30/03/2026
হেরিটেজ ট্যুর পর্বঃ ০৩
নর্থব্রুক হল থেকে যখন বের হয়ে আসি, তখন বাজে ৬ টা, বাসায় ফেরার জন্য বাইকও কল করে ফেলেছি, কিন্তু বাইক রাইডারকে ফোনে কোন ভাবেই রিচ করতে পারছিলাম না, এই দিকে ম্যাপে দেখি এখান থেকে বিউটি বোর্ডিং মাত্র ৩ মিনিটের হাঁটা দূরত্ব !!
তাই বাইক কেন্সেল করে দিয়ে ম্যাপ দেখে হাঁটা শুরু করলাম, যাওয়ার পথে আরও ২টা নাম না জানা পুরনো বাড়ি দেখলাম। এবং পৌঁছে গেলাম বিউটি বোর্ডিং।
কোলকাতায় যেমন কফি হাউস বিখ্যাত, তেমনি বাংলায় বিখ্যাত এই বিউটি বোর্ডিং, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের আগে এখানে সোনার বাংলা নামক পত্রিকা অফিস ছিল পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে দুই ভাই প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহা ও নলিনী মোহন সাহা এই বাড়ি ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলেন বিউটি বোর্ডিং। নলিনী মোহনের বড় মেয়ে বিউটির নামেই এর নামকরণ করা হয়।
বাংলাদেশ এবং ভারতের বিখ্যাত সব কবিসাহিত্যিকদের পদচারনায় সেই থেকেই মুখর ছিল এই বিউটি বোর্ডিং, এখানে রেস্তোরা যেমন আছে, তেমন থাকার জন্য ২৭ টি কক্ষ আছে। আগে শুনেছি ভাড়া ২০০- ৪০০ ছিল, কিন্তু আমি জিজ্ঞাসা করায় মানেজার জানালেন এখন নাকি ভাড়া ৪০০-১২০০ টাকা। ঐতিহাসিক গুরুত্ত হিসেবে ঠিক আছে কিন্তু বর্তমানে যে অবস্থা, তাতে ১২০০ টাকা ভাড়া একটু বেশীই হয়ে যায়।
যাই হোক, এখানের জলখাবার নাকি বিখ্যাত, তাই অর্ডার করলাম লুচি, আলুর দম আর চুশি পায়েস। আমার অনেস্ট রিভিউ হল, খাবারের স্বাদ খুবই সাধারন এবং রাতে বাসায় এসে কয়েকবার বার টয়লেটে দৌড়াতে হয়েছে। তেল চপচপে লুচি, ঠাণ্ডা আলুর দম । আলুর দম ৩০ টাকা, লুচি ১৫ টাকা পিস। আর চুশি পায়েস ১০০ টাকা। এটা যে আসলে কি বস্তু ছিল, এটা নিয়ে আমি সন্দিহান। আমরা এই জিনিস টা চিনি চুটকি সেমাই নামে, কিন্তু সেটা ঘন দুধে থাকার কথা, এটা ছিল একদম টলটলে কম মিষ্টির দুধে ডোবানো। হয়তো আমরাই আসলে অভিজাত খাবার খাওয়ার মত জিভ নেই। হতে পারে।
খাওয়া শেষে বিখ্যাত এই স্থাপনা থেকে চলে হাটতে থাকলাম, হাঁটতে হাঁটতে চলে আসলাম শাঁখারিবাজার, সেখানে ঈদ মেলা হচ্ছে। মেলা দেখে শাখারিবাজারের অলিগলি হেটে শেষে নয়াবাজার মোড়ে এসে বাইক নিয়ে সোজা বাসায়। রাত ৮ টায় আমি বাসায় চলে আসলাম। তো এই ৫ ঘণ্টার ট্যুরে আম্র সব মিলিয়ে খরচ হয়েছিল ৭১২ টাকা। আজকের মত গল্প এখানেই শেষ। সামনে যদি কখনও কথাও যাই, তাহলে আপনাদের সামনে সেই গল্প তুলে ধরব, আজকের মত গল্প শেষ !!!!