টব পদ্ধতি:
দরকার মতো সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো যায়. ছাদে টবে গাছ লাগানো অনেকেই পছন্দ করেন. টবে সার-মাটি দেওয়া খুব সহজ. আজকাল অনেকেই পোড়ামাটি এবং প্লাস্টিকের টব ব্যবহার করেন. আবার টবের গায়ে রং দিয়ে সৌন্দর্য বাড়ানো যায়. টবে গাছ লাগানোর সময় মনে রাখতে হবে যেন ওই গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টবের অল্প মাটিতেই ওই গাছের খাদ্যপুষ্টি থাকে.
হাফ ড্রাম :
বড় আকারের ড্রামের মাঝামাঝি কেট
ে দুই টুকরো করে বড় দুটি টব তৈরি করা যায়. বড় জাতের এবং ফলের গাছের জন্য হাফ ড্রাম ভালো. এগুলো সরাসরি ছাদের ওপর না বসিয়ে কয়েকটি টুকরো ইটের ওপর বসানো দরকার. অনেকে মনে করেন, ছাদের ওপর হাফ ড্রাম রাখলে ছাদের ক্ষতি হয়. এ ধারণা সঠিক নয়.
চৌবাচ্চা :
ছাদে এক থেকে দেড় ফুট উঁচু এবং তিন থেকে চারটি পিলারের ওপর পানির ট্যাঙ্ক বা চৌবাচ্চা আকারের রিং স্লাব বসিয়ে ইটের টুকরো এবং সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে স্থায়ী চৌবাচ্চা তৈরি করা যায়. এই ধরনের চৌবাচ্চায় মাছ এবং জলজ উদ্ভিদ চাষ করে ছাদের পরিবেশ সুন্দর রাখা যায় সহজেই.
স্থায়ী বেড পদ্ধতি :
ছাদের কোনো অংশে স্থায়ী বাগান করতে চাইলে সুবিধামতো আকারের স্থায়ী বেড তৈরি করা যায়. তবে চার ফুট দৈর্ঘ্য, চার ফুট প্রস্থ এবং দুই ফুট উচ্চতার বেড তৈরি করা ভালো. এ ধরনের বেড তৈরি করতে নিচে পুরু পলিথিন দিয়ে ঢালাই করলে ছাদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না.
টবের প্রস্তুত পদ্ধতি :
ফুল কিংবা ফল গাছ যাই হোক না কেন, টব ব্যবহার করার সময় লক্ষ রাখতে হবে, গাছের আকার কত বড় হবে. সেই মতো টবের আকার নির্ধারণ করা দরকার. পানি গড়িয়ে যাওয়ার জন্য টবের নিচে ছিদ্র থাকতে হবে. ছিদ্রের ওপর নারকেলের ছোবড়া বা ইটের টুকরো দিয়ে ঢেকে দিতে হবে. টবে ব্যবহারের আগে ছোবড়া বা ইটের টুকরো ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে. গরম পানিতে ধুয়ে নিতে পারলে ভালো. যে গাছের চারা লাগানো হবে তা সাধারণ পানিতে ধুয়ে নিতে হবে. এর ফলে রোগের সংক্রমণ অনেক কমে যায়. চারা কেনার সময় অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের চারা সংগ্রহ করা দরকার. গাছ বড় হলে প্রয়োজনে বড় টবে সাবধানে চারা স্থানান্তর করে নেওয়া যায়. তবে টব ভেঙে চারা গাছ বের করা যাবে না. মনে রাখতে হবে, চারা গাছটি যেন কোনোভাবেই আঘাত না পায়.
টবের সার-মাটি :
টবের গাছের খাদ্যপুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য মাটিতে দরকারি সার মেশাতে হবে. মাটি, গোবর সার, কম্পোস্ট, পচা পাতা, পরিমাণমতো রাসায়নিক সার মেশাতে হবে. শুকনো দূর্বা ঘাস টবের মাটির মাঝামাঝি দিয়ে তার ওপরে মাটি দিয়ে চারা গাছ লাগানো ভালো.
