Dilruba's Golden Diary

Dilruba's Golden Diary Hello, I am Syeda Sultana Dilruba Khanam.

Welcome to my Golden Diary, a place where I share my cooking, crafts, photographies, and the tiny things that make life feel a little extra sweet!

 #গল্প  #আষাঢ়  #কদমফুলআষাঢ় মানেই আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা, বৃষ্টির টুপটাপ সুর, কদমফুলের মিষ্টি সুবাস, ভেজা মাটির গন্ধ আর হ...
06/18/2026

#গল্প #আষাঢ় #কদমফুল
আষাঢ় মানেই আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা, বৃষ্টির টুপটাপ সুর, কদমফুলের মিষ্টি সুবাস, ভেজা মাটির গন্ধ আর হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা অনুভূতিগুলোর নতুন করে জেগে ওঠা। বর্ষার প্রতিটি ফোঁটায় ধুয়ে যাক সব ক্লান্তি, ভরে উঠুক মন নতুন আনন্দে।
শুভ আষাঢ়। 🌧️💙☔

 #গল্প  #মায়েরঘর  #মুস্তাকিমবিল্লাহ ঘুম থেকে উঠে বেশ কয়েকবার মাকে ডাকলাম। দেখি মা ঘরে নেই। বড় আপার ঘরে ছুটে যেয়ে মায়ের ক...
06/16/2026

#গল্প #মায়েরঘর #মুস্তাকিমবিল্লাহ
ঘুম থেকে উঠে বেশ কয়েকবার মাকে ডাকলাম। দেখি মা ঘরে নেই। বড় আপার ঘরে ছুটে যেয়ে মায়ের কথা জিজ্ঞেস করি। আপা বলে, মা বাড়িতে নেই নানা বাড়িতে গেছে।

কাউকে কিছু না বলে মায়ের নানা বাড়ি চলে যাবার অবশ্য একটা কারণ আছে। বাবার সাথে গতরাতে মায়ের ঝগড়া হয়েছে। মা একসময় বাবার ঘর থেকে বের হয়ে আপার কাছে ঘুমাতে যায়। ভোরে উঠেই নানাবাড়ি চলে গেছে।

মায়ের অভিমান করে চলে যাওয়া নিয়ে অবশ্য তেমন খারাপ লাগলো না। মা ভালোই আছেন নানুবাড়িতে। আমরা যে খারাপ আছি তেমন না। বড় আপা রান্না করছেন, খাবার খাওয়া নিয়ে কোনো অসুবিধা হয় না। আমি পেয়ে গেলাম মুক্ত জীবন। সন্ধ্যা বেলা বাবা থাকেন বাইরে, আমি টিভির সামনে বসি। এখন সন্ধ্যা বেলা টিভি দেখা নিয়ে কেউ বকে না। দুপুরের খাবার খেয়ে এক দৌড়ে বল নিয়ে মাঠে চলে যাই।

মা নানু বাড়িতে গেছেন দুদিন হয়। যদিও আপা ঘরের কাজ সব করছেন, তবে দুদিন পরেই হুট করে বাইরে থেকে এসে মা বলে ডেকে বলি। খেয়াল ছিলো না, মায়ের বাড়িতে না থাকা। ডাক দেবার পরেই খেয়াল আসে মা বাড়িতে নেই। মনে হলো ঘর জুড়ে শূন্যতা, কোথাও কিছু নেই। টিভির সামনে বসতে ইচ্ছে হলো না।

আপার কাছে ছুটে গেলাম। আপা আমারে ত্রিশ টাকা দিবি? বাবার কাছ থেকে নিয়ে তোরে দিয়ে দিবো৷

আপা আমার হাত ত্রিশ টাকা দিলো। নানু বাড়ি যেতে বাস ভাড়া দশ টাকা। যাওয়া আসা মিলিয়ে বিশ টাকায় হয়ে যাবে৷

বাসা থেকে বের হয়ে বাস ধরলাম। মনে হলো এক দৌড়ে নানুদের বাসায় এসেছি। ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে মা বলে ডাক দিতেই মা সাড়া দেয়। আমি ঘরের ভিতরে আসি। মা বলেন তুই এইসময়? আমি বলি এমনি।

আমার কাছে মনে হয়েছে আমি মাকে ডাক দিবো আর মা সাড়া দিবে এইসবই একমাত্র শান্তি। তাই ছুটে চলে আসছি। গত কয়েকদিন মাকে ডাকা হয়নি। বই খুঁজে না পেলে মাকে ডাকি, ফ্রিজের কোন তাকে খাবার সেসব খুঁজে না পেলে ডাকি। টিশার্ট খুঁজে না পেলে মাকে ডাকি। সেই মাকে গত দুদিন ডাকিনি, ভাবতেই বুকের ভিতনে কেমন করে উঠে।

ঘন্টাখানেক মায়ের কাছে থেকে আবার বাস ধরে বাড়িতে চলে আসি। আজকে অবশ্য থাকা যেতো। তবে আগামীকাল আমার একটা পরীক্ষা আছে তাই চলে আসতে হয়েছে। মাকে বললাম, মা চলো। মা বললেন, যাবো না আমি তুই আজকের রাত থাক। আমিও আর থাকলাম না।

মা বাড়ির বাইরে চারদিন হয়৷ আপার সাথে প্রতিদিনই কলে কথা বলে, বাবার খোঁজ খবর নেয়। যদিও আমার ফোনে কথা বলতে ইচ্ছে করে না, আবার যখন মন খারাপ হবে ছুটে যাবো এক দৌড় ঠিক করে রাখি।

চারদিন পরে বাবা অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটায়। আমাদের বাড়িটা একতলা। বাবা বাড়িতে দুজন লোক নিয়ে আসেন, কিছুসময় পরেই ট্রাক ভর্তি করে কিছু মালামাল বাড়ির সামনে আসে।

আমি আর আপা জিজ্ঞেস করতেই বাবা বলেন উপরে একটা ঘর করা হবে। আপা বলেন, এখন উপরে ঘর করে কি হবে? মা বাড়ির বাইরে তাকে ফেরাতে হবে না?

বাবা আপার কথায় কোনো উত্তর দেয় না। আপা সাথে সাথে যেয়ে মাকে খবরটা জানায়। তবে কি বাবা আবার বিয়ে করবার চিন্তাভাবনা করছেন? উপরের ঘরে তার সেই নতুন বউ নিয়ে থাকবে।

বাবার এসব কর্মকাণ্ড দেখে বড় চাচা বিকালে বাড়িতে আসেন। কিভাবে যেনো ছড়িয়ে গেলো বাবা আবার বিয়ে করতে চাইছেন তাই ঘর তুলছেন উপরে। চাচা এসে বাবাকে বুঝিয়ে বলেন, এই বয়সে কি তোর বিয়ে করা সাজে বল? দুটো ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে, ওদের পড়াশোনা করাবি, মানুষের মতো মানুষ করতে হবে না?

বাবা চাচার কথায় কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু চাচার কথা কেন কারো কথায় কোনো উত্তর দেয় না৷

এদিকে মা দিনে চার পাঁচবার কল দিয়ে আপার সাথে কাঁদছেন। ফোন দিয়েই কান্না শুরু করেন।

বাবা যে আসলে কি করতে চায় কেউ বুঝতে পারে না৷

উপরের ঘরের কাজ শেষ করতে পনেরো দিন চলে যায়। বাবা আজকাল এই ঘরটা নিয়েই আছেন, দেয়ালে কি রং করবেন, কোনপাশে জানালা দিলে বাতাস আসবে, এমন সব ভাবনা৷ আপার কাছে বেশ উৎসাহ নিয়ে ঘরের কাজের কথা বলেন, তবে তিনি বিরক্ত হয়।

ঘরের কাজ শেষ হবার পরে কিছু আসবাবপত্র কিনেন। একটা সোফা, দুটো ছোটো চেয়ার। দেয়ালের জন্যে কিছু ছবি। ছোটো একটা খাট। আর অনেকগুলো বই। পুরো ঘরের দুইপাশের দেয়াল জুড়ে বইয়ের তাক সাজানো।

বাবা আমাদের দুই ভাই বোনকে ডেকে নিয়ে ঘর দেখায়। আপা কোনো কথা বলে না। বাবা তার মতো করে কথা বলে যায়। একসময় বাবা বলেন, তোর মা আমার খুব রাগ করে আছে তাইনা? হয়তো আমাকে কল দিতে চেয়েও দেয়নি। চল এক কাজ করি কালা আমরা সবাই দুপুরে তোর নানাবাড়ি যাই তোর মাকে ফিরিয়ে আনতে।

আপা বাবার দিকে তাকিয়ে হাসি দেয়। বাবাও মৃদু হাসেন।

সকালে বাজারের হাট থেকে বাবা বড় দেখে একটা বোয়াল মাছ কিনেন। সেই মাছ নিয়েই আমরা নানাবাড়িতে যাই।

বাবার আসবার কথা শুনে সেই যে মা ভিতরের ঘরে গেছেন এখন পর্যন্ত সামনের ঘরে আসেনি। বাবার সামনে তিনি আসতে চায়নি।

দুপুরবেলা বাড়িতে বেশ ভালো আয়োজন হয়। বাবাকে মামারা খুব সম্মান করেন, মামাবাড়িতে কোনো কিছু হলে বাবার সিদ্ধান্তের গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাবা আসছেন শুনে মামারা বেশ খুশি হয়েছে।মাকে সবাই মিলে খুব বুঝিয়েছে।

বিকালে নানাবাড়ি থেকে আমরা মাকে নিয়ে বাড়ির পথে রহনা দেই। পুরো পথে মা বাবার সাথে কথা বলেনি।

বাবা বাড়িতে ফিরেই সবাইকে নিয়ে উপরের ঘরে যায়। মাকে নিয়ে আসেন আপা। বাবা আপার দিকে তাকিয়ে বলেন, বুঝলি রাইসা তোর মা আর আমি এক ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম৷ বিয়ের পরে তার স্বপ্ন ছিলো একটা ঘর হবে, বই থাকবে ঘর ভর্তি। তবে স্টুডেন্ট অবস্থায় বিয়ে করেছি, এক রুমে সংসার শুরু হয়। ফ্লোরে বিছানা করে ঘুমাতাম, সেই ঘরের এক কোনায় ছিলো কিছু ছোটো হাড়ি পাতিল। টিউশনের টাকা পেলে নীলক্ষেত যেয়ে দুটো পুরোনো বই কিনে দিতাম। সেই বই তোর মা পড়তো।

সংসার ধর্মে দুজনে মন দিলাম, ছেলেমেয়ে হলো। আর বই ভর্তি তার নিজের মতো ঘর দিতে পারলাম না। তোর মা অবশ্য এখন তেমন বই পড়েও না। সংসার নিয়েই তো সময় চলে যায়, ছেলেমেয়েদের দেখতে হয়। অনেক দায়িত্ব।

এবার থেকে আমার সাথে ঝগড়া হলে যেনো আর তোর নানাবাড়িতে না যায়। এই ঘরটা আজকে থেকে তোর মায়ের। আর এই ঘরে তোরা কখনো আসবি না। আমার সাথে ঝগড়া হলে কিংবা দূরে কোথাও যেতে ইচ্ছে হলে এখানে চলে আসবে।

বাবা মায়ের কাছে দাঁড়িয়ে একটা তালা আর চাবি মায়ের হাতে দেয়।

মা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, কোনো কথা বলতে পারছে না। দুই চোখে পানি টলমল করছে। বাবার উপর হয়তো তার মনে এখন কোনো রাগ নেই। আপা যেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে মিটমিট করে হাসে, মা নিজেও হাসি দেয় যদিও চোখেভর্তি পানি। চোখ মুছতে মুছতে বলেন, আমি কি এসব কখনো বলছি, এতো টাকা খরচ করে এসবের কি দরকার ছিলো?

বাবা বলেন দরকার ছিলো, খুব দরকার। অবশেষে তোমার ইচ্ছে তো পূর্ণ করতে পারলাম, আর রাগ করে বাবার বাড়িতে যেতে হবে না। যখন ইচ্ছে হবে এই ঘরের তালা খুলে এখানে এসে বসে থাকবে, বইপত্র পড়বে। এটা তোমার নিজের ঘর, এখানে তোমার অনুমতি ছাড়া কারো আসা নিষেধ। আপা বলেন, বাবা আমিও আসতে পারবো না? আমিও বলি, আমিও কি আসবো না? মা হেসে বলেন, সবাই আসবি তোরা।

মায়ের ঘর
-মুস্তাকিম বিল্লাহ
[ প্রিয় লেখক আপনার লিখাটি খুব ভালো লাগলো তাই শেয়ার করে নিলাম ]

 #গল্প  #আমাদেরমা  #মুস্তাকিমবিল্লাহআমার মা বোকা একজন মহিলা, জটিলতা বুঝে না। মায়ের মতো আমরা তিন ভাই বোন কেউ বোকা হইনি। আ...
06/14/2026

#গল্প #আমাদেরমা #মুস্তাকিমবিল্লাহ
আমার মা বোকা একজন মহিলা, জটিলতা বুঝে না। মায়ের মতো আমরা তিন ভাই বোন কেউ বোকা হইনি। আমার বড় ভাই ক্লাসে প্রথম হয়, আপাও ভাইয়ার মতো। আমি প্রথম হতে না পারলেও চার পাঁচ রোলের ভিতরে থাকি।

কখনো মানুষ হাসতে হাসতে বলে এই বোকা মহিলার ছেলেমেয়ে এতো বুদ্ধিমান কি করে হয়? মা শুধু হাসেন। আমার তখন খারাপ লাগে, হাসির কথা না এসব। মায়ের উচিত কথা শুনিয়ে দেওয়া যেনো ফের এসব বলবার সাহস না পায়। তবে মা শুধুই হাসেন।

মায়ের সাথে বাবার বিয়ের আটমাস পরেই সবাই চেয়েছে বাবাকে আবার বিয়ে করাতে, এমন বোকা মহিলা আমার বাবার মতো বুদ্ধিমান মানুষের সাথে যায় না। বাবা শিক্ষক মানুষ, এই শহরের সবাই বাবাকে সম্মান করে, তার বউ হবে বুদ্ধিমান কথার মারপেঁচে ফেলতে পারবে এদিকে আমার মা বোকা স্বভাবের। মায়ের এই বোকা স্বভাবের কারণে বাবা মাকে নিয়ে কোথাও কোনো অনুষ্ঠানে যেতেন না, যদিও বাবা মাকে ছাড়েনি। এই যে বিয়ের একুশ বছর হয় গেছে বাবা শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত একসাথে ছিলেন, আমরা তিন ভাই বোন মায়ের কোলজুড়ে এসেছি৷

গতরাতে আমার বাবা আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন। মা গতকাল থেকে মুখে খাবার তুলেনি, যদিও বাড়িতে এখন উৎসব শুরু হয়ে গেছে, খাওয়া নিয়ে, আত্মীয় স্বজনদের ভিতরে খোশগল্প শুরু হয়েছে; সবকিছু দেখে মনে হলো এ যেনো এক মিলনমেলা। বাবার শোক বাড়িতে কিছু সময় ছিলো এখন সেসব নেই, শুধু মা ঘরের এক কোনায় বসে কাঁদছেন। মা কেন কাঁদছেন সে নিজেই জানেন, বাবা যে মাকে অনেক ভালোবাসতেন তেমনও না, বাবা যা করেছে মাকে অবহেলা কারণ মাকে নিয়ে সবার সামনে যাওয়া যেতো না। মায়ের আপন বলতে ছিলো ঘরের হাড়ি পাতিল, আর ছাদে আটকে রাখা কিছু মুরগী।

আমার সহজ সরল মা যেনো নতুন একটা দুনিয়ার সাথে পরিচয় হয়েছেন। বাড়িতে একটা পয়সাও নেই। মা যেহেতু সহজ সরল বাবা কখনো মায়ের কাছে টাকা পয়সা দিতেন না, হারিয়ে ফেলবে, বা কেউ নিয়ে যাবে এমন চিন্তা করতেন। মায়ের কাছে কিছু বলেও যায়নি, বাবা যদি জানতেন হুট করে এমন চলে যাবেন তবে হয়তো বলে যেতেন তার টাকা পয়সা কোথায় রাখা।

আমি এবার ক্লাস সেভেনে পড়ি, বড় আপা ক্লাস টেনে, ভাইয়া কেবল কলেজে ভর্তি হয়েছে। ঘরে যা বাজার আছে বড়জোর এক সপ্তাহ চলে যাবে তারপর কি খাবো তার কোনো ঠিক নেই।

আপা আর আমি এক প্লেট ভাত নিয়ে মায়ের কাছে বসি, মা চোখ মুছতে মুছতে বলেন আমার ক্ষুধা নেই। ক্ষুধা নেই, সে কেমন কথা? গতরাত থেকে মা কিছু খায়নি। আপা আর আমি চুপচাপ বসে আছি, ভাইয়া বাহির থেকে ঘরের ভিতরে আসেন। আপা ভাইয়ার হাত ধরে বলে, দেখ না জহির মা কিছু খাইতে চাইছে না।

ভাইয়া মায়ের পাশে বসে, মা ভাইয়াকে একটু বেশিই স্নেহ করেন। ভাইয়ার যখন তিন বছর বয়স তখন তার ভয়ংকর এক জ্বর হয়, সবাই ভেবেছিলো বাঁচানো যাবে না। মা কাঁদতে কাঁদতে বেহুশ হয়ে গেলেন, ভোরে দেখলেন ভাইয়ার জ্বর কমে গেছে, সুস্থ হয়ে উঠে। ঠিক এই কারণেই ভাইয়ার প্রতি মায়ের আলাদা একটু টান।

আপার হাত থেকে জহির ভাইয়া প্লেট নিয়ে মায়ের মুখে ভাত তুলে দেয়, মায়ের দুই চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে নামছে। মা প্লেটের অর্ধেক ভাত খায়, বাকিটা আর খাওয়াতে পারেনি।

বাড়িতে আসা আত্মীয়রা দুদিনের ভিতরেই চলে যেতে শুরু করে। বাড়িটা খালি হতে শুরু করে, উৎসবের আয়োজন কমে যেতে শুরু করে।

আপার ফর্ম ফিলাপের তারিখ দেয়, মায়ের কাছে এসে বলে। মা এখন টাকা পাবে কোথায়? বাবার টাকার কোনো খোঁজ সে জানে না। মা ছোটো চাচার কাছে ছুটে যায়। সেদিন রাতে বাবা নাকি কথা কথায বলেছে, ছোটো চাচার কাছে তার পয়তাল্লিশ হাজার টাকা রাখা আছে৷

মা যখন চাচার কাছে টাকার কথা বলে, ছোটো চাচা বলে তার কাছে কোনো টাকা রাখেনি। মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, জহিরের বাবা আমার কাছে বলেছেন আপনারে সে টাকা দিছে। ছোটো চাচা বলে, এমন কোনো টাকা দেয়নি।

মা চোখে পানি নিয়েই ফিরে আসেন। মায়ের কথার এই পরিবারে কোনো মূল্য নেই, মা বোকা মানুষ, তার যা মনে আসে বলে যায়, ছোটো চাচার কথাই সবাই মেনে নিয়েছে। মা সেদিন ঘরে এসে আমাদের তিন ভাই বোনকে সামনে বসিয়ে বলে, তোদের কি মনে হয় আমি মিথ্যা বলেছি? জহির ভাইয়া বলে, মা এখন চাচা স্বীকার না করলে কি করবার। মা বলেন, তোর বাবা সত্যি আমাকে এই টাকার কথা বলেছেন। মা বিলাপ করতে থাকেন, একসময় নিজেই চোখ মুছে স্বাভাবিক হয়।

আমার বোকা মাকে এরপর চুপচাপ হয়ে যেতে দেখি, মাকে বহুদিন হয় হাসতে দেখি না। বাবা টাকা যাদের কাছে রেখেছেন সবাই কেমন করে চেপে গেলেন, আমাদের আত্মীয় স্বজনরা দূরত্ব বাড়িয়ে দিলেন। এখন কেউ আমাদের ফোনে কল দেয় না, যদি মা কারো কাছে টাকা চেয়ে বসে সেই ভয়ে। অভাবী মানুষের থেকে তার আত্মীয় স্বজনরা দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়, লুকিয়ে থাকে, না জানি কখনো টাকা চেয়ে বসে সেই ভয়ে।

সেদিন সন্ধ্যা বেলা উচ্চস্বরে হাসির শব্দ শুনতে পাই। আমি আর আপা ছাদে ছুটে যেয়ে দেখি মা খিলখিল করে হাসছেন। আমার ভয় লাগে, সন্ধ্যাবেলা নাকি মানুষকে ভুতে ধরে, মা কোনো কারণ ছাড়া একা একা হাসছেন তবে কি মাকে ভুতে ধরেছে? আমি আপার হাত ধরে পিছনে এসে দাঁড়াই। আপা মায়ের গায়ে হাত দিয়ে বলে, মা হাসছো কেন? মা বলে, একটা খুশির খবর পেয়েই হাসছি। খুশির খবর? আমাদের জীবনেও খুশির খবর আছে তাহলে?

মা বলেন, তোর ছোটো চাচার এক ট্রলার মালামাল নদীতে ডুবে গেছে, ট্রলার তুলতে পারলেও মাল তুলতে পারিনি। প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল ছিলো। উপরে একজন আছেন তিনিই সবকিছুর বিচার করেন, আমি শুধু অপেক্ষায় ছিলাম তবে এতো তাড়াতাড়ি সবকিছু দেখতে পারবো চিন্তা করিনি৷

ছোটো চাচা পরদিনই আমাদের বাসায় আসেন, মা সামনের ঘরে বসে চাচার সাথে কথা বলছেন। আমরা তিন ভাই বোন দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে কথা শুনছি। চাচা মায়ের হাতে পনেরো হাজার টাকা দিয়ে বলে, ভাবি ভাইজান আমার কাছে কিছু টাকা দিয়েছিলো, এখন এই টাকাটা রাখেন বাকি টাকা সামনের মাসে দিয়ে দিবো।

মা জহির ভাইয়াকে বাজারে পাঠায়। কয়েকদিন বাসায় শুধু আলু আর ডাল রান্না হয়েছে, বড় মামা এসে কিছু বাজার করে দিয়ে গেছেন সেসবেই চলছে খাবার। ভাইয়ার সাথে আমিও বাজারে যাই।

পরদিনই মা আপার ফর্ম ফিলাপের টাকা দিয়ে দেন। আমার বোকাসোকা মা এখন আমাদের পড়াশোনার খোঁজ খবর রাখেন, মা ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়েছেন এরপর স্কুলে যাওয়া হয়নি। তবে আমাদের তিন ভাই বোনের পড়ার টেবিলের পাশে গভীর রাত পর্যন্ত চুপচাপ বসে থাকেন।

কিছুদিন পরেই মায়ের কাছে একজন লোক দেখা করতে আসে, নদীর ওইপাড়ে বাড়ি। আমার বাবার এক বন্ধু, দুইবার আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন, সে অনেক বছর আগে।

তিনি অনেক আপসোস করলেন বাবার মৃত্যুর খবর পায়নি তাই, ফুপিয়ে কিছুক্ষণ কাঁদলেন। যাবার সময় মাকে বলেন, ভাবি জহিরের বাবার তিন লাখ টাকা আমার কাছে আছে, দুই বন্ধু একটা ব্যবসা শুরু করছিলাম। এখন বুঝতে পারছি আপনাদের পরিবারের অবস্থা, আপনি যদি বলেন আমি টাকাটা দিয়ে যাবো, সম্পূর্ণ টাকাটা একসাথে দিতে পারবো না, অল্প অল্প দিতে পারবো, জহিরকে আমার কাছে পাঠালেই হবে।

বাবার যে বিশ্বাস ছিলো সেই বিশ্বাস তার বন্ধু রেখেছেন। জহির ভাইয়াকে মা মাসে মাসে নদীর ওইপাড়ে বাবার বন্ধুর কাছে পাঠায়, ভাইয়ার কাছে টাকা দিয়ে দেয়।

বোকাসোকা মা কেমন গুছিয়ে একটা সংসার সামলান। মা কখনো ঠিকমতো ঘরের বাজারের লিস্ট করতে পারতেন না, এইজন্যে বাবা মাঝেমধ্যে রাগা করতেন। এখন মা গুছিয়ে একটা সংসার সামলে নেন, তিন ছেলেমেয়ের পড়াশোনা, সংসারের কোথায় কি খরচ করতে হয় সব হিসাব ঠিকঠাক করেন।

ভাইয়া শহরে ভর্তি হওয়ার পরে বাবার বন্ধু হাসনাত চাচার কাছে টাকা নিতে আমিই যেতাম। মা পুরো টাকাটা নেয়নি, বুদ্ধি করে বলেন ব্যবসার ভাগ থাকুক মাসে মাসে টাকা দিলেই হবে। চাচা বলে তাহলে আমারও উপকার হবে ভাবি, আপনি চিন্তা করবেন না, উপরে আল্লাহ আছেন আমারে বিশ্বাস করেন আমি আপনাদের কখনো ঠকাবো না। মা হেসে বলেন, ভাইজান এখন আল্লাহর উপর ভরসা করেই চলতে হয়।

জহির ভাইয়া ভার্সিটি থেকে পাশ করবার পরে আমাদের মফস্বল শহরেই কলেজে চাকরি নেয়। বড় আপাও একটা প্রাইমারী স্কুলে চাকরি করে, আমাদের পাশের গ্রামেই আপার বিয়ে হয়। আমি একটা কোচিং সেন্টারে পড়াই, ঠিক করেছি নিজেই একটা কোচিং সেন্টার দিবো। জহির ভাইয়া কিছু টাকা দিয়েছেন, আমার অল্প কিছু টাকা ছিলো সেই টাকায়ই একটা কোচিং সেন্টার চালু করি। এখন পঁচাত্তরজন স্টুডেন্ট আছে।

মাকে কেউ এখন বোকা বলে তেমন অপমান করবার সাহস পায় না। আমার মা মফস্বল শহরের এমন একজন সাধারণ মহিলা যিনি তার তিন সন্তানকে সুশিক্ষিত করেছেন, মাকে নিয়ে এখন মানুষ প্রয়ই গর্ব করে কথা বলে। আমার মা বোকা না, বুদ্ধিমান, আমার মা সাধারণ হয়েই অসাধারণ একজন মহিলা।

হাসনাত চাচার কাছে সেবার টাকা নিতে যাই। সিঁড়ি থেকে উঠতে যাবো তখনই একটা মেয়ের সাথে দেখা হয়, মেয়েটা হেসে বলে আপনার নাম, জাহিদ? আমি বলি হ্যাঁ। মেয়েটা হেসে বলে আমার নাম প্রিয়তি। আপনার হাসনাত চাচার ছোটো মেয়ে। মেয়েটা হাসি দিয়ে নিচে চলে যায়।

এরপর যতবার চাচার কাছে গেছি তখনই দেখতাম প্রিয়তা আমার পাশে ঘুরঘুর করে। একদিন চায়ের কাপের সাথে একটা চিঠি পাই। অল্প কয়েকটা লাইন,

‘জাহিদ ভাই, আপনাকে আমার ভালো লাগে। আমি আপনাকে নিজ থেকে চিঠি লিখিছি বলে আমাকে নিচু মনের ভাববেন না দয়া করে। আমি অনেক চিঠি পাই, তবে কখনো কাউকে চিঠি লেখা হয়নি। তবে আপনাকে চিঠি লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। চিঠির শেষ আমার ফোন নাম্বার দিয়ে দিলাম। নাম্বারটা মায়ের বিকাল পাঁচটার পরে কল দিলে আমারে পাবেন। কল দিবেন কিন্তু।’

আমাকে কোনো মেয়ে চিঠি লিখতে পারে ধারণায় ছিলো না। প্রিয়তির চিঠি পেয়ে অন্যরকম এক অনুভূতি শুরু হয় বুকের ভিতরে। মেয়েটার প্রতি বুকের ভিতরে একটা জায়গা তৈরি হয়। যখন মাসে একবার এই বাড়িতে আসি প্রিয়তিকে দেখি দু-চোখ ভরে।

প্রিয়তি কলেজ থেকে পাশ করবার পরে শহরে ভর্তি হয়। ওর হল থেকে মাসের শেষ বৃহস্পতিবার বাহিরে বের হওয়ার অনুমতি ছিলো। একমাস পরে বৃহস্পতিবার বিকালে আমাদের দেখা হতো৷

আমার কোচিং সেন্টার তখন বেশ ভালোই চলছে। মা হাসনাত চাচার কাছে প্রিয়তি আর আমার বিয়ের কথাটা বলে। প্রিয়তি আর আমার বিয়ে হয় ঠিক এক বৃহস্পতিবার রাতে। প্রিয়তির মা নেই, আমার মাকে দেখি মেয়েটাকে গভীর মমতায় রাখে। আমার মা শূন্য থেকে আমাদের জীবনের সব স্বপ্ন পূর্ণ করে দিয়েছেন। আমার মা যে অসম্ভব বুদ্ধিমান একজন মহিলা সে আমরাই জানি, খারাপ সময়গুলো আমাদের খুব যত্ন করে আগলে রেখেছেন যেমন ঝড়ের সময় আমাদের বাচ্চাওয়ালা মুরগীটা তার পালকের ভিতরে আগলে রাখে বাচ্চাদের৷

আমাদের মা
-মুস্তাকিম বিল্লাহ
[আপনার গল্পটি খুব ভালো লাগলো তাই শেয়ার করে নিলাম।]

  ভদ্রতা কাউকে কপি করে করা যায় না,এটা পারিবারিক শিক্ষা...💚💚💚
06/13/2026


ভদ্রতা কাউকে কপি করে করা যায় না,
এটা পারিবারিক শিক্ষা...💚💚💚

    Grace in every step...💖☕💖
06/05/2026


Grace in every step...💖☕💖

05/30/2026


Mehendi Night Before Eid...
Created beautiful memories, celebrated traditions with our loved ones...🕌❤️🌙


05/29/2026

ছোট বোনের বাসায় ঈদের পরের দিন সকালে চই পিঠা ভাজি করেছি। সাথে কয়েকটি পাখি পিঠাও করেছি ছোট বাচ্চাদের জন্যে। এই পাখিগুলো বাচ্চারা খুব শখ করে খায়।
আলহামদুলিল্লাহ্!


      "Just one small positive thought in the morning can change your whole day."                                       ...
05/23/2026


"Just one small positive thought in the morning can change your whole day."
— Dalai Lama

05/22/2026


বৈশাখী অনুষ্ঠানে ছোট ভাই সৌরভের অসাধারণ পারফরম্যান্স... 🎊❤️🎉


05/21/2026

#চালেররুটি
কেরবানীর ঈদে মাংস দিয়ে
চালের রুটি কার কার পছন্দ?...😋🍽️🥰

চালের রুটির ভাঁজে ভাঁজে
ঈদের সুখের ঘ্রাণ।
কোরবানির গোশতের স্বাদে,
জড়িয়ে আছে ভালোবাসার টান।


Address

Hamilton, ON

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dilruba's Golden Diary posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category