13/04/2026
কেউ যদি আপনার ৫ হাজার টাকা চুরি তাহলে তাকে মাফ করে দিতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি আপনার ২ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা চুরি করে তখনও কি তাকে মাফ করে দিতে পারবেন? পারবেন না।
কিন্তু বিএনপি সরকার ঠিক এই কাজটাই করেছে। তারা ২,২০০,০০০,০০০,০০০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া এস আলম গ্রুপকে মাফ করে দিয়েছে।
শুধু মাফই করে দেয়নি, আদর-আপ্যায়ন করে নতুন করে ব্যবসা করার সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে। এই সুযোগটা বিএনপি সরকার করে দিয়েছে সংসদে বিল পাশ করার মাধ্যমে।
জনগণ নিজের কষ্টের ইনকামের টাকাগুলো ব্যাংকে রেখেছিল। এস আলম বুদ্ধি করে ব্যাংকগুলো থেকে সব টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। তারপর সেই টাকা দিয়ে বিদেশে আলিশান বাড়ি কিনেছে, গাড়ি কিনেছে, ফ্ল্যাট কিনেছে।
এস আলম জানতো সরাসরি জনগণের কাছ থেকে টাকা মেরে দিলে তাকে ধরে ফেলবে তাই সে কৌশলে ব্যাংকগুলো থেকে লোন নিতো। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে সে লোনগুলো আর দিতো না। কারণ রাজনীতিবীদরাও তার কাছ থেকে ভাগ পেতো।
এভাবে সে ইসলামী ব্যাংকসহ মোট ৫ টা ব্যাংক'কে টার্গেট করে সব টাকা লুটপাট করে পাচার করে দিয়েছিল। এজন্যেই ৫ই আগস্টের পর সাধারণ মানুষ ব্যাংকে গিয়ে টাকা তুলতে পারেনি, হাহাকার করেছে,
এরপর ইউনূস সরকার এসে সেই ৫ টা ব্যাংককে একত্রিত করেছিল। সরকারি বীমা খাত থেকে ভর্তুকি দিয়ে বহু কষ্টে ব্যাংকগুলোকে দাঁড় করিয়েছিল যাতে জনগণকে ঠকতে না হয়।
অথচ সেই এস আলমকেই এখন ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছে বিটিআরসি। কেন অবৈধভাবে অনুমতি দেয়া হয়েছে এটার কারণ জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে কল দিলেও তিনি কল ধরেননি।
বিটিআরসির কমিশনারকে কল দিলে সেও ধরেনি। কেননা- কারণ বললে নাকি তাদের চাকরিটাই থাকবে না, বিএনপির নেতাদের নির্দেশ আছে তাই তারা বাধ্য হয়ে অনুমতি দিয়েছে।
এস আলম আগে আওয়ামী লীগের এমপি মন্ত্রীদের সাথে সমঝোতা করে জনগণের টাকা লুটপাট করতো। আর এখন বিএনপি সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে লুটপাট করার সুযোগটা তৈরি করেছে।
কারণ বিএনপিও এই বিশাল টাকার ভাগ পাবে, কোটি টাকা পাচার করার সুযোগ পাবে।
এস আলম দেশের ব্যাংকগুলো থেকে এত বেশি টাকা চুরি করেছিল যে - সে যদি এক হাজার টাকার নোট প্রতিদিন ২ কেজি করে চিবিয়ে খেতো তবু্ও তার টাকা শেষ হতে সময় লাগতো ৩২৮০ বছর!
অথচ এই বিপুল পরিমাণ টাকার একটা টাকাও তার না। প্রবাসীরা রোদে পুড়ে কাজ করে রেমিট্যান্স হিসাবে যেই টাকাগুলো পাঠায়, আমি আপনি কষ্ট করে উপার্জন করে যে টাকাগুলো ব্যাংকে জমা রাখি সেগুলোই এই টাকা।
বিএনপি সরকার একদিকে এস আলমের মতো রাঘববোয়াল চোরদের ব্যবসার সুযোগ করে দিচ্ছে আর অন্যদিকে এই টাকার ঘাটতি পূরণ করতে জনগণের ভ্যাট বাড়াবে, ট্যাক্স বাড়াবে। দিনশেষে সবজায়গা থেকে লোকসানটা জনগণেরই হবে।
এস আলম এবারে নতুন করে সুযোগ পেয়েছে ,সে শুধু অপেক্ষায় আছে আবার কবে হাজার কোটি টাকা চুরি করে পাচার করে দেয়া যায়।
আপনি হয়তো আজকে চুপ করে আছেন, ভাবছেন- ব্যাংকের টাকা চুরি করুক তাতে আমার কি? আপনি হয়তো ব্যাংকে টাকা রেখে আরামসে দিন কাটাচ্ছেন ,বিন্দুমাত্র প্রতিবাদও করছেন না।
কিন্তু আর কিছুদিন পর যখন আপনার কষ্টের ইনকামের টাকা এস আলম চুরি করে পাচার করে দিবে সেদিন কিন্তু আর কিচ্ছু করার থাকবে না
- Ibrahim Khalil Shawon