যত্ম সেবা :
যেহেতু সীমিত আকারে, সীমিত জায়গায় উৎপাদন করা হয় সেজন্য অতিরিক্ত যত্ম সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিভিন্ন পরিচর্যায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে. বিশেষ করে সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি. কেননা সার কমবেশি হলে, গাছের গায়ে লেগে গেলে গাছ মরে যাবে, পরিমাণ মতো না হলে অপুষ্টিতে ভুগবে.
টবের ক্ষেত্রে ছোট গাছ বড় হলে পট / টব বদল, ডিপটিং (পুরানো টবকে আলতো করে মাটিতে শুইয়ে গড়াগড়ি দিলে গাছটি টব থেকে বেড়িয়ে আসবে. পরে অতিরিক্ত মূল কেটে মাটি বদলিয়ে সার প্রয়োগসহ নতুনভাবে গাছ বসানো) করতে হবে সময়মতো. বছরে অন্তত একবার পুরাতন মাটি বদলিয়ে নতুন মাটি জৈব সারসহ দিতে হবে. ইদানিং বাজারে টবের মাটি কিনতে পাওয়া যায়. মানসম্মত মাটি কিনে টবে / পটে / ড্রামে ভরতে হবে.
খুব সাবধানতার সাথে টব / পটে / ড্রামে চারা / কলম / বীজ লাগাতে হবে. ঠিক মাঝখানে পরিমাণ মতো মাটির নিচে রোপন করতে হবে. চারা বা কলমের সাথে লাগানো মাটির বল যেন না ভাঙ্গে সেদিকে নজর রাখতে হবে. চারা বা কলমের ক্ষেত্রে বীজতলা / নার্সারিতে যতটুকু নিচে বা মাটির সমানে ছিল ততটুকু সমানে ছাদে লাগাতে হবে. বীজতলার থেকে বেশি বা কম গভীরে লাগালে গাছের বাড়বাড়তিতে সমস্যা হবে. মাঠে ফলমুল সবজি চাষের চেয়ে ছাদে সবজি চাষের অনেক পার্থক্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা. বাগানে প্রতিদিন পরিষ্কার কার্যক্রম অনুসরণ করতে হবে. সেজন্য পুরাতন রোগাক্রান্ত, বয়স্ক ডালপালা, পাতা সাবধানতার সাথে কেটে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে. এতে গাছপালা রোগমুক্ত থাকবে ফলনে সুবিধা হবে. ফুল এবং সবজিতে প্রয়োজন মাফিক সার প্রয়োগ করতে হবে. কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে অন্তত দু’বার (একবার বর্ষার আগে একবার বর্ষার পরে ) সাবধানে পরিমাণমত সার দিতে হবে. সার প্রয়োগের সময় মাটির আর্দ্রতা দেখে নিতে হবে. কেননা বেশি আর্দ্র বা কম আর্দ্র কোন টাইপের সার প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত নয়. বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু কিছু সার পানিতে মিশিয়ে গাছ ছিটিয়ে দিতে হবে. গুঁটি সারও এ ক্ষেত্রে বিশেষ উপযোগী.
আমাদের দেশের আবহাওয়ায় কোন ফলে পোকা বা রোগের আক্রমণ অহরহ ঘটে থাকে. সেক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে. প্রতিদিন ২/৩ বার যদি বাগান পরিদর্শন করা যায় তাহলে বালাই আক্রমণ যেমন কম হবে তেমনি ফসলও পাওয়া যাবে অনেক. সুতরাং লাভ বেশি হবে. যদি হঠাৎ বেশি মারাত্মক আক্রান্ত হয়ে যায় তখন উপযুক্ত বালাইনাশক সঠিক সময়ে ব্যবহার করতে হবে.