12/06/2026
বায়োফিলিয়া (Biophilia) কী, জানেন?
আমরা কংক্রিটের জঙ্গলে বসবাস করে অভ্যস্ত মানুষ। ঢাকা শহরের যেদিকেই তাকান, সবুজ দেখতে না পেলেও ধূসর কংক্রিটের দেখা মিলবে চোখ অর্ধেক খুলে তাকালেও। দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি! এই হাঁসফাঁস পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে আমরা সুযোগ হলেই প্রকৃতির সান্নিধ্যে পালিয়ে যাই। তাই না?
গ্রিক ভাষায় 'বায়ো' অর্থ জীবন, 'ফিলিয়া' অর্থ গভীর ভালোবাসা বা আকর্ষণ। বায়োফিলিয়া বলতে বোঝায় জীবন্ত প্রকৃতির প্রতি সহজাত আকর্ষণ। আমরা শত শত বছর ধরে ইট-পাথরের জঙ্গলে বসবাস করলেও আমাদের ডিএনএতে আদিম অরণ্যের প্রতি ভালোবাসা খোদাই করে বসিয়ে দেওয়া আছে। এটাই বায়োফিলিয়া।
বায়োফিলিয়া নিয়ে বিশাল আলাপ করা যাবে। আজকে আমরা ওদিকে যাব না। আজকের আলাপ হবে এমন একটি গাছ নিয়ে, যার পাতা আপনার মনের অশান্তি দূর করে মনে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনবে।
গাছের নাম মন্সটেরা। শুনলে ভয় ভয় লাগে, তাই না? এই গাছে দৈত্য-দানব থাকে? ভূত-প্রেত, পেত্নি? ভ্যাম্পায়ার? নাকি দেশি রাক্ষস-খোক্কস?
ভয় নেই। গাছের নাম মন্সটেরা হলেও প্রাচীন এই অভিজাত ইনডোর গাছে এরা কেউ বসবাস করে না। বিশাল বড় পাতা, পাতায় আবার গোল ছিদ্র, চারপাশের খাঁজকাটা রূপ দেখে তৎকালীন উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছিলেন মন্সটেরা। ইনডোরে এই গাছের পাতা মাঝারি আকারের হলেও আদিম প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা আসলেই বৃহদাকার ধারণ করে।
মন্সটেরা সেই মায়ান বা অ্যাজটেক সভ্যতা থেকে বর্তমান সময়ে দাপটের সঙ্গে টিকে রয়েছে। সেই সময়েও একে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ গাছ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, এখনো হয়। ভিক্টোরিয়ান যুগে দূরদেশ থেকে জাহাজে করে এনে বিশাল গ্রিনহাউজে মন্সটেরা রাখা হতো। কারণ, মন্সটেরা ছিল উচ্চ সামাজিক মর্যাদা জাহির করার বস্তু। সবচেয়ে দামি ইনডোর প্ল্যান্টের তালিকা যদি করতে হয়, মন্সটেরা থাকবে তার ওপরের দিকেই।
আধুনিক সময়েও কিছু কিছু মন্সটেরা নিলামে প্রায় ৩০ থেকেব৪০ হাজার ডলারেওবিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় অর্ধ কোটি টাকা!
প্রখ্যাত ফরাসি চিত্রকর অঁরি মাতিস তো মন্সটেরার প্রেমে পড়ে এটি নিয়ে বেশ কিছু চমৎকার চিত্রকর্ম করেছিলেন। তার হাত ধরে মন্সটেরা আধুনিক যুগে আরও বেশি সামাজিক মর্যাদার বিষয় হয়ে ওঠে। এখনো দেশ-বিদেশের সম্ভ্রান্ত বাড়িতে বা অফিসে যান, আর কিছু থাকুক বা না থাকুক, কোনো এক কোণে মন্সটেরা থাকবেই।
দেখুন তো, ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে যাচ্ছি মনে হচ্ছে! আসলে মন্সটেরা এমন এক গাছ, যা নিয়ে পাতার পর পাতা লিখে ফেলা যাবে, তবুও শেষ করা যাবে না।
উচ্চ সামাজিক মর্যাদার প্রতীক এই গাছের একটা অদ্ভুত গুণ আছে। প্রথমে বায়োফিলিয়ার কথা উল্লেখ করেছিলাম, মনে আছে?
মন্সটেরার বিশাল পাতা, পাতায় নিখুঁত জ্যামিতিক প্যাটার্নে খাঁজকাটা, এগুলো মানুষের মনে প্রশান্তি তৈরি করে। অনেক পরিবেশ মনস্তাত্ত্বিকের মতেই মন্সটেরার পাতার প্রতি মানুষের আকর্ষণের পেছনে মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে। মন্সটেরার পাতা আমাদের মনে প্রকৃতির প্রতি যে ভালোবাসা খোদাই করে রাখা হয়েছে সেটা অনুভব করায়। বায়োফিলিয়া নিয়ে আলাপ করার কারণ ছিল এটাই।
মন্সটেরা মানসিক অস্থিরতা ও ক্লান্তি কমায়। ইট-পাথরের শহরে সারাদিনের নানা অস্থিরতার পর বাসায় ফিরে এই মানসিক চাপ কমানোর জন্য মন্সটেরা চমৎকার একটা অপশন হতে পারে। অনেকেই বলেছেন তাদের মন্সটেরা গাছ তাদের ইমোশনাল সাপোর্ট হিসেবে সাহায্য করেছে। মন্সটেরা ঘরে রাখার উপকারিতা এতটাই বেশি, ছোট একটা ফেসবুক পোস্টে সম্পূর্ণ তুলে ধরা সম্ভব নয়।
শুধু আভিজাত্য নয়, মনের গোপন প্রকৃতিপ্রেম জাগিয়ে তোলা এবং মানসিক অশান্তি দূর করার জন্য হলেও ঘরে মন্সটেরা রাখা দরকার। এতে উপকার বৈ অপকার হবে না।
পাতাবাহার পেজ Follow করেছেন তো! ইনডোর প্ল্যান্টগুলোর অজানা কথা, এপার্টমেন্টে ইনডোর গার্ডেনিংয়ের এক্সপার্ট টিপস নিয়মিত পেতে এখনি Follow করে রাখুন 💝