14/08/2020
নয়নতারা
অন্যান্য নাম : নয়নতারা, গুলফেরিংগী, কটকতারা, সদাসোহাগী,
ইংরেজি নাম : Cape periwinkle, Madagascar periwinkle, periwinkle,
বৈজ্ঞানিক নাম : Catharanthus roseus
নয়নতারা একটি বর্ষজীবী গুল্ম জাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ। তবে কখনো কখনো অনেক বছর বেঁচে থাকতেও দেখা যায়। নয়নতারা গাছের আদি জন্মস্থান আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত মাদাগাসকার দ্বীপ হলেও বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, আফ্রিকা সহ এই উপমহাদেশের সমতলভূমির প্রায় সর্বত্র পাওয়া যায়।
নয়নতারা গাছটি ২-৩ ফুট লম্বা, কাণ্ডের একটু উপর থেকেই ডালপালা বেড়ে ওঠে। কান্ড কোনাচে ধরণের নরম, রসালো ও গাঢ় সবুজ বা বেগুনি রঙের। ডালপালা এপাশ-ওপাশ ছড়ানো। মূলের কাছের কান্ড ক্রমে শক্ত হয়ে ওঠে।
পাতা গাঢ় সবুজ। ৭-৮ সেন্টিমিটার লম্বা ও ২-৩ সেন্টিমিটার প্রশস্ত। পাতা সবৃন্তক, বিপরীতমুখী, মসৃণ, আয়তকার ও অনেকটা ডিম্বাকার।পাতার মধ্যে উপশিরা বিদ্যমান।
নয়নতারা ফুল সারা বছর ফুটলেও শরৎ ও বসন্ত ঋতুতে বেশি ফোটে। পাঁচ পাপড়ি বিশিষ্ট ফুল। গোলাপি, হালকা গোলাপি ও সাদা রঙের ফুল ফোটে। ফুল গন্ধহীন তবে আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। ফুলের পাঁচটি পাপড়ি। পাপড়ি ৩-৩.৫ সেমি চওড়া। পুরো ফুল একরঙা হলেও ফুলের মধ্যবিন্দুটি অন্য রংয়েরও হয়। দলনল সরু, প্রায় ২.৫ সেমি লম্বা।
ফল দেখতে অনেকটাই সর্ষের শুঁটির মত, বেঁটে, একটু মোটা এবং বেলনাকার। শুঁটিতে অনেক বীজ থাকে। বীজ কালো ও অমসৃণ, সরিষার দানার চেয়ে সামান্য বড়। এই ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে গাছ লাগানো যায়। আবার গাছের কলম তৈরি করেও গাছ লাগানো যায়। সমগ্র গাছটি তিক্ত স্বাদের জন্য সাধারনতঃ গরু ছাগলে খায় না।
গাছটির পাতা, ফুল ও ডালে বহু মূল্যবান রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায়। ৭০ টিরও বেশি উপক্ষার পাওয়া যায় এ গাছ থেকে। যেমন- ভিনব্লাসটিন, ভিনক্রিসটিন, ভিনোরেলবিন, ভিনরোসাইডন, ভিনডোলিন ইত্যাদি। এই এলকালয়েডগুলো অত্যন্ত তিক্ত স্বাদের এবং নাইট্রোজেন পরমাণুবিশিষ্ট। ভিনক্রিস্টিন ও ভিনব্লাস্টিন নামের উপক্ষার দুটি লিউকেমিয়া রোগে বিশেষ ব্যাবহার রয়েছে এবং ক্যানসার চিকিৎসায় যেগুলির গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। নয়নতারা বহুমূত্র রোগের চিকিৎসায় দেশিয় ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং লঘুরক্তচাপ, প্রশান্তিদায়ক ও প্রশমক ঔষধ হিসেবেও এর ব্যবহার আছে। এছাড়াও ক্রিমি রোগে, মেধাবৃদ্ধিতে, রক্ত প্রদরে, সন্ধিবাত, ডিপথেরিয়া সহ নানা রোগে এর ব্যবহার রয়েছে। বোলতা প্রভৃতির হুলের জ্বালায়/কীট দংশনে দ্রুত উপশম পেতে নয়নতারা ফুল বা পাতার রস ব্যবহারের প্রচলন লক্ষ্য করা যায়।
নয়নতারার কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এর দ্বারা তৈরিকৃত ঔষধের কারণে বমি বা বমি বমি ভাব, মাথা ব্যথা, রক্ত ঝরা, অবসাদ ইত্যাদি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এটি কিডনী ও স্নায়ুতন্ত্রের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভবতী মহিলাদের জন্যও ক্ষতিকর। এছাড়াও এটি তৃণভোজী প্রাণীদের জন্য বিষাক্ত।