20/09/2023
দারুচিনির উপকারিতাঃ-
১)হেঁচকি সমস্যায় দারুচিনির উপকারিতাঃ- হেঁচকি একটি খুব সাধারণ বিষয়, তবে এমন অনেক লোক আছেন যারা সবসময় হেঁচকির অভিযোগ করেন। এই ধরনের মানুষ দারুচিনি ব্যবহার করতে পারেন। 10-20 মিলি দারুচিনির ক্বাথ পান করুন। এটি স্বস্তি দেয়।
২)গাঁটের ব্যথায়ঃ- অনেকেই গাঁটের সমস্যায় ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে দারুচিনিকে জয়েন্টের ব্যথা কমানোর ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। উষ্ণ গরম পানির মধ্যে এক চামচ মধু আর দারুচিনিগুঁড়া ভালোভাবে মিশিয়ে নিন, এরপর শরীরের ব্যথা স্থানে আস্তে আস্তে মালিশ করুন। ২-৩ দিন ভালোভাবে মালিশ করুন। কিছুদিন পর দেখবেন ব্যথা কমে যাবে।
৩)ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়ঃ- ক্যানসার রোগের চিকিৎসা এবং এই রোগের ঝুঁকি কমানোর পিছনে কতটা কার্যকর দারচিনি, তা নিয়ে গবেষণা চলছে বিশ্বজু়ড়ে। ক্যানসার আক্রান্ত কোষ যাতে শরীরে ছড়িয়ে না পড়ে, তার পিছনে দারচিনির কতটা অবদান রয়েছে, তা নিয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করা হয়েছে এক গবেষণায়। দেখা গিয়েছে অন্ত্রের ক্যানসারের ক্ষেত্রে রোগ ছড়ানোর আটকাতে সক্ষম দারচিনি।
৪)ক্ষুধা বাড়ানোর জন্যঃ- 500 মিলিগ্রাম শুঁথি পাউডার, 500 মিলিগ্রাম এলাচ এবং 500 মিলিগ্রাম দারুচিনি পিষে নিন। সকাল-সন্ধ্যা খাবার আগে খেলে ক্ষুধা বাড়ে।
৫)বমি বন্ধ করতেঃ- বমি বন্ধ করতেও দারুচিনি ব্যবহার করা হয়। দারুচিনি এবং লবঙ্গের একটি ক্বাথ তৈরি করুন। 10-20 মিলি পরিমাণে খেলে বমি বন্ধ হয়।
৬)রক্তে এলডিএল হ্রাসেঃ- প্রতিদিন আধা চা–চামচ দারুচিনির গুঁড়া রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএলের মাত্রা কমায়। প্রতিদিন ২ ইঞ্চি পরিমাণ দারুচিনি দুই কাপ পানিতে জ্বাল দিয়ে সেই পানি এক কাপে নিয়ে এসে সেই পানি গরম–গরম চায়ের মতো করে দিনে তিন বার পান করলে কোলেস্টেরলের সমস্যা সমাধান হয়ে যায়, ডায়াবেটিস না থাকলে দারুচিনির পানিতে এক চা–চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।
৭)টাইপ-২ ডায়াবেটিসেঃ- রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। প্রতিদিন ২ ইঞ্চি পরিমাণ দারুচিনি দুই কাপ পানিতে জ্বাল দিয়ে সেই পানি এক কাপে নিয়ে এসে গরম–গরম চায়ের মতো করে দিনে তিনবার খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের জন্য অনেক উপকারী, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর।
৮)চোখের রোগে দারুচিনির ব্যবহারঃ- অনেকে অভিযোগ করেন যে তাদের চোখ টলতে থাকে। চোখের ওপরে (চোখের পাতায়) দারুচিনির তেল লাগান। এতে চোখের পলক পড়া বন্ধ হয় এবং দৃষ্টিশক্তিও বৃদ্ধি পায়।
৯)দাঁতের ব্যথার জন্যঃ- যাঁরা দাঁতের ব্যথায় ভুগছেন, তাঁরা দারুচিনি খেতে পারেন। তুলো দিয়ে দাঁতে দারুচিনির তেল মাখুন। এটি স্বস্তি দেবে। দারুচিনির ৫-৬টি পাতা পিষে পেস্ট তৈরি করুন। এতে দাঁত পরিষ্কার ও চকচকে হয়।
