06/14/2026
ট্রোলারদের কপালে শনি! সব প্রমাণসহ মৌলভীবাজার মামলা করতে আসছেন মার্কিন প্রবাসী খালেদা শিউলি।
এত দিন যারা ভেবেছিলেন আমেরিকার নিউইয়র্কে বসে খালেদা শিউলি শুধু ট্রোল ভিডিও দেখে চোখের জল ফেলছেন, তারা এবার সাবধান! কারণ, এবার খেলা হবে খাঁটি সিলেটি মাটিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ে ও জামাইকে নিয়ে ট্রোলের বন্যা বয়ে যাওয়ার পর অবশেষে হুংকার ছেড়েছেন কুলাউড়ার এই কৃতি সন্তান ও মার্কিন প্রবাসী কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
কুলাউড়ার আঞ্চলিক মহলে ইতিমধ্যে গুঞ্জন রটেছে—আপা নাকি শুধু মামলার ফাইল আনছেন না, সাথে করে কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী শক্ত বাঁশের কুলাও নিয়ে আসছেন, যা দিয়ে ট্রোলারদের ডিজিটাল দুনিয়া থেকে একেবারে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হবে!
নিজের ফেসবুক পোস্টে শিউলি আপা ঘোষণা করেছেন, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই তিনি দেশে পা রাখছেন। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বাতাসে এখন থেকেই উত্তেজনা। জানা গেছে, শিউলি আপার বিমানের লাগেজে কাপড়ের চেয়ে স্ক্রিনশটের প্রিন্টআউটের ওজনই বেশি।
এলাকাবাসীর ধারণা, কুলাউড়া থানায় যখন তিনি মামলার এজাহার জমা দেবেন, তখন কাগজের স্তূপ দেখে ডিউটি অফিসারের চোখ চড়কগাছ হতে বাধ্য। একজন স্থানীয় ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, "আমেরিকার গ্রিন কার্ড থাকতে পারে, কিন্তু রাগ উঠলে আমরা যে কুলাউড়ার খাঁটি মানুষ, সেটা শিউলি আপা প্রমাণ করে ছাড়বেন। স্ক্রিনশট বাটন চাপতে চাপতে ওনার ফোনের ডিসপ্লে নাকি ক্ষয় হয়ে গেছে!"
কুলাউড়া আদালতের সম্ভাব্য কাল্পনিক দৃশ্য: আইনজীবী: "হুজুর, আমার মক্কেল কুলাউড়ার মেয়ে হতে পারেন, কিন্তু ওনার সম্মানটা এখন 'আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড'। আসামিরা ওনার জামাইকে নিয়ে ট্রোল করে আন্তর্জাতিক অপরাধ করেছে। এদের ডলারে জরিমানা করা হোক!"
খালেদা শিউলি কড়া ভাষায় মনে করিয়ে দিয়েছেন, তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। ফলে এই মানহানি কোনো সাধারণ মানহানি নয়, এটি সরাসরি একটি 'আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্রাইসিস'। ট্রোলাররা ভাবছিল কুলাউড়া অনেক দূর, আমেরিকা আরও দূর—কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না। কিন্তু শিউলি আপা বুঝিয়ে দিলেন, কুলাউড়ার মানুষ যেমন সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিতে পারে, তেমনি মামলার ফাইল হাতে ঠিক সময়ে কুলাউড়া থানাতেও হাজির হতে পারে।
স্থানীয় কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাকি ইতিমধ্যে কুলাউড়া ছেড়ে শ্রীমঙ্গল বা বড়লেখার চা বাগানে আত্মগোপন করার পরিকল্পনা করছে।
অনেক পেজ অ্যাডমিন এখন রাত জেগে শিউলি আপার পেজের দিকে নজর রাখছেন এবং পুরোনো ভিডিওগুলো 'ডিলিট' করতে গিয়ে নিজেদের আঙুল ব্যথা করে ফেলছেন।
ট্রোলাররা এখন বুঝতে পারছে যে, মৌলভীবাজারের মানুষের সাথে ট্রোল করে পার পাওয়া আর বাঘের খাঁচায় হাত দেওয়া একই কথা।
এখন দেখার বিষয়, আগামী মাসে আপা কুলাউড়ায় এসে আসলেই মামলার মহোৎসব শুরু করেন, নাকি ট্রোলারদের ডেকে কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী চা খাইয়ে 'আপস-মীমাংসা'র নতুন কোনো ব্লগ ভিডিও আপলোড করেন। তবে যাই হোক না কেন, কুলাউড়ার ইতিহাসে এই "স্ক্রিনশট অভিযান" যে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য! জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি!
#মৌলভীবাজার #কুলাউড়া #মৌলভীবাজার_পৌর_পার্ক