24/04/2026
তীব্র তাপপ্রবাহের চরম শিখরে গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে অফিশিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৩০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (PGB) এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (BPDB) কারিগরি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এদিন দেশে বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা ১৭,০০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করলেও গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল ১৪,০০০ মেগাওয়াটের আশেপাশে।
এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে গিয়ে ন্যাশনাল লোড ডেসপাচ সেন্টারকে (NLDC) সারা দেশে পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরণ বা 'ফোর্সড লোড শেডিং' করতে হয়। গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি স্থিতিশীল রাখা এবং সম্ভাব্য ব্ল্যাকআউট এড়াতে অনেক এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে, যার প্রভাব ছিল শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সবখানে। গ্রামে প্রায় ৮-১২ ঘন্টা এবং শহরে ৩-৫ ঘন্টার লোডশেডিং হয়েছে এদিন।
এই সংকটের মূলে ছিল জ্বালানি সরবরাহের মারাত্মক অপ্রতুলতা এবং বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কারিগরি সীমাবদ্ধতা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন অন্তত ২,৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও পেট্রোবাংলা সরবরাহ করতে পেরেছে মাত্র ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে গ্যাসে চালিত প্রায় অর্ধেক কেন্দ্র হয় পুরোপুরি বন্ধ ছিল অথবা তাদের সক্ষমতার মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ উৎপাদনে নিয়োজিত ছিল।
এর ওপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়ায় ভারতের আদানি গ্রুপের গড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্টের কারিগরি বিভ্রাট। সাধারণত এই কেন্দ্র থেকে ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে, কিন্তু একটি ইউনিটে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ায় সরবরাহ হঠাৎ করে ৭৫০ মেগাওয়াটে নেমে আসে। একই সময়ে কয়লা ও ডলার সংকটের কারণে পায়রা, রামপাল এবং এসএস পাওয়ারের মতো মেগা প্রকল্পগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া সর্বোচ্চ লোডশেডিং এর তথ্য:-
২৯ এপ্রিল ২০২৪, এটি এখন পর্যন্ত হওয়া সর্বোচ্চ লোডশেডিং। এদিন ৩৩৪৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং এর ঘটনা ঘটেছিল।
৭ জুন ২০২৩, জ্বালানী ও কয়লা সংকটের কারণে এদিন ৩২৬৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল।
২০ এপ্রিল ২০২৬, জ্বালানী সংকটের কারণে এদিন ২৯০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।
অক্টোবর ২০২২, গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে এদিন ২৯২৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়।