30/10/2023
ছাদে বাগান পদ্ধতি :
ছাদে বাগান দু’ভাবে করা যায়। যেমন কাঠ বা লোহার ফ্রেম এঁটে বেড তৈরি করে এবং অন্যটি হ’ল টব, ড্রাম, পট, কনটেইনার এসব ব্যবহার করে। প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে পুরো ছাদ বা ছাদের অংশবিশেষ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার্নিশের পার্শ্বে বা আলাদা ফ্রেম করে সুন্দরভাবে ডিজাইন করে সেটিং করা যায়। এক্ষেত্রে জল ছাদ থাকতে হবে। জল ছাদ না থাকলে আলকাতরার প্রলেপ দিয়ে তার উপর মোটা পলিথিন বিছিয়ে তার উপর মাটি দিতে হবে। মাটির পুরুত্ব বেশি হ’তে হবে। অন্তত দু’ফুট পুরু মাটির স্তর থাকতে হবে। তবে যত বেশি হবে তত ভালো। অতিরিক্ত পানি, সার পাবার সুষ্ঠু ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজনে পরিমাণমত রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে। ফ্রেম তৈরির ক্ষেত্রে কাঠ, লোহা, স্টিল, মোটা রাবার এসব ব্যবহার করা যায়। তবে যেভাবেই বেড তৈরি হোক না কেন ৩-৪ বছর পর পুরো বেড ভেঙ্গে নতুন করে তৈরি করতে হবে। এতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
ছাদে বাগানের জন্য শুরুতেই মাটিকে ফরমালডিহাইড দিয়ে (প্রতি লিটার পানির সাথে ১০০ মিলিলিটার ফরমালডিহাইড মিশ্রিত করে) শোধন করে নেয়া যায়। মাটি শোধনের কৌশল হ’ল প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি নিয়ে বর্ণিত মাত্রায় ফরমালডিহাইড মিশ্রিত পানি মাটিতে ছিটিয়ে দিয়ে পুরো মাটিকে মোটা পলিথিন দিয়ে ৩/৪ দিন ঢেকে রাখতে হবে। পরে পলিথিন উঠিয়ে সূর্যের আলোর তাপে খুলে রাখতে হবে পরবর্তী ৩/৪ দিন পর্যন্ত। ফরমালিনের গন্ধ শেষ হয়ে গেলেই মাটি ব্যবহারের উপযোগী হবে।
দ্বিতীয় পদ্ধতির মধ্যে আছে ড্রাম, বালতি, টব, কনটেইনার। এসবের যেকোন একটি বা দু’টি নির্বাচন করার পর পাত্রের তলায় কিছু পরিমাণ খোয়া (ইট পাথরের কণা) দিতে হবে। ইটের খোয়া পানি নিষ্কাশন এবং অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়া এবং পাত্রের ভেতরে বাতাস চলাচলে সহায়তা করে। এক্ষেত্রেও অর্ধেক মাটি এবং অর্ধেক পঁচা জৈবসারের মিশ্রণ হ’তে হবে।
শাক-সবজি, ফুলের জন্য ছোট-খাট টব বা পাত্র হ’লেও চলে। কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে পাত্র/ড্রাম যত বড় হয় তত ভালো। কেননা ফল গাছের শেকড় প্রকৃতিগতভাবে বেশ গভীরে যায়। কিন্তু ড্রাম/টব/পাত্রের সীমিত জায়গায় যথাযথভাবে বিস্তৃতি লাভ করতে পারে না। সেজন্য ছাদের বাগানে টব/ড্রামের আকার যত বড় হয় তত ভালো। টবে/ড্রামে চাষের ক্ষেত্রে গাছের জাত নির্বাচনের পর যৌক্তিকভাবে সাজাতে হবে। যেমন বড় গাছ পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে না দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর পাশে দিতে হবে। এতে আলো বাতাস রোদ ভালোভাবে পাবে। তাছাড়া ছোট বড় জাতের মিশ্রণ করে সেটিং করলে গাছের গাত্র বৃদ্ধিসহ বাড়তি ভালো হয়। আরেকটি যরূরী বিষয় হ’ল ছাদে বাগান করার ক্ষেত্রে ফল চাষাবাদে কলমের এবং হাইব্রিড জাতের ব্যবহার বেশি ফলদায়ক।
আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে সুন্দরভাবে বাঁশ/পিলার তৃতীয় রড দিয়ে জাংলো বা মাচা বানিয়ে টব/প্লাস্টিকের পাত্রে ফুল, বাহারী গাছ-গাছালী, অর্কিড আবাদ করা। এক্ষেত্রে ঝুলন্ত টব/পাত্র মাঝখানে না ঝুলিয়ে পাশে ডিজাইন করে সেটিং করলে জায়গার সদ্ব্যবহার হয়, দেখতেও সুন্দর লাগে।
ছাদে চাষ উপযোগী গাছ নির্বাচন করতে হবে। হাফ ড্রাম, টব বা চৌবাচ্চা কাঠামোয় চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যার ধরন জেনে নিতে হবে। ছাদ খোলামেলা থাকতে হবে। স্থায়ী বাগান করার জন্য ছাদে সিমেন্টের স্থায়ী টব তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। গরুর নান্দার মতো বাজারে সিমেন্টের টব কিনতে পাওয়া যায়। লোহার হাফ ব্যারেল হ’লে সবচেয়ে ভাল হয়। স্থানান্তরের সুবিধার্থে ব্যারেলের দু’পাশে হাতল থাকলে সুবিধা হবে। টবের নিচে ছিদ্র থাকা যরূরী। কয়েকটি ভাঙা চাড়ি ছিদ্রের মুখে দিয়ে মাটি ভরতে হবে। তিন ভাগ মাটি, দুই ভাগ গোবর সার ও এক ভাগ পাতা পচা সার দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে টব পূর্ণ করতে হবে। বর্ষার আগে আগে টবে চারা কলম লাগাতে হবে।