জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর টাংগুয়ার হাওর। পাহাড়ি নদী যাদুকাটা আর সীমান্তঘেঁষা ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য টাংগুয়ার হাওর এলাকাকে স্বর্গ করে তুলেছে। কিন্তু পর্যটন সম্ভাবনাময় এ এলাকায় গড়ে ওঠেনি পর্যটন কেন্দ্র। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর পত্র চালাচালিতেই আটকে আছে সম্ভাবনাময় এ পর্যটন কেন্দ্রটি। ফাইলবন্দি হয়ে আছে দীর্ঘদিন। ২০১০ সালের ১০ই নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাহিরপুর উপজেলা সদরে এক জনসভ
ায় এ এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার আশ্বাস দেন। এরপর পর্যটন করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরজমিন এলাকা পরিদর্শন করে প্রকল্পের ডিপিপি করেন। ৫০ একর জায়গায় এই পর্যটন কেন্দ্রের অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে ভূমি প্রত্যয়নের অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে ২০১১ সালের ১৫ই মে একটি পত্রে মতামত চাওয়া হয়। ভূমিতে অনাপত্তি জানিয়ে প্রত্যয়ন করে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে ওই পত্রে নির্দেশনা দেয়া হয়। ২০১১ সালের ৩০শে জুন মন্ত্রণালয় ১৮৪৮ নং স্মারকে আরেকটি পত্র জেলা প্রশাসনকে পাঠায়। জেলা প্রশাসন উক্ত ভূমিতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য অনাপত্তি জানিয়ে আরেকটি প্রত্যয়নপত্র ও প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এভাবেই একের পর এক ফাইল প্রস্তাব পাঠানোতেই প্রকল্প আটকে পড়ে। যা আজও অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েও একই এলাকায় ৩৫০ কোটি টাকার আরেকটি পর্যটন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়। এর আগে জোট সরকারের সময়েও ৩৫ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়। সেটিও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। এভাবে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কোন প্রকল্পই এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট ঐতিহ্যবাহী টাংগুয়ার হাওর ও সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি নদী যাদুকাটা, বারেকটিলাসহ আশেপাশের এলাকায় পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার মতো অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্ষায় অথৈ পানি আর শীতকালে দিগন্তবিস্তৃত ধানক্ষেত, সুদূর সাইবেরিয়া ও মঙ্গোলিয়া থেকে আসা পরিযায়ী পাখিদের কলকাকলি সব মিলিয়েই পর্যটকদের মিলনমেলা হতে পারে এ এলাকা।
কপিঃ দৈনিক মানবজমিন