18/05/2026
🔷 প্রশ্ন:- জবা গাছের পাতা হঠাৎ করে সব হলুদ হয়ে যাওয়ার কারন কি? কেনই বা গাছে ফুলের সংখ্যা কমে গেল? কি কারনে দিনে দিনে ফুলের সাইজ ছোট হয়ে যাচ্ছে? গাছ ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে পড়ছে কেন?
🌷 উত্তর:- এই সমস্যাগুলি সব থেকে বেশি দেখা দেয় গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ায় উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে।
👉 প্রথম কারণ:- গাছ বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে না বুঝে এলোমেলো জল মিডিয়াতে বারংবার ব্যবহারের কারণে ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটতে থাকে।
🪻গাছের সয়েল মিডিয়াতে যখন নিচের দিকে জল জমবে আর জল জমার কারণে ফিডার রুটগুলি যখন নষ্ট হতে শুরু করবে বা কোন কারণে নষ্ট হয়ে যাবে তখন দেখা যাবে যে হঠাৎ করে সমস্ত পাতা একসঙ্গে হলুদ হতে শুরু করেছে কিংবা ফুলের কুড়িগুলি সমস্ত হলুদ হয়ে গাছ থেকে অনাবরত ঝরা শুরু করে দিয়েছে। আবার অনেক সময় ফুলের আকার গঠনগতভাবে ছোট হয়ে যায়। তার জন্য সব সময় জল ব্যবহার করবার আগে সয়েল মিডিয়াতে হাত দিয়ে চেক করে দেখে নিয়ে পরিমাণ মতো জল ব্যবহার করতে হবে। যদি মাটি সব সময় ভেজা থাকে বা ড্রেনেজ সিস্টেম সঠিক মাত্রায় না থাকে তখনই কিন্তু এই ধরনের বিপদের লক্ষণ দেখা দেবে। আর এই সময়ে সতর্ক না থেকে আবার যদি বারংবার ভুল করতে থাকেন তাহলে গাছ ঝিমাতে ঝিমাতে একটি সময় পড়ে গিয়ে মারা যাবে।
🪻আর গাছের ফিডার রুট এই উচ্চ তাপমাত্রার সময়ে একবার যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে জল ব্যবহার না করলেও গাছ মারা যাবে আবার জল ব্যবহার করলেও গাছ মারা যাবে। কোন বুদ্ধি তখন আর কোনোভাবেই কাজ করবে না।
তাই ড্রেনেজ সিস্টেমে যদি গরমিল হয়ে থাকে বা জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা সঠিক মাত্রায় না হয়ে থাকলে পুরো গুলমাটি সহ গাছটিকে টবের ভেতর থেকে বের করে টবের নিচের পোরশানে মোটা লাল বালি নতবা স্টোন চিপ নতুন করে বেশ কিছু পরিমাণ বাড়িয়ে গুলমাটি সহ গাছটিকে বসিয়ে দিতে হবে। গোড়ার মাটি কোনভাবে যাতে ভেঙে না যায় গাছ বসানোর সময় সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ উচ্চ তাপমাত্রায় গাছের শিকড় নষ্ট হওয়া মানেই নতুন শিকড় আসতে অনেকদিন সময় লেগে যাবে।
আর মাটি যদি সব সময় ভেজা ভেজা থাকে তাহলে কোন নিরানি দ্বারা মাটিকে খুঁচিয়ে আলগা এবং ঝুরঝুরে করে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে অলটাইম যেন কোনোভাবেই মাটি ভেজা না থাকে। তাহলেই কিন্তু বুদ্ধি শেষ।