১০)স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেঃ- বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাবে, এটা স্বাভাবিক নিয়ম। নিয়মিত প্রতিদিন একবেলা ২ ইঞ্চি পরিমাণ দারুচিনি দুই কাপ পানিতে জ্বাল দিয়ে সেই পানি এক কাপে নিয়ে এসে গরম–গরম চায়ের মতো করে পান করলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস হওয়ার প্রবণতা কমে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। এটা শিশুদের বেলায় প্রযোজ্য নয়।সারা দিনে ২ চা–চামচের বেশি দারুচিনি খাওয়া যাবে না, দারুচিনি খাওয়ার কারণে ডায়রিয়া ও মাথা ধরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যাঁদের এমন উপসর্গ দেখা দেবে, তাঁদের দারুচিনি না খাওয়াই উত্তম। বাজারে দারুচিনির নামে অনেক ধরনের গাছের ছাল দারুচিনি বলে বিক্রি হয়ে থাকে, কেনার আগে গন্ধ এবং একটু ভেঙে মুখে দিয়ে দেখুন ঝাঁজালো স্বাদ কি না। নিশ্চিত হলেই নেবেন। প্যাকেটজাত দারুচিনি পরিহার করুন।
১১)মাথাব্যথা উপশমেঃ- মাথা ব্যাথা হলে দারুচিনি খান। 8-10টি দারুচিনি পাতা পিষে একটি পেস্ট তৈরি করুন। দারুচিনির পেস্ট মাথায় লাগালে ঠাণ্ডা বা গরমে মাথাব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যায়। উপশম পাওয়ার পরে, পেস্টটি ধুয়ে ফেলুন।দারুচিনি তেল দিয়ে আপনার মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। এটি ঠান্ডাজনিত মাথাব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। সমান পরিমাণে দারুচিনি, তেজপাতা এবং চিনি মিশিয়ে নিন। চাল ধোয়া পানির সাথে পিষে একটি সূক্ষ্ম গুঁড়ো তৈরি করুন। নাক দিয়ে নিন। এরপর দুধের গরুর ঘিও নাক দিয়ে নিন। এটি মাথা ব্যাথা সংক্রান্ত রোগে উপশম দেয়।
১২)শরীরের ছত্রাকজনিত সমস্যায়ঃ- অনেকে শরীরের নানান স্থানে ছত্রাকজনিত সমস্যা ভুগে থাকেন। তাঁদের জন্য দারুচিনি একটি আদর্শ সমাধান। ইস্ট ছত্রাকজনিত ইফেকশন প্রতিরোধ করতে প্রতিদিন ২ ইঞ্চি পরিমাণ দারুচিনি দুই কাপ পানিতে জ্বাল দিয়ে সেই পানি এক কাপে নিয়ে এসে গরম–গরম চায়ের মতো করে দিনে তিনবার পান করলে দারুচিনির গুণাবলি চমৎকারভাবে কাজ করে। ছত্রাকজনিত সমস্যা সমাধান হয়, বিশেষ ক্ষেত্রে ছত্রাকে উষ্ণ গরম পানির মধ্যে এক চামচ মধু আর দারুচিনিগুঁড়া ভালোভাবে মিশিয়ে নিন, এরপর শরীরের ছত্রাক স্থানে আস্তে আস্তে মালিশ করুন। ২-৩ দিন ভালোভাবে মালিশ করুন। কিছুদিন পর দেখবেন ছত্রাক কমে যাবে।
১৩)হৃদ্রোগ প্রতিরোধেঃ- হৃদ্রোগের অনেক ধরন রয়েছে, তার মধ্যে অনেকের বুকে চিনচিন ব্যথা, হাঁটতে কষ্ট হয়, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে কষ্ট হয়, তাঁদের জন্য দারুচিনি বেশ উপকারী। ১০০ গ্রাম জিরার গুঁড়া, ১০০ গ্রাম ধনিয়ার গুঁড়া, ৫০ গ্রাম দারুচিনির গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে এই মিশ্রণ এককাপ গরম পানিতে এক চা–চামচ মিশিয়ে চায়ের মতো পান করলে হৃদ্রোগীদের জন্য দারুণ উপকারী। এটি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে, উচ্চরক্তচাপ ও কোলেস্টেরেলের সমস্যাও দূরে রাখে।
১৪)লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া প্রতিরোধেঃ- মরণব্যাধি লিম্ফোসাইটিক লিউকোমিয়ার বিস্তার রোধ করে দারুচিনি। রক্ত জমাট না বাঁধার অসুখ হিমোফিলিয়া প্রতিরোধ করতে দারুচিনি বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন ২ ইঞ্চি পরিমাণ দারুচিনি দুই কাপ পানিতে জ্বাল দিয়ে সেই পানি এক কাপে নিয়ে এসে গরম–গরম চায়ের মতো করে দিনে তিনবার অথবা ১০০ গ্রাম জিরার গুঁড়া, ১০০ গ্রাম ধনিয়ার গুঁড়া, ৫০ গ্রাম দারুচিনির গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে এই মিশ্রণ এক কাপ গরম পানিতে এক চা–চামচ মিশিয়ে চায়ের মতো করে পান করলে লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়ার জন্য খুবই উপকারী। এটি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে, যার ফলে লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়ার প্রকোপ কমে যায়, প্রোটিন–জাতীয় খাদ্য পরিহার করে প্রাকৃতিক খাদ্যবিধি মেনে চললে এই ব্যাধি ভালো হয়ে যায়।
১৫)বাতের ব্যথা ও শরীরের হাড়ের ব্যথায়ঃ- বাতের ব্যথা ও শরীরের হাড়ের ব্যথায় আধা চামচ দারুচিনির গুঁড়া এক চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ব্যথা দূর হয়। তা ছাড়া দারুচিনি–মিশ্রিত শর্ষের তেল গায়ে মালিশ করলে ব্যথা ভালো হয়। এ ক্ষেত্রে পানি পানের বিষয়টি খুব ভালোভাবে খেয়াল করতে হয়, পানি কমও পান করা যাবে না, বেশিও পান করা যাবে না। তাই পরিমাণের ক্ষেত্রে সচেতন হয়ে পানি পান করতে হবে। কোনো অবস্থাতে পানিশূন্যতায় ভোগা যাবে না।
১৬)গলাব্যথা ও খুশখুশে কাশিতেঃ- ঠান্ডায় গলাব্যথা বা খুশখুশে কাশিতে এককাপ গরম পানিতে দারুচিনি, মধু মিশিয়ে সারা দিনে ৬ বার চায়ের মতো করে খেলে গলায় আরাম পাওয়া যায় ও খুশখুশে কাশি কমে যায়।
১৭)সাধারণ সর্দি-কাশির জন্য দারুচিনির ব্যবহারঃ- পানিতে দারুচিনি পিষে, গরম করে পেস্ট হিসেবে লাগান। এটি ঠান্ডায় উপকারী। দারুচিনির রস বের করে মাথায় লাগালেও উপকার পাওয়া যায়।
১৮)কাশি রোগে দারুচিনির ব্যবহারঃ- কাশি নিরাময়ে দারুচিনি ব্যবহার উপকারী। কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সকাল-সন্ধ্যা আধা চা চামচ দারুচিনির গুঁড়া ২ চামচ মধুর সঙ্গে খেতে হবে। এটি কাশি থেকে মুক্তি দেয়। দারুচিনি পাতার একটি ক্বাথ তৈরি করুন। 10-20 মিলি খেলে কাশি সেরে যায়। এক চা চামচ মধুর সাথে এক চতুর্থাংশ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এটি দিনে তিনবার খেলে কাশি ও ডায়রিয়ায় উপশম হয়।
১৯)নাকের রোগের চিকিৎসায়ঃ- 3½ গ্রাম দারুচিনি, 600 মিলিগ্রাম লবঙ্গ, 2 গ্রাম শুকনো আদা এক লিটার পানিতে ফুটিয়ে নিন। যখন এই পানি 250 মিলি থাকে তখন এটি ছেঁকে নিন। এটি দিনে তিনবার খেলে নাকের রোগে উপকার পাওয়া যায়। আপনাকে এটি 50 মিলি পরিমাণে নিতে হবে।
২০)পেট ফাঁপাতেঃ- পেট সংক্রান্ত অনেক রোগে দারুচিনি খুবই উপকারী। 5 গ্রাম দারুচিনির গুঁড়ার মধ্যে 1 চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এটি দিনে 3 বার সেবন করুন। পেট ফাঁপা নিরাময় হয়।
২১)কোলেস্টেরল বা ওজন কমানোর জন্যঃ- যাদের শরীরের ওজন বাড়তি, তারা ওজন কমাতে নানা ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। আপনিও স্থূলতা কমাতে দারুচিনির ব্যবহার করতে পারেন। এক কাপ পানিতে দুই চামচ মধু এবং তিন চামচ দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে নিন। এটি প্রতিদিন 3 বার সেবন করুন। এটি কোলেস্টেরল কমায়।
২২)ডায়রিয়া বন্ধ করতেঃ- 5 গ্রাম দারুচিনির গুঁড়ার মধ্যে 1 চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এটি দিনে 3 বার সেবন করুন। এটি ডায়রিয়ায় উপকারী। 750 মিলিগ্রাম দারুচিনি পাউডারে 750 মিলিগ্রাম ক্যাচু পাউডার মেশান। দিনে তিনবার পানির সাথে পান করুন। এতে ডায়রিয়া বন্ধ হয়। একইভাবে 4 গ্রাম দারুচিনি, 10 গ্রাম ক্যাচু একসাথে পিষে নিন। এতে 250 মিলি ফুটন্ত পানি দিন এবং এটি ঢেকে দিন। দুই ঘণ্টা পর ফিল্টার করে দুই ভাগ করে পান করুন। এতে ডায়রিয়া বন্ধ হয়।বেলগিরির শরবতে 2-5 গ্রাম দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এটি সকালে ও সন্ধ্যায় পান করলে ডায়রিয়ার সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়। 10-20 মিলি দারুচিনির ক্বাথ পান করলে পেট সংক্রান্ত রোগে উপকার পাওয়া যায়। দারুচিনির মূল এবং বাকলের একটি ক্বাথ তৈরি করুন। এটি 10-20 মিলি পরিমাণে পান করুন। এটি পেটের অসুখ, ডায়রিয়ায় উপকারী।
২৩)পেটের সমস্যায়ঃ- দারুচিনি , এলাচ এবং তেজপাতা সমান পরিমাণে নিয়ে একটি ক্বাথ তৈরি করুন। এর সেবনে পেটের খিঁচুনি সেরে যায়। দারুচিনির 5-10 মিলি তেল 10 গ্রাম চিনির সাথে মিশিয়ে খেলে পেটের ব্যথা ও বমি উপশম হয়।
২৪)অন্ত্রের রোগেঃ- অন্ত্র সুস্থ রাখতে দারুচিনি ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। সিনামন (দারুচিনি) তেল পেটে মালিশ করলে অন্ত্রের চাপ দূর হয়।
২৫)গর্ভাবস্থার পরে দারুচিনির উপকারিতাঃ- ত্রিকটু, পিপ্রমূল, দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতা এবং আকরকরা নিন। এর গুঁড়া ১-২ গ্রাম মধুর সাথে চেটে নিন। এর ফলে মা হওয়া মহিলাদের রোগ সেরে যায়।
২৬)চর্মরোগের সাথে লড়াইয়েঃ- চর্মরোগ সারাতে মধু ও দারুচিনি মিশিয়ে রোগাক্রান্ত অংশে লাগান। দেখবেন চুলকানি, এলার্জি, ফোঁড়া কয়েকদিনের মধ্যেই ভালো হতে শুরু করবে।
২৭)জ্বরে দারুচিনির উপকারিতাঃ- ১ চা চামচ মধুতে ৫ গ্রাম দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। সকাল, বিকাল ও সন্ধ্যায় খেলে সর্দি-কাশির সঙ্গে আসা সংক্রামক জ্বর সেরে যায়।
২৮)বধিরতা সমস্যায়ঃ- বধিরতা এমন একটি রোগ যা জীবনকে কঠিন করে তোলে। বধিরতার চিকিৎসায়ও দারুচিনি উপকারী। এর জন্য কানে ২ ফোঁটা দারুচিনি তেল দিন। বধিরতায় উপকার পাবেন।
২৯)দারুচিনি ব্যবহার করে রক্তপাত বন্ধ করুনঃ- ফুসফুস বা জরায়ু থেকে রক্তপাত হলে 10-20 মিলি দারুচিনির ক্বাথ পান করুন। সকালে, বিকেলে এবং সন্ধ্যায় ক্বাথ পান করতে হবে। এতে উপকার হয়। শরীরের কোন অংশ থেকে রক্তপাত হলে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো এক কাপ পানির সাথে খান। এটি 2-3 বার খেতে হবে।
৩০) সাইনাসের চিকিৎসায়ঃ- দারুচিনি, কালো দুধ এবং বারবেরি একটি পেস্ট তৈরি করুন। এটির একটি পেস্ট তৈরি করুন। নাকের ভিতরে সাইনাসে একটি ক্ষত তৈরি হয়, সেই ক্ষতের উপর লাগান। এটি দিয়ে ক্ষতটি পূরণ করুন। এটি সাইনাসে উপকারী।
৩১)টিবি রোগে দারুচিনির উপকারিতাঃ- যক্ষ্মা একটি মারাত্মক রোগ যা সারা দেশে বহু মানুষকে আক্রান্ত করে। দারুচিনি টিবি চিকিৎসায় উপকারী। যক্ষ্মা রোগীকে অল্প পরিমাণে দারুচিনির তেল পান করতে হবে। এটি টিবির জীবাণুকে মেরে ফেলে।
৩২)আর্থ্রাইটিস চিকিৎসায়ঃ- 10-20 গ্রাম দারুচিনির গুঁড়ার সঙ্গে 20-30 গ্রাম মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। বেদনাদায়ক জায়গায় আলতো করে ম্যাসাজ করুন। এতে উপকার হবে। এর সাথে এক কাপ হালকা গরম পানিতে ১ চা চামচ মধু এবং ২ গ্রাম দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এটি সকালে, বিকেলে এবং সন্ধ্যায় সেবন করুন। গাউটে উপকার দেয়। দারুচিনি পাতার তেল লাগালে আর্থ্রাইটিসেও আরাম পাওয়া যায়।
দারুচিনির অপকারিতাঃ- যেকোন কিছু যেমন কারো জন্য উপকারী, তবে তা থেকে সবাই উপকৃত হবে এমন নয়। এটি অন্য ব্যক্তিরও ক্ষতি করতে পারে। একইভাবে, দারুচিনিরও অপকারিতা রয়েছে, যা নিম্নরূপ:-
১) অতিরিক্ত পরিমাণে দারুচিনি খেলে মাথাব্যথা হতে পারে।
২) গর্ভবতী মহিলাদের দারুচিনি দেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি গর্ভপাত ঘটাতে পারে।
অতএব, দারুচিনির অপকারিতা থেকে বাঁচতে, ব্যবহারের আগে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
দারুচিনি কত পরিমাণে খাবেন?
ছালের গুঁড়া – 1 থেকে 3 গ্রাম
পাতার গুঁড়া – 1 থেকে 3 গ্রাম
তেল – 2 থেকে 5 ফোঁটা
#দারুচিনি কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?-------
আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দারুচিনি মেটাবলিজমকে উন্নত করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আপনি যদি ওজন বাড়ার জন্য বিরক্ত হন, তাহলে নিয়মিত দারুচিনির গুঁড়া বা এটি থেকে তৈরি একটি ক্বাথ ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন বেশি উপকার পাওয়ার জন্য কখনই বেশি পরিমাণে দারুচিনি খাবেন না।
**বি.দ্র: প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। #উপকারিতাঃ- #চুলের #সুস্বাস্থ্য #স্বাস্থ্যের #মশলা #ত্বকের #কমওজন #স্বাস্থ্য #দারুচিনি