01/10/2025
পাহাড়ে কোনো ঘটনা ঘটলেই, দেশের এক শ্রেনীর মানুষজন চোখ বন্ধ করে ধরে নেয়, এটা বাঙ্গালী মুসলমানদের কাজ। কোনো প্রমাণ বা যুক্তি ছাড়াই পাহাড়ের বাঙ্গালীদের ঘিরে চলে ঘৃ*ণার ক্যাম্পেইন। যেমনটা কয়েক বছর আগে দেশের যে কোনো প্রান্তে একটা টায়ার ব্লাস্ট হলেও বলা হতো এটা ‘বিএনপি-জামাতের’ কাজ।
✔️দেখুন, খাগড়াছড়িতে যে কিশোরীকে ধ*র্ষণের অভিযোগে এত ধংস*যজ্ঞ আর তিনটি লা*শ ! শেষে জানা গেছে, ওই কিশোরীর ডাক্তারী পরীক্ষার ১০টি সূচকের সব কটিতে ধর্ষ*ণের কোনো আলামত নেই❗
🔴 কিন্তু ঘটনা যাচাই বাছাইয়ের আগেই আমাদের ‘শিক্ষিত সমাজ’ হতে ইনিসিয়াল ব্লেইমটা বাঙ্গালীদেরকেই করা হয়েছে।
🔴 পাশাপাশি তারা গুজবগুলো শুধু কনজিউমই করে নাই, ইন্সটিংটলি বাঙ্গালীদের ব্লেম করেছে, ফ্রেম করেছে, প্রপাগেট করেছে⁉️
✔️এই যে মানুষের বায়াসনেস, প্রিজামশন- এগুলো একদিনে তৈরী হয়নি। বরং দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে, কথিত সুশীলদের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেশের মানুষের মানষপটে এটা গেঁথে দেওয়া হয়েছে। যেটাকে আমরা আজকাল ‘ন্যারোটিভ’ বলছি।
(সম্প্রতি Mita Mehedi 'র ছবিটা এখানে খুব প্রাসঙ্গিক। এটা সুশীলদের ন্যারোটিভ ক্রিয়েশনের অংশ। ছবিটা খেয়াল করলে বুঝবেন, কিভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা বাঙালি মুসলমানদের প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা মূলত, জাতিগত দাঙ্গা বাঁধানোর একটা পার্ট। যে কার্ড সেই ১৭৫৭ এ পলাশীর প্রান্তর থেকে বঙ্গীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে খেলা হচ্ছে)
✔️✔️ফলে যা হবার তা হয়েছে, পুলিশ বা ডাক্তারি রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা না করেই যে যার মত ঘৃণা আর প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে গিয়েছে। পাহাড়ের বাঙ্গালীদের শূলে চড়িয়েছে। সং*ঘাত ছড়িয়ে দিয়েছে। যার ফলাফল তিনজন মানুষের জীবন*হানি।
★★খেয়াল করুন, ধর্ষ*ণের অভিযোগ উঠার পরপরই সন্দেহভাজন যুবক শয়ন শীলকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু মিডিয়া রিপোর্টে শয়ন শীলের নামটি ‘ব্লাক আউট’ করে ফেলা হয়। বিপরীতে পুরো ঘটনার দায় বাঙ্গালী মুসলমানদের উপর চাপিয়ে চলে অপ*প্রচার।
🫵 আমি হলফ করে বলতে পারি, শুরুতেই যদি সন্দেহভাজন যুবকের নামটি সামনে আসতো, তাহলে খাগড়াছড়ির গুইমারায় যে ধংসযজ্ঞ, তা ঘটতো না।
(এর পেছনেও বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ আছে। যা সোস্যাল প্লাটফর্মে আলোচনা ঠিক মনে করছি না।)
🫵 আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়, খাগড়াছড়িতে যে এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেটি মারমা অধ্যুষিত। ভিকটিম ছাত্রীটি মারমা এবং নিহত তিনজনও মারমা জাতির। আমার যতটুকু জানা বোঝা, পাহাড়ে মারমা জাতিগোষ্টির মানুষরা অপেক্ষাকৃত নম্র ও নিরীহ প্রকৃতির।
বাঙ্গালীদের সঙ্গে মারমাদের বোঝাপড়াও বেশ ভালো। আমার শৈশবের প্রথম বন্ধুও একজন মারমা। রাঙ্গামাটিতে আমার প্রতিবেশিদের অনেকেই মারমা।
🔴 কিন্তু খাগড়াছড়িতে সংঘাতে মারমাদের যেভাবে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি সন্দেহের অবকাশ রাখে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা। এমন শান্ত গোষ্টিটিকে কারা উস্কালো ? কারা পাহাড়ে রক্ত চায় ?
➡️ কারণ পাহাড়ে শুধু এই একটি ধ*র্ষণের ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ১১ টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পাহাড়ি কর্তৃক পাহাড়ি ধ*র্ষণের ঘটনা ২ টি। বাঙ্গালি কর্তৃক বাঙ্গলি ৭ টি এবং বাঙ্গালি কর্তৃক পাহাড়ি একটি। ওইসব ঘটনার কোনোটাতেই এমন রক্তক্ষয়ী সংঘাত তৈরী হয়নি।
🔴 চলমান পরিস্থিতির শুরু থেকে ঘটনাক্রম এনালাইশিস করলে খুব সহজে বোঝা যায় এটা “প্রি প্লান”।
বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় ধ*র্ষনের অভিযোগ উঠার পর জুম্ম–ছাত্র জনতা নামে যে সংগঠনটি অবরোধ ডেকেছিলো, সেই সংগঠনের মুখপাত্র উক্যেনু মারমার বক্তব্যে।
তিনি প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘শুরু থেকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালন করছি। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ শেষ করার আহ্বান জানাচ্ছি। কিছু দু-ষ্কৃতকারী আমাদের ছাত্র জনতার অবরোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছেন।’
🔴 পাহাড়ের এই “দুষ্কৃ-তকারী” কারা সেটা পাহাড়ের বাসিন্দা মাত্রই জানেন। সেটা জেনেই উক্যেনু আন্দোলন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেছেন।
💢 বি দ্র : নেটিজেনদের অনেকে দেখলাম ভিকটিম কিশোরীর মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন (আবু সাইদের ঘটনাকে উদাহারণ করছেন)। যারা এটা করছেন তাঁদের পাহাড়ের হাসপাতাল ও সেখানকার পরিবেশ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারনা নেই মনে হচ্ছে। পাহাড়ের প্রতিটি হাসপাতালে ডাক্তার-নার্স থেকে মেডিকেল স্টাফ পর্যন্ত সব স্থরে পাহাড়ীদের যেই লেভেলে একক আধিপত্য! সেখান থেকে ভূয়া মেডিকেল রিপোর্ট বের করতে হলে যুদ্ধ লেগে যাবে। যারা পাহাড়ের বাসিন্দা তারা মাত্রই বিষয়টি অনুধাবন করেন।