28/05/2026
ডিসেম্বর ২৫
১ বছর ৮ মাস পর চাকরিটা ছেড়ে দিলাম।
অনেকটা কষ্টদায়ক হয়ে যাচ্ছিলো আমার জন্য। খাওয়াদাওয়া প্রবলেম। বসের উদ্ভট আচরন + খাবার কষ্ট তাই অফিসটায় মানায়ে নিতে পারছিলাম না।
যেদিন ছেড়ে দেওয়ার কথা বললাম। সম্ভবত ১১/১২ নভেম্বর, ওইদিন অফিস থেকে ফেরার পথে মাগরীবের নামাজ পরলাম মিরপুর -১২ তে আবেশ হোটেলের উপর বিআরটিসি বাস ডিপোর মসজিদে। আমার বুক ভেঙ্গে কান্না আসছিলো নামাজের মাঝে। নামাজের মাঝে কাদলাম ও অনেক পাশের জন কে লুকায়ে।
আল্লাহকে বললাম “আমি খুব ছোট মানুষ আল্লাহ, অনেক গুনাহের পর ও আল্লাহ তুমি আমাকে দেখসো। আমার সুস্থ সুন্দর রিজিকের একটা ব্যবস্থা কইরো খোদা।”
এরপর বাড়ি চলে গেলাম হয়তো ৬/৭ ডিসেম্বরে।
কয়েকদিন নিজের সার্টিফিকেট নিয়ে দৌড়াইলাম।
আস্তে আস্তে বুঝলাম টাকা না কামাইলে কেমন লাগে। মানুষ অন্যচোখে দেখতে শুরু করলো, অনেকটা তুচ্ছ দৃষ্টি। পুরাতন যাদের সাথে সম্পর্ক ছিলো, যারা বলে দিসে চাকরি ছাড়ো। তাদের থেকে আমি যে খোঁজ খবর টুকু আশা করসিলাম তা পাই নাই। (আমার ভুল)
এক এক করে ডিসেম্বর শেষ হলো ঢাকায় ফেরত আসলাম। কনভোকেশন ছিলো। চাকরি নাই তাই তেমন আনন্দ পেলাম না। সবাই প্রচুর ব্যস্ত আমার হাতে অফুরন্ত সময়। এরপর শুরু হলো প্রচুর শীত। এত শীত কখনো এক্সপেরিয়েন্স করি নাই জীবনে। শীতে আর কোথাও বের হলাম না। এরমাঝে ৭ জানুয়ারী বন্ধু ফারহান ও চলে গেল বিদেশ। আমার খুব একটা বন্ধু নাই। আরেকটা বন্ধু ছিলো। ব্যাপারটা এরপর এমন হয়ে দড়ালো আমি আর বের হচ্ছি না। ছোট্টবন্ধুটি বের হতে বললে বের হই এদিক সেদিক যাই। এছাড়া আর কোনদিন ই বের হওয়া হয় না। আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম আমি ভয়াবহ একটা লুপে আটকে গেসি। ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন এরপর রোজা মানে আরো ২ মাসে কোন জব হওয়ার চান্স নাই।
এদিকে আমি একদম কর্মহীন হাতে টাকা পয়সা আসতেসে না কোন। এরমাঝে বরিশালে গেলাম সার্টিফিকেট তুলতে। ওখান থেকে কুয়াকাটা তারপর পটুয়াখালী পাওয়ার প্ল্যান্ট দেখা।
ওখান থেকে এসে আরো বুঝতে পারলাম জীবনটা আমার কি বাজে কাটতেসে। শীতে যেমন সব বিবর্ণ হয় আমার সেই বিবর্ণ অবস্থা। আমি বাসার সামনের গাছটার পাতা ঝরে যাওয়া দেখছিলাম এত বছর পর এগুলো আমি খেয়াল করলাম। জানুয়ারী ভয়াবহ হতাশা নিয়ে গেল।
নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারী। সবাই এতবছর পর ভোট দিতে যাচ্ছে খুব আনন্দ নিয়ে বড় একটা ছুটি। আমি গেলাম না। পুরো বাসায় একা থাকলাম। বেশ কষ্টে গেল দিন।
আমি ভাবতাম এই অফিসে থাকলে আমি কনভোকেশন নিতে পারবো না। না পারবো ভোট দিতে। অফিসে না থেকেও আমি তাই পারলাম না টাকার জন্য। যাক ভালোই হলো।
রোজা শুরু হলো, ১৯ ফেব্রুয়ারী আমার সর্বশেষ বন্ধুটিও চলে গেল। আমার চরিত্র নাকি খারাপ।
ধানমন্ডিতে মুভি দেখতে গেসিলাম সেখানে আমি মেয়েদের চেকাউট করসি, এছাড়াও আমার পিছে নাকি মেয়ে আসছে তারে আমি ইংরেজিতে কথা বলসি। এছাড়াও ফেসবুকে আমি মেয়ের সাথে এড আছি তার সাথে আমার প্রেম। সে মনে করে ফেসবুক ই আমার জীবন। মেয়েদের জন্য আমার অনেক ভালোবাসা সে দেখতে পেয়েছে। আমার ব্যাপারটা এত খারাপ লাগসে আমি এখন বুঝতেসি। আমার আসলে কিছুই নাই। আমি যাস্ট আমার চরিত্রটাই হেফাজত করসি এতবছর কত মেয়ে কত ভাবে আসছে। আমি পাত্তাও দেই নাই।
যাক রোজায় বই মেলা শুরু হলো। আমি বই মেলায় গেলাম না।
তবে এই রমজান টা আমার জীবনে বেস্ট রমজান। আমি খুব মন দিয়ে রোজা নামাজ করতে পারলাম। খুব ভালোভাবে তারাবীহ ও তাহাজ্জুত নামাজ পরলাম প্রতিটা দিন।
মার্চের ৯ তারিখ। সম্ভবত ২০ রমজান কল আসলো ত্রিকোন থেকে।
৪ মাস পর জবের জন্য কেউ ডাকলো, জবের জন্য।
আমি এখন ভাবলে অবাক হই, আল্লাহ আমাকে কতটা রহম করসে, ঈদ টা ভালো গেসে ডিপ্রেসড না। বাসায় টাকা দিসিলাম সবাইকে ঈদে।
৫৪ টা জবের জন্য এপ্লাই করসিলাম মোট। তারমাঝে আমার শর্ট লিস্টে ছিলো ৬ টা কম্পানি। তার মাঝে থেকে একটা আমাকে ডাকসে, এবং স্যালারি ও ৭ হাজার টাকা বেশি দিয়ে।
১ এপ্রিল জয়েন করলাম
মে মাসে অফিস ট্যুর সিলেটে
কোরবানীর বোনাস স্যালারী সব ই পেলাম।
এবং আমার যে স্বপ্ন ডিজাইনে ঢুকা, তাও বস বললো ঢুকাবে।
এনভায়রনমেন্ট ইমপ্লয়ী ফ্রেন্ডলি এখন পর্যন্ত মনে হইলো। আলহামদুলিল্লাহ্
আল্লাহ ভরাসা।