👉 দ্বিতীয় কারণ:- গাছে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টের অভাব অতিমাত্রায় দেখা দিলে গাছের পাতা সব হলুদ হতে শুরু করে। এমনকি ফুলেরকুড়ি গুলি অকালেই ঝরতে পারে, তাছাড়া ফুলের সাইজ ছোট হয়ে যায়।
🪻 তার জন্য আপনাদেরকে যে কোন একটি মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা বায়োভিটা এক্স ১ লিটার জলে 1ml পরিমাণ ভালো করে মিশিয়ে সপ্তাহে একদিন করে প্রয়োজন বুঝে মাসে ২ থেকে চারবার পর্যন্ত ব্যবহার করতে হবে।
👉 তৃতীয় কারণ:- মাটিতে অতিমাত্রায় আয়রনের অভাব বা জিংকের অভাব থাকলেও এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ মাটি দীর্ঘদিন ধরে ভেজা থাকলে তখন গাছ তার শিকড় দ্বারা আয়রন এবং জিঙ্ক কোনভাবেই শোষণ করতে পারে না। আর আয়রন যেহেতু পাতার ক্লোরোফিল তৈরিতে সাহায্য করে থাকে, আর তাতে দীর্ঘদিন ব্যাঘাত ঘটার কারণে গাছের পাতা হলুদ হতে শুরু করে। এমনকি শাখা প্রশাখার বৃদ্ধি থেমে যায়। আর জিংকের অভাবে ডালগুলি শুকিয়ে চিমরে ধরে পাতার বৃন্ত গুলির গোড়া এবং ফুলের বৃন্ত গুলির গোড়া শুকিয়ে গাছ থেকে অকালে ঝরতে থাকে।
🪻 তার জন্য soil মিডিয়া শুকিয়ে গেলে কলার মোচার ভাপ দেওয়া জল বা কিংবা মোচার সাদা খোলাখুলি ছোট ছোট করে কেটে ভিজিয়ে রাখা জল, তিনভাগ ফ্রেশ জলের সঙ্গে মিশিয়ে পরিমাণ মতো প্রয়োজন অনুসারে মিডিয়াতে সাত দিনের গ্যাপ রেখে ব্যবহার করতে হবে। আর জিংক এর অভাব দেখা দিলে এক লিটার জলে এক গ্রাম জিংক পাউডার ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে সন্ধ্যাকালীন সময়ে ৭ দিনের গ্যাপ রেখে ব্যবহার করতে হবে।
👉 চতুর্থ কারণ:- গাছের পাতায় থ্রিপস, মাইটস, সাদামাছির আক্রমণজনিত কারণে এই ধরনের সমস্যা গুলি গাছে দেখা দিয়ে থাকে।
🪻 তার জন্য সপ্তাহে একদিন করে যে কোন একটি কীটনাশক এক লিটার জলে ১ এমএল পরিমাণ ভালো করে মিশিয়ে সন্ধ্যাকালীন সময়ে গাছের পাতায় স্প্রে করে গাছকে স্নান করিয়ে দিতে হবে। চেষ্টা করতে হবে পাতার উল্টোদিকে বেশি করে স্প্রে করবার। কারণ কীটপতঙ্গের অবস্থান পাতার উল্টো দিকেই থাকে।
👉 লাস্ট বলবো সারা বছর ফুল পেতে চাইলে মাসে একদিন:-
🪻 ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি টবের জন্য টবের কিনারা বরাবর মাটি হালকা করে একটু খুঁড়ে নিয়ে এক কাপ পরিমাণ ভার্মি কম্পোস্ট, এক চা চামচ হাড়ের গুঁড়ো, এক চা চামচ লাল পটাশ (MOP), এক চা চামচ ডিমের খোসার গুড়ো সমান পরিমাপে ছড়িয়ে মাটির সঙ্গে খাবারগুলিকে মিশিয়ে জল দিয়ে ভিজিয়ে দেবেন। যারা রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে চাইবেন না তাদের জন্য বলব লাল পটাশের পরিবর্তে হাফ কাপ পরিমাণ কলার খোসার গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন।
এইরকম টিপস প্রতিনিয়ত পেতে চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করে সঙ্গে থাকবেন।