08/08/2025
আপনার মা আবদার করলো জীবনে উনি এয়ারপোর্ট দেখেননি, কিংবা কখনো ঢাকায় যাওয়া হয়নি, আপনি দেশে যাওয়ার সময় উনি এয়ারপোর্টে আসতে চাচ্ছেন।
কোনোভাবে না করার সুযোগ আছে?
আমাদের প্রবাসীদের পরিবারের (স্ত্রী এবং সন্তান) বছরের ৩৬৫ দিন নিজের বাড়ি আর বাপের বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাদের কোথাও ঐভাবে ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হয়না।
খুব প্রয়োজন হলে আশেপাশের হাটবাজার পযন্ত যাওয়া হয়। (কিছু পরিবারের ক্ষেত্রে একটু ব্যাতিক্রম হতে পারে।)
সন্তান যখন জানে তার বাবা প্রবাস থেকে আসতেছে, তখন সন্তান যদি বাবার কাছে আবদার করে বাবা আমি আপনাকে রিসিভ করতে এয়ারপোর্ট আসবো, বাবা নিশ্চয়ই না করতে পারেন না। কিছু বাবাও চায় তার সন্তানটাকে বিমান থেকে নেমেই একটু আদর করতে।
এক্ষেত্রে নিজের স্ত্রীও অনেকসময় একই আবদার করেন।
স্ত্রী, সন্তান এবং মা যাচ্ছেন এয়ারপোর্টে, পাশেই যে বড়ভাইয়ের বউ এবং ভাতিজি আছে, তাদের নিশ্চয় একবার জিজ্ঞেস করতে হয়!
জিজ্ঞেস করতেই ভাতিজি হ্যাঁ বলেই তার আম্মুকেও রাজি করে নিলো, ভাবিও মেয়ের আনন্দের কথা ভেবে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে নিলো।
যাওয়ার জন্য প্রস্তুত সবাই, মা নানিকে ফোন দিয়ে জানতে চাইলো নানিও সঙ্গে যাবে কিনা! নানি প্রথমে না করলেও মায়ের কথায় নানিও এয়ারপোর্টের উদেশ্য চলে গেলো।
গত সাপ্তাহে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ঘটে যাওয়া ওমান প্রবাসীর পরিবারের চিত্র হয়তো এমন, এটা জাস্ট আমরা ধারণা করতেছি।
আমাদের প্রবাসীদের পরিবারগুলোর আনন্দের যায়গাটা খুব ছোট।
বেশিরভাগ পরিবারের সন্তানরা ঢাকা এয়ারপোর্ট পযন্ত আসতে পারাতে জীবনের বড় একটা আনন্দ খুজে পায়।
পরিবারের সবাইকে নিয়ে এয়ারপোর্টে যাওয়ায় যারা সমালোচনা করছেন তাদের সমালোচনা অবশ্যই যৌক্তিক, তবে প্রিয় মানুষটি যখন দীর্ঘ কয়েক বছর পর হাজার মাইলের দূরত্ব পাড়ি দিয়া বাড়ি ফিরে আসে তখন এই যাওয়াকে আপনি আবেগ বলতে পারেন, অথবা ভালোবাসা।
তব, দূর্ঘটনা-মৃত্যু কার কখন কিভাবে আসবে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।
আমরা সমালোচনা না করে আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতের মেহমান করে নেন।