফুল দিতে শুরু করেছে। সারা বছর একবারের জন্যেও সমস্যা করে না।

দেখুন , আমি নিজের জীবন দিয়ে বুঝেছি আপনি জ্ঞান অনেক জায়গা থেকে নিতে পারেন । কিন্তু জ্ঞান আর অভিজ্ঞতার মধ্যে অনেক যোজনের তফাৎ। আর কঠিন পরিস্থিতি ছাড়া মানুষের অভিজ্ঞতা হয় না । ভালো সময়ে মানুষ এনজয় করে , শেখে কম। একটা কোট আমি মাঝেমধ্যেই রিকল করি -

"Hard time creates stong man , strong man create good times, good times create weak men, weak men create bad time "

খারাপ সময়টা তাই সত্যি খারাপ না, যদি শিখতে পারেন। ভালো সময় তাই সবসময় ভালো না , যদি না সতর্ক থাকেন।

আপনি যদি আপনার বাচ্চা বা আপনার গাছেকে সমসময় আগলে রাখেন ... তাহলে আপনি ওদের হার্ড টাইম টাকে ফেস করতেই দিচ্ছেন না ...শেখার রাস্তা টাকেই বন্ধ করে দিচ্ছেন।
ধাক্কা খেয়ে পড়ুক... তুলবেন না। নিজেকে উঠতে দিন। ডিসিশন নিতে দিন ওদের ...দুটো ঠিক হবে , পাঁচটা ভুল হবে। নিজে থেকে হেল্প না চাইলে হেল্প করবেন না। হেল্প করলেও সরাসরি করবেন না, ইনডাইরেক্ট ভাবে করুন।

ছোটো বাচ্চা পড়ে গেলে "আমার বাবুটা পড়ে গেছে.." বলে হাউ মাউ খাউ করে ছুটে যাবেন না। দূর থেকে দেখুন নিজে থেকে উঠতে পারছে কিনা। যদি না পারে কাছে যান , যাওয়ার সময় একটা লাঠি নিয়ে যান যেটা বাড়িয়ে দিন ... লাঠির ওপর ভর করে নিজে থেকে উঠে দারাক...

গাছের জন্যও তাই , দূর্বল গাছের গোড়ায় লাঠি বেঁধে দিলে রুট মজবুত হয় না দেখছি । দূর্বল গাছ যখন বোঝে রুট না বাড়ালে দাড়িয়ে থাকতে পারবো না , তখন আরও বেশি করে রুট ছড়ায় । আপনার কাজ শুধু গাছটাকে এমন জায়গায় রাখা যেখানে খুব জোরে হাওয়া চলাচল না করে , বা ঝড় ঝাপটা যেনো না লাগে ।

এইভাবেই দেখবেন আপনার দূর্বল বাচ্চাটা বা গাছটা একদিন শক্তপোক্ত হয়ে গেছে...আপনার আর পাশে দাঁড়িয়ে থাকার দরকার পড়ছে না ।তারপর আপনিও নিশ্চিন্তে সংসারের মায়া কাটিয়ে যান না যেখানে যাওয়ার ! ততোদিনে
সেও তৈরি হয়ে গেছে নিজের মতো করে নিজের পরিবার শুরু করার জন্য ।

সার্কেল অফ লাইফ ...

জল নিয়ে আরো অনেক অনেক কিছু বলার আছে....পরের পর্বে বলবো ।

গাছপালা নিয়ে ভালো থাকুন , সুস্থ থাকুন । সম্ভব হলে পোস্টটা শেয়ার করুন 🙏

এই ধরনের পোস্ট সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের গ্রুপে জয়েন করতে পারেন ।
লিংক 👉 https://m.me/j/AbZFQ3gKviZrLSzY/

গোলাপ গাছটা কিনে আনার পর রাগ লাগছিল মালি লোকটার উপর। মূল শিকড় কেটে দিছে। ভাবছিলাম মরে যাবে। মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছে। ফু...
29/10/2024

গোলাপ গাছটা কিনে আনার পর রাগ লাগছিল মালি লোকটার উপর। মূল শিকড় কেটে দিছে। ভাবছিলাম মরে যাবে। মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছে। ফুলও দিচ্ছে।
প্রথম প্রথম ফুল গুলো এত ভালো ফুটোতো না। এখন চমৎকার ফুটতেছে। গতকাল রাত্রে ছাদে গিয়ে দেখে মুগ্ধ হয়ে ছবি তুলছি।

Address

Gaibandha
Gaibandha
5710

Telephone

+8801712032151

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when খামারবাড়ী KhamarBari posